admin

admin

যখন তোমার সন্তানের মা আমি – দিলারা হাফিজ।

যখন তোমার সন্তানের মা আমি - দিলারা হাফিজ

সপ্তাহের সাতটি দিন কতভাবে ফুরায় আমার১টা দিন আমি তুলে রাখি তোমার জন্যেসকাল থেকে কেটলিতে জল চাপিয়েঅনর্গল আমি ফুটতে থাকি,জলীয় বাষ্পধারা আমাকে উড়িয়ে নিয়ে যায়দ্বিধার চূড়ায়,অভিমানের শতরঞ্জি বিছিয়েশুয়ে থাকি—পোয়াতি যেমন! ৫০ বছর পুরোনো আফটার সেভের সুগন্ধআমাকে আজও উদাস করে দেয়,যেদিন প্রকাশ্যে…

কাঁদো বাংলাদেশ কাঁদো – সুবোধ সরকার।

কাঁদো বাংলাদেশ কাঁদো - সুবোধ সরকার

সেদিন চট্টগ্রাম থেকে দুজন তরুণ কবিএসেছিলেন আমার কাছে।আমি তাদের একটি কফি শপে নিয়ে গেলাম।কী খাবেন?দুজন তরুণ কবি একসঙ্গে বললেনচা । সুন্দর কাপে চা এল। যাকে বলে ফার্স্ট ফ্লাস। আমি বললাম, কেমন আছে চট্রগ্রাম?মাথা নীচু দুজনের ।একজনের চোখ থেকে গড়িয়ে নামছে…

তুমি তো কাঁদো না – সুভাষ মুখোপাধ্যায়।

তুমি তো কাঁদো না - সুভাষ মুখোপাধ্যায়

কী আশ্চর্য কখনই তুমি তো কাঁদো না পুঁটুলি পাকিয়ে রেখে গেছএ-বাড়ির আনাচে-কানাচেযে মনোবেদনা পুড়ে যাচ্ছি আমি তার আঁচে এ একরকম ভালোশুনতে পাই না কানেকে কী বলল, কে কেন চাইছে বেশি আরওথাকতে হয় না সাতেপাঁচে কারও গলিতে তোমার ছোট্ট এক চিলতে…

বুক পেতে শুয়ে আছি ঘাসের উপরে চক্রবালে – শঙ্খ ঘোষ।

ও সাগর - সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়

বুক পেতে শুয়ে আছি ঘাসের উপরে চক্রবালেতোমার ধানের মুখে ধরে আছি আর্ত দুই ঠোঁট তুমি চোখ বন্ধ করো, আমিও দুচোখ ঢেকেশুনি যেন কোন্ তল থেকে উঠে আসে পাতালের শ্বাস সমস্ত দিনের মূর্ছা সেচন পেয়েছে এইখানেমুহূর্ত এখানে এসে হঠাৎ পেয়েছে তার…

কেন এল না – সুভাষ মুখোপাধ্যায়।

কেন এল না - সুভাষ মুখোপাধ্যায়

সারাটা দিন ছেলেটা নেচে নেচে বেড়িয়েছে। রাস্তায় আলো জ্বলছে অনেকক্ষণ এখনওবাবা কেন এল না, মা? বলে গেলমাইনে নিয়ে সকাল- সকাল ফিরবে।পুজোর যা কেনাকাটাএইবেলা সেরে ফেলতে হবে। বলে গেল।সেই মানুষ এখনও এলো না।কড়ার গায়ে খুন্তিটাআজ একটু বেশি রকম নড়ছে।ফ্যান গালতে গিয়েপা-টা…

কিছুই সহজ নয় – নির্মলেন্দু গুণ।

পৃথিবী – নির্মলেন্দু গুণ

কিছুই সহজ নহে, বেদনা সহজ নহে,বিরহ সহজ নহে, মিলন সহজ নহে।কী তবে সহজ? কিছুই সহজ নহে যদি, নদী কি সহজ?নাকি সহজ কঠিন? সহজ কঠিন ভেবেকঠিনেরে ভালোবাসিলাম।কঠিনের বঞ্চনার মুখ তবু কি সহজ? প্রহরে প্রহরে জাগি দেখি নিত্যকঠিনের মুখ জ্বলে চারিপাশে।কেহ দূরে…

অনঙ্গ বউ – নির্মলেন্দু গুণ।

অনঙ্গ বউ – নির্মলেন্দু গুণ

আমার কিছু স্বপ্ন ছিল, আমার কিছু প্রাপ্য ছিল,একখানা ঘর সবার মতো আপন করে পাবার,একখানা ঘর বিবাহিত, স্বপ্ন ছিল রোজ সকালেএকমুঠো ভাত লঙ্কা মেখে খাবার। সামনে বাগান, উঠোন চাইনি,চেয়েছিলামএকজোড়া হাঁস, একজোড়া চোখ অপেক্ষমাণএই তো আমি চেয়েছিলাম।স্বপ্ন ছিল স্বাধীনতার, আর কিছু নয়,তোমায়…

অনেককেই তো অনেক দিলে – পূর্ণেন্দু পত্রী।

সেই কবে থেকে – হুমায়ুন আজাদ

আমি ছাড়া অনেককেই তো অনেক দিলে।এর আকাশে ওর আকাশেওষ্ঠপুটের অনেক পাখি উড়িয়ে দিলেপায়রাকে ধান খুঁটতে দিলে খোয়াই জুড়েবুকের দুটো পর্দা-ঢাকা জানলা খুলেকতজনকে হাত-ডোবানো বৃষ্টি দিলে।কতো মুখের রোদের রেখা মুছিয়ে দিলে নীল রুমালে। আমি ছাড়া অনেককেই তো অনেক দিলে।চায়ের কাপে মিষ্টি…

নীল ওড়নার কবিতা – অবশেষ দাস।

বর্ষাঋতু - বিভাস রায়চৌধুরী

ঘড়িতে এখন অতল ভালোবাসার সময়শরীরের সমস্ত বাতিগুলো অকাতরে জ্বলছেআমাকে যত্ন করে রাত্রির স্তব্ধতা ,চাঁপার গন্ধ বেড়ে দাও।কামিনী ফুলের হাওয়া… আলোছায়া কথাগুলো নিভিয়ে দিয়েছি।ঠোঁটের পাপড়ি ধরে বসন্ত ঋতু পার হবো।ঘড়ির কাঁটার কাছে সমস্ত সঁপে দিয়েছি। এখন ভরদুপুর নয়, নিরন্ন ঘুপচি ধরেহেঁটে…

চিঠি – মল্লিকা সেনগুপ্ত।

আমার বাবার মুখ - মল্লিকা সেনগুপ্ত

হঠাৎ বিকেলবেলা মনে এল চিঠিআমাদের বেড়ে ওঠা ছিল পিঠোপিঠি।বলো নি তো কোনওদিন আমাদেরও বাড়বে বয়েস!জানলে সামলে নেব ভুলভাল, বেভুল চয়েস। জানো, আজ সারাদিনে মনেই পড়েনি,ঘরের কোণেই ছিল হাতুড়ি ও ছেনি।রোরোদের কারপুল টাকা বাড়িয়েছেমালিককে ফোন কোরো রাতে বাড়ি এসে। আমি যে…