কবিতার শুরুতেই এক অদ্ভুত বৈষম্য ফুটে ওঠে—যে মেয়ের দাদা লম্পট, সেই মেয়ের বিয়ে হয় না। অর্থাৎ, নারীর নিজের কোনো দোষ না থাকা সত্ত্বেও পরিবারের পুরুষের কৃতকর্মের দায়ভার তাকে বহন করতে হয়। এরপর আসে মা-মাসীদের সেই চিরাচরিত ‘ভালো মেয়ে’র সংজ্ঞা। তাঁদের মতে, যে মেয়ে সারাদিন ঘরের কাজ করে এবং বাইরের জগতের সাথে যোগাযোগহীন থাকে, সেই হলো আদর্শ। কিন্তু এই তথাকথিত আড়ালে থাকা মেয়েটির জীবনের বাস্তবতা কী? কবি দেখিয়েছেন, যে মেয়ে ভাই বা বাবার থাপ্পড় মুখ বুজে সয়, এমনকি নিকট আত্মীয়দের লালসার শিকার হয়েও সম্মানের ভয়ে মৌন থাকে—সমাজ তাকেই ‘ভালো মেয়ে’র শিরোপা দেয়। অর্থাৎ, এখানে ‘ভালো’ হওয়া মানেই হলো নিজের প্রতিবাদী সত্তাকে বিসর্জন দেওয়া।
কবিতার দ্বিতীয় অংশে ‘খারাপ মেয়ে’র ধারণাটিকে কবি নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। যে নারী মাতাল স্বামী পরিত্যাগ করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়, তাকে সমাজ বা বাড়িওয়ালা কেউ আশ্রয় দিতে চায় না। বাসের মধ্যে শ্লীলতাহানির প্রতিবাদে যে মেয়ে হাত তোলে, তাকেই উল্টো নেমে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। স্বনির্ভরতা, একাকী সূর্যাস্ত দেখা কিংবা নিজের ইচ্ছেমতো জীবন যাপন করা—এই প্রতিটি স্বাধীন কাজই সমাজের চোখে ‘ভুরু কুঁচকানো’র কারণ। অর্থাৎ, নারীর স্বাধীনতা ও আত্মমর্যাদাকেই এখানে ‘খারাপ’ হওয়ার লক্ষণ হিসেবে দাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কবিতার শেষভাগে কবি এক অমোঘ সত্যে উপনীত হয়েছেন। তাঁর প্রশ্নটি অত্যন্ত ধারালো—তাহলে কি মুখ বুজে অত্যাচার সহ্য করাই ভালো হওয়ার একমাত্র শর্ত? আর ন্যায়ের পথে রুখে দাঁড়ানোই কি খারাপ হওয়া? সুবোধ সরকার এখানে প্রমাণের চেষ্টা করেছেন যে, সমাজের এই ‘ভালো’ ও ‘খারাপ’-এর লেবেলগুলো আসলে নারীকে নিয়ন্ত্রণ করার এক সুনিপুণ কৌশল। যে নারী বশ্যতা স্বীকার করে সে ‘ভালো’, আর যে মাথা উঁচু করে বাঁচে সে ‘খারাপ’।
পরিশেষে বলা যায়, ‘ভালো মেয়ে খারাপ মেয়ে’ কবিতাটি আমাদের শেখায় যে, অন্যের দেওয়া তকমা দিয়ে নিজের জীবন বিচার করা সাজে না।
ভালো মেয়ে খারাপ মেয়ে – সুবোধ সরকার | সুবোধ সরকারের নারীবাদী কবিতা | ‘ভালো মেয়ে’র সমাজবান্ধব সংজ্ঞার ব্যঙ্গ ও ‘খারাপ মেয়ে’র স্বাধীনতার প্রশ্ন | মুখ বুজে অত্যাচার সহ্য করাকেই ভালো বলে চিহ্নিত করার কঠোর সমালোচনা
