আমাদের যুগে আমরা যখন খেলেছি পুতুল খেলা।
তোমরা এ যুগে সেই বয়সেই লেখাপড়া কর মেলা।
আমরা যখন আকাশের তলে ওড়ায়েছি শুধু ঘুড়ি
তোমরা এখন কলের জাহাজ চালাও গগন জুড়ি।
উত্তর মেরু, দক্ষিণ মেরু সব তোমাদের জানা,
আমরা শুনেছি সেখানে রয়েছে জিন, পরী, দেও, দানা।
পাতালপুরীর অজানা কাহিনী তোমরা শোনাও সবে
মেরুতে মেরুতে জানা পরিচয় কেমন করিয়া হবে।
তোমাদের ঘরে আলোর অভাব কভু নাহি হবে আর
আকাশ-আলোক বাঁধি আনি দূর করিবে অন্ধকার।
শস্য-শ্যামলা এই মাটি মা’র অঙ্গ পুষ্ট করে
আনিবে অটুট স্বাস্থ্য, সবল দেহ-মন ঘরে ঘরে।
তোমাদের গানে, কল-কলতানে উছসি উঠিবে নদী—
সরস করিয়া তৃণ ও তরুরে বহিবে সে নিরবধি।
তোমরা আনিবে ফুল ও ফসল পাখি-ডাকা রাঙা ভোর
জগৎ করিবে মধুময়, প্রাণে প্রাণে বাঁধি প্রীতিডোর।
আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। সুফিয়া কামালের কবিতা।
কবিতার কথা—
পল্লী জননী সুফিয়া কামালের ‘আজিকার শিশু’ কবিতাটি দুই প্রজন্মের ব্যবধান, বিজ্ঞানের জয়যাত্রা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি এক অসীম আশাবাদের এক কালজয়ী দলিল। কবি এখানে নিজের শৈশবের সেই সারল্যমাখা দিনগুলোর সঙ্গে বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের শিশুদের জ্ঞানতৃষ্ণার একটি তুলনামূলক চিত্র এঁকেছেন। এটি কেবল একটি কবিতা নয়, বরং একটি জাতির অগ্রগতির মানচিত্র, যেখানে অতীতের রূপকথা আর বর্তমানের বিজ্ঞান মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। কবি অত্যন্ত মমতার সঙ্গে দেখিয়েছেন কীভাবে পৃথিবী ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে এবং মানুষের জ্ঞান কীভাবে অজানাকে জয় করছে।
কবিতার প্রথমাংশেই কবি এক বিশাল পার্থক্যের কথা বলেছেন। কবির সময়ে শৈশব কাটত পুতুল খেলা আর আকাশের তলে ঘুড়ি উড়িয়ে। সেই জীবন ছিল মন্থর, প্রাকৃতিক এবং কল্পনাপ্রসূত। কিন্তু বর্তমান যুগের শিশুরা সেই একই বয়সে ‘লেখাপড়া করে মেলা’ অর্থাৎ তারা অনেক বেশি জ্ঞানমুখী। বিজ্ঞানের আশীর্বাদে তারা আজ কেবল মাটির পৃথিবীতে সীমাবদ্ধ নেই; কবির সময়ের ঘুড়ি ওড়ানোর জায়গায় আজিকার শিশুরা ‘কলের জাহাজ’ বা উড়োজাহাজ নিয়ে আকাশ জয় করছে। এই রূপকটি আসলে মানুষের চিন্তার প্রসারণ এবং যান্ত্রিক উৎকর্ষের এক অনন্য প্রকাশ।
কবিতার দ্বিতীয় স্তবকে জ্ঞান এবং বিজ্ঞানের প্রসারের এক চমৎকার বিবরণ রয়েছে। কবি বলছেন, তাঁদের সময়ে উত্তর মেরু বা দক্ষিণ মেরু ছিল রহস্যে ঘেরা এক জগত, যেখানে জিন, পরী বা দানবদের বিচরণ আছে বলে ভাবা হতো। কিন্তু আজকের শিশুরা সেই সব মেরু অঞ্চলের প্রকৃত ভৌগোলিক অবস্থান এবং রহস্য জানে। ‘পাতালপুরীর অজানা কাহিনী’ আজ আর কেবল দাদিমার গালগল্প নয়, বরং তা ভূতত্ত্ব বা বিজ্ঞানের বিষয়। এই যে কুসংস্কার থেকে বিজ্ঞানের দিকে উত্তরণ, এটিই হলো সভ্যতার আসল জয়। মেরুতে মেরুতে মানুষের এই যে পরিচয় বা সংযোগ, এটি বিশ্বায়নের এক আগাম ইঙ্গিত।
