admin

admin

প্রেমিক – জয় গোস্বামী।

খুব কাছে এসো না - রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।

তুমি আমাকে মেঘ ডাকবার যে বইটা দিয়েছিলে একদিনআজ খুলতেই দেখি তার মধ্যে এক কোমর জল।পরের পাতায় গিয়ে সে এক নদীর অংশ হয়ে দূরে বেঁকেগেছে। আমাকে তুমি উদ্ভিদ ভরা যে বইটা দিয়েছিলেআজ সেখানে এক পা-ও এগোনো যাচ্ছে না, এত জঙ্গল।গাছগুলো এত…

মুখ – বুদ্ধদেব বসু ।

ডায়েরি - অমিয় চক্রবর্তী

ঘোমটা টেনে দাওঘোমটা টেনে দাও তোমার মুখের উপর :তোমার রূপ আমি সইতে পারিনে। তোমার মুখনগ্ন, উৎসুক, সম্পূর্ণ-উদ্ভাসিতযেখানে ঝলসাচ্ছে বিদ্যুৎ,যেখানে ডানা ঝাপটাচ্ছে অদৃশ্য পাখি, আগুনের ঢেউয়ের মতো তার ডানার ওঠা-পড়া-আমি তা কেমন ক’রে সইবো? তোমার কি ভয় করে না,ভয় করে না…

বিদায়কালীন – ভাস্কর চক্রবর্তী।

বিশাল এই মহাদেশের ছায়ায় - ভাস্কর চক্রবর্তী।

যদি যেতে বলো তবেচলে যাবো আজ। চলে যাবো।ঘুমোবার মতো ঘুমনেই আর—লেখালেখি নেই।নেই আর আনন্দ, অজস্র চিঠি,সাদা শার্ট,পুড়েছি ঘাসের মতোগ্রীষ্মের দুপুরে। যদি বলোযেতে যদি বলো তবেযাবো আজ। দেখলামরক্ত শুধু। দেখলামপ্রিয় বন্ধু ব্যস্ত তার প্রিয় বন্ধু নিয়ে।—– ভুল পৃথিবীর গায়েতবু বারবার আমিআঘাত…

আকাশ – নির্মলেন্দু গুণ।

আকাশ – নির্মলেন্দু গুন।

আমার সমস্ত ভাবনা যখন তোমাকে ছোঁয়,আমার সমস্ত উপলব্ধি যখন তোমারআত্মাকে স্পর্শ করে, আমার সমস্ত বোধযখন তোমার বোধিতে নিমজ্জিত হয়,তখন আমার প্রাণের গভীর থেকেস্বতঃস্ফূর্ত মোহন মন্ত্রের মতো উচ্চারিত হয়একটি অত্যন্ত সহজ শব্দ…”আকাশ” । আমি শব্দটিকে ক্রমাগত উচ্চারণ করি ।জানি না কেন…

চন্দনগাছ কবিতা – শুভ দাশগুপ্ত।

চন্দনগাছ কবিতা - শুভ দাশগুপ্ত।

বেলা হল অনেক,রোদ্দুর ঢলেছে পশ্চিমেকলকাকলির পাখিরা ডানায় মেখেছে সিঁদুর।মা, আমি এবার ফিরতে চাই মা।ঝকঝকে মাঁজা কাঁসার গ্লাসে ঠাণ্ডা জল,সঙ্গে একটু বাতাসা,বৃষ্টি ধোয়া রাতে চালে ডালে খিচুড়ির মহাপ্রসাদ,জ্বরে অসুখে কপালে ঠাণ্ডা হাতের বরাভয়,আঘাতে বিপদে উদ্বিগ্ন চোখের জল।মা, আমি আবার এইসব মহার্ঘ…

ইউক্রেনের মৃত শিশুদের কফিন – সুবোধ সরকার।

উনুন - সুবোধ সরকার।

আমার বাবা কফিন বানাতেনআমার বাবার বাবা কফিন বানাতেনআমিও কফিন বানাই।মানুষের অন্তিম শয্যারআমি সাক্ষী। আমার কোন নাম নেই আমার কোন পদবী নেইআমার কোন গোত্র নেই আমার কোন জেলা পরগণা নেই।আমি বেহালা বাদক হতে চেয়েছিলাম।পারিনি।মানুষের অন্তিম শয্যার আমি সাক্ষী। আমি শুধু কফিন…

সময়ের ঘ্রাণ – মোরশেদ সাকিব।

সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে - হুমায়ুন আজাদ

জোছনা সবার প্রিয়সুন্দর ও সাবলীলকিন্ত জোছনার আলোয় পোড়ে আমার শরীর ও মনআমি আড়ালে রাখি নিজেকেদেখলে জোছনার আলামত।আমি যত জোছনা দেখিতত পুড়ি ভেতর থেকেসব সময় তো আর দুঃখ আড়াল করা যায় না।জোছনায় আমি ও বিলাশ করতে চেয়েছিলামকিন্তু জোছনা পাওয়াও যে ভাগ্যের…

পরস্পর – জীবনানন্দ দাশ।

তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা - শহীদ কাদরী

মনে প’ড়ে গেল এক রূপকথা ঢের আগেকার ,কহিলাম,- শোনো তবে ,-শুনিতে লাগিল সবে,শুনিল কুমার ;কহিলাম ,- দেখেছি সে চোখ বুজে আছে,ঘুমানো সে এক মেয়ে – নিঃসাড় পুরীতে এক পাহাড়ের কাছে ;সেইখানে আর নাই কেহ ,-এক ঘরে পালঙ্কের’পরে শুধু এক খানা…

দুর্গা টুনটুনির সংসার – আরণ্যক বসু।

দুর্গা টুনটুনির সংসার - আরণ্যক বসু।

দু’বিনুনি, ঝোলা দুল, পায়ে আধ পুরনো নূপুর। দুপুর।কেউ নেই। নেই? না না আছে- জবা পাতার আড়ালে, একজোড়া দুর্গা টুনটুনি।শুনছে? শুনুক গে,মেয়েটা গাইছে একটা পুরনো হিট বাংলা ছবির গান-প্রেম কথাটাই ছোট, অক্ষর তার দুটো,যেন একটি কোন পাখির ঠোঁটে ছোট্ট সে খড়কুটোমায়ের…

সেই সবও তুমি – পূর্ণেন্দু পত্রী।

সেই সবও তুমি - পূর্ণেন্দু পত্রী।

তোমাকেই দৃশ্য মনে হয়।তোমার ভিতরে সব দৃশ্য ঢুকে গেছে।কাচের আলমারি যেন, থাকে থাকে, পরতে পরতেশরতের, হেমন্তের, বসন্তের শাড়ি গয়না দুল,নদীর নবীন বাঁকা, বৃষ্টির নুপুর, জল, জলদ উদ্ভিদ। সাঁচীস্তুপে, কোনারকে যায় যারা, গিয়ে ফিরে আসেদুধ জ্বাল দিয়ে দিয়ে ক্ষীর করা স্বাদ…