ভালো মেয়ে খারাপ মেয়ে: সুবোধ সরকারের সমাজের ‘ভালো মেয়ে’র সংজ্ঞার কঠোর ব্যঙ্গ, অত্যাচার সহ্য করাকেই ‘ভালো’ বলার প্রতিবাদ ও স্বাধীনচেতা মেয়েদের প্রতি সমাজের ভ্রূক্ষেপের অসাধারণ কাব্য
সুবোধ সরকারের “ভালো মেয়ে খারাপ মেয়ে” বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য, নারীবাদী ও ব্যঙ্গাত্মক সৃষ্টি। “ঠিক কাদেরকে ভালো মেয়ে বলে আমি এখনও বুঝতে পারি না” — এই পঙ্ক্তি দিয়ে শুরু হওয়া কবিতাটি ধীরে ধীরে উন্মোচিত করে সমাজের ‘ভালো মেয়ে’র সংজ্ঞার অসারতা; যেসব মেয়ের দাদা লম্পট তাদের বিয়ে না হওয়ার সামাজিক বাস্তবতা; সারাদিন ঘরের কাজ করলেই ‘ভালো মেয়ে’ হওয়ার ভণ্ডামি; বাবা, ভাই, মামা—সবাই যখন অত্যাচার করে আর মেয়ে মুখ খোলে না, তখন তাকেই ‘ভালো’ বলা হয়; মাতাল স্বামী পরিত্যাগ করে একা থাকতে চাওয়া মেয়েকে বাড়িওয়ালা ঘর দিতে চায় না; বাসে ভদ্রলোকের গালে থাপ্পড় দেওয়া মেয়েকে অফিসযাত্রীরা ‘দিদি’ বলে সম্বোধন করে ট্যাক্সি ধরার পরামর্শ দেয়; আর চাঁদপাল ঘাটে একা দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত দেখা মেয়ের দিকে আমরা ভুরু কুঁচকে তাকাই। সুবোধ সরকার (জন্ম ১৯৪৯) একজন বিশিষ্ট ভারতীয় বাঙালি কবি। তিনি নারীবাদী চেতনা, সামাজিক বাস্তবতা ও নাগরিক জীবনের জটিলতা নিয়ে লিখেছেন। তাঁর কবিতায় সহজ-সরল ভাষায় গভীর ব্যঙ্গ ও প্রতিবাদ ফুটে উঠেছে। “ভালো মেয়ে খারাপ মেয়ে” সেই স্বকীয় কাব্যভাষার এক অসাধারণ শিল্পরূপ — যেখানে তিনি শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন তুলেছেন — ‘মুখ বুজে যারা সব অত্যাচার সহ্য করে তাদেরকে ভালো মেয়ে বলে? মুখ বুজে যারা সব অত্যাচার সহ্য করে না, তাদেরকে খারাপ মেয়ে বলে?’
সুবোধ সরকার: নারীবাদী চেতনা ও সামাজিক বাস্তবতার কবি
সুবোধ সরকার ১৯৪৯ সালের ১৫ অক্টোবর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন বিশিষ্ট আধুনিক বাঙালি কবি। তিনি নারীবাদী চেতনা, সামাজিক বাস্তবতা, নাগরিক জীবনের জটিলতা ও নারীর প্রতি সামাজিক বৈষম্য নিয়ে লিখেছেন। তাঁর কবিতায় সহজ-সরল ভাষায় গভীর ব্যঙ্গ ও প্রতিবাদ ফুটে উঠেছে।
তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘উদ্বৃত্ত’, ‘অন্যজন’, ‘নির্বাচিত কবিতা’, ‘অয়ন’, ‘ভালো মেয়ে খারাপ মেয়ে’ ইত্যাদি। তিনি বাংলা আকাদেমি পুরস্কার সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।
