কবিতার গভীরে প্রবেশ করলে দেখা যায়, কবি যমুনাকে নারীর এক শাশ্বত ও বৈশ্বিক রূপ হিসেবে অঙ্কন করেছেন। তিনি কখনো শব্দময়ী, কখনো বর্ণ-নারী, আবার কখনো প্রতিটি অণুতে মিশে থাকা এক মানবী। নারীর ভেতরে নারী হয়ে থাকা এই সত্তাটি আসলে সকল কবির আদিম অনুপ্রেরণা—সেই কালজয়ী ‘নীরা’। কবির দৃষ্টিতে এই নারী সত্তাই পারে দুনিয়ার সমস্ত দাপাদাপি, ক্রোধ আর লোভের ঊর্ধ্বে উঠে নদীর তরঙ্গের মতো পাপীকেও পরম মমতায় চুম্বন করতে। কবির বিশ্বাস, এই পবিত্র স্পর্শের গুণেই স্বর্গের প্রহরী আজ তাঁর মতো একজন পাপীর জন্য দ্বার খুলে দেবে। কবি এখানে নিজের জীবনের অন্ধকার দিকগুলোকে কোনো লুকোছাপা ছাড়াই স্বীকার করেছেন। তিনি নিজেকে অবিশ্বাসী খুনি, পাতাল শহরের জালিয়াতি কিংবা মাংসের দোকানে ঋণী এক পলাতক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এই চরম সত্যের স্বীকারোক্তি আসলে মানুষের সেই প্রান্তিক রূপকে ফুটিয়ে তোলে, যা প্রতিনিয়ত জাগতিক পাপ ও গ্লানির সাথে লড়াই করে বিধ্বস্ত।
এই পৃথিবীর দুঃসহ দুঃখ আর যন্ত্রণার ভার বইতে বইতে কবি আজ ক্লান্ত। পৃথিবীতে তিনি এতটাই দুঃখ পেয়েছেন যে, এখন তাঁর একমাত্র গন্তব্য সেই প্রাক্তন স্বদেশের মতো হারানো স্বর্গ। যমুনাকে তিনি ‘বিস্মৃতির স্রোত’ বা ‘বিকালের পুরস্কার’ হিসেবে দেখেন, যে কবিকে তাঁর যাবতীয় অপরাধ আর গ্লানি থেকে মুক্ত করে এক নির্মল পবিত্রতা দান করতে পারে। যমুনার প্রতি কবির যে অকৃত্রিম ভালোবাসা, তা কোনো জাগতিক নিয়ম মানে না। তিনি যমুনাকে কিশোরী নদী বা খুকি সম্বোধন করে এক অবোধ ও চঞ্চল আনন্দে মেতে উঠতে চান। সব দ্বিধা আর সংশয় কাটিয়ে কবি সেই স্বর্গের পথ খুঁজে পেয়েছেন, যা আসলে এক শান্তিময় নির্বাণ। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এখানে জীবনের কর্কশ বাস্তবতাকে একদিকে রেখেছেন এবং অন্যদিকে রেখেছেন প্রেমের সেই স্নিগ্ধ জাদু, যা একজন অন্ধকার শহরের পলাতক মানুষকেও দেবত্বের শিখরে পৌঁছে দিতে পারে।
প্রবাসের শেষে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের কবিতা | প্রবাস শেষে স্বর্গযাত্রার আহ্বান ও ‘যমুনা, আমার হাত ধরো’ | ‘তুমি শুধু আমার যমুনা’ ও ‘পৃথিবীতে বড় বেশী দুঃখ আমি পেয়ে গেছি’
প্রবাসের শেষে: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রবাস শেষে প্রেম ও স্বর্গযাত্রার অসাধারণ কাব্য, ‘যমুনা, আমার হাত ধরো, স্বর্গে যাবো’ বলে আহ্বান, ‘এ রকম মধুর বিচ্ছেদ মানুষ জানেনি আর’ বলে বিরহের মাধুর্য, ‘তুমি কি স্বাতী নক্ষত্রের সেই প্রবাদ মাখানো অশ্রু?’ বলে প্রশ্ন, ‘তুমি শুধু আমার যমুনা’ বলে চূড়ান্ত স্বীকারোক্তি, ‘পৃথিবীতে বড় বেশী দুঃখ আমি পেয়ে গেছি’ বলে জীবনের ক্লান্তি, ও ‘আয় খুকি, স্বর্গের বাগানে আজ ছুটোছুটি করি’ বলে শেষ আহ্বানের অমর সৃষ্টি
