admin

admin

চতুর্দশপদী কবিতাবলী – শক্তি চট্টোপাধ্যায়।

সংসারে সন্নাসী লোকটা- শক্তি চট্টোপাধ্যায়

ভালোবাসা পেলে সব লন্ডভন্ড করে চলে যাবোযেদিকে দুচোখ যায় যেতে তার খুশি লাগে খুব।ভালোবাসা পেলে আমি কেন আর পায়সান্ন খাবোযা খায় গরিবে, তাই খাবো বহুদিন যত্ন করে।ভালোবাসা পেলে আমি গায়ের সমস্ত মুগ্ধকারীআবরণ খুলে ফেলে দৌড় ঝাঁপ করবো কড়া রোদে‘উল্লুক’ আমায়…

কাজী নজরুল ইসলামের প্রতি – শামসুর রাহমান।

কাজী নজরুল ইসলামের প্রতি - শামসুর রাহমান

একদা কবিতা তার বুক নগ্ন করেছিলো আপনার চোখের সম্মুখে,আপনি সে নগ্নতায় দেখেছেন নিজেরই মনের সূর্যোদয়।একদা কবিতা তার স্তনের গোলাপ কুঁড়ি চেয়েছিলো দিতে,আপনি সে গোলাপের উজ্জ্বলতা ছেড়েকালবোশেখীর ঝড়ে চকিতে গেলেন ছুটে বাগ্মিতা নামেরদজ্জাল মেয়ের কাছে, যার ক্ষিপ্ত তুমুল নর্তনে স্বপ্নগুলিপড়লো ছড়িয়ে…

সে – রাম বসু।

সে - রাম বসু

আমি তার দিকে তাকিয়ে থাকি, আরচোখ ফেরাতে পারি না। চুল এলিয়ে যখন হাসেমনে হয় পাতায় হারানো পাখিকথার পিঠে কথা বলে যখনফাটল চুইয়ে গিনি-গলা রোদ ঝরে যেনছেলে কোলে করে দাঁড়ালেদেখি পাকা ধানের মাঠনিরন্ন সংসারে খুদের থালা এগিয়ে দেয় যখনমনে হয় শক্তির…

বুকের মধ্যে সারাজীবন – আরণ্যক বসু।

বুকের মধ্যে সারাজীবন - আরণ্যক বসু

ডাকছে কাছে ভালোবাসা, হাওয়ায় দোলা ফুল,একটি নামেই উন্মনা মন-নজরুল নজরুল!হঠাৎ বাতাস, দামাল-ঝোড়ো, ফুঁসছে বিদ্রোহীতে;জীর্ণ জরার আবর্জনা নিমেষে উড়িয়ে দিতে। যখন ছলাৎ ধ্বংস এসে, নদীর দু’কুল ভাসায়,নীরবতাও মুখর তখন, বেঁচে ওঠবার আশায়।কাজের শেষে, ব্যর্থতাতে, চোখের জলের স্রোত—মুছিয়ে দিয়ে জীবনে ফেরায়-আমার কৈফিয়ৎ।…

মহিষাসুর মরে না – শুভ দাশ গুপ্ত।

মহিষাসুর মরে না - শুভ দাশ গুপ্ত

বছর বছর আশ্বিনে মহালয়ার পূর্ণ স্তোত্র বাতাসে ভেসে যায়—কাশফুলেরা ঢেউ তোলে মাঠের পর মাঠ জুড়ে। বছর বছর ঢাকীরা ঢাক বজায়আলোয় আলোয় ভোরে ওঠে গ্রাম শহর মফস্বল।নতুন আনন্দে হাসিতে গানে মেতে ওঠে দেশ। মা আসেন।দশভুজা দুর্গতিনাশিনী ত্রিশুলে বিদ্ধ করেনমহিষাসুরকে। প্রতিবছর। অসুর…