সুবোধ সরকারের নারীবাদী কবিতার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো সমাজের ‘ভালো মেয়ে’র সংজ্ঞার কঠোর সমালোচনা, নারীর প্রতি পারিবারিক ও সামাজিক অত্যাচারের বাস্তব চিত্র, মুখ বুজে অত্যাচার সহ্য করাকেই ‘ভালো’ বলে চিহ্নিত করার ব্যঙ্গ, এবং স্বাধীনচেতা নারীর পক্ষে সোচ্চার প্রতিবাদ। ‘ভালো মেয়ে খারাপ মেয়ে’ সেই ধারার একটি অসাধারণ উদাহরণ — যেখানে তিনি সমাজের চোখে ‘ভালো মেয়ে’ হওয়ার শর্তগুলো একে একে ভাঙিয়ে দিয়েছেন এবং শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন রেখেছেন — অত্যাচার সহ্য করলেই ‘ভালো’, আর সহ্য না করলেই ‘খারাপ’? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে পাঠককে বাধ্য করেছেন।
ভালো মেয়ে খারাপ মেয়ে: শিরোনামের তাৎপর্য ও কবিতার পটভূমি
শিরোনাম ‘ভালো মেয়ে খারাপ মেয়ে’ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি একটি প্রচলিত দ্বৈত মানদণ্ডের প্রতীক। সমাজ নারীদের দুই ভাগে ভাগ করে — ভালো ও খারাপ। কিন্তু এই বিভাজনের মানদণ্ড কী? সুবোধ সরকার এই কবিতায় সেই মানদণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেছেন।
কবিতাটি বিংশ শতাব্দীর শেষ দশকের বাংলা সমাজের পটভূমিতে রচিত। তখনও নারীদের স্বাধীনতা, পোশাক, আচার-আচরণ, চাকরি, একা থাকা — সবকিছুই সমাজের কঠোর বিচারের আওতায় ছিল।
কবি শুরুতে বলছেন — ঠিক কাদেরকে ভালো মেয়ে বলে আমি এখনও বুঝতে পারি না। এই বাংলায় যেসব মেয়ের দাদা লম্পট, সেইসব মেয়ের সহজে বিয়ে হয় না।
মা-মাসীদের মতে, যেসব মেয়েরা সারাদিন ঘরের কাজ করে, কোন ছেলের সঙ্গে রাস্তায় ঘুরে বেড়ায় না, তারাই ভালো মেয়ে।
ভাই থাপ্পর মারে, বাবা থাপ্পর মারে, মা ঘরে আটকে রাখে, মামাবাড়ির লোকেরা স্নেহের নামে যেখানে সেখানে হাত দিয়ে যায়, অথচ মুখ খোলে না কখনও — সে মেয়েকেই আমরা ভালো বলি।
কাকে ভালো মেয়ে, কাকে খারাপ মেয়ে বলে সে এক রহস্য। মাতাল স্বামী পরিত্যাগ করে যারা একা থাকতে চায়, তাদের বাড়িওয়ালা ঘর দিতে চায় না।
যে মেয়েটি বাসের মধ্যে ভদ্রলোকের গালে থাপ্পড় বসিয়ে দিলো, গণ্ডগোল থামতে অফিসযাত্রীরা বললেন দিদি, পরের স্টপেজে নেমে একটা ট্যাক্সি ধরে নিন। যে মেয়ে কারও তোয়াক্কা করে না, নিজে আনে নিজে খায়, যে মেয়ে চাঁদপাল ঘাটে একা দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত দেখে, তার দিকে আমরা ভুরু কুঁচকে তাকাই।
তাহলে মোদ্দা কথা কি দাঁড়ালো? মুখ বুজে যারা সব অত্যাচার সহ্য করে তাদেরকে ভালো মেয়ে বলে? মুখ বুজে যারা সব অত্যাচার সহ্য করে না, তাদেরকে খারাপ মেয়ে বলে?