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের “প্রবাসের শেষে” বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য, প্রেমময় ও স্বর্গচেতনামূলক সৃষ্টি। “যমুনা, আমার হাত ধরো। স্বর্গে যাবো” — এই পঙ্ক্তি দিয়ে শুরু হওয়া কবিতাটি ধীরে ধীরে উন্মোচিত করে প্রবাস শেষে প্রিয় যমুনার হাত ধরে স্বর্গে যাওয়ার আহ্বান; ‘এসো, মুখে রাখো মুখ, চোখে চোখ, শরীরে শরীর’ বলে মিলনের আকাঙ্ক্ষা; ‘স্বর্গ খুব দূরে নয়’ বলে স্বর্গের নৈকট্য; ‘উত্তর সমুদ্র থেকে যেরকম বসন্ত প্রবাসে উড়ে আসে কলস্বর’ বলে প্রকৃতির উপমা; ‘এ রকম মধুর বিচ্ছেদ মানুষ জানেনি আর’ বলে বিরহের মাধুর্য; ‘সহস্র রুমাল স্বর্গের উদ্দেশ্যে ওড়ে’ বলে প্রতীকী চিত্র; ‘তুমি কি স্বাতী নক্ষত্রের সেই প্রবাদ মাখানো অশ্রু?’ বলে প্রশ্ন; ‘তুমি ফেলে আসা লেবুর পাতার ঘ্রাণে জ্যোৎস্নাময় রাত?’ বলে আরও প্রশ্ন; ‘তুমি বিস্মৃতি, তুমি শব্দময়ী, বর্ণ-নারী, স্তন ও জঙ্ঘায় নারী’ বলে নারীর শরীরের বর্ণনা; ‘তুমিই গায়ত্রী, ভাঙা মনীষার উপহাস’ বলে ব্যঙ্গ; ‘পাপীকে চুম্বন করো তুমি, তাই দ্বার খোলে স্বর্গের প্রহরী’ বলে চমৎকার উপমা; ‘তুমি শুধু আমার যমুনা’ বলে চূড়ান্ত স্বীকারোক্তি; ‘পৃথিবীতে বড় বেশী দুঃখ আমি পেয়ে গেছি’ বলে জীবনের ক্লান্তি; ‘অবিশ্বাসে আমি খুনী, আমি পাতাল শহরে জালিয়াত’ বলে আত্মস্বীকারোক্তি; এবং শেষ পর্যন্ত ‘আয় খুকি, স্বর্গের বাগানে আজ ছুটোছুটি করি’ বলে চূড়ান্ত আহ্বানের অসাধারণ কাব্যচিত্র। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় (১৯৩৪-২০১২) একজন বিশিষ্ট ভারতীয় বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক ও সাংবাদিক। তিনি প্রেম, নাগরিক জীবন, স্বপ্ন ও বাস্তবের দ্বান্দ্বিকতা নিয়ে লিখেছেন। তাঁর কবিতায় সহজ-সরল ভাষায় গভীর আবেগ ও রোমান্টিকতা ফুটে উঠেছে। “প্রবাসের শেষে” সেই স্বকীয় কাব্যভাষার এক অসাধারণ শিল্পরূপ — যেখানে তিনি প্রবাসের ক্লান্তি শেষে প্রিয় যমুনার হাত ধরে স্বর্গে যেতে চান।
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়: প্রেম ও প্রবাসের কবি
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ১৯৩৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা করেছেন। তিনি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান পুরুষ। তাঁর রচনায় প্রেম, নাগরিক জীবন, স্বপ্ন ও বাস্তবের দ্বান্দ্বিকতা, নিঃসঙ্গতা ও প্রবাসচেতনা গভীরভাবে ফুটে উঠেছে।
তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘একা একা’, ‘কেন ভালবাসি’, ‘হঠাৎ নয়’, ‘নির্বাচিত কবিতা’, ‘ভালোবাসার প্রস্তাব’, ‘প্রবাসের শেষে’ ইত্যাদি। তিনি সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের কবিতার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো ‘যমুনা, আমার হাত ধরো’ বলে আহ্বান, ‘স্বর্গে যাবো’ বলে চূড়ান্ত ঘোষণা, ‘মুখে মুখ, চোখে চোখ, শরীরে শরীর’ বলে মিলনের আকাঙ্ক্ষা, ‘এ রকম মধুর বিচ্ছেদ’ বলে বিরহের মাধুর্য, ‘তুমি কি স্বাতী নক্ষত্রের অশ্রু?’ বলে প্রশ্ন, ‘তুমি শুধু আমার যমুনা’ বলে স্বীকারোক্তি, ‘পৃথিবীতে বড় বেশী দুঃখ পেয়ে গেছি’ বলে ক্লান্তি, এবং ‘আয় খুকি, স্বর্গের বাগানে ছুটোছুটি করি’ বলে শেষ আহ্বান। ‘প্রবাসের শেষে’ সেই ধারার একটি অসাধারণ উদাহরণ — যেখানে তিনি প্রবাসের সব ক্লান্তি শেষে প্রেমের স্বর্গে যেতে চান।
প্রবাসের শেষে: শিরোনামের তাৎপর্য ও কবিতার পটভূমি
শিরোনাম ‘প্রবাসের শেষে’ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ‘প্রবাস’ মানে বিদেশে অবস্থান, নিজের দেশ ছেড়ে অন্যত্র থাকা। ‘প্রবাসের শেষে’ — প্রবাস শেষ হয়েছে, এখন বাড়ি ফেরার সময়। কিন্তু এখানে ‘বাড়ি’ মানে স্বর্গ, প্রিয় যমুনার কাছে।
কবিতাটি প্রবাসের ক্লান্তি ও স্বর্গের আকাঙ্ক্ষার পটভূমিতে রচিত। কবি যমুনাকে সম্বোধন করে বলছেন — হাত ধরো, স্বর্গে যাবো।
কবি শুরুতে বলছেন — যমুনা, আমার হাত ধরো। স্বর্গে যাবো। এসো, মুখে রাখো মুখ, চোখে চোখ, শরীরে শরীর নবীনা পাতার মতো শুদ্ধরূপ, এসো স্বর্গ খুব দূরে নয়, উত্তর সমুদ্র থেকে যেরকম বসন্ত প্রবাসে উড়ে আসে কলস্বর, বাহু থেকে শীতের উত্তাপ যে রকম অপর বুকের কাছে ঋণী হয়, যমুনা, আমার হাত ধরো, স্বর্গে যাবো। আমার প্রবাস আজ শেষ হলো, এ রকম মধুর বিচ্ছেদ মানুষ জানেনি আর। যমুনা আমার সঙ্গী — সহস্র রুমাল স্বর্গের উদ্দেশ্যে ওড়ে, যমুনা তোমায় আমি নক্ষত্রের অতি প্রতিবেশী করে রাখি, আসলে কি স্বাতী নক্ষত্রের সেই প্রবাদ মাখানো অশ্রু তুমি নও? তুমি নও ফেলে আসা লেবুর পাতার ঘ্রাণে জ্যোৎস্নাময় রাত? তুমি নও ক্ষীণ ধুপ? তুমি কেউ নও। তুমিই বিস্মৃতি, তুমি শব্দময়ী, বর্ণ-নারী, স্তন ও জঙ্ঘায় নারী তুমি, ভ্রমণে শয়নে তুমি সকল গ্রন্থের যুক্ত প্রণয় পিপাসা চোখের বিশ্বাসে নারী, স্বেদে চুলে, নোখের ধুলোয় প্রত্যেক অণুতে নারী, নারীর ভিতরে নারী, শূন্যতায় সহাস্য সুন্দরী, তুমিই গায়ত্রী ভাঙা মনীষার উপহাস, তুমি যৌবনের প্রত্যেক কবির নীরা, দুনিয়ার সব দাপাদাপি ক্রুদ্ধ লোভ ভুল ও ঘুমের মধ্যে তোমার মাধুরী ছুঁয়ে নদীর তরঙ্গ। পাপীকে চুম্বন করো তুমি, তাই দ্বার খোলে স্বর্গের প্রহরী। তুমি এ রকম? তুমি কেউ নও। তুমি শুধু আমার যমুনা। হাত ধরো, স্বরবৃত্ত পদক্ষেপে নাচ হোক, লজ্জিত জীবন অন্তরীক্ষে বর্ণনাকে দৃশ্য করে, এসো, হাত ধরো। পৃথিবীতে বড় বেশী দুঃখ আমি পেয়ে গেছি, অবিশ্বাসে আমি খুনী, আমি পাতাল শহরে জালিয়াত, আমি অরণ্যের পলাতক, মাংসের দোকানে ঋণী, উৎসব ভাঙার ছদ্মবেশী গুপ্তচর! তবুও দ্বিধায় আমি ভুলিনি স্বর্গের পথ, যে রকম প্রাক্তন স্বদেশ। তুমি তো জানো না কিছু, না প্রেম, না নিচু স্বর্গ, না জানাই ভালো। তুমিই কিশোরী নদী, বিস্মৃতির স্রোত, বিকালের পুরস্কার… আয় খুকি, স্বর্গের বাগানে আজ ছুটোছুটি করি!
