admin

admin

অভিসার – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

অভিসার - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

সন্ন্যাসী উপগুপ্তমথুরাপুরীর প্রাচীরের তলেএকদা ছিলেন সুপ্ত;–নগরীর দীপ নিবেছে পবনে,দুয়ার রুদ্ধ পৌর ভবনে,নিশীথের তারা শ্রাবণ-গগনেঘন মেঘে অবলুপ্ত।কাহার নুপুরশিঞ্জিত পদসহসা বাজিল বক্ষে।সন্ন্যাসীবর চমকি জাগিল,স্বপ্নজড়িমা পলকে ভাগিল,রূঢ় দীপের আলোক লাগিলক্ষমা-সুন্দর চক্ষে।নগরীর নটী চলে অভিসারেযৌবনমদে মত্তা।অঙ্গে আঁচল সুনীল বরন,রুনুঝুনু রবে বাজে আভরণ;সন্ন্যাসী গায়ে পড়িতে…

বিষণ্ণ দুপুরে লেখা – আরণ্যক বসু।

প্রকৃতি ও নিসর্গ - দিলারা হাফিজ

কোনও একদিন দেখবেন,ধীরে ধীরে দূর হয়ে যাবে সব কলুষআমাদের বিভ্রান্ত সন্তানেরা, প্রাণহীন পাথরের বুকেমাথা ঠুকবে নাভিক্ষা চাইতে নয়, মাথা উঁচু করে,গ্রাম দিয়ে শহর ঘিরবে খুদে পড়ুয়ার দলমিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে, দেখবেন, ঢেকে দেওয়া যাবে না,যাবে না,অজ্ঞানতা, সর্বগ্রাসী ক্ষুধা;দীনতম এ গ্রহকে আলোয়…

কারো কারো জন্য এমন লাগে কেন! – তসলিমা নাসরিন।

তুমি তো কাঁদো না - সুভাষ মুখোপাধ্যায়

জানি না কেন হঠাৎ কোনও কারণ নেই,কিছু নেই, কারও কারও জন্য খুবঅন্য রকম লাগেঅন্য রকম লাগে,কোনও কারণ নেই, তারপরও বুকের মধ্যে চিনচিনে কষ্ট হতে থাকে,কারুকে খুব দেখতে ইচ্ছে হয়, পেতে ইচ্ছে হয়, কারুর সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠ হয়েবসতে ইচ্ছে হয়,সারা জীবন…

বিন্দু – সুবোধ সরকার।

ছোট মুখে ছোট কথা - সুবোধ সরকার

রাস্তা থেকে একমুঠো ধুলো হাতে নিয়েতোমাকে জিজ্ঞেস করেছিলামবলো তো এটা কি? তুমি কোন উত্তর দাওনি। আমি বলেছিলাম, এই একমুঠো ধুলোর নামরোম সাম্রাজ্য। আর একটি রাস্তা থেকে এক মুঠো ধুলো নিয়েতোমাকে জিজ্ঞেস করেছিলামবলো তো এটা কি? তুমি কোন উত্তর দাওনি। আমি…

কোথায় খুঁজি তারে – রবিশঙ্কর মৈত্রী।

মানুষের ঘ্রাণ - মুহম্মদ নূরুল হুদা

অঙ্গের মধ্যে থাকে না আত্মা যেমন,স্বার্থ আর শর্তের মধ্যেও থাকে না আত্মীয় তেমন।চেতনা জন্ম নেয় না আকস্মিকঅন্ধকারে না হেঁটে আলোকে চেনে না পথিক। ভেবেছি—যে আমাকে ডাকে কাছেরাখে কাছে যত্ন করেসেই তো আমার আপন।ভেবেছি—যে আমার পাশে বসেসেই আমার আত্মীয়।সময় বলল—সবই তোমার…

যানজট – শ্রীজাত ।

প্রেম - জীবনানন্দ দাশ

কোথায় গিয়েছি যেন। কোনও মেলা, নাকি কোনও সভাঝাপসা হয়ে আছে ভিড়, লোকে লোকারণ্য যাকে বলেজীবন নতুন বই। জলের কিনারে নিচু জবা।সে কখন পা রেখেছে মৃত্যুর পরের সমতলে… আবছা কোলাহল শুনি। জটলা তোমাকে ঘিরে, বুঝি।এত দূর থেকে এসে দেখা না-করেই ফিরে…

ডানাওলা কবিতা – নবারুণ ভট্টাচার্য।

বর্ষাতি - রুদ্র গোস্বামী

বাতাসে টাকা উড়ছেতুমি ভাবলে প্রজাপতিএবং লিখে ফেললেএকটি হালকা, রঙিন কবিতা আকাশে উড়ছে যুদ্ধবিমানতুমি ভাবলে পাখির ঝাঁকএবং সেই লিখে ফেললেএকাধিক ডানাওলা কবিতা এইভাবেইতুমি বুলেটকে ভেবেছ লিপস্টিকবোমার ধোঁয়াকে ভেবেছ মেঘতাই শিশুদের ছেঁড়া হাতবুকফুটো মানুষ, বিধ্বস্ত হাসপাতালকিছুই তোমার চোখে পড়েনি তোমাকে বোকা বললে…

দেখা হবে – দাউদ হায়দার।

পুনর্জন্মে নয় - দাউদ হায়দার

চাল নেই চুলো নেই অনাহারে দিনকালএদিকে রাজন্য অত্যাচার প্রতিবাদী মানুষেরা প্রত্যেকে কানু সান্যাল,দেশের আনাচেকানাচে চারু মজুমদার জীবিত বা মৃত যেই হোকবিষবারুদে শরীর গাথা।দু’হাতে গাণ্ডীব আর দুই চোখদেখে নিচ্ছে কে শত্রু কে মিত্র, পরিত্রাতা আমাদের ভিটেমাটিকেড়ে নিচ্ছে যারাদেখা হবে কুরুক্ষেত্রে। যুদ্ধঘাঁটিপ্রস্তুত।…

প্রবাসের শেষে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়।

চে গুয়েভারার প্রতি - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

যমুনা ,আমার হাত ধরো। স্বর্গে যাবো।এসো, মুখে রাখো মুখ, চোখে চোখ, শরীরে শরীর নবীনা পাতার মতো শুদ্ধরূপ,এসো স্বর্গ খুব দূরে নয়, উত্তর সমুদ্র থেকে যেরকম বসন্ত প্রবাসেউড়ে আসে কলস্বর, বাহু থেকে শীতের উত্তাপযে রকম অপর বুকের কাছে ঋণী হয়, যমুনা,…

স্বত্বাধিকার – সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়।

ভালোবাসা বহুদিন আগে - সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়

তোকে কেউ হয়তো কখনো বলেছে‘এইতো এই সবই তোমার,এই ঘর আসবাব ক্রকারি কাটলারি,ওই যে ড্রাইভওয়েতে সিলভার গ্রে সুজুকির গাড়ি।’ এসব আশ্বাসের অন্তমিল ঠিকঠিক মেলেনিছন্দ ভেঙে গেছে – তাই যায়এখন তুই বুঝতে পারিসতুই এসবের মালকিন নোস ভাড়াতে এসেছে খাট পালঙ্ক ঠান্ডার মেশিনঘর…