ভালো মেয়ে খারাপ মেয়ে: স্তবকভিত্তিক বিস্তারিত বিশ্লেষণ
প্রথম স্তবক: ভালো মেয়ের সংজ্ঞা বোঝার অসুবিধা ও দাদা লম্পট হলে বিয়ে না হওয়া
“ঠিক কাদেরকে ভালো মেয়ে বলে / আমি এখনও বুঝতে পারি না। / এই বাংলায় যেসব মেয়ের দাদা লম্পট / সেইসব মেয়ের সহজে বিয়ে হয় না।”
প্রথম স্তবকে কবি সরাসরি স্বীকার করছেন — তিনি এখনও বুঝতে পারেন না কাদের ‘ভালো মেয়ে’ বলে। তারপর একটি সামাজিক সত্য তুলে ধরছেন — যেসব মেয়ের দাদা লম্পট, তাদের বিয়ে সহজে হয় না। অর্থাৎ দাদার চরিত্রের দাগ মেয়ের গায়ে পড়ে। এটি নারীর প্রতি সমাজের অত্যন্ত অন্যায় ও অযৌক্তিক মানদণ্ড।
দ্বিতীয় স্তবক: ঘরের কাজ করাই ভালো মেয়ে হওয়ার শর্ত
“মা-মাসীদের মতে, যেসব মেয়েরা / সারাদিন ঘরের কাজ করে, / কোন ছেলের সঙ্গে রাস্তায় ঘুরে বেড়ায় না, / তারাই ভালো মেয়ে।”
দ্বিতীয় স্তবকে সমাজের নারীদের (মা-মাসীদের) মতামত তুলে ধরা হচ্ছে। তাদের মতে — সারাদিন ঘরের কাজ করলেই ভালো মেয়ে, আর রাস্তায় ছেলেদের সঙ্গে ঘুরে বেড়ালেই খারাপ মেয়ে। এটি নারীর স্বাধীনতা ও সামাজিকীকরণের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা।
তৃতীয় স্তবক: পারিবারিক অত্যাচার সহ্য করাকেই ‘ভালো’ বলা
“ভাই থাপ্পর মারে, বাবা থাপ্পর মারে, / মা ঘরে আটকে রাখে / মামা বাড়ির লোকেরা স্নেহের নামে / যেখানে সেখানে হাত দিয়ে যায় / অথচ মুখ খোলে না কখনও / সে মেয়েকেই আমরা ভালো বলি।”
তৃতীয় স্তবকটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও ব্যঙ্গাত্মক। কবি এখানে ‘ভালো মেয়ে’র প্রকৃত সংজ্ঞা উন্মোচন করছেন। ভাই থাপ্পর মারে, বাবা থাপ্পর মারে, মা ঘরে আটকে রাখে, মামাবাড়ির লোকেরা স্নেহের নামে যেখানে সেখানে হাত দিয়ে যায় — অথচ মেয়েটি মুখ খোলে না কখনও — সেই মেয়েকেই আমরা ‘ভালো’ বলি। অর্থাৎ অত্যাচার সহ্য করাই ‘ভালো’ হওয়ার শর্ত।
চতুর্থ স্তবক: কাকে ভালো আর কাকে খারাপ বলে — এক রহস্য
“কাকে ভালো মেয়ে, কাকে খারাপ মেয়ে বলে / সে এক রহস্য। / মাতাল স্বামী পরিত্যাগ করে / যারা একা থাকতে চায়, / তাদের বাড়ীওয়ালা ঘর দিতে চায় না।”
চতুর্থ স্তবকে কবি ‘ভালো-খারাপ’ বিচারকে ‘রহস্য’ বলেছেন। এরপর একটি বাস্তব উদাহরণ — মাতাল স্বামী পরিত্যাগ করে যারা একা থাকতে চায়, তাদের বাড়িওয়ালা ঘর দিতে চায় না। অর্থাৎ সমাজ নারীকে স্বাধীন হতে দেয় না — একা থাকতে চাইলেও বাধা দেয়।
পঞ্চম স্তবক: বাসে থাপ্পড় দেওয়া মেয়ে ও অফিসযাত্রীদের সহানুভূতি
“যে মেয়েটি বাসের মধ্যে ভদ্রলোকের গালে / থাপ্পড় বসিয়ে দিলো, / গণ্ডগোল থামতে অফিসযাত্রীরা বললেন দিদি, / পরের স্টপেজে নেমে একটা ট্যাক্সি ধরে নিন।”
