দেরি হয়ে গেলো – আর্যতীর্থ।

মহিলাটি বসে কাফেটার এক ধারে ,
বয়েস ষাটের হবে হালকা ওপারে,
ধূমায়িত পেয়ালাটি অর্ধেক শেষ,
সাদামাটা যত্নের সাজ, চোখে মৃদু কাজলের কাজ,
চোখ টানে কবরীর কাঁচাপাকা কেশ,
চোখ দরজার থেকে ঘড়ি করে পায়চারি..
ভেতরে ঢুকলো কেউ.. হাসিটা বোঝালো ছিলো অপেক্ষা তারই,
প্রৌঢ়টি অপ্রস্তুত মুখে দ্রুত এগোলো,
‘ সরি সরি, রাস্তায় দেরি হয়ে গেলো।’
ঘটনাটা তেমন কিছু না,
শহুরে জীবনে আটপৌরে নিছক,
যদি না,, যদি না জবাব তার না যেতো শোনা..
’হ‍্যাঁ ,পথে হলো দেরি মোটে কয়েক দশক’।

কয়েক দশক?
যখন বয়েস ছিলো বিশ বা বাইশে,
সেসময় দুটো পথ গিয়েছিলো মিশে,
তারপর গেছে চলে আলাদা সফরে..
মনের মধ‍্যে ওঠে কাহিনীটা গড়ে..
ওরা কি তখন ছিলো প্রেমিকা প্রেমিক ,
কী বিশেষ ছিলো এই আজ-এর তারিখ,
মাঝখানে যোগাযোগ ছিলো কি ছিলো না,
আজ সেই বিষাদের হবে আলোচনা,
নাকি প্রেম পেয়ে গেছে কাঙ্খিত গতি,
যেখানে করুণ নয়, সুখী পরিণতি,
গল্পের রান্নায় যোগ হয় নানবিধ কল্পনা-তড়কা’র ।

‘ স‍্যার, কী দেবেন অর্ডার?
চমকিয়ে চোখ তুলি,
মেকি হাসিমুখে খাড়া ওয়েটার ফের দেয় তাড়া
বসাটা নিয়ম নয় চা-কফি ছাড়া,
টার্ন-ওভার বোঝে আজ কফির দোকান-ও,
মৃদুস্বরে বলে দিই ‘ একটা আমেরিকানো।’

ঝলক দৃষ্টি দিই যুগলের দিকে,
দশকের দূরত্ব ক্রমশই হয় কিনা ফিকে,
দূর থেকে বোঝা দায়,
তবে যেটা বোঝা যায়,
অলস ফোনেরা পড়ে টেবিলের কোণে
বলা শোনা শোনা বলা চলে একমনে।

কফিটা আসার আগে.
স্মৃতি থেকে ফোনে এক নম্বর ডায়াল করি
মেমরি আমার নয় কিছু আহামরি,
তবু এই দশটা সংখ‍্যা যেন পাথরে খোদাই,
কেন যে ভুলিনা আজও, জানেন খোদা-ই।

রিং শেষে ওইপারে কুড়ি কুড়ি বছরের পরে,
অতীত উথলে ওঠে আজকের স্বরে
‘তুমি! হঠাৎ কী হলো? বলো.. হ‍্যালো হ‍্যালো হ‍্যালো..’

ঠক করে ওয়েটার কফিটা নামালো..
বাষ্পের উত্তাপ শুধু কি কফির কাপ?

ঝাপসা দুচোখ মুছে বলি
‘ সরি, পথে দেরি হয়ে গেলো। ‘

আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। আর্যতীর্থের কবিতা।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest

0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x