কবিতার মধ্যভাগে কবি একটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের চিত্র এঁকেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, আগামী প্রজন্মের হাতে এমন শক্তি থাকবে যা দিয়ে তারা ‘আকাশ-আলোক বাঁধি আনি’ পৃথিবীর সমস্ত অন্ধকার দূর করবে। এখানে অন্ধকার কেবল আলোর অভাব নয়, বরং অজ্ঞানতা ও কুসংস্কারের অন্ধকার। এই প্রজন্ম কেবল বিজ্ঞানেই উন্নত হবে না, তারা মাটির মমতাকেও ধারণ করবে। শস্য-শ্যামলা বাংলা তথা এই ধরিত্রীকে তারা আরও পুষ্ট করবে, ঘরে ঘরে সুস্বাস্থ্য আর সবল দেহ-মনের নিশ্চয়তা আনবে। বিজ্ঞান যখন মানুষের মৌলিক চাহিদা—খাদ্য ও স্বাস্থ্য—পূরণ করতে পারে, তখনই তার সার্থকতা ফুটে ওঠে।
কবিতার শেষাংশে সুফিয়া কামাল এক মরমী ও নান্দনিক পৃথিবীর স্বপ্ন দেখেছেন। তিনি মনে করেন, শিশুদের কলরবে নদীগুলো নতুন প্রাণ পাবে, প্রকৃতি হবে আরও সবুজ ও সজীব। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ‘প্রীতিডোর’ বা ভালোবাসার বন্ধন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে উন্নত হওয়ার পাশাপাশি যদি মানুষের হৃদয়ে প্রেম ও ভ্রাতৃত্ব না থাকে, তবে সেই উন্নতি অর্থহীন। কবি স্বপ্ন দেখেন, এই শিশুরা এমন এক রাঙা ভোর নিয়ে আসবে যেখানে পাখিরা ডাকবে, ফুল ও ফসলে পৃথিবী ভরে উঠবে এবং মানুষে মানুষে কোনো বিভেদ থাকবে না। জগৎ হয়ে উঠবে মধুময়।
সুফিয়া কামালের এই কবিতাটি প্রতিটি শিশুর ভেতরকার লুকানো সম্ভাবনাকে স্বীকৃতি দেয়। তিনি শিশুদের কেবল শিক্ষার্থী হিসেবে দেখেননি, বরং তাদের দেখেছেন পৃথিবীর রূপকার হিসেবে। কবির সময়ের সেই পুতুল খেলার সারল্য আর বর্তমানের এই বুদ্ধিবৃত্তিক দীপ্তি—এই দুয়ের মিলনেই একটি পূর্ণাঙ্গ সভ্যতা গড়ে ওঠে।
আজিকার শিশু – সুফিয়া কামাল | সুফিয়া কামালের কবিতা | আধুনিক বাংলা কবিতা | শিশু, প্রজন্ম ও ভবিষ্যতের স্বপ্নের অসাধারণ কাব্যভাষা
আজিকার শিশু: সুফিয়া কামালের প্রজন্মান্তর, শিশুর ভবিষ্যত ও আলোর স্বপ্নের অসাধারণ কাব্যভাষা
সুফিয়া কামালের “আজিকার শিশু” আধুনিক বাংলা কবিতার এক অনন্য, স্পর্শকাতর ও স্বপ্নময় সৃষ্টি। এটি একটি প্রজন্মান্তরের কাহিনি — পুরনো প্রজন্মের শৈশব আর নতুন প্রজন্মের শৈশবের মধ্যে এক চমৎকার তুলনা। “আমাদের যুগে আমরা যখন খেলেছি পুতুল খেলা। / তোমরা এ যুগে সেই বয়সেই লেখাপড়া কর মেলা।” — এই পঙ্ক্তি দিয়ে শুরু হওয়া কবিতাটি ধীরে ধীরে উন্মোচিত করে এক শুভাকাঙ্ক্ষীর দৃষ্টিতে আজকের শিশুদের ভবিষ্যতের সম্ভাবনা। কবি বলছেন — আমরা যখন আকাশের তলে