admin

admin

ত্রিবেণীর সঙ্গমে – শিমুল মুস্তাফা।

বেহুলা - মোহাম্মদ রফিক

কতোদিন আমিযাইনি তোমার শহরেকতোদিন সে তোঈশ্বরও জানে নাকোপথ ঘাট সবআছে কি আগের আদলে?অলিতে গলিতেপায়ের চিহ্ন গুলোবোবা হয়ে বুঝিগিয়েছে গোধূলী আলোতে?উদাসীন চোখেচোখ মেলে মেলে আজওসেই মুখই যেনোকারণে বা অকারণেদুঃস্বপ্নের মতোফিরে ফিরে আসে।স্বপ্নেরা বড়স্বার্থপরের দোসরএকবার ভেঙ্গে গেলেফিরে আসে নাকো।এতোদিন গেলএতো বসন্ত শরৎএকবারও…

চোখেই রয়েছে ভিত্তি – সিকদার আমিনুল হক।

চোখেই রয়েছে ভিত্তি - সিকদার আমিনুল হক

তোমাকে প্রায়শ আমি রহস্যের মধ্যে পেতে চাই। আমি জানি এই দাবি অসংগত কিন্তু সাবলীলযদি তার যোগ্য হই, যদি স্বপ্ন পিপাসার্ত হয়;অতীতের মতো তুমি মায়াকাননের পাখি হবেঅথবা ঘুমোবে তুমি বিছানায় চুম্বনের পুরুষালি ঘ্রাণেসেই আশা বাস্তবিক এখন অলীক। বড়োজোরএখন নিতান্ত তুমি পদ্যে-পদ্যে…

অদৃশ্য যুদ্ধের গল্প – রুমানা শাওন।

সেদিন দুজনে - মন্দাক্রান্তা সেন

বহু বছর আগে শুরু করেছিলাম লড়াইসেটা ছিল বাঁচার,ছিল বুক ভরা স্বপ্নের দিকে ছোটা।আজ, বেঁচে আছি ঠিকই—কিন্তু স্বপ্নেরা নেই,প্রিয় মুখগুলোও নেই,যারা হাত ধরেছিল একদিন,তারা আজ অচেনা ভিড়ে মিশে গেছে। জীবনের কষ্ট এখন আর আগের মতো তীব্র নয়—তবু যেন ক্লান্তি আরও ঘন…

আলো – জয় গোস্বামী।

আলো - জয় গোস্বামী

“নন্দিনী । পাগল, যখন তুমি গান কর তখন কেবল আমার মনে হয়,অনেক তোমার পাওনা ছিল কিন্তু কিছু তোমাকে দিতে পারিনি।বিশু । তোর সেই কিছু-না-দেওয়া আমি কপালে পরে চলে যাব।অল্প-কিছু-দেওয়ার দামে আমার গান বিক্রি করব না। “ সমস্ত না-পাওয়া আমি নিলাম…

মনে পড়া – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

মনে পড়া - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

মাকে আমার পড়ে না মনে।শুধু কখন খেলতে গিয়ে হঠাৎ অকারণেএকটা কি সুর গুনগুনিয়ে কানে আমার বাজে,মায়ের কথা মিলায় যেন আমার খেলার মাঝে।মা বুঝি গান গাইত আমার দোলনা ঠেলে ঠেলে –মা গিয়েছে, যেতে যেতে গানটি গেছে ফেলে।। মাকে আমার পড়ে না…

স্বপ্নগুলো – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ।

স্বপ্নগুলো - রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

আমাদের স্বপ্নগুলোএইভাবে ঠুকরে ঠুকরে খাবে কাক ও শকুন।আমাদের আকাংখারামুখ থুবড়ে পড়বে জমকালো পিচের রাস্তায়।একাকি বান্ধবহীন আমাদের হৃদপিন্ড জুড়ে ধংশস্তুপজ’মে উঠতে থাকবে ব্যাংকে সঞ্চিত টাকার মতো। আমাদের চরমপন্থি ফুসফুসের জন্যে প্রয়োজনআজ একটু নির্মল বাতাসের ছোঁয়া,প্রয়োজন এক টুকরো সজীব ভালোবাসা।আমাদের সন্ত্রস্ত, সশস্ত্র…

তোমার দিকে আসছি – হুমায়ুন আজাদ।

তোমার দিকে আসছি - হুমায়ুন আজাদ

অজস্র জন্ম ধরেআমি তোমার দিকে আসছিকিন্তু পৌঁছুতে পারছি না।তোমার দিকে আসতে আসতেআমার এক একটা দীর্ঘ জীবন ক্ষয় হয়ে যায়পাঁচ পঁয়সার মোম বাতির মত। আমার প্রথম জন্মটা কেটে গিয়েছিলোশুধু তোমার স্বপ্ন দেখে দেখে,এক জন্ম আমি শুধু তোমার স্বপ্ন দেখেছি।আমার দুঃখ,তোমার স্বপ্ন…

মৃত্যুরে বেসেছি ভালো – জীবনানন্দ দাশ।

ঘরের ভিতরে দীপ জ্বলে - জীবনানন্দ দাশ।

মৃত্যুরে বেসেছি ভালো সকলের আগে আমি,—মৃত্যুরে তবুও করে ভয়;কখন অনেক পথ ঘুরে এসে ক্লান্ত হয়ে তারপর আর একবারআমার শীতল হাত খুঁজে তুমি—ভুল করে মরণের কাস্তের ধারহৃদয়ে তুলিয়া লবে; —জেগে আছি তাই আমি,—অন্তরের সকল বিষয়ছড়ায়ে রেখেছি আজ; —কখন আসিবে তুমি, —কোথায়…

পার্থিব – শিমুল মুস্তাফা।

বৃষ্টি - অমিয় চক্রবর্তী

জীবনের কাছে খুব বেশী কিছুচাইনি তো কোনোদিনআমি তো চাইনি খুব বেশী কিছুএতো সব ছলাকলাহেলা ফেলা ভরা এই অবহেলাঅবেলার অবসরেকবে যে কখন হারিয়েছি পথমাতাল সারথী চড়েযতোবার আমি ফিরতে চেয়েছিজীবনের কাছাকাছিভঙ্গুর এই নতজানু দেহবিবাগী হয়েছে শুধুধু ধু প্রান্তর অমানিশা রাতপিছু নেয় কাপালিকজলের…

বাতাসী – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী।

ভুল ভাঙার রহস্য - তারাপদ রায়

‘বাতাসী! বাতাসী! — লোকটা ভয়ঙ্কর চেঁচাতে চেঁচাতেগুমটির পিছন দিকে ছুটে গেল।ধাবিত ট্রেনের থেকে এই দৃশ্য চকিতে দেখলুম।কে বাতাসী? জোয়ান লোকটা অত ভয়ঙ্করভাবেতাকে ডাকে কেন? কেনহাওয়ার ভিতরে বাবরি-চুল উড়িয়েপাগলের মত‘বাতাসী! বাতাসী!’ বলে ছুটে যায়? টুকরো-টুকরো কথাগুলি ইদানীং যেন বড় বেশীগোঁয়ার মাছির…