admin

admin

মুমুর জন্যে – মাকিদ হায়দার।

চাই - মাকিদ হায়দার

যশুরে কাঁকুই দিয়ে আঁচড়িয়ে দিব চুল।সাজিয়ে দেবো জামালপুরের নকশি কাঁথা দিয়েফুলসজ্জার অনন্ত প্রহর । ঢাকেশ্বরী বস্রালয় থেকে এনে দেবোতোমার অনেকদিনের শখ মসলিনের ।সেই শাড়িটি, যেটি ঢাকার নবাববাড়িরনবাবজাদি কিনতে চেয়েছিলো । ঢাকেশ্বরী বস্রালয়ের মালিকসুন্দর বাবুকে বলে রেখেছিলেন , নবাবজাদি যদি লক্ষ,…

নতুন – শ্রীজাত।

পুরাণ - শামসুর রাহমান

লক্ষ বছর পার করেছি আমিতোমার হাতেও আদিমকালের শোক…অতীত জীবন মুহূর্তে আগামী –এবার কোথাও নতুন কিছু হোক। সেই তো একই দিনের পরে দিনপাথরচাপা বয়স বাড়ার ছল…সেই তো একই সন্ধে উদাসীনবাড়ি ফেরার গল্প অবিকল। দেশ ভেঙেছে। ভাগ হয়েছে মন।মন ভেঙেছে। ছড়িয়ে গেছে…

মানুষ মানুষের কাঁধে – নির্মলেন্দু গুণ।

মানুষ মানুষের কাঁধে - নির্মলেন্দু গুণ

মৃত ছিল, তবু ছিল চাদরে আবৃত গৃহপাশে;ভিতরে সান্ত্বনা ছিল, আছে, আতর-গোলাপে মাখাঅনেক দিনের পুরোনো মানুষখানি।হয়তো ভিতরে নেই প্রাণ, তবু হাত, তবু মুখ।জীবনেরে পাশে ঠেলে হয়তো বা হয়েছে প্রধান মৃত্যুতবু এখনো সে আছে গৃহপাশে, এটুকুই এখন সান্ত্বনা। মানুষ জানে না তার…

মা নিষাদ – জয় গোস্বামী।

মানুষের ঘ্রাণ - মুহম্মদ নূরুল হুদা

স্তব্ধতা ফাটে, পাকিয়ে উঠছে ধুলোধূলিস্তম্ভে মেঘযূথ মিশে যায়ভূগোল ঘুরছে , ধক ধক করে চুলোসূর্য লুপ্ত প্রায় সূর্য তো নয় , কাল রাত্রির চাঁদচাঁদ মুখে নিয়ে উড়ে যায় কালোপাখিসেই চাঁদকেই বাণে বেঁধে উন্মাদব্যাধ নামে তাকে ডাকি পুরাকালে সে-ই মিথুনাবদ্ধ প্রাণহনন করেছে…

দুর্বোধ্য বনপথে – সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়।

ও সাগর - সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়

আমি ইচ্ছে করলেআমার এই লেখাখুব দুর্বোধ্য করে তুলতে পারি অন্তত ততটা দুর্বোধ্যযতখানি তোমার সঙ্গে আমার সম্পর্কটাশেষ পর্যন্ত যা হয়ে দাঁড়িয়েছেসূর্যের আলো ঢুকতে পারেনাএমন এক বেপথু জঙ্গলের সমান এই লেখা দুর্বোধ্য হলে পৃথিবীরঅধিকাংশেরই কোন ক্ষতি নেইপাঠকের হাতে পড়লেতাদের কেউ কেউ বিভ্রান্ত…

তোমার কথাই শুধু – শক্তি চট্টোপাধ্যায়।

সংসারে সন্নাসী লোকটা- শক্তি চট্টোপাধ্যায়

তোমার কথাই শুধু ঘুরে ফিরে আসে এই মুখেএখনো কি তোমার চিবুকেআছে সেই তিলসেকালে পোশাকে ঝিলমিলতুমি যেতে গোলাপবাগানেকথা হতো সবই কানে কানেএখন সকলি এলোমেলোদোতলার করিডোরে শ্বাসরুদ্ধ কে যে করে বেলো ! মাঝে মাঝে সহসা হাতছানিযে ডাকে অস্পষ্টভাবে, তাকে আমি স্পষ্টভাবে জানি।যাবো…

আপ্যায়নী – শ্রীজাত।

আপ্যায়নী - শ্রীজাত

থাকলে কী হতো, বড় কথা সেটা নয়।ছিলে যে, তাতেই হয়েছে অনেকখানি।চলে-যাওয়া দিয়ে সময় সেলাই হয়…স্বভাবদোষেই কবিতারা অভিমানী। অথচ এমন চৈত্র মাসের মাঝেবাড়ির পাশেই ছোট মাঠ জুড়ে হাওয়া…আমরা যেতাম কবিতার মতো কাজে।তোমারই জুটল কবিতার মতো যাওয়া। এখনও বাতাস বয়ে যেতে যেতে…

সরোদ বাজাতে জানলে – পূর্ণেন্দু পত্রী।

সেই কবে থেকে – হুমায়ুন আজাদ

আমার এমন কিছু দুঃখ আছে যার নাম তিলক কামোদএমন কিছু স্মৃতি যা সিন্ধুভৈরবীজয়জয়ন্তীর মতো বহু ক্ষত রয়ে গেছে ভিতর দেয়ালেকিছু কিছু অভিমানইমনকল্যাণ।সরোদ বাজাতে জানলে বড় ভালো হতো।পুরুষ কিভাবে কাঁদে সেই শুধু জানে। কার্পেটে সাজানো প্রিয় অন্তঃপুরে ঢুকে গেছে জল।মুহুর্মুহু নৌকাডুবি,…

এই আমার দেশ – দাউদ হায়দার।

কাঁদো বাংলাদেশ কাঁদো - সুবোধ সরকার

এদেশ এখন সৈন্য কবলিতএমাটি এখন রক্তকিংশুক এই আমার দেশ। আমার স্বদেশেনেমেছে সান্ত্রী। সান্ত্রীর বুটের আওয়াজেতীক্ষ্ণ রাত্রী। এখই আমার দেশ। আমার স্বদেশমিছিলে-মৃত্যুতে উজ্জ্বল। এই আমার আকাশ। আকাশবজ্রগর্ভে আলোকিত। বাতাসবারুদগন্ধে ভরপুর। এই আমার দেশ। আমার স্বদেশমিছিলে মৃত্যুতে উজ্জ্বল। আরো কবিতা পড়তে ক্লিক…

আকাশপার – তসলিমা নাসরিন।

১৫০০ সাল - তসলিমা নাসরিন

তোমার পারে কি আর আজ থেকে বসে আছি!ডেকে ডেকে চাঁদ দেখিয়েছো, নক্ষত্রগুলোও সব দেখা সারা,কী লাভ দেখে !দেখতে তো চাই তোমাকে, তোমার ভেতর বাহির।ওই চাঁদ সূর্য থেকে, রাশি রাশি তারা থেকে ঢের জরুরি তো তুমি,তোমার আলোয় পুরো এক ব্রহ্মাণ্ডকেই দেখতে…