admin

admin

সজ্জাসুন্দরী – মন্দাক্রান্তা সেন।

অপয়া - মন্দাক্রান্তা সেন

যে-কোনও সমুদ্রের ধারেএকটি একাকী কুকুর থাকে।তার ডাক সমুদ্রের ওপারেভেসে চলে যায় যেমন যায় তোমার কথাও কাছে আছ, হাত ছুঁয়ে আছতবু আর যে কাকে ডাকোবুঝে উঠতে পারি না আমি সজ্জাসুন্দরীআমাকে পরাও সৈকতেসিঁদুরে-লাল কাঁকড়াদেরখুঁড়ে তোলা বালির গয়না কুকুরটি গর্ত খুঁচিয়েকাঁকড়া খেতে ভালোবাসে…

শুভম তোমাকে – মল্লিকা সেনগুপ্ত।

তোমার দিকে তাকিয়ে - নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

শুভম তোমাকে অনেকদিন পরেহটাত দেখেছি বইমেলার মাঠেগত জন্মের স্মৃতির মতনভুলে যাওয়া গানের মতনঠিক সেই মুখ , ঠিক সেই ভুরুশুধুই ঈষৎ পাক ধরা চুলচোখ মুখ নাক অল্প ফুলেছেঠোঁটের কোনায় দামি সিগারেটশুভম তুমি কি সত্যি শুভম ! মনে পড়ে সেই কলেজ মাঠেদিনের…

মৌলিক নিষাদ – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী।

নিজের বাড়ি - নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

পিতামহ, আমি এক নিষ্ঠুর নদীর ঠিক পাশেদাঁড়িয়ে রয়েছি। পিতামহ,দাঁড়িয়ে রয়েছি, আর চেয়ে দেখছি রাত্রির আকাশেওঠেনি একটিও তারা আজ।পিতামহ, আমি এক নিষ্ঠুর মৃত্যুর কাছাকাছিনিয়েছি আশ্রয়। আমি ভিতরে বাহিরেযেদিকে তাকাই, আমি স্বদেশে বিদেশেযেখানে তাকাই–শুধু অন্ধকার, শুধু অন্ধকার।পিতামহ, আমি এক নিষ্ঠুর সময়ে বেঁচে…

বালিকা ও দুষ্টু লোক – মল্লিকা সেনগুপ্ত।

মা - মল্লিকা সেনগুপ্ত

স্কুলবাসের বাচ্চা মেয়েসবার শেষে নামেসঙ্গীগুলো বিদায় নিলেতার কেন গা ঘামে! বাসের কাকু বাসের চাচাকেমন যেন করেহঠাৎ গাড়ি থামিয়ে দিয়েআমায় নিয়ে পড়ে কাকু জেঠুর মতন নয়দুষ্টু লোক ওরামাগো আমার বাস ছাড়িয়েদাও না সাদা ঘোড়া! দুষ্টু কাকু দুষ্টু চাচাথাকুক না তার ঘরেবাচ্চা…

দু-চার বছর – তারাপদ রায়।

বেহুলা - মোহাম্মদ রফিক

মাঝে মধ্যে দেখা হবেমাঝে মধ্যে চোখের আড়ালে দু-চার বছরকিংবা ধরো সেই জীবনানন্দেরজীবন গিয়েছে চলে কুড়ি কুড়ি বছরের পার ; এইভাবে ঝরা পাতা, হেমন্তের নরম বাতাসকিছু বৃষ্টি, কুয়াশা ও জল, কিংবা জলের মতনচলে যাবে দিন ও সময়, সময় ও ভালোবাসা।ভালোবাসা? হয়তো…

কথোপকথন ২৮ – পুর্ণেন্দু পত্রী।

কথোপকথন ২৮ – পুর্ণেন্দু পত্রী

– আমার আগে আর কাউকে ভালবাসনি তুমি?– কেন বাসব না? অনেক।বিষবৃক্ষের ভ্রমরযোগাযোগের কুমুপুতুলনাচের ইতিকথার কুসুমঅপরাজিত-র…..– ইয়ার্কি করো না। সত্যি কথা বলবে।– রোগা ছিপছিপে যমুনাকে ভালোবেসেছিলাম বৃন্দাবনেপাহাড়ী ফুলডুংরীকে ঘাটশিলায়দজ্জাল যুবতী তোর্সাকে জলপাইগুড়ির জঙ্গলেআর সেই বেগমসাহেবা, নীল বোরখায় জরীর কাজনাম চিল্কা– আবার…

কথোপকথন ৪ – পূর্ণেন্দু পত্রী।

কথোপকথন ২৮ – পুর্ণেন্দু পত্রী

– যে কোন একটা ফুলের নাম বল– দুঃখ ।– যে কোন একটা নদীর নাম বল– বেদনা ।– যে কোন একটা গাছের নাম বল– দীর্ঘশ্বাস ।– যে কোন একটা নক্ষত্রের নাম বল– অশ্রু ।– এবার আমি তোমার ভবিষ্যত বলে দিতে পারি…

আমি কবিতা লিখি না – তসলিমা নাসরিন।

মায়ের কাছে চিঠি - তসলিমা নাসরিন

আমি কবিতা লিখি না,আমি জীবন লিখি কাগজে।কবিতা লিখি না,পাহাড়ের চুড়োয় দাঁড়ালে যে হাওয়া এসেশরীরে ধাক্কা খায়, সেটি লিখি। গভীর রাত্তিরে সমুদ্রের খুব কাছে বসে থেকেযে হুহু শব্দ শুনি জলের কান্নার, সেটি লিখি।নদীর নিকটে গিয়ে মাছের, মাছরাঙাদের,মানুষের কোলাহল লিখি। আমি কবি…

জন্মদিনের ফুল – শ্রীজাত।

মা - মল্লিকা সেনগুপ্ত

কখনও লাস্য, কখনও লড়াই তুমি।ভেঙেছিলে মিথ, মিথ্যের কারিগরিঅক্ষর স্থায়ী। কলমেরা মরসুমি।আমরা এখনও তোমারই কবিতা পড়ি। আগুনের পাশে এলাচদানার ঘ্রাণহরিণের পাশে রক্তের বিপ্লব…তোমার লেখায় আবহমানের টানচিরকালীনতা হিসেব রাখবে সব। চুল বেঁধে নেওয়া বিকেলের মতো ফিকেতোমার লেখায় মারণাস্ত্রের রোদ…তবু তো হেঁটেছ রান্নাঘরের…

বউ – সুবোধ সরকার।

মা - মল্লিকা সেনগুপ্ত

তোমাকে কোনদিন আমার বউ বলে ভাবিনি।তোমাকে কোনদিন রোরোর শচীমাতা ভাবিনি।ভাবিনি তুমি কারো কন্যাচাইনি সেটা কেউ ভাবুকতুমি তো কবিতার উঠে-দাঁড়ানো এক চাবুক। তোমার মেয়েগুলো নাসায় ইসরো-তে যাচ্ছেতবু তো মেয়েগুলো খাচ্ছে মার,ব্লাউজে ব্যথা ঢেকে মেয়েরা দিতে পারে পাল্টাসংবিধান লেখা হয়নি , লেখা…