শুধু ঘুড়ি ওড়াতাম, তোমরা এখন কলের জাহাজ চালাও গগন জুড়ি। উত্তর মেরু, দক্ষিণ মেরু — সব তোমাদের জানা। আমরা সেখানে জিন-পরী-দেও-দানার কথা শুনেছি। তোমাদের ঘরে আলোর অভাব কখনও হবে না। শস্য-শ্যামলা মাটি অটুট স্বাস্থ্য দেবে। তোমাদের গানে নদী উচ্ছ্বসিত হবে। শেষ পর্যন্ত কবি বলেন — তোমরা আনিবে ফুল ও ফসল, পাখি-ডাকা রাঙা ভোর, জগৎ করিবে মধুময়, প্রাণে প্রাণে বাঁধি প্রীতিডোর। সুফিয়া কামাল একজন বিশিষ্ট বাংলাদেশি কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অগ্রদূত। তিনি আধুনিক বাংলা কবিতায় নারীজাগরণ, শিশু-কিশোর সাহিত্য, দেশপ্রেম ও সমাজচেতনার জন্য পরিচিত। ‘আজিকার শিশু’ তাঁর সেই স্বকীয় কাব্যভাষার এক অসাধারণ শিল্পরূপ — যেখানে তিনি আজকের শিশুদের হাতেই ভবিষ্যতের স্বপ্ন সঁপে দিয়েছেন।
সুফিয়া কামাল: শিশু, নারী ও ভবিষ্যতের কবি
সুফিয়া কামাল একজন বিশিষ্ট বাংলাদেশি কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অগ্রদূত। তিনি আধুনিক বাংলা কবিতায় নারীজাগরণ, শিশু-কিশোর সাহিত্য, দেশপ্রেম ও সমাজচেতনার জন্য পরিচিত। ‘আজিকার শিশু’ কবিতাটি তার সেই ধারার একটি অসাধারণ উদাহরণ — যেখানে তিনি পুরনো ও নতুন প্রজন্মের পার্থক্য তুলে ধরে আজকের শিশুদের ভবিষ্যতের সম্ভাবনার কথা বলেছেন।
তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘সাঁঝের মায়া’, ‘উদাত্ত পৃথিবী’, ‘মাটির প্রদীপ’, ‘সুফিয়া কামালের শ্রেষ্ঠ কবিতা’ ইত্যাদি।
শিরোনাম ও প্রজন্মের সেতু
শিরোনাম ‘আজিকার শিশু’ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ‘আজিকার’ — বর্তমানের, নতুন প্রজন্মের। ‘শিশু’ — ভবিষ্যতের ভিত্তি। কবি পুরনো প্রজন্মের (‘আমাদের যুগে’) ও নতুন প্রজন্মের (‘তোমরা এ যুগে’) মধ্যে একটি সেতু তৈরি করেছেন। তিনি আজকের শিশুদের দেখছেন — যারা আগামীর পৃথিবী গড়বে।
কবিতার স্তরে স্তরে বিশ্লেষণ
প্রথম স্তবক: খেলা বনাম লেখাপড়া
“আমাদের যুগে আমরা যখন খেলেছি পুতুল খেলা। / তোমরা এ যুগে সেই বয়সেই লেখাপড়া কর মেলা।” — প্রথম স্তবকে প্রজন্মের পার্থক্য। পুরনো প্রজন্মের শিশুরা পুতুল খেলায় মেতে থাকত। আজকের শিশুরা সেই বয়সেই লেখাপড়া করছে ‘মেলা’ (প্রচুর পরিমাণে)। এটি সময়ের পরিবর্তন ও শিশুদের ওপর বাড়তি চাপের ইঙ্গিত দেয়।
দ্বিতীয় স্তবক: ঘুড়ি বনাম কলের জাহাজ
“আমরা যখন আকাশের তলে ওড়ায়েছি শুধু ঘুড়ি / তোমরা এখন কলের জাহাজ চালাও গগন জুড়ি।” — দ্বিতীয় স্তবকে প্রযুক্তির পার্থক্য। পুরনো প্রজন্ম শুধু ঘুড়ি ওড়াত। আজকের শিশুরা ‘কলের জাহাজ’ (বিমান, রকেট) চালায়। ‘গগন জুড়ি’ — অর্থাৎ পুরো আকাশ জুড়ে।
তৃতীয় স্তবক: কল্পনা বনাম বাস্তব জ্ঞান