পঞ্চম স্তবকে একটি মেয়ের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদের চিত্র। বাসের মধ্যে কোনো ‘ভদ্রলোক’ হয়তো অশালীন আচরণ করছিল। মেয়েটি তার গালে থাপ্পড় বসিয়ে দিল। গণ্ডগোল থামতে অফিসযাত্রীরা তাকে ‘দিদি’ সম্বোধন করে পরামর্শ দিলেন — পরের স্টপেজে নেমে ট্যাক্সি ধরতে। এখানে অফিসযাত্রীরা মেয়েটির পক্ষে রয়েছে — তারা তাকে ‘দিদি’ বলে সম্মান জানিয়েছে। এটি একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।
ষষ্ঠ স্তবক: একা সূর্যাস্ত দেখা মেয়ের দিকে ভুরু কুঁচকে তাকানো
“যে মেয়ে কারও তোয়াক্কা করে না, / নিজে আনে নিজে খায়, / যে মেয়ে চাঁদপাল ঘাটে / একা দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত দেখে, / তার দিকে আমরা ভুরু কুঁচকে তাকাই।”
ষষ্ঠ স্তবকে স্বাধীনচেতা মেয়ের চিত্র। সে কারও তোয়াক্কা করে না, নিজে উপার্জন করে নিজে খায়, চাঁদপাল ঘাটে একা দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত দেখে। তার দিকে ‘আমরা’ (সমাজ) ভুরু কুঁচকে তাকাই। অর্থাৎ আমরা তাকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারি না, সন্দেহের চোখে দেখি।
সপ্তম ও শেষ স্তবক: চূড়ান্ত প্রশ্ন — অত্যাচার সহ্য করলেই ভালো, না করলেই খারাপ?
“তাহলে মোদ্দা কথা কি দাঁড়ালো? / মুখ বুজে যারা সব অত্যাচার সহ্য করে / তাদেরকে ভালো মেয়ে বলে? / মুখ বুজে যারা সব অত্যাচার সহ্য করে না, / তাদেরকে খারাপ মেয়ে বলে?”
সপ্তম ও শেষ স্তবকে কবি চূড়ান্ত প্রশ্ন তুলেছেন। ‘মোদ্দা কথা’ কী দাঁড়ালো? মুখ বুজে যারা সব অত্যাচার সহ্য করে — তাদেরকেই কি ‘ভালো মেয়ে’ বলে? আর মুখ বুজে যারা সব অত্যাচার সহ্য করে না — তাদেরকেই কি ‘খারাপ মেয়ে’ বলে? এই প্রশ্নের উত্তর পাঠককেই দিতে হবে।
কবিতার গঠনশৈলী, ছন্দ ও শিল্পরূপ
কবিতাটি গদ্যছন্দে রচিত। লাইন ছোট-বড় মিশ্রিত। সরাসরি সম্বোধন ও প্রশ্নের ব্যবহার কবিতাটিকে বক্তৃতামূলক ও সংলাপমূলক করে তুলেছে। শেষ স্তবকে প্রশ্নবোধক চিহ্নের ব্যবহার পাঠককে চিন্তা করতে বাধ্য করে।
প্রতীক ব্যবহার অত্যন্ত শক্তিশালী। ‘ভালো মেয়ে’ — সমাজের সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞার প্রতীক। ‘খারাপ মেয়ে’ — সমাজের নিন্দার প্রতীক। ‘দাদা লম্পট হলে বিয়ে না হওয়া’ — পূর্বপুরুষের অপরাধে নারীর শাস্তির প্রতীক। ‘সারাদিন ঘরের কাজ করা’ — নারীর গৃহবন্দিত্বের প্রতীক। ‘রাস্তায় ছেলেদের সঙ্গে ঘুরে বেড়ানো’ — নারীর স্বাধীনতার ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রতীক। ‘ভাই, বাবা, মা, মামাদের