তুমি ডাক দিলে – হেলাল হাফিজ।

সম্প্রদান - হেলাল হাফিজ

একবার ডাক দিয়ে দেখো আমি কতোটা কাঙাল,কতো হুলুস্থুল অনটন আজন্ম ভেতরে আমার |তুমি ডাক দিলেনষ্ট কষ্ট সব নিমেষেই ঝেড়ে মুছেশব্দের অধিক দ্রুত গতিতে পৌছুবোপরিণত প্রণয়ের উৎসমূল ছোঁবপথে এতোটুকু দেরিও করবো নাতুমি ডাক দিলেসীমাহীন খাঁ খাঁ নিয়ে মরুদ্যান হবো,তুমি রাজি হলেযুগল…

পাখি বলে যায় – পূর্ণেন্দু পত্রী।

পাখি বলে যায় - পূর্ণেন্দু পত্রী

ওপারে আমার ডিঙি পড়ে আছে, এপারে জল।অনর্গলপাতা ঝরে পড়ে। বৃদ্ধ বটের দীর্ঘশ্বাসমেটে আকাশকালো থাবা নাড়ে, যেন গোগ্রাসে গিলবে সবঅর্বাচীনপাখি বলে যায় আজ দুর্যোগ ক্ষমতাসীন।ওপারে আমার ভিঙি পড়ে আছে,এপারে চর ধুলি কাতর পথের দুধারে দুঃখিত বন, ঝাপসা চোখ।ভীষণ শোকযে-ভাবে কাঁদায়, সেইভাবে…

ছেলেকে হিসট্রি পড়াতে গিয়ে – মল্লিকা সেনগুপ্ত।

স্মরণ - নির্মলেন্দু গুণ

হিসট্রি ইজ নাথিং বাট ম্যানস অ্যাকটিভিটিইন পারসুইং হিজ এইমস’— কার্ল মাকর্স, দি হোলি ফ্যামিলিআমরা হিসট্রি থেকে জানতে পেরেছিপ্রথম মানুষ ছিল জাভা ম্যান, ক্রোম্যাগনননিয়েনডার্থাল ম্যান, ওরা সব বর্বর পুরুষ,প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচেছিলভোঁতা পাথরের অস্ত্রে ভাল্লুক মেরেছেবাঁশের ফুঁটোর মুখে বাজাতে শিখেছে…

সখা হে – সুভাষ মুখোপাধ্যায়।

বর্ষাতি - রুদ্র গোস্বামী

থামাও রথ, কেশব!দিয়েছ আমায় তত্ত্বজ্ঞান যেসবফুরিয়ে গেছেদিন তার!নারকী এই কুরুক্ষেত্র ছেড়েচাই এবারপায়ের নীচে মাটি রাজ্যলোভ, রক্ত, কাটাকাটিআর নয়।নরোত্তম, তোমার হাত ধ’রেভুবন ভ’রেদর্শন দিকসমন্বয়,সুখশান্তি,যোগক্ষেম,প্রেম। কুরুক্ষেত্রে জন্ম নিকসখা হে,আজ এই পুণ্যাহেদুঃখহরণ চপলচরণহৃদয়-বৃন্দাবন। থামাও রথ, কেশব!আমায় তুমি দিয়ে এসেছতত্ত্বজ্ঞান যেসবফুরিয়ে গেছে দিন তার।পদ্মআঁখি?তাকিয়ে…

আমার বাবার মুখ – মল্লিকা সেনগুপ্ত।

আমার বাবার মুখ - মল্লিকা সেনগুপ্ত

আজ তিনি ছেড়েছেন ইহলোকধামযাঁর বীজ থেকে আমি জন্মেছিলাম হে আকাশ, হে পৃথিবী, শান্তি দিয়ো তাঁকেঅন্ধকারে তাঁর পথে যেন আলো থাকে।আমার বাবার পথে বৈতরণী পুণ্যশ্লোক হোকযেভাবে গঙ্গার জলে ভেসে আসে মাঙ্গলিক শ্লোক। যিশুর শোণিতে ভেজা ক্রুশকাঠ যেরকম ব্যথায় মহানআমার বাবার শব…