admin

admin

নিজের বাড়ি – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী।

নিজের বাড়ি - নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

ভাবতে ভাল লেগেছিল, এই ঘর, ওই শান্ত উঠোন,এই খেত, ওই মস্ত খামারসবই আমারএবং আমি ইচ্ছে হলেই পারিইচ্ছেমতন জানলা-দরজা খুলতেইচ্ছেমতন সাজিয়ে তুলতেশান্ত সুখী একান্ত এই বাড়ি।.ভাবতে ভাল লেগেছিল, চেয়ার টেবিল,আলমারিতে সাজানো বই, ঘোমটা-টানা নরম আলো,ফুলদানে ফুল, রঙের বাটি,আলনা জুড়ে কাপড়-জামারসুবিন্যস্ত সমারোহ,…

বেয়াদবদের জন্যে – আনিসুল হক।

তোমার দিকে আসছি - হুমায়ুন আজাদ

কবিতাকে ভালোবাসি বলেভালোবাসি কবিতার বোদ্ধা পাঠক ও নিপুণ নির্মাতাতাই তো তাদের শ্রদ্ধা করি যারা বোঝে কবিতার গোপন অলিন্দসে কারণেই ভালোবাসি বখাটেকে, বাউণ্ডেলেদের ভাবি একান্ত আপন। গোবেচারা পুলিশের প্রতি ছোড়া হলে ঢিলতুমি আমি শিউরে উঠি, বলি, বেচারা তো হুকুমের দাস,তার প্রতি…

মাদক – সালমান হাবীব ।

মাদক - সালমান হাবীব

গলি থেকে বেরিয়ে বড় রাস্তায় নামতেই দেখি;এক যুবকের পথ আটকে দিল পুলিশ!আপাদমস্তক খোঁজাখুঁজির পরপাতার মতো দেখতে কী যেন একটা পেয়েহাতকড়া পরিয়ে নিয়ে গেল হাজতে! প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে জিজ্ঞেস করে জানলাম;তার কাছে মাদক পাওয়া গেছে।যা অবৈধ, অপরাধ তুল্য। ঠিক তখনি হাতের ইশারায়পুলিশের…

কুড়ি বছর অনেক সময় – সাদাত হোসাইন।

কেউ থাকে কেউ থাকে না - সাদাত হোসাইন

চিঠির পাতায় লেখা ছিল, ‘ভালো থাকব, ভান হলেও’।কুড়ি বছর অনেক সময়। অনেক।ইলেকট্রিকের তার বসেছে মাঠের বুকে।চুকে গেছে লুকিয়ে দেখা আয়নার দিন।ঋণ বেড়েছে, খরচা খাতায় বেহিসেবে।তবুও কোথাও রয়ে গেছে সেই কথাটি, ‘ভালো থাকব, ভান হলেও’।শিউলি ফুলের গন্ধে ডোবা অলস যে পথ,…

কে খেয়েছে চাঁদ – পূর্ণেন্দু পত্রী।

চাঁদের বুড়ি - বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

দাঁতে কামড়িয়ে কে খেয়েছে চাঁদ?সন্ধেবেলায়?মহাশূন্যের ছড়ানো টেবিলেপড়ে আছে যেন ছিরিছাঁদহীন ভাঙা বিস্কুট।কে খেয়েছে চাঁদ?কদিন আগেও কোজাগরী শাড়ি লুটিয়ে হেঁটেছেবর-বর্ণিনী।যমুনার মতো চিকন অঙ্গবুকে তরঙ্গ, কাঁখে তরঙ্গআকাশের ঘাটে স্নান করে গেছে লজ্জা ভাসিয়েকলসি ভাসিয়ে।কে খেয়েছে চাঁদ? কার তৃষ্ণার উনোনে আগুন জ্বলে উঠেছিল?আগুন…

পুনর্জন্মে নয় – দাউদ হায়দার।

পুনর্জন্মে নয় - দাউদ হায়দার

পুনর্জন্মে নয়, প্রতি জন্মে তোমাকে আমার চাইরক্তে ধমনিতে জ্বলে লাল অগ্নিশিখাঃকবিতার থেকে যতদূরে যাইবন্দিশিবিরে দেখি উদ্ধত কনীনিকা।তোমাকে আমার চাই, তুমি ছাড়া এ-বিশ্বের অস্তিত্বআদৌ মানি না-সমস্ত পদাবলী, রবীন্দ্রসংগীত তুমি ছাড়া সব বৃথাএমনকি সূর্যোদয়, তারা-ছাওয়া সৌর-আকাশ,কোনোকিছু চিনি না-আমি নই রাম, লোকভয়ে ছেড়ে…

নীরার জন্য – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়।

নীরার জন্য - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

নীরা, তুমি নাও দুপুরের পরিচ্ছন্নতানাও রাত্রির দূরত্বতুমি নাও চন্দন বাতাসনাও নদীতীরের কুমারী মাটির স্নিগ্ধ সারল্যনাও করতলে লেবু-পাতার গন্ধনীরা, তুমি মুখ ফেরাও, তোমার জন্য রেখেছিবছরের শ্রেষ্ঠ বর্ণাঢ্য সূর্যাস্ততুমি নাও পথের ভিখারি বালকের হাসিনাও দেবদারু পাতার প্রথম সবুজনাও কাচ-পোকার চোখের বিস্ময়নাও একলা…

খুন করেছি সোনার মাছি – নির্মলেন্দু গুণ।

পৃথিবী – নির্মলেন্দু গুণ

কেউ আমাকে খুন করেছে,বল না সখি, কে আমাকেভালোবেসে খুন করেছে? ইস্ ঢঙ দেখে আর বাঁচি না,আমার কি আর ভিন্ন দশা?তুইও যে কারণে,আমিও সেই কারণেইঅকূলের কূলে বসা। হেঁয়ালি করিস না বোন,আমারটা তো আমি জানিএবার বল, তোরটা শুনি—তোর এ-দশা কে করেছে? কাউকে…

এক এক দিন – সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়।

ভালোবাসা বহুদিন আগে - সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়

এক এক দিনএকটা নদী জেগে ওঠে এই দেহটার মধ্যেকূল ভেঙে দেয়নিরাপদ যা কিছু ছিল খরস্রোতে ভাসে এক এক দিনভালোবাসার জন্যে মনে এত ঢেউ ওঠেসেই সুনামিতেহাট বাজার কাছারি দপ্তর সব ভেসে যায় এক এক দিনসুন্দরের জন্যে হাহাকারআকাশ বাতাস বসন্তের গানে ভরিয়ে…

অবয়বহীন মুখোমুখি – রুমানা শাওন।

ভুল ভাঙার রহস্য - তারাপদ রায়

​টেবিলের ওপাশে একটা শূন্যতা এসে বসেছেযেখানে থাকার কথা ছিল অন্য একটা হাত,যে দিন শেষের সব ক্লান্তি শুষে নিতে পারে। ​দুটো কফির কাপ পাশাপাশি,যেন একটা অবাস্তব থিয়েটারের দুই নীরব দর্শক।আমি একা আর তুমি অবয়বহীবতবু ভাবনায় তুমুলভাবে জড়িয়ে আছ । ​কোনো ছন্দের…