admin

admin

একটু পা চালিয়ে ভাই – সুভাষ মুখোপাধ্যায়।

কেন এল না - সুভাষ মুখোপাধ্যায়

লেনিনকে আমরা দাঁড় করিয়ে রেখেছি ধর্মতলায়ট্রামের গুমটির পাশে।আস্তাকুড়ের ভাত একদল খুঁটে খুঁটে খাচ্ছেডাস্টবিনে হাত চালিয়ে দিয়ে।লেনিন দেখছেন। গ্রামের এক লোক শহরে ডাক্তার দেখিয়েসর্বস্বান্ত হতে এসেছিলোতার আগেই তাকে সর্বস্বান্ত করে দিয়ে গেলো এক পকেটমার।লেনিন দেখছেন। সন্ধের মুখে যে মেয়েটাকে একটা ট্যাক্সি…

জ্যোৎস্নায় কারা রাইফেল কাঁধে – নবারুণ ভট্টাচার্য।

জ্যোৎস্নায় কারা রাইফেল কাঁধে - নবারুণ ভট্টাচার্য

চন্দ্রালোকেতে লাফ দিল কোন তিমিকারা বসে বসে লোভী আঁকিবুঁকি কাটছেঅন্তর্বাস খুলে ফেলে কোন মিমিজ্যোৎস্নায় কারা রাইফেল কাঁধে হাঁটছে হাইরাইজের ছায়ায় হলুদ চারাওপরেতে কারা মুনাফা হিসেব আঁটছেএখনই howona না প্রেমেতে আত্মহারাঅরণ্যে কারা রাইফেল নিয়ে হাঁটছে কীসের কবি সে যে না লেখে…

ন্যায়যুদ্ধ – অসীম সাহা।

জ্যোৎস্নায় কারা রাইফেল কাঁধে - নবারুণ ভট্টাচার্য

এই যুদ্ধ ন্যায়যুদ্ধ, সকলেই তৈরি হয়ে নাও।এ-নির্দেশ ঘোষিত হবার সঙ্গে-সঙ্গে, স্বপ্ন নয়,স্বপ্ন ও সত্যের মধ্যে নির্মিতব্য নিজস্ব ভুবনেশুরু হয়ে যুদ্ধের প্রস্তুতি-সকলেই বুঝে নেয়শিল্পহীন স্বপ্ন মানে বিনাযুদ্ধে পরাজয়, আরআদ্ভুত শৃঙ্খলে, অনন্ত রৌরবে বন্দি হয়ে থাকা। তাই শিশু-বৃদ্ধ-যুবা, এমনকি গ্রাম্য কুলবধূঅনর্থক সময়-ক্ষেপণে…

ছোট মুখে ছোট কথা – সুবোধ সরকার।

ছোট মুখে ছোট কথা - সুবোধ সরকার

কবিতা কীভাবে ছাপা হবেবড় হরফে না ছোট হরফে?লেটার প্রেসেনা কমপিউটারে?সঙ্গে ছবি যাবে না বায়োডেটা যাবে?এই তো? কবিতা কীভাবে পড়া হবে?জোরালো গলায় না ক্ষীণকণ্ঠে?জিনস পরেনা ধুতি পরে?রবীন্দ্রসদনে না চিলেকোঠায়?এই তো? কবিতা বোঝা যাবেনা অর্ধেক বোঝা যাবেকবিতা কারখানার গেটনা মেঘের পরে মেঘ?কবিতা…

মা তুমি – আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ।

মা তুমি - আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ।

এক. মা তুমিসোঁদা গন্ধ মাটিমাটি ফলবতীমা তুমিআমাকে এনেছ। মা তুমিকোলে সাজিয়েছসহোদর ঘাস ঘাসফুলমা তুমি আমাকে ভুলেছ। দুই. মা কি শালিক পাখি?খয়েরি শাড়িতে তাঁরহলুদের ছোপতারপর একদিন তিনিশুভ্র কাফন পরেশেফালির ফুল। তিন. তোমরা আমার কাছেকেন কেন চাও?কিছুই দেব না আমি। ভালোবাসা দিলে…