প্রবাসের শেষে: স্তবকভিত্তিক বিস্তারিত বিশ্লেষণ
প্রথম স্তবক: হাত ধরো, স্বর্গে যাবো — মিলনের আহ্বান
“যমুনা, আমার হাত ধরো। স্বর্গে যাবো। / এসো, মুখে রাখো মুখ, চোখে চোখ, শরীরে শরীর নবীনা পাতার মতো শুদ্ধরূপ, / এসো স্বর্গ খুব দূরে নয়, উত্তর সমুদ্র থেকে যেরকম বসন্ত প্রবাসে / উড়ে আসে কলস্বর, বাহু থেকে শীতের উত্তাপ / যে রকম অপর বুকের কাছে ঋণী হয়, যমুনা, আমার হাত ধরো, / স্বর্গে যাবো।”
প্রথম স্তবকে স্বর্গযাত্রার আহ্বান। ‘যমুনা, আমার হাত ধরো’ — প্রিয়াকে সম্বোধন। ‘স্বর্গে যাবো’ — চূড়ান্ত ঘোষণা। ‘মুখে মুখ, চোখে চোখ, শরীরে শরীর’ — সম্পূর্ণ মিলনের আকাঙ্ক্ষা। ‘নবীনা পাতার মতো শুদ্ধরূপ’ — শুদ্ধ, পবিত্র। ‘স্বর্গ খুব দূরে নয়’ — স্বর্গ কাছে। ‘উত্তর সমুদ্র থেকে বসন্ত উড়ে আসে কলস্বর’ — প্রকৃতির উপমা।
দ্বিতীয় স্তবক: মধুর বিচ্ছেদ ও সহস্র রুমাল উড়ে যাওয়া
“আমার প্রবাস আজ শেষ হলো, এ رকম مধুর বিচ্ছেদ / মানুষ জানেনি আর। যমুনা আমার সঙ্গী — / সহস্র رومال স্বর্গের উদ্দেশ্যে ওড়ে, যমুনা তোমায় আমি نক্ষত্রের অতি প্রতিবেশী / করে রাখি, আসলে কি স্বাতী نক্ষত্রের সেই প্রবাদ মাখানো অশ্রু / تومی নও ? / تومی নও ফেলে আসা لেবুর পাতার ঘ্রাণে ج্যোৎস্নাময় رات ?”
দ্বিতীয় স্তবকে বিচ্ছেদের মাধুর্য। ‘প্রবাস শেষ হলো’ — ফেরার সময়। ‘এ রকম মধুর বিচ্ছেদ মানুষ জানেনি আর’ — বিচ্ছেদটিও মধুর। ‘সহস্র রুমাল স্বর্গের উদ্দেশ্যে ওড়ে’ — বিদায়ের প্রতীক। ‘স্বাতী নক্ষত্রের প্রবাদ মাখানো অশ্রু’ — স্বাতী নক্ষত্রের বৃষ্টির ফোঁটা। ‘লেবুর পাতার ঘ্রাণে জ্যোৎস্নাময় রাত’ — স্মৃতির প্রতীক।
তৃতীয় স্তবক: তুমি কে? — বিস্মৃতি, শব্দময়ী, বর্ণ-নারী
“تومی নও ক্ষীণ ধুপ ? তুমি كেউ نও / تومیই বিস্মৃতি, تومی শব্দময়ী, বর্ণ – ناری, স্তন ও جঙ্ঘায় / ناری تومی, / ভ্রমণে শয়নে تومی সকল গ্রন্থের যুক্ত প্রণয় পিপাসা চোখের বিশ্বাসে ناری, / স্বেদে চুলে, نোখের ধুলোয় প্রত্যেক অণুতে ناری, / نارীর ভিতরে ناری, শূন্যতায় সহাস্য সুন্দরী, / تومیই গায়ত্রী ভাঙা মনীষার উপহাস, / تومی যৌবনের প্রত্যেক কবির নীরা”
তৃতীয় স্তবকে যমুনার পরিচয়। ‘তুমি কেউ নও, তুমিই বিস্মৃতি’ — বিস্মৃতির রূপ। ‘শব্দময়ী, বর্ণ-নারী’ — ভাষা ও রঙের নারী। ‘স্তন ও জঙ্ঘায় নারী’ — দৈহিক নারী। ‘সকল গ্রন্থের যুক্ত প্রণয় পিপাসা’ — সব বইয়ের প্রেমের তৃষ্ণা। ‘প্রত্যেক অণুতে নারী’ — সবকিছুতে নারী। ‘গায়ত্রী ভাঙা মনীষার উপহাস’ — পবিত্র মন্ত্রের উপহাস। ‘যৌবনের প্রত্যেক কবির নীরা’ — প্রতিটি কবির প্রেমিকা।
চতুর্থ স্তবক: পাপীকে চুম্বন ও স্বর্গের দ্বার খোলা
“دुनিয়ার সব দাপাদাপি ক্রুদ্ধ لوب ভুল ও ঘুমের মধ্যে তোমার مাধুরী ছুঁয়ে نদীর তরঙ্গ / পাপীকে চুম্বন করো تومی, তাই দ্বار খোলে স্বর্গের প্রহরী। / تومی এ رকম ? تومی كেউ نও / تومی শুধু আমার যমুনা।”
