admin

admin

মৃত্যু – ভাস্কর চক্রবর্তী।

আরেকটি প্রেমের কবিতা - ভাস্কর চক্রবর্তী

মৃত্যু যখন দোরগোড়ায় এসে দাঁড়ায়কী করোকী করো তোমরা? কাঁপতে থাকো নাকি?ব্যাঙ্কের চোতা তুলে দাও বৌয়ের হাতে?জল চাও? জীবনটাকে যেভাবে আমি দেখেছিলামভেবেছিলাম যেভাবেপ্রায় সেভাবেই কাটিয়ে দিলাম। ভুলভ্রান্তিরয়ে গেল কতোকিছুর।কতো কথা তো বলাই হলো না।হাসিঠাট্টা হলো না তেমন। ঝামেলা একটাসত্যি সত্যি ঘনিয়ে…

খড়ের বাছুরের মতো নারীত্ব – অবশেষ দাস।

খড়ের বাছুরের মতো নারীত্ব - অবশেষ দাস

সে দাঁড়িয়ে আছে ‌লাল পলাশের নিচে।পুরানো বটের ছায়ায়।নদীর ঘাটে। টালিগঞ্জ থেকে এসপ্লানেডমেট্রোরেলের চলমান কামড়ায় সে বসে আছে। কৃষ্ণচূড়ার শামিয়ানা ছুঁয়ে গেছে দোতলার ছাদ ,ঠিক সেখানেই সে শ্যাম্পু দেওয়া খোলা চুলে দাঁড়িয়ে আছে। গোলাপ ফুলের পাপড়ির ভেজা ঘাসের ওপর আড়মোড়া সে…

রুটির চেয়ে দামী – বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

রুটির চেয়ে দামী - বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

(গোর্কির ‘মা’-কে মনে রেখে) বুড়ীমা তোর গরম রুটিটাটকা আর গরমবুড়িমা তোর আগুনে সেঁকা টাটকা আর গরম রুটিকী জাদু তোর বুকের মধ্যে লুকিয়ে আনিস, বু়ড়িমাতুই জাদু জানিসপাইকগুলো সব বোকার মতো তাকিয়ে থাকে,যখন তোকে ঘিরেআমরা হাজার ছেলে হাত বাড়াই, সকল রুটিরচেয়ে দামীবুড়িমা…

নিজস্ব দিনলিপি – বিথী চট্টোপাধ্যায়।

অভিশাপ - বীথি চট্টোপাধ্যায়

দেখেছি রাত্রি, আকাশে ফুটছে তারাআসছে যাচ্ছে, ঝরেও পড়ছে কতো,জন্মের ঠিক থাকে না, আমার-ও নেইএকটা ছোট্ট তেঁতুলচারার মতো। পথের কুকুর যেভাবে তাকায়; যদি,বিস্কুটভরা কোনো হাতে থাকেচায়ের দোকান ঘেঁষে যেভাবে সে শোয়সেভাবেই আমি নিয়েছি জীবনটাকে। দু-চারটি মেঘ, কয়েকটি বাজে কথাঅনেক মেরেছে, ভয়-ও…

সজ্জাসুন্দরী – মন্দাক্রান্তা সেন।

সুজনেষু - মন্দাক্রান্তা সেন

যে-কোনও সমুদ্রের ধারেএকটি একাকী কুকুর থাকে।তার ডাক সমুদ্রের ওপারেভেসে চলে যায় যেমন যায় তোমার কথাও কাছে আছ, হাত ছুঁয়ে আছতবু আর যে কাকে ডাকোবুঝে উঠতে পারি না আমি সজ্জাসুন্দরীআমাকে পরাও সৈকতেসিঁদুরে-লাল কাঁকড়াদেরখুঁড়ে তোলা বালির গয়না কুকুরটি গর্ত খুঁচিয়েকাঁকড়া খেতে ভালোবাসে…

শুভম তোমাকে – মল্লিকা সেনগুপ্ত।

তোমার দিকে তাকিয়ে - নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

শুভম তোমাকে অনেকদিন পরেহটাত দেখেছি বইমেলার মাঠেগত জন্মের স্মৃতির মতনভুলে যাওয়া গানের মতনঠিক সেই মুখ , ঠিক সেই ভুরুশুধুই ঈষৎ পাক ধরা চুলচোখ মুখ নাক অল্প ফুলেছেঠোঁটের কোনায় দামি সিগারেটশুভম তুমি কি সত্যি শুভম ! মনে পড়ে সেই কলেজ মাঠেদিনের…

মৌলিক নিষাদ – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী।

নিজের বাড়ি - নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

পিতামহ, আমি এক নিষ্ঠুর নদীর ঠিক পাশেদাঁড়িয়ে রয়েছি। পিতামহ,দাঁড়িয়ে রয়েছি, আর চেয়ে দেখছি রাত্রির আকাশেওঠেনি একটিও তারা আজ।পিতামহ, আমি এক নিষ্ঠুর মৃত্যুর কাছাকাছিনিয়েছি আশ্রয়। আমি ভিতরে বাহিরেযেদিকে তাকাই, আমি স্বদেশে বিদেশেযেখানে তাকাই–শুধু অন্ধকার, শুধু অন্ধকার।পিতামহ, আমি এক নিষ্ঠুর সময়ে বেঁচে…

বালিকা ও দুষ্টু লোক – মল্লিকা সেনগুপ্ত।

আমার বাবার মুখ - মল্লিকা সেনগুপ্ত

স্কুলবাসের বাচ্চা মেয়েসবার শেষে নামেসঙ্গীগুলো বিদায় নিলেতার কেন গা ঘামে! বাসের কাকু বাসের চাচাকেমন যেন করেহঠাৎ গাড়ি থামিয়ে দিয়েআমায় নিয়ে পড়ে কাকু জেঠুর মতন নয়দুষ্টু লোক ওরামাগো আমার বাস ছাড়িয়েদাও না সাদা ঘোড়া! দুষ্টু কাকু দুষ্টু চাচাথাকুক না তার ঘরেবাচ্চা…

দু-চার বছর – তারাপদ রায়।

মানুষের ঘ্রাণ - মুহম্মদ নূরুল হুদা

মাঝে মধ্যে দেখা হবেমাঝে মধ্যে চোখের আড়ালে দু-চার বছরকিংবা ধরো সেই জীবনানন্দেরজীবন গিয়েছে চলে কুড়ি কুড়ি বছরের পার ; এইভাবে ঝরা পাতা, হেমন্তের নরম বাতাসকিছু বৃষ্টি, কুয়াশা ও জল, কিংবা জলের মতনচলে যাবে দিন ও সময়, সময় ও ভালোবাসা।ভালোবাসা? হয়তো…

কথোপকথন ২৮ – পুর্ণেন্দু পত্রী।

কথোপকথন ২৮ – পুর্ণেন্দু পত্রী

– আমার আগে আর কাউকে ভালবাসনি তুমি?– কেন বাসব না? অনেক।বিষবৃক্ষের ভ্রমরযোগাযোগের কুমুপুতুলনাচের ইতিকথার কুসুমঅপরাজিত-র…..– ইয়ার্কি করো না। সত্যি কথা বলবে।– রোগা ছিপছিপে যমুনাকে ভালোবেসেছিলাম বৃন্দাবনেপাহাড়ী ফুলডুংরীকে ঘাটশিলায়দজ্জাল যুবতী তোর্সাকে জলপাইগুড়ির জঙ্গলেআর সেই বেগমসাহেবা, নীল বোরখায় জরীর কাজনাম চিল্কা– আবার…