“উত্তর মেরু, দক্ষিণ মেরু সব তোমাদের জানা, / আমরা শুনেছি সেখানে রয়েছে জিন, পরী, দেও, দানা।” — তৃতীয় স্তবকে জ্ঞানের পার্থক্য। আজকের শিশুরা উত্তর-দক্ষিণ মেরু সম্পর্কে বাস্তব জানে। পুরনো প্রজন্ম সেখানে জিন-পরী-দেও-দানার কল্পনা করত। এটি বিজ্ঞান ও কল্পনার মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করে।
চতুর্থ স্তবক: পাতালপুরী ও পরিচয়ের প্রশ্ন
“পাতালপুরীর অজানা কাহিনী তোমরা শোনাও সবে / মেরুতে মেরুতে জানা পরিচয় কেমন করিয়া হবে।” — চতুর্থ স্তবকে এক ধরনের বিভ্রমের সৃষ্টি। আজকের শিশুরা পাতালপুরীর অজানা কাহিনী শোনায়। কিন্তু মেরুতে মেরুতে (দুই মেরুতে) ‘জানা পরিচয়’ হবে কীভাবে? অর্থাৎ দূরত্ব এত বেশি যে পরিচয় হওয়া কঠিন।
পঞ্চম স্তবক: আলোর ভবিষ্যত
“তোমাদের ঘরে আলোর অভাব কভু নাহি হবে আর / আকাশ-আলোক বাঁধি আনি দূর করিবে অন্ধকার।” — পঞ্চম স্তবকে আশার বাণী। আজকের শিশুদের ঘরে আর আলোর অভাব হবে না। তারা ‘আকাশ-আলোক বাঁধি’ (বিদ্যুৎ, সূর্যশক্তি) এনে অন্ধকার দূর করবে।
ষষ্ঠ স্তবক: স্বাস্থ্য ও সবলতা
“শস্য-শ্যামলা এই মাটি মা’র অঙ্গ পুষ্ট করে / আনিবে অটুট স্বাস্থ্য, সবল দেহ-মন ঘরে ঘরে।” — ষষ্ঠ স্তবকে মাতৃভূমির সম্পদের কথা। শস্য-শ্যামলা মাটি মায়ের অঙ্গ পুষ্ট করবে। আজকের শিশুরা ঘরে ঘরে অটুট স্বাস্থ্য ও সবল দেহ-মন আনবে।
সপ্তম স্তবক: গান ও নদী
“তোমাদের গানে, কল-কলতানে উছসি উঠিবে নদী— / সরস করিয়া তৃণ ও তরুরে বহিবে সে নিরবধি।” — সপ্তম স্তবকে প্রকৃতি ও সংস্কৃতির মিলন। আজকের শিশুদের গানে নদী উচ্ছ্বসিত হবে। তৃণ ও তরু (ঘাস ও গাছ) সজীব হবে, নদী নিরবধি (অবিরাম) বহবে।
অষ্টম স্তবক: মধুময় পৃথিবীর স্বপ্ন
“তোমরা আনিবে ফুল ও ফসল পাখি-ডাকা রাঙা ভোর / জগৎ করিবে মধুময়, প্রাণে প্রাণে বাঁধি প্রীতিডোর।” — অষ্টম স্তবক — শেষ স্তবক — পুরো কবিতার চূড়ান্ত স্বপ্ন। আজকের শিশুরা ফুল ও ফসল আনবে, পাখি-ডাকা রাঙা ভোর আনবে। জগৎকে মধুময় (মিষ্টি, সুখের) করে তুলবে। প্রাণে প্রাণে প্রীতিডোর (বন্ধনের দড়ি) বাঁধবে।
প্রজন্মের তিনটি স্তর
প্রথম স্তর: পুরনো প্রজন্মের শৈশব (পুতুল খেলা, ঘুড়ি ওড়ানো, জিন-পরীর কল্পনা)। দ্বিতীয় স্তর: বর্তমান শিশুদের শৈশব (লেখাপড়া, কলের জাহাজ, মেরুর বাস্তব জ্ঞান)। তৃতীয় স্তর: ভবিষ্যতের স্বপ্ন (আলো, স্বাস্থ্য, গান, নদী, ফুল, ফসল, মধুময় পৃথিবী)।
‘তোমরা’ সম্বোধন ও দায়িত্ব হস্তান্তর
পুরো কবিতায় কবি ‘তোমরা’ সম্বোধন ব্যবহার করেছেন — এটি সরাসরি আজকের শিশুদের সম্বোধন। তিনি পুরনো প্রজন্মের পক্ষ থেকে নতুন প্রজন্মের হাতে ভবিষ্যতের দায়িত্ব সঁপে দিচ্ছেন। ‘আমরা’ আর ‘তোমরা’র মধ্যে দূরত্ব আছে, কিন্তু আশা ও বিশ্বাসও আছে।
প্রশ্নোত্তর: গভীর পাঠের জন্য
প্রশ্ন ১: ‘আজিকার শিশু’ কবিতাটির লেখিকা কে?
