admin

admin

আনন্দ-ভৈরবী – শক্তি চট্টোপাধ্যায়।

বৃষ্টি - অমিয় চক্রবর্তী

আজ সেই ঘরে এলায়ে পড়েছে ছবিএমন ছিলো না আষাঢ়-শেষের বেলাউদ্যানে ছিলো বরষা-পীড়িত ফুলআনন্দ-ভৈরবী আজ সেই গোঠে আসে না রাখাল ছেলেকাঁদে না মোহনবাঁশিতে বটের মূলএখনো বরষা কোদালে মেঘের ফাঁকেবিদ্যুৎ-রেখা মেলে সে কি জানিত না এমনি দুঃসময়লাফ মেরে ধরে মোরগের লাল ঝুঁটিসে…

অনুরোধ – পল্লীকবি জসীমউদ্দীন।

অনুরোধ - পল্লীকবি জসীমউদ্দীন

তুমি কি আমার গানের সুরেরপূবালী বাতাস হবে,তুমি কি আমার মনের বনেরবাঁশীটি হইয়া রবে!রাঙা অধরের রামধনুটিরে,ছড়াবে কি তুমি মোর মেঘ-নীড়ে,আমি কি তোমার কবি হব রাণী,তুমি কি কবিতা হবে;তুমি কি আমার মনের বনেরবাঁশীটি হইয়া রবে! তুমি কি আমার মালার ফুলেরফিরিবে গন্ধ বয়ে,হাসিবে…

নূরজাহান: বাংলার মায়ের নাম – রুমানা শাওন।

নূরজাহান: বাংলার মায়ের নাম - রুমানা শাওন

মায়ের রক্তে মাংসল দেহ,মায়ের দুধেতে প্রাণ,সন্তানেরা আজ হয়েছে অন্ধহারিয়ে আত্মজ্ঞান! জঠর ছিঁড়ে যে আলোদেখেছিল একদিন,পৃথিবীর মোহ ভুলিয়েদিয়েছে মায়ের সকল ঋণ। ​সুখে ছিল তারা নিজের মতননিয়ে জীবনের সুখ,অন্ধকার ঘরে একা একাকেঁদেছে মায়ের করুন মুখ। লাশে পোকা ধরে, দুর্গন্ধ ছড়ায়,প্রতিবেশীরা পায় টের,রক্তের…

হওয়া না-হওয়ার গল্প – বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

ছায়া পথের মানচিত্র - রুমানা শাওন

সে চেয়েছিলোএকটি সত্যিকারের প্রেমের কবিতা লিখতে। তার তোএকটাই জীবন। মানুষের জীবনে প্রেমের চেয়ে নির্মলপিপাসার জল আর কী থাকতে পারে? সে আরও অনুভব করতোপ্রেমই কবিতার প্রাণ, তার শব্দ, তার ধ্বনি-তার মন্ত্র। কিন্তু তবুতার কবিতা, একটার পর একটা তার নিজের লেখা কবিতাকি…

পড়শী মেয়ে – ম. মামুন।

সমর্পিত হও - ম. মামুন

হাত বাড়ালেই ছুঁতে পারোপা বাড়ালেই বাড়ীতবু কেন পড়শীমেয়েরচোখেমুখে আড়ি? পড়শীমেয়ের চলন বাঁকাআরও বাঁকা উঠোনমনটা যে তার বাঁকা হবেনাই বা মুখে কথন। চুপটি করে মিষ্টিহেসে শ্যামা সর্বনাশীমনকারিলী বনহরিণীস্বপ্ন অহর্নিশি। তুমি আছ তোমার মতআমার জ্বালা যতআমার যত ভালোবাসাতোমার তো নয় তত। তোমার…

একদিন যোগ্য হবো – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ।

ও পরবাসীয়া - রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

দেখে নিও, একদিন আমি ঠিকখুলবো আমার এই দেহের বাকল,পুরোনো বাধন বোলে মমতা হবে নাদেখে নিও, আমি ঠিকই খুলবো এই ক্লান্তি আমার। প্রাচীন ধুলোর মতো মাকড়শা-মোহজ’মে আছে শরীরের প্রতিটি পরতে,ছিঁড়তে গেলেই খুব ব্যথা পাই দেহেমনে হয় এরাও আপন ছিলো বুঝি—তবু এই…

চতুর্দশপদী কবিতাবলী – শক্তি চট্টোপাধ্যায়।

যেতে পারি কিন্তু কেন যাবো? - শক্তি চট্টোপাধ্যায়

ভালোবাসা পেলে সব লন্ডভন্ড করে চলে যাবোযেদিকে দুচোখ যায় যেতে তার খুশি লাগে খুব।ভালোবাসা পেলে আমি কেন আর পায়সান্ন খাবোযা খায় গরিবে, তাই খাবো বহুদিন যত্ন করে।ভালোবাসা পেলে আমি গায়ের সমস্ত মুগ্ধকারীআবরণ খুলে ফেলে দৌড় ঝাঁপ করবো কড়া রোদে‘উল্লুক’ আমায়…

কাজী নজরুল ইসলামের প্রতি – শামসুর রাহমান।

স্বাধীনতা একটি বিদ্রোহী কবিতার মতো - শামসুর রাহমান

একদা কবিতা তার বুক নগ্ন করেছিলো আপনার চোখের সম্মুখে,আপনি সে নগ্নতায় দেখেছেন নিজেরই মনের সূর্যোদয়।একদা কবিতা তার স্তনের গোলাপ কুঁড়ি চেয়েছিলো দিতে,আপনি সে গোলাপের উজ্জ্বলতা ছেড়েকালবোশেখীর ঝড়ে চকিতে গেলেন ছুটে বাগ্মিতা নামেরদজ্জাল মেয়ের কাছে, যার ক্ষিপ্ত তুমুল নর্তনে স্বপ্নগুলিপড়লো ছড়িয়ে…

সে – রাম বসু।

সে - রাম বসু

আমি তার দিকে তাকিয়ে থাকি, আরচোখ ফেরাতে পারি না। চুল এলিয়ে যখন হাসেমনে হয় পাতায় হারানো পাখিকথার পিঠে কথা বলে যখনফাটল চুইয়ে গিনি-গলা রোদ ঝরে যেনছেলে কোলে করে দাঁড়ালেদেখি পাকা ধানের মাঠনিরন্ন সংসারে খুদের থালা এগিয়ে দেয় যখনমনে হয় শক্তির…

বুকের মধ্যে সারাজীবন – আরণ্যক বসু।

বুকের মধ্যে সারাজীবন - আরণ্যক বসু

ডাকছে কাছে ভালোবাসা, হাওয়ায় দোলা ফুল,একটি নামেই উন্মনা মন-নজরুল নজরুল!হঠাৎ বাতাস, দামাল-ঝোড়ো, ফুঁসছে বিদ্রোহীতে;জীর্ণ জরার আবর্জনা নিমেষে উড়িয়ে দিতে। যখন ছলাৎ ধ্বংস এসে, নদীর দু’কুল ভাসায়,নীরবতাও মুখর তখন, বেঁচে ওঠবার আশায়।কাজের শেষে, ব্যর্থতাতে, চোখের জলের স্রোত—মুছিয়ে দিয়ে জীবনে ফেরায়-আমার কৈফিয়ৎ।…