চতুর্থ স্তবকে যমুনার শক্তি। ‘দুনিয়ার সব দাপাদাপি ক্রুদ্ধ লোভ ভুল ও ঘুমের মধ্যে তোমার মাধুরী ছুঁয়ে নদীর তরঙ্গ’ — সবকিছুর মধ্যে তার মাধুরী। ‘পাপীকে চুম্বন করো তুমি, তাই দ্বার খোলে স্বর্গের প্রহরী’ — পাপীকে চুমু দিলেই স্বর্গের দরজা খোলে। ‘তুমি এ রকম? তুমি কেউ নও — তুমি শুধু আমার যমুনা’ — চূড়ান্ত স্বীকারোক্তি।
পঞ্চম ও ষষ্ঠ স্তবক: হাত ধরো, নাচ হোক ও পৃথিবীর দুঃখ
“হাত ধরো, স্বরবৃত্ত পদক্ষেপে নাচ হোক, / লজ্জিত জীবন অন্তরীক্ষে বর্ণনাকে দৃশ্য করে, / এসো, হাত ধরো। পৃথিবীতে بڑ বেশী দুঃখ আমি পেয়ে গেছি, / অবিশ্বাসে আমি খুনী, আমি পাতাল শহরে জালিয়াত, আমি অরণ্যের / পলাতক, মাংসের দোকানে ঋণী, উৎসব ভাঙার ছদ্মবেশী / গুপ্তচর ! / تবুও দ্বিধায় আমি ভুলিনি স্বর্গের পথ, যে رকম প্রাক্তন স্বদেশ।”
পঞ্চম ও ষষ্ঠ স্তবকে নাচ ও দুঃখের স্বীকারোক্তি। ‘হাত ধরো, স্বরবৃত্ত পদক্ষেপে নাচ হোক’ — নাচের আহ্বান। ‘পৃথিবীতে বড় বেশী দুঃখ আমি পেয়ে গেছি’ — জীবনের ক্লান্তি। ‘অবিশ্বাসে আমি খুনী, পাতাল শহরে জালিয়াত, অরণ্যের পলাতক, মাংসের দোকানে ঋণী, উৎসব ভাঙার ছদ্মবেশী গুপ্তচর’ — আত্মস্বীকারোক্তি। ‘তবুও দ্বিধায় আমি ভুলিনি স্বর্গের পথ’ — স্বর্গের পথ ভুলিনি।
সপ্তম ও শেষ স্তবক: তুমি কিশোরী নদী, বিস্মৃতির স্রোত ও স্বর্গের বাগানে ছুটোছুটি
“تومی تো জানো না কিছু, না প্রেম, না নিচু স্বৰ্গ, না জানাই ভালো / تومیই كিশোরী نদী, বিস্মৃতির স্রোত, বিকালের পুরস্কার… / আয় খুকি, স্বর্গের বাগানে আজ ছুটোছুটি করি !”
সপ্তম ও শেষ স্তবকে শেষ আহ্বান। ‘তুমি তো জানো না কিছু’ — যমুনা কিছুই জানে না। ‘তুমিই কিশোরী নদী, বিস্মৃতির স্রোত, বিকালের পুরস্কার’ — যমুনার পরিচয়। ‘আয় খুকি, স্বর্গের বাগানে আজ ছুটোছুটি করি’ — ‘খুকি’ বলে স্নেহের ডাক, স্বর্গের বাগানে ছুটোছুটি করার আহ্বান।
কবিতার গঠনশৈলী, ছন্দ ও শিল্পরূপ
কবিতাটি গদ্যছন্দে রচিত, দীর্ঘ লাইনে প্রবাহিত। ‘যমুনা’ সম্বোধন বারবার এসেছে। ‘স্বর্গে যাবো’ — চূড়ান্ত ঘোষণা। ‘তুমি কেউ নও’ — অস্বীকার ও স্বীকারোক্তি। ‘তুমি শুধু আমার যমুনা’ — চূড়ান্ত স্বীকারোক্তি। ‘আয় খুকি’ — স্নেহের ডাক।
প্রতীক ব্যবহার অত্যন্ত শক্তিশালী। ‘যমুনা’ — প্রেমিকার নাম, নদীর নাম, যা স্বর্গের পথ দেখায়। ‘স্বর্গ’ — শান্তি, মিলন, মুক্তির প্রতীক। ‘নবীনা পাতা’ — শুদ্ধতা, সতেজতার প্রতীক। ‘কলস্বর’ — বসন্তের পাখি, আনন্দের প্রতীক। ‘সহস্র রুমাল ওড়া’ — বিদায় ও স্বর্গযাত্রার প্রতীক। ‘স্বাতী নক্ষত্রের অশ্রু’ — বৃষ্টির ফোঁটা, প্রেমের অশ্রুর প্রতীক। ‘লেবুর পাতার ঘ্রাণে জ্যোৎস্নাময় রাত’ — স্মৃতির প্রতীক। ‘বিস্মৃতি’ — সব ভুলে যাওয়ার প্রতীক। ‘শব্দময়ী, বর্ণ-নারী’ — ভাষা ও রঙের রূপ। ‘গায়ত্রী’ — পবিত্র মন্ত্র, যা এখানে উপহাস। ‘নীরা’ — প্রেমিকা, অধরা রূপ। ‘পাপীকে চুম্বন’ — প্রেমের মুক্তি। ‘পাতাল শহরে জালিয়াত, অরণ্যের পলাতক, মাংসের দোকানে ঋণী’ — আত্মস্বীকারোক্তি, পাপের তালিকা। ‘প্রাক্তন স্বদেশ’ — জন্মভূমির স্মৃতি। ‘কিশোরী নদী’ — যমুনার রূপ, যৌবন ও বিস্মৃতির স্রোত। ‘বিকালের পুরস্কার’ — দিনশেষের প্রাপ্তি। ‘খুকি’ — স্নেহের ডাক। ‘স্বর্গের বাগানে ছুটোছুটি’ — চূড়ান্ত মুক্তির আহ্বান।
পুনরাবৃত্তি শৈলী অত্যন্ত কার্যকর। ‘হাত ধরো’ — তিনবার। ‘স্বর্গে যাবো’ — তিনবার। ‘তুমি নও’ — তিনবার প্রশ্ন। ‘তুমি কেউ নও’ — তিনবার। ‘নারী’ — বহুবার।
কবিতার সামগ্রিক তাৎপর্য ও দার্শনিক মাত্রা
“প্রবাসের শেষে” সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের এক অসাধারণ সৃষ্টি। তিনি এখানে প্রবাসের ক্লান্তি শেষে প্রিয় যমুনার হাত ধরে স্বর্গে যাওয়ার এক গভীর ও রোমান্টিক কাব্যচিত্র এঁকেছেন।
প্রথম স্তবকে — হাত ধরো, স্বর্গে যাবো — মিলনের আহ্বান। দ্বিতীয় স্তবকে — মধুর বিচ্ছেদ ও সহস্র রুমাল উড়ে যাওয়া। তৃতীয় স্তবকে — তুমি কে? — বিস্মৃতি, শব্দময়ী, বর্ণ-নারী। চতুর্থ স্তবকে — পাপীকে চুম্বন ও স্বর্গের দ্বার খোলা। পঞ্চম ও ষষ্ঠ স্তবকে — হাত ধরো, নাচ হোক ও পৃথিবীর দুঃখ। সপ্তম ও শেষ স্তবকে — তুমি কিশোরী নদী, বিস্মৃতির স্রোত ও স্বর্গের বাগানে ছুটোছুটি।
এই কবিতা আমাদের শেখায় — প্রবাস শেষে স্বর্গে যেতে হয়; ‘যমুনা, আমার হাত ধরো’; ‘মুখে মুখ, চোখে চোখ, শরীরে শরীর’ মিলন চাই; ‘এ রকম মধুর বিচ্ছেদ মানুষ জানেনি আর’; ‘তুমি কি স্বাতী নক্ষত্রের অশ্রু?’; ‘তুমি লেবুর পাতার ঘ্রাণে জ্যোৎস্নাময় রাত?’; ‘তুমি বিস্মৃতি, শব্দময়ী, বর্ণ-নারী’; ‘পাপীকে চুম্বন করো তুমি, তাই দ্বার খোলে স্বর্গের প্রহরী’; ‘তুমি শুধু আমার যমুনা’; ‘পৃথিবীতে বড় বেশী দুঃখ আমি পেয়ে গেছি’; ‘তবুও দ্বিধায় আমি ভুলিনি স্বর্গের পথ’; ‘আয় খুকি, স্বর্গের বাগানে আজ ছুটোছুটি করি’।
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কবিতায় প্রবাস, প্রেম ও স্বর্গচেতনা
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কবিতায় প্রবাস, প্রেম ও স্বর্গচেতনা একটি পুনরাবৃত্ত বিষয়। তিনি ‘প্রবাসের শেষে’ কবিতায় প্রবাসের ক্লান্তি শেষে প্রিয় যমুনার হাত ধরে স্বর্গে যাওয়ার অসাধারণ কাব্যিক চিত্র এঁকেছেন। তিনি দেখিয়েছেন — কীভাবে ‘যমুনা, আমার হাত ধরো’; কীভাবে ‘স্বর্গে যাবো’; কীভাবে ‘মুখে মুখ, চোখে চোখ, শরীরে শরীর’ মিলন চাই; কীভাবে ‘এ রকম মধুর বিচ্ছেদ মানুষ জানেনি আর’; কীভাবে ‘সহস্র রুমাল স্বর্গের উদ্দেশ্যে ওড়ে’; কীভাবে ‘তুমি স্বাতী নক্ষত্রের অশ্রু?’; কীভাবে ‘তুমি লেবুর পাতার ঘ্রাণে জ্যোৎস্নাময় রাত?’; কীভাবে ‘পাপীকে চুম্বন করো তুমি, তাই দ্বার খোলে স্বর্গের প্রহরী’; কীভাবে ‘তুমি শুধু আমার যমুনা’; কীভাবে ‘পৃথিবীতে বড় বেশী দুঃখ আমি পেয়ে গেছি’; আর কীভাবে ‘আয় খুকি, স্বর্গের বাগানে আজ ছুটোছুটি করি’।
