admin

admin

বন্দী শিবির থেকে – শামসুর রাহমান।

বন্দী শিবির থেকে - শামসুর রাহমান

ঈর্ষাতুর নই, তবু আমিতোমাদের আজ বড় ঈর্ষা করি। তোমরা সুন্দরজামা পরো, পার্কের বেঞ্চিতে বসে আলাপ জমাও,কখনো সেজন্যে নয়। ভালো খাও দাও,ফুর্তি করো সবান্ধবসেজন্যেও নয়। বন্ধুরা তোমরা যারা কবি,স্বাধীন দেশের কবি, তাদের সৌভাগ্যেআমি বড়ো ঈর্ষান্বিত আজ। যখন যা খুশিমনের মতো শব্দ…

দীঘির জলে কার ছায়া গো – হুমায়ূন আহমেদ।

হওয়া না-হওয়ার গল্প - বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

দীঘির জলে কার ছায়া গো?তোমার নাকি আমার?তোমার কি আর মন চায় নাএই কথাটা জানার? বন পারুলের ফুল ফুটেছেসুবাস আসে ঘরেসেই সুবাসে শরীর কাঁপেমন যে কেমন করে। সাঁঝের বেলায় নেমে আসেমধ্যরাতের আঁধার।আমি চলে যাই নদীর কাছেসময় হলো কাঁদার। নদীর জলে কার…

নীলনদের ধারে – মন্দাক্রান্তা সেন।

সুজনেষু - মন্দাক্রান্তা সেন

তোর ঐ মুখময় ছড়ানো ইতিহাস সভ্যতার ঘুম ভাঙার ভোরদৃষ্টির সামনেই বিছিয়ে আছে পথ, নীলনদের ধার; সেসব তোরশস্যের মাঠ নয়? এখনও কবেকার সেই গমের শিষ,পশুর ছালশয্যার প্রান্তেই গুছিয়ে রেখেছিস জন্মজন্মের আয়ুষ্কাল!চুপচাপ ভাবছিস কিভাবে যাবে দিন,সামনে দলছুট ভবিষ্যৎভয় নেই,নীলনদ! তুমি তো জানো…

জ্ঞানদাসুন্দরীর বিবাহ বর্ণনা – মল্লিকা সেনগুপ্ত।

আমার বাবার মুখ - মল্লিকা সেনগুপ্ত

বিধবার বিয়ে হবে! সানাই বাজবে!একি অলপ্পেয়ে কথা বামুনের মুখে!হাঁ হাঁ করে উঠেছিল পরিজন, পাড়াপ্রতিবেশীযেদিন বিদ্যেসাগর এলেন প্রথম দিন আমাদের বাড়িএগারাে বছরে মেয়ে স্বামীকে খেয়েছেশাশুড়ি বললে, তুই মর না রাক্কুসিএমন সময় এল বিদ্যের সাগর, এল ঝড় ঝঞ্ঝা বারিবিধবার বিয়ে হবে দেখে…

আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি – শঙ্খ ঘোষ।

আমরা এসেছি - সুকান্ত ভট্টাচার্য

আমাদের ডান পাশে ধ্বসআমাদের বাঁয়ে গিরিখাদআমাদের মাথায় বোমারুপায়ে পায়ে হিমানীর বাঁধআমাদের পথ নেই কোনোআমাদের ঘর গেছে উড়েআমাদের শিশুদের শবছড়ানো রয়েছে কাছে দূরে!আমরাও তবে এইভাবেএ-মুহূর্তে মরে যাব না কি?আমাদের পথ নেই আরআয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি। আমাদের ইতিহাস নেইঅথবা এমনই ইতিহাসআমাদের…

আমরা আবহমান ধ্বংস ও নির্মাণে – পুর্ণেন্দু পত্রী।

চিল - সুকান্ত ভট্টাচার্য

সেদিন ছিল শনিবারআমার মনে ঘুঙুর বেজে উঠল হঠাৎতুমি তাহলে নিশ্চয়ই আসছোতুমি মেজেন্টা ভালোবাস, শাড়িতে সেই রঙতুমি বর্ষা দেখতে পাগল,তাই চোখের চার পাশে কাজল পরা মেঘ ।বিছানা একটু নরম না হলে লাগবেতাই আঁচলের ঘের কমিয়ে তুলতুলে দুটো বালিশএভাবে দিগ্বিদিক জেগে বসেচাঁদ…

অনেকগুলো বাড়ি – নবারুণ ভট্টাচাৰ্য।

অনেকগুলো বাড়ি - নবারুণ ভট্টাচাৰ্য

দুঃখী লোকেদের বাড়ির চেয়ারগুলো কাঁদেতাদের পায়ের কাছে জল ছপ ছপ করেদুঃখী লোকেদের বাড়ির দেয়ালগুলোও কাঁদেদেওয়ালের ছবির মধ্যেও ভাপ জমে কান্নার কত বাড়ি আছে কত অশ্রুময়চোখের সামনে তারা টলমল করে ওঠেদুঃখী লোকেদের বাড়ির বারান্দা, মাদুর, পাপোষসব কান্নায় ভিজে থাকেসেখানে রোদ্দুর বা…

ছুরি – শহীদ কাদরী।

প্রেমহীন মানুষের কাছে - আনিসুল হক

সবকিছুই বিঁধতে জানে ছুরির মতো,শাদা মোরগ চঞ্চুতে তার বিদ্ধ করে শস্যকণাচামড়া ছিঁড়ে সূর্য জ্বলেঈগলগুলোর দারুণ নখে ইঁদুর আসে অনায়াসেপুকুর জুড়ে রূপালি মাছ লাফিয়ে ওঠেবড়শী-গাঁথা কারো কারো বুকের মধ্যেচাঁদের ফলা আমূল ব’সে রক্তপাত যে হঠাৎ ঘটায়আত্মজনের প্রতিশোধের স্পৃহার ধারেকাটামুণ্ডু নৃত্য করেগোধূলিতে…

লাল তামাশা – কবিতা সিংহ।

একজন বৃদ্ধ সাপ - আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ

ভালোবাসা চাই ভালোবাসাহাঁকছে পথে ফেরিওয়ালাবেরিয়ে দেখি ভুল শুনেছিবোল্ হরিবোল্ বোল্ হরিবোল্ রাস্তা শাদা খই ছড়ানোগুঁড়িয়ে আছে ফুলবাতাসা।বেরিয়েছিলি খুব সকালেকিনবি বলে ভালোবাসালম্বা লাইন দূরের দোকানতবুও খাড়া দাঁড়িয়েছিলিদাঁড়িয়েছিলি, দাঁড়িয়েছিলিকে আর দেখে বসে আসে চিৎ হয়েছিস্ চোখ বুজেছিসজিতে পুড়ছে সায়ানাইড।এই যদি তোর মনে…

কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প – রুদ্র মুহান্মদ শহীদুল্লাহ।

শোধবোধ - রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

তাঁর চোখ বাঁধা হলো।বুটের প্রথম লাথি রক্তাক্তকরলো তার মুখ।থ্যাতলানো ঠোঁটজোড়া লালা –রক্তে একাকার হলো,জিভ নাড়তেই দুটো ভাঙা দাঁতঝরে পড়লো কংক্রিটে।মা…..মাগো….. চেঁচিয়ে উঠলো সে। পাঁচশো পঞ্চান্ন মার্কা আধ-খাওয়া একটা সিগারেটপ্রথমে স্পর্শ করলো তার বুক।পোড়া মাংসের উৎকট গন্ধছড়িয়ে পড়লো ঘরের বাতাসে।জ্বলন্ত সিগারেটের…