কুড়ি বছর অনেক সময় – সাদাত হোসাইন।

তোমাকে - সাদাত হোসাইন

চিঠির পাতায় লেখা ছিল, ‘ভালো থাকব, ভান হলেও’।কুড়ি বছর অনেক সময়। অনেক।ইলেকট্রিকের তার বসেছে মাঠের বুকে।ঢুকে গেছে লুকিয়ে দেখা আয়নার দিন।ঋণ বেড়েছে, খরচা খাতায় বেহিসেবে।তবুও কোথাও রয়ে গেছে সেই কথাটি, ‘ভালো থাকব, ভান হলেও’।শিউলি ফুলের গন্ধে ডোবা অলস যে পথ,…

শান্তি পাই – শামসুর রাহমান।

কাজী নজরুল ইসলামের প্রতি - শামসুর রাহমান

যখন তুমি অনেক দূর থেকেএখানে এই গলির মোড়ে আসো,উঠোনে দাও পায়ের ছাপ এঁকে,শান্তি পাই। যখন তুমি দেহের বাঁকে বাঁকেস্মৃতির ভেলা ভাসাও, তোলো পাল,মুক্ত করো যমজ পায়রাকে,শান্তি পাই। যখন তুমি আমার পিপাসায়নিমেষে হও আঁজলাভরা জল,দৃষ্টিজাল ছড়াও কী আশায়,শান্তি পাই। যখন তুমি…

মনে রেখো – সব্যসাচী দেব।

হওয়া না-হওয়ার গল্প - বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

মনে রেখো, আমরা এসেছিলাম।হে রূপসী ধরিত্রী, জননীপ্রতিম মৃত্তিকাতোমাদের ঋণ রক্তে।যখন সময়ের উত্তুঙ্গচূড়ায় লাফিয়ে উঠেছেমহিমময় অগ্নিশিখা,সমুদ্রঢেউয়ের মাথায় নেচে উঠেছেস্পন্দিত বিশ্বাস-আমরা এসেছিলাম। মনে রেখো, আমরা এসেছিলাম।দিগন্তে নবজাত সূর্যকে দেখে আমাদের বোবা বিস্ময়গুহার দেওয়ালে ফুটেছিল আঁচড় হয়ে,দৃশদ্বতী আর সরস্বতীর মধ্যবর্তী ভূ-ভাগ থেকেএকদিন বিতাড়িত…

দেবো না সাম্যের বিশ্বাস – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ।

শোধবোধ - রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

যদি চাও,আমার কবিতা ছাড়া সব দেবো। এই মন,শ্যামল শরীর দেবো এই বুক জোড়াঅঘ্রানের মাঠ,শস্যময়।আমার স্বজন দেবো,যদি চাও দিয়ে দেবো আমার স্বপ্নময় বাসনা।সুখ দেবো,স্বস্তি দেবো–শুধু এই কবিতা দেবো না। যদি চাও,এই রাত্রির নিদ্রাকে নির্বাসন দেবোযদি চাও,নিসর্গ উজাড় কোরে সাজাবো শ্মশানযদি চাও,বারুদের…

আমাদের আর কখনো দেখা হবে না – সাদাত হোসাইন।

নতুন দিনের গান - সাদাত হোসাইন

আমাদের আর কখনো দেখা হবে না। যেখানে শেষ দেখা, সেখানে পড়ে থাকবে শিউলিফুল,অথচ গন্ধ ছড়াবে রাফ্রেশিয়া। অলকানন্দা নামের যে নদী, সেও শুকিয়ে যাবে।আর সেখানে জেগে উঠবে আদিগন্ত সাহারা।আমাদের বুকের ভেতর ক্ষয়ে যেতে থাকবে স্মৃতির সৌধ।জেগে উঠতে থাকবে আলোকবর্ষ পথ। আমরা…