ব্যাঘ্রাধিকার সম্পর্কে – আসাদ চৌধুরী।

চিড়িয়াখানায় যার সঙ্গে প্রথম আলাপ হলো
তিনি কিন্তু একজন মানুষ,
আদর ক’রে বাঁদরকে বাদাম খাওয়াচ্ছিলেন,
টোকাইরা কুড়িয়ে নিচ্ছিলো ছিটেফোঁটা-
ইশারায় তিনিই আমাকে বাঘের খাঁচা দেখিয়ে দিলেন।

সবইকে হতাশ ক’রে বাঘ নিশ্চিন্তে ঘুমুচ্ছিলো,
তার সামনেই মাংসের বড়ো-শড়ো একটা টুকরো ঝিমুচ্ছিলো।
শিশুরাই বিরক্ত হয়েছিলে।
আর মুখ দিয়ে সাধ্যমতো শব্দও করছিলো,
তবে বড়োরাও বাঘের কাছ থেকে এমন ব্যবহার আশা করেনি।

বাঘের সঙ্গে আমার জরুরী কিছু কথা আছে
আমার ভয় ছিলো দুটো
তাঁর মেজাজ হয়তো ভালো থাকবে না
আর আমি হালুম-হুলুম ভাষাটা তেমন শিখিনি।
বাঘটা যে ঘুমিয়ে থাকবে এটা আমি ভাবতেও পারিনি।
ছোট্ট একটা কাগজে যে-সব প্রশ্ন টুকে এনেছিলাম
‘তা’তে আরও একবার চোখ বুলিয়ে নিলাম।
শিশু আর নারীদের আনন্দধ্বনিতে চমকে দেখি
বাঘ তার টকটকে লাল জিভ দেখাচ্ছে।
দেখে বেশ ভক্তি হ’লো।
মুশকিল হলো কিছুতেই তাঁকে একা পাচ্ছিলাম না।
রীতিমতো অবাক ক’রে দিয়ে
বাঘই আমাকে ইশারায় কাছে ডাকলেন
বললেন, ‘তা সুন্দরবনে গেলেই তো পারতে,
না-হয়, খরচ-পাতি করে কোনো অভয়ারণ্যে-
যাকগে, কী বলবে, বল।’
আমি সবিনয়ে বললাম, ‘জনাব, আপনার
ব্যাঘ্রাধিকার বিঘ্নিত হয়েছে,
আমরা মানবাধিকারের জন্য ল’ড়ে যাচ্ছি
আপনার সম্মতি পেলে ব্যাঘ্রাধিকার
নিয়ে এশিয়া আফ্রিকা ল্যাটিন আমেরিকা…’
সিনেমার শস্তা ভিলেনের মতো খ্যাক-খ্যাক
ক’রে হেসে উঠলো,
বললো, ‘সবুজের চিকিৎসার জন্য তুমি
একটা পদ্য লিখেছিলে না?’
কথাটা ঠিক, আমি সলজ্জ ভঙ্গিতে মাথা নাড়লাম।
‘ব্যাঘ্রাধিকার নিয়ে মাথা না-ঘামিয়ে
নিজেদেরই একটু চিকিৎসা কর।
মানুষ ও পৃথিবীর অসুখটা এখন
বেশ বাড়াবাড়ি পর্যায়ে এসেছে।’

তাঁকে বেশ বিচলিত ও চিন্তিত মনে হ’লো
আর এ ভাবেই আমার ব্যাঘ্রাধিকার সম্পর্কিত
দুশ্চিন্তারও অবসান হ’লো।

আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। আসাদ চৌধুরীর কবিতা।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest

0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x