উত্তর: এই কবিতাটির লেখিকা সুফিয়া কামাল। তিনি একজন বিশিষ্ট বাংলাদেশি কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অগ্রদূত।
প্রশ্ন ২: ‘আমাদের যুগে’ ও ‘তোমরা এ যুগে’ — কী পার্থক্য?
উত্তর: ‘আমাদের যুগে’ শিশুরা পুতুল খেলায় মেতে থাকত। ‘তোমরা এ যুগে’ শিশুরা সেই বয়সেই প্রচুর লেখাপড়া করে।
প্রশ্ন ৩: ‘কলের জাহাজ চালাও গগন জুড়ি’ — কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: ‘কলের জাহাজ’ এখানে বিমান বা রকেটের প্রতীক। আজকের শিশুরা আকাশে উড়োজাহাজ, স্যাটেলাইট, রকেট চালাতে পারে।
প্রশ্ন ৪: ‘উত্তর মেরু, দক্ষিণ মেরু সব তোমাদের জানা’ — কেন?
উত্তর: আজকের শিশুরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগে বেড়ে উঠছে। তাদের কাছে মেরু অঞ্চল কল্পনার জায়গা নয়, বাস্তব জায়গা।
প্রশ্ন ৫: ‘আমরা শুনেছি সেখানে রয়েছে জিন, পরী, দেও, দানা’ — কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: পুরনো প্রজন্ম মেরু অঞ্চল সম্পর্কে জানত না, কল্পনার মাধ্যমে সেখানে জিন-পরী বসত ভাবত। এটি বিজ্ঞান ও কল্পনার পার্থক্য নির্দেশ করে।
প্রশ্ন ৬: ‘মেরুতে মেরুতে জানা পরিচয় কেমন করিয়া হবে’ — কেন?
উত্তর: উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরুর মধ্যে দূরত্ব অনেক বেশি। সেখানে ‘জানা পরিচয়’ হওয়া কঠিন — এটি হয়ত আজকের শিশুদের জন্য এক ব্যঙ্গ বা প্রশ্ন।
প্রশ্ন ৭: ‘আকাশ-আলোক বাঁধি আনি দূর করিবে অন্ধকার’ — কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: আজকের শিশুরা বিদ্যুৎ, সৌরশক্তি ব্যবহার করে পৃথিবী থেকে অন্ধকার দূর করবে। এটি প্রযুক্তির উন্নতির স্বপ্ন।
প্রশ্ন ৮: ‘শস্য-শ্যামলা এই মাটি মা’র অঙ্গ পুষ্ট করে’ — ‘মা’ কে?
উত্তর: এখানে ‘মা’ বলতে মাতৃভূমি বাংলাদেশকে বোঝানো হয়েছে। শস্য-শ্যামলা মাটি দেশের মানুষকে পুষ্ট করে।
প্রশ্ন ৯: ‘জগৎ করিবে মধুময়, প্রাণে প্রাণে বাঁধি প্রীতিডোর’ — লাইনটির গভীরতা কী?
উত্তর: এটি কবিতার চূড়ান্ত স্বপ্ন। আজকের শিশুরা পৃথিবীকে মধুময় (সুখের, মিষ্টি) করে তুলবে, সব মানুষের প্রাণের মধ্যে প্রীতির বন্ধন তৈরি করবে।
প্রশ্ন ১০: কবিতার মূল শিক্ষা ও সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা কী?
উত্তর: কবিতাটি শেখায় — প্রতিটি প্রজন্মের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য আছে। পুরনো প্রজন্মের শৈশব ছিল সরল, কল্পনাময়। আজকের শিশুরা প্রযুক্তিনির্ভর, বিজ্ঞানমুখী। কিন্তু তাদের হাতেই ভবিষ্যতের পৃথিবী গড়ার দায়িত্ব। তারা আলো আনবে, স্বাস্থ্য আনবে, নদীকে উচ্ছ্বসিত করবে, পৃথিবীকে মধুময় করবে। এই আশা ও বিশ্বাসই কবিতাটিকে চিরন্তন করে তুলেছে।
ট্যাগস: আজিকার শিশু, সুফিয়া কামাল, সুফিয়া কামালের কবিতা, আধুনিক বাংলা কবিতা, শিশু ও প্রজন্ম, ভবিষ্যতের স্বপ্ন, আলোর পৃথিবী
© Kobitarkhata.com – কবি: সুফিয়া কামাল | কবিতার প্রথম লাইন: “আমাদের যুগে আমরা যখন খেলেছি পুতুল খেলা” | শিশু, প্রজন্ম ও ভবিষ্যতের স্বপ্নের অসাধারণ কাব্যভাষা | আধুনিক বাংলা কবিতার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন