admin

admin

মা তুমি – আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ।

মনে পড়া - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

এক. মা তুমিসোঁদা গন্ধ মাটিমাটি ফলবতীমা তুমিআমাকে এনেছ। মা তুমিকোলে সাজিয়েছসহোদর ঘাস ঘাসফুলমা তুমি আমাকে ভুলেছ। দুই. মা কি শালিক পাখি?খয়েরি শাড়িতে তাঁরহলুদের ছোপতারপর একদিন তিনিশুভ্র কাফন পরেশেফালির ফুল। তিন. তোমরা আমার কাছেকেন কেন চাও?কিছুই দেব না আমি। ভালোবাসা দিলে…

কুড়ি বছর অনেক সময় – সাদাত হোসাইন।

আমার একদিন সব হবে - সাদাত হোসাইন

চিঠির পাতায় লেখা ছিল, ‘ভালো থাকব, ভান হলেও’।কুড়ি বছর অনেক সময়। অনেক।ইলেকট্রিকের তার বসেছে মাঠের বুকে।ঢুকে গেছে লুকিয়ে দেখা আয়নার দিন।ঋণ বেড়েছে, খরচা খাতায় বেহিসেবে।তবুও কোথাও রয়ে গেছে সেই কথাটি, ‘ভালো থাকব, ভান হলেও’।শিউলি ফুলের গন্ধে ডোবা অলস যে পথ,…

শান্তি পাই – শামসুর রাহমান।

স্বাধীনতা একটি বিদ্রোহী কবিতার মতো - শামসুর রাহমান

যখন তুমি অনেক দূর থেকেএখানে এই গলির মোড়ে আসো,উঠোনে দাও পায়ের ছাপ এঁকে,শান্তি পাই। যখন তুমি দেহের বাঁকে বাঁকেস্মৃতির ভেলা ভাসাও, তোলো পাল,মুক্ত করো যমজ পায়রাকে,শান্তি পাই। যখন তুমি আমার পিপাসায়নিমেষে হও আঁজলাভরা জল,দৃষ্টিজাল ছড়াও কী আশায়,শান্তি পাই। যখন তুমি…

মনে রেখো – সব্যসাচী দেব।

ছায়া পথের মানচিত্র - রুমানা শাওন

মনে রেখো, আমরা এসেছিলাম।হে রূপসী ধরিত্রী, জননীপ্রতিম মৃত্তিকাতোমাদের ঋণ রক্তে।যখন সময়ের উত্তুঙ্গচূড়ায় লাফিয়ে উঠেছেমহিমময় অগ্নিশিখা,সমুদ্রঢেউয়ের মাথায় নেচে উঠেছেস্পন্দিত বিশ্বাস-আমরা এসেছিলাম। মনে রেখো, আমরা এসেছিলাম।দিগন্তে নবজাত সূর্যকে দেখে আমাদের বোবা বিস্ময়গুহার দেওয়ালে ফুটেছিল আঁচড় হয়ে,দৃশদ্বতী আর সরস্বতীর মধ্যবর্তী ভূ-ভাগ থেকেএকদিন বিতাড়িত…

দেবো না সাম্যের বিশ্বাস – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ।

স্বপ্নগুলো - রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

যদি চাও,আমার কবিতা ছাড়া সব দেবো। এই মন,শ্যামল শরীর দেবো এই বুক জোড়াঅঘ্রানের মাঠ,শস্যময়।আমার স্বজন দেবো,যদি চাও দিয়ে দেবো আমার স্বপ্নময় বাসনা।সুখ দেবো,স্বস্তি দেবো–শুধু এই কবিতা দেবো না। যদি চাও,এই রাত্রির নিদ্রাকে নির্বাসন দেবোযদি চাও,নিসর্গ উজাড় কোরে সাজাবো শ্মশানযদি চাও,বারুদের…

আমাদের আর কখনো দেখা হবে না – সাদাত হোসাইন।

কেউ থাকে কেউ থাকে না - সাদাত হোসাইন

আমাদের আর কখনো দেখা হবে না। যেখানে শেষ দেখা, সেখানে পড়ে থাকবে শিউলিফুল,অথচ গন্ধ ছড়াবে রাফ্রেশিয়া। অলকানন্দা নামের যে নদী, সেও শুকিয়ে যাবে।আর সেখানে জেগে উঠবে আদিগন্ত সাহারা।আমাদের বুকের ভেতর ক্ষয়ে যেতে থাকবে স্মৃতির সৌধ।জেগে উঠতে থাকবে আলোকবর্ষ পথ। আমরা…

মায়াবৃত্ত – রুমানা শাওন।

ভালোবাসা - আবুল হাসান

​যে আমাকে দিয়েছে বুকে নিদারুণ ক্ষতের বসতি,তার ঘরে যেন কোনো অমানিশা না লাগে; শূন্যতার ওই অতল কৃষ্ণসিন্ধুতেসে যেন কখনো পথ না হারায়। ​মহাকালের নিয়ম বড় অদ্ভুত, চাকা ঘুরে যায়,ইতিহাস ফিরে আসে আবার চেনা আঙিনায়। ​লোকে বলে, শোধ নেবে এই নোনা…

ডাকতে চেয়েছি – আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ।

ও সাগর - সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়

ওরা রোজ বিকালেআমার মেয়ের কাছে বেড়াতে আসে।একটা তিনটা পাঁচটা কবরী।আমার মেয়ে কবুতরকে কবরী বলে। মা যখন মারা যান তখন এমন বিশ্রী বয়স ছিলযে কাঁদতে লজ্জা পেয়েছিলাম।অথচ এখন শালিক দেখলে মনে হয়মা রান্না ঘরে পিঠা ভাজছেন। আমার ভাই যেদিন মুক্তি পেল,মানুষকে…

চাই – মাকিদ হায়দার।

চাই - মাকিদ হায়দার

তোমার স্বপক্ষেই হাত তুলে দাঁড়িয়ে আছি।যদি প্রতিশ্রুতি দাও, অথবা প্রবেশাধিকারপাশে গিয়ে বসবো সুখদ যন্ত্রণায়। আমি তোমার স্বপক্ষেই হাত তুলে দাঁড়িয়ে আছি।হরিপদ বাবু ব্ল‍্যাকবোর্ডে একটি প্রশ্ন দিয়ে জানতে চেয়েছিলেন,এর উত্তরটা যদি কারো জানা থাকে তবে হাত তোল।উত্তরটা তুমি দিতে পারবে না…

অতঃপর জেগে থাকি – কামরুন নাহার সিদ্দীকা।

ভুল ভাঙার রহস্য - তারাপদ রায়

এই শহর কখনো ঘুমাতে যায় নাজেগে থাকেসে পসারিণীর মতো রুজ মেখেপ্রতীক্ষায় থাকেনতুন কোনো খদ্দেরের আশায়রূপজীবী এই শহর চির যৌবনানিত্য ভোলায়প্রেমিককে বিভ্রান্ত বিধ্বস্ত করেতছনছ করে ভাঙে মন। তার বুকজুড়ে শ্বাপদেরাদিয়েছে আঁচড়দগদগে চিহ্ন এঁকেছে নিষ্ঠুরতায়খোলা কেশে কীটের নিশ্চিন্ত বসবাসউটকো গন্ধ আড়াল হয়সস্তা…