admin

admin

নীরার জন্য – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়।

নীরার জন্য - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

নীরা, তুমি নাও দুপুরের পরিচ্ছন্নতানাও রাত্রির দূরত্বতুমি নাও চন্দন বাতাসনাও নদীতীরের কুমারী মাটির স্নিগ্ধ সারল্যনাও করতলে লেবু-পাতার গন্ধনীরা, তুমি মুখ ফেরাও, তোমার জন্য রেখেছিবছরের শ্রেষ্ঠ বর্ণাঢ্য সূর্যাস্ততুমি নাও পথের ভিখারি বালকের হাসিনাও দেবদারু পাতার প্রথম সবুজনাও কাচ-পোকার চোখের বিস্ময়নাও একলা…

খুন করেছি সোনার মাছি – নির্মলেন্দু গুণ।

পৃথিবী – নির্মলেন্দু গুণ

কেউ আমাকে খুন করেছে,বল না সখি, কে আমাকেভালোবেসে খুন করেছে? ইস্ ঢঙ দেখে আর বাঁচি না,আমার কি আর ভিন্ন দশা?তুইও যে কারণে,আমিও সেই কারণেইঅকূলের কূলে বসা। হেঁয়ালি করিস না বোন,আমারটা তো আমি জানিএবার বল, তোরটা শুনি—তোর এ-দশা কে করেছে? কাউকে…

এক এক দিন – সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়।

ভালোবাসা বহুদিন আগে - সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়

এক এক দিনএকটা নদী জেগে ওঠে এই দেহটার মধ্যেকূল ভেঙে দেয়নিরাপদ যা কিছু ছিল খরস্রোতে ভাসে এক এক দিনভালোবাসার জন্যে মনে এত ঢেউ ওঠেসেই সুনামিতেহাট বাজার কাছারি দপ্তর সব ভেসে যায় এক এক দিনসুন্দরের জন্যে হাহাকারআকাশ বাতাস বসন্তের গানে ভরিয়ে…

অবয়বহীন মুখোমুখি – রুমানা শাওন।

বর্ষাতি - রুদ্র গোস্বামী

​টেবিলের ওপাশে একটা শূন্যতা এসে বসেছেযেখানে থাকার কথা ছিল অন্য একটা হাত,যে দিন শেষের সব ক্লান্তি শুষে নিতে পারে। ​দুটো কফির কাপ পাশাপাশি,যেন একটা অবাস্তব থিয়েটারের দুই নীরব দর্শক।আমি একা আর তুমি অবয়বহীবতবু ভাবনায় তুমুলভাবে জড়িয়ে আছ । ​কোনো ছন্দের…

আনন্দ-ভৈরবী – শক্তি চট্টোপাধ্যায়।

বর্ষাঋতু - বিভাস রায়চৌধুরী

আজ সেই ঘরে এলায়ে পড়েছে ছবিএমন ছিলো না আষাঢ়-শেষের বেলাউদ্যানে ছিলো বরষা-পীড়িত ফুলআনন্দ-ভৈরবী আজ সেই গোঠে আসে না রাখাল ছেলেকাঁদে না মোহনবাঁশিতে বটের মূলএখনো বরষা কোদালে মেঘের ফাঁকেবিদ্যুৎ-রেখা মেলে সে কি জানিত না এমনি দুঃসময়লাফ মেরে ধরে মোরগের লাল ঝুঁটিসে…

অনুরোধ – পল্লীকবি জসীমউদ্দীন।

অনুরোধ - পল্লীকবি জসীমউদ্দীন

তুমি কি আমার গানের সুরেরপূবালী বাতাস হবে,তুমি কি আমার মনের বনেরবাঁশীটি হইয়া রবে!রাঙা অধরের রামধনুটিরে,ছড়াবে কি তুমি মোর মেঘ-নীড়ে,আমি কি তোমার কবি হব রাণী,তুমি কি কবিতা হবে;তুমি কি আমার মনের বনেরবাঁশীটি হইয়া রবে! তুমি কি আমার মালার ফুলেরফিরিবে গন্ধ বয়ে,হাসিবে…

নূরজাহান: বাংলার মায়ের নাম – রুমানা শাওন।

নূরজাহান: বাংলার মায়ের নাম - রুমানা শাওন

মায়ের রক্তে মাংসল দেহ,মায়ের দুধেতে প্রাণ,সন্তানেরা আজ হয়েছে অন্ধহারিয়ে আত্মজ্ঞান! জঠর ছিঁড়ে যে আলোদেখেছিল একদিন,পৃথিবীর মোহ ভুলিয়েদিয়েছে মায়ের সকল ঋণ। ​সুখে ছিল তারা নিজের মতননিয়ে জীবনের সুখ,অন্ধকার ঘরে একা একাকেঁদেছে মায়ের করুন মুখ। লাশে পোকা ধরে, দুর্গন্ধ ছড়ায়,প্রতিবেশীরা পায় টের,রক্তের…

হওয়া না-হওয়ার গল্প – বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

হওয়া না-হওয়ার গল্প - বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

সে চেয়েছিলোএকটি সত্যিকারের প্রেমের কবিতা লিখতে। তার তোএকটাই জীবন। মানুষের জীবনে প্রেমের চেয়ে নির্মলপিপাসার জল আর কী থাকতে পারে? সে আরও অনুভব করতোপ্রেমই কবিতার প্রাণ, তার শব্দ, তার ধ্বনি-তার মন্ত্র। কিন্তু তবুতার কবিতা, একটার পর একটা তার নিজের লেখা কবিতাকি…

পড়শী মেয়ে – ম. মামুন।

সমর্পিত হও - ম. মামুন

হাত বাড়ালেই ছুঁতে পারোপা বাড়ালেই বাড়ীতবু কেন পড়শীমেয়েরচোখেমুখে আড়ি? পড়শীমেয়ের চলন বাঁকাআরও বাঁকা উঠোনমনটা যে তার বাঁকা হবেনাই বা মুখে কথন। চুপটি করে মিষ্টিহেসে শ্যামা সর্বনাশীমনকারিলী বনহরিণীস্বপ্ন অহর্নিশি। তুমি আছ তোমার মতআমার জ্বালা যতআমার যত ভালোবাসাতোমার তো নয় তত। তোমার…

একদিন যোগ্য হবো – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ।

একদিন যোগ্য হবো -রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

দেখে নিও, একদিন আমি ঠিকখুলবো আমার এই দেহের বাকল,পুরোনো বাধন বোলে মমতা হবে নাদেখে নিও, আমি ঠিকই খুলবো এই ক্লান্তি আমার। প্রাচীন ধুলোর মতো মাকড়শা-মোহজ’মে আছে শরীরের প্রতিটি পরতে,ছিঁড়তে গেলেই খুব ব্যথা পাই দেহেমনে হয় এরাও আপন ছিলো বুঝি—তবু এই…