শিক্ষামূলক গুরুত্ব ও পাঠ্যক্রমিক স্থান
বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাংলা সাহিত্যের উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক পাঠ্যক্রমে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘প্রবাসের শেষে’ কবিতাটি অন্তর্ভুক্ত থাকার যোগ্য। এই কবিতাটি শিক্ষার্থীদের প্রবাসচেতনা, প্রেমের স্বর্গীয় রূপ, নারীর শরীর ও আত্মার জটিল চিত্রায়ণ, এবং সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের রোমান্টিক কাব্যভাষা সম্পর্কে বুঝতে সাহায্য করে। বিশেষ করে ‘যমুনা, আমার হাত ধরো, স্বর্গে যাবো’, ‘মুখে মুখ, চোখে চোখ, শরীরে শরীর’, ‘এ রকম মধুর বিচ্ছেদ মানুষ জানেনি আর’, ‘সহস্র রুমাল স্বর্গের উদ্দেশ্যে ওড়ে’, ‘তুমি কি স্বাতী নক্ষত্রের অশ্রু?’, ‘তুমি লেবুর পাতার ঘ্রাণে জ্যোৎস্নাময় রাত?’, ‘তুমি বিস্মৃতি, শব্দময়ী, বর্ণ-নারী’, ‘পাপীকে চুম্বন করো তুমি, তাই দ্বার খোলে স্বর্গের প্রহরী’, ‘তুমি শুধু আমার যমুনা’, ‘পৃথিবীতে বড় বেশী দুঃখ আমি পেয়ে গেছি’, এবং ‘আয় খুকি, স্বর্গের বাগানে আজ ছুটোছুটি করি’ — এসব বিষয় শিক্ষার্থীদের কাব্যবোধ, প্রেমের দর্শন ও আধুনিক কবিতার চিত্রকল্প উপলব্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রবাসের শেষে সম্পর্কে বিস্তারিত প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন ১: প্রবাসের শেষে কবিতাটির রচয়িতা কে?
এই কবিতাটির রচয়িতা সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় (১৯৩৪-২০১২)। তিনি একজন বিশিষ্ট ভারতীয় বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক ও সাংবাদিক। তিনি প্রেম, নাগরিক জীবন, স্বপ্ন ও বাস্তবের দ্বান্দ্বিকতা, নিঃসঙ্গতা ও প্রবাসচেতনা নিয়ে লিখেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘একা একা’, ‘কেন ভালবাসি’, ‘হঠাৎ নয়’, ‘নির্বাচিত কবিতা’, ‘ভালোবাসার প্রস্তাব’, ‘প্রবাসের শেষে’ ইত্যাদি।
প্রশ্ন ২: ‘যমুনা, আমার হাত ধরো। স্বর্গে যাবো’ — লাইনটির তাৎপর্য কী?
‘যমুনা’ প্রেমিকার নাম, যা নদীর নামও। কবি প্রিয়ার হাত ধরে স্বর্গে যেতে চান। এটি প্রেম ও মুক্তির চূড়ান্ত আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।
প্রশ্ন ৩: ‘এ রকম মধুর বিচ্ছেদ মানুষ জানেনি আর’ — লাইনটির তাৎপর্য কী?
সাধারণত বিচ্ছেদ বেদনার। কিন্তু এখানে বিচ্ছেদ ‘মধুর’ — কারণ এই বিচ্ছেদের পরেই মিলন, স্বর্গযাত্রা। এটি বিরহের এক অনন্য রূপ।
প্রশ্ন ৪: ‘সহস্র রুমাল স্বর্গের উদ্দেশ্যে ওড়ে’ — লাইনটির সৌন্দর্য কী?
