admin

admin

তুমি – অসীম সাহা।

শূন্যতাটুকু থাক - রুমানা শাওন

একবার এক রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়েএকটি ট্রেনের জানালায় তোমাকে দেখেছিলামতোমার সমুদ্রের মতো গভীর দৃষ্টিহয়তো বা আমার দিকেই…মনে হলো, তুমি ইশারায় ডাকছো আমাকে।আমার চোখ দু’টো জানালায় স্থির, পৃথিবীর সব কোলাহলঅকস্মাৎ আফ্রিকার নির্জন বনভূমি হয়ে গেলো;সব মানুষেরা এখন অপার স্তব্ধতায় নির্বাক। এখানে আর…

ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম – রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ।

বর্ষা পায়ে পায়ে বাজুক - শ্রীজাত

গ্রাম থেকে উঠে এলো ক্ষেতের মানুষখরায় চামড়া-পোড়া মাটির নাহান,গতরে ক্ষুধার চিন্‌ মলিন বেবাক,শিকড় শুদ্ধ গ্রাম উঠে এলো পথে।অভাবের ঝড়ে-ভাঙা মানুষের গাছআছড়ে পড়লো এসে পিচের শহরে। সোনার যৈবন ছিলো নিওল শরীরেনওল ভাতার ঘরে হাউসের ঘর,আহারে নিঠুর বিধি কেড়ে নিলো সব—সোনার শরীরে…

তুমি এলে – সালমান হাবীব।

সে - রাম বসু

‘আর জাগবো না’ ভাবতে ভাবতেপ্রতিদিন রাত ভোর হয়ে যায়।না ভাঙা ঘুমের ভেতর হারিয়ে যায় সকাল।শীতকালীন বিকেলের মতো-ক্রমশই ফুরিয়ে যায় একেকটা জন্মদিন। অন্ধকার বুকে নিয়েম্লান হয়ে আসে অস্তগামী সন্ধ্যা।তবুও মনে হয়; তুমি এলেথার্মোমিটার ছুটি পাবে,অরুচি কেটে যাবে,মুহূর্তেই মিলিয়ে যাবে মুখের জ্বরঠোসা।…

ভালোবাসো? ছাই বাসো! – তসলিমা নাসরিন।

১৫০০ সাল - তসলিমা নাসরিন

সুদর্শন কোনও যুবক নন আপনি, অরণ্যআপনার দিকে ফিরে আমি না তাকাতেও পারতাম।কোনও নক্ষত্র নন, নির্দোষ নির্দ্বিধ নন, আমায় নিমজ্জিত নন,তারপরও এই যে আপনি সব এলোমেলো করে দিতে পারলেনআমার,সে কি আপনি আপনি বলে,নাকি আমি মনে মনে একলা ছিলাম একশ বছর! তাই!কিছু…

হাত বাড়িয়ে রেখেছি – সুভাষ মুখোপাধ্যায়।

কেন এল না - সুভাষ মুখোপাধ্যায়

তোমার ঘৃণার দিকেআমি ফিরিয়ে রেখেছিআমার ভালোবাসার মুখ যেখানে গতি বলতে শুধুই ঘুরপাকএগোনো মানেই দেয়ালে মাথা ঠেকে যাওয়াসংগ্রামের আরেক নাম যেখানে নিজেকে ভাঙা তুমি সেই অন্ধগলিতে দাঁড়িয়েবিপন্ন চোখের আগুনে চাইছআমাকে ভস্ম করে দিতে আর আমিতোমার অভিশাপগুলো লুফে নিয়েছুঁড়ে ছুঁড়ে দিচ্ছি আমার…

অমরতার কথা – অরুণ মিত্র।

ও সাগর - সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়

বাসনগুলো একসময় জলতরঙ্গের মতো বেজে উঠবে।তার ঢেউ দেয়াল ছাপিয়ে পৃথিবীকে ঘিরে ফেলবে।তখন হয়ত এই ঘরের চিহ্ন পাওয়া যাবে না।তবু আশ্চর্যকে জেনো।জেনো এইখানেই আমার হাহাকারের বুকে গাঢ় গুঞ্জন ছিলো। আমার বদ্ধ বাতাসে যে-গান পাষাণ হয়ে থাকেতা ভেঙ্গে ছিটিয়ে পড়ুক,কল্পনার স্বর সমুদ্র…

জীবন – শুভ দাশগুপ্ত।

চিল - সুকান্ত ভট্টাচার্য

এইটুকু যা ঘুরে বেড়াই, এইটুকু যা উড়িনিজের মধ্যে ঝড় ওঠে আর, নিজেই একা পুড়ি।লোকাল ট্রেনের মতই আমার সুখদুঃখ সকলরোজ আসে যায় নিয়মমাফিক, একটু সময় বদল।ইস্কুল যায় কলেজ আসে, চাকুরি তারও পরেহাত ফসকে জীবন পালায়-হায়রে অগোচরে।ঝালনুনে হাত, বাদামবাজার কিশোর দুপুর গুলোআলুকাবলি,…

তুমি চলে যাচ্ছো – নির্মলেন্দু গুণ।

নাড়ির নারী -আর্যতীর্থ

তুমি চলে যাচ্ছো, নদীতে কল্লোল তুলে লঞ্চ ছাড়ছে,কালো ধোঁয়ার ধস ধস আওয়াজের ফাঁকে ফাঁকেতোমার ক্লান্ত অপস্রিয়মাণ মুখশ্রী,–সেই কবে থেকেতোমার চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রয়েছি।তুমি চলে যাচ্ছো, তোমার চলে যাওয়া কিছুতেইশেষ হচ্ছেনা, সেই কবে থেকে তুমি যাচ্ছো, তবুশেষ হচ্ছেনা, শেষ হচ্ছেনা।…

ব্যভিচারিণী – মন্দাক্রান্তা সেন।

পুরুষ - মন্দাক্রান্তা সেন।

ঠিকরে গেল চোখের মণিতোমায় দেখা এমন দায়রূপ দেখেছি দুপুরবেলাসিঁড়ির নিচে, বারান্দায় । এক্ষুনি ও-চোখ বিঁধেছেনীলচে গরল রোমকূপেঅন্ধ কর, অন্ধ করঅন্ধ মরে কোন রূপে ? চোখের পাতায় পাপের পাহাড়কাঁপছে প্রবল ডানভুরুআমার ঘরে পুরুষ আছেজংঘা, নাভি, দুই ঊরু সমুদ্র নেই, সমুদ্র নেইচিলেকোঠায়…

চাঁদনী পসরে – হুমায়ূন আহমেদ।

চাঁদের বুড়ি - বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

চাঁদনী পসরে কেআমারে স্মরণ করেকে আইসা দাড়াইসে গোআমার দুয়ারেতাহারে চিনিনা আমিসে আমারে চিনে বাহিরে চাঁন্দের আলো ঘর অন্ধকারখুলিয়া দিয়াছি ঘরের সকল দুয়ারতবু কেন সে আমার ঘরে আসেনাসে আমারে চিনেকিন্তু আমি চিনিনা সে আমারে থরে থরে ইশারায় কয়এই চাঁদের রাইতে তোমার…