বিদায়ের সময় মানুষ রুমাল নেড়ে বিদায় জানায়। ‘সহস্র রুমাল স্বর্গের উদ্দেশ্যে ওড়ে’ — এটি একটি চমৎকার চিত্রকল্প, যেন সবাই স্বর্গযাত্রায় আনন্দিত।
প্রশ্ন ৫: ‘তুমি কি স্বাতী নক্ষত্রের সেই প্রবাদ মাখানো অশ্রু?’ — ‘স্বাতী নক্ষত্রের অশ্রু’ কী?
স্বাতী নক্ষত্রের বৃষ্টির ফোঁটা সম্পর্কে প্রবাদ আছে — এটি ঝিনুকে পড়লে মুক্তা হয়। কবি যমুনাকে সেই অশ্রুর সঙ্গে তুলনা করছেন — যিনি মুক্তার মতো মূল্যবান।
প্রশ্ন ৬: ‘তুমি বিস্মৃতি, তুমি শব্দময়ী, বর্ণ-নারী’ — লাইনটির তাৎপর্য কী?
যমুনা ‘বিস্মৃতি’ — সব ভুলিয়ে দেয়। ‘শব্দময়ী’ — ভাষার রূপ। ‘বর্ণ-নারী’ — রঙের নারী। এটি নারীর বহুমাত্রিক পরিচয়ের প্রতীক।
প্রশ্ন ৭: ‘পাপীকে চুম্বন করো তুমি, তাই দ্বার খোলে স্বর্গের প্রহরী’ — লাইনটির সৌন্দর্য কী?
স্বর্গের দরজা সাধারণত পুণ্যবানদের জন্য খোলে। কিন্তু এখানে যমুনার চুম্বন পাপীকেও স্বর্গে প্রবেশ করায়। এটি প্রেমের মুক্তি ও পবিত্রতার প্রতীক।
প্রশ্ন ৮: ‘তুমি শুধু আমার যমুনা’ — লাইনটির চূড়ান্ত বার্তা কী?
যমুনা কে? সে বিস্মৃতি, শব্দময়ী, বর্ণ-নারী, গায়ত্রী, নীরা — সব কিছু। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ‘তুমি শুধু আমার যমুনা’ — এটি চূড়ান্ত স্বীকারোক্তি ও দখলের ঘোষণা।
প্রশ্ন ৯: ‘পৃথিবীতে বড় বেশী দুঃখ আমি পেয়ে গেছি’ — লাইনটির তাৎপর্য কী?
কবি স্বীকার করছেন — পৃথিবীতে অনেক দুঃখ পেয়েছেন। তিনি খুনী, জালিয়াত, পলাতক, ঋণী, গুপ্তচর — সব পাপ করেছেন। তবুও স্বর্গের পথ ভুলেননি।
প্রশ্ন ১০: কবিতার মূল শিক্ষা ও সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা কী?
কবিতাটি আমাদের শেখায় — প্রবাস শেষে স্বর্গে যেতে হয়; ‘যমুনা, আমার হাত ধরো’; ‘মুখে মুখ, চোখে চোখ, শরীরে শরীর’ মিলন চাই; ‘এ রকম মধুর বিচ্ছেদ মানুষ জানেনি আর’; ‘তুমি কি স্বাতী নক্ষত্রের অশ্রু?’; ‘তুমি লেবুর পাতার ঘ্রাণে জ্যোৎস্নাময় রাত?’; ‘তুমি বিস্মৃতি, শব্দময়ী, বর্ণ-নারী’; ‘পাপীকে চুম্বন করো তুমি, তাই দ্বার খোলে স্বর্গের প্রহরী’; ‘তুমি শুধু আমার যমুনা’; ‘পৃথিবীতে বড় বেশী দুঃখ আমি পেয়ে গেছি’; ‘তবুও দ্বিধায় আমি ভুলিনি স্বর্গের পথ’; ‘আয় খুকি, স্বর্গের বাগানে আজ ছুটোছুটি করি’। এই কবিতাটি আজকের দিনে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক — প্রবাসের ক্লান্তি, প্রেমের স্বর্গীয় রূপ, পাপ ও মুক্তির দ্বান্দ্বিকতা — সবকিছুই চিরন্তন ও সময়োপযোগী বিষয়।
ট্যাগস: প্রবাসের শেষে, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের কবিতা, যমুনা, স্বর্গে যাবো, স্বাতী নক্ষত্রের অশ্রু, পাপীকে চুম্বন
© Kobitarkhata.com – কবি: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | কবিতার প্রথম লাইন: “যমুনা, আমার হাত ধরো। স্বর্গে যাবো” | প্রবাস শেষে প্রেম ও স্বর্গযাত্রার অমর কবিতা বিশ্লেষণ | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের রোমান্টিক কাব্যধারার অসাধারণ নিদর্শন