অত্যাচার’ — পারিবারিক নারীনির্যাতনের প্রতীক। ‘মুখ না খোলা’ — নারীর নীরবতা ও অসহায়ত্বের প্রতীক। ‘মাতাল স্বামী পরিত্যাগ করে একা থাকতে চাওয়া’ — নারীর স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। ‘বাড়িওয়ালা ঘর না দেওয়া’ — সমাজের বাধার প্রতীক। ‘বাসে ভদ্রলোকের গালে থাপ্পড়’ — নারীর প্রতিবাদের প্রতীক। ‘অফিসযাত্রীদের ‘দিদি’ সম্বোধন’ — সমাজের একাংশের সহানুভূতির প্রতীক। ‘চাঁদপাল ঘাটে একা সূর্যাস্ত দেখা’ — নারীর একাকিত্ব ও স্বাধীন উপভোগের প্রতীক। ‘ভুরু কুঁচকে তাকানো’ — সমাজের সন্দেহ ও অস্বীকৃতির প্রতীক। ‘মুখ বুজে অত্যাচার সহ্য করা’ — নারীর পরাধীনতার প্রতীক। ‘মুখ বুজে অত্যাচার সহ্য না করা’ — নারীর বিদ্রোহের প্রতীক।
ব্যঙ্গাত্মক শৈলী কবিতার প্রধান কাব্যগুণ। বিশেষ করে তৃতীয় স্তবকের ‘মুখ খোলে না কখনও — সে মেয়েকেই আমরা ভালো বলি’ লাইনটি চরম ব্যঙ্গ। শেষের প্রশ্নগুলোও ব্যঙ্গাত্মক।
কবিতার সামগ্রিক তাৎপর্য ও দার্শনিক মাত্রা
“ভালো মেয়ে খারাপ মেয়ে” সুবোধ সরকারের এক অসাধারণ সৃষ্টি। তিনি এখানে সমাজের ‘ভালো মেয়ে’র সংজ্ঞার কঠোর সমালোচনা করেছেন এবং শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন রেখেছেন — অত্যাচার সহ্য করাই কি ‘ভালো’ হওয়ার মানদণ্ড?
প্রথম স্তবকে — ভালো মেয়ের সংজ্ঞা বোঝার অসুবিধা ও দাদা লম্পট হলে বিয়ে না হওয়া। দ্বিতীয় স্তবকে — ঘরের কাজ করাই ভালো মেয়ে হওয়ার শর্ত। তৃতীয় স্তবকে — পারিবারিক অত্যাচার সহ্য করাকেই ‘ভালো’ বলা। চতুর্থ স্তবকে — কাকে ভালো আর কাকে খারাপ বলে — এক রহস্য, ও মাতাল স্বামী পরিত্যাগ করে একা থাকতে চাওয়া মেয়েকে বাড়িওয়ালা ঘর না দেওয়া। পঞ্চম স্তবকে — বাসে থাপ্পড় দেওয়া মেয়ে ও অফিসযাত্রীদের সহানুভূতি। ষষ্ঠ স্তবকে — একা সূর্যাস্ত দেখা মেয়ের দিকে ভুরু কুঁচকে তাকানো। সপ্তম ও শেষ স্তবকে — চূড়ান্ত প্রশ্ন: অত্যাচার সহ্য করলেই ভালো, না করলেই খারাপ?
এই কবিতা আমাদের শেখায় — সমাজের ‘ভালো মেয়ে’র সংজ্ঞা ভণ্ড ও অন্যায়; দাদা লম্পট হলে মেয়ের বিয়ে না হওয়া অযৌক্তিক; সারাদিন ঘরের কাজ করলেই ‘ভালো’ হওয়া ভ্রান্ত ধারণা; ভাই, বাবা, মা, মামাদের অত্যাচার সহ্য করাকেই ‘ভালো’ বলা চরম ব্যঙ্গ; মাতাল স্বামী ছেড়ে একা থাকতে চাওয়া মেয়েকে বাড়িওয়ালা ঘর দেয় না; বাসে থাপ্পড় দেওয়া মেয়ে ‘খারাপ’ নয়, বরং অফিসযাত্রীরা তার পক্ষে; চাঁদপাল ঘাটে একা সূর্যাস্ত দেখা মেয়ের দিকে আমরা ভুরু কুঁচকে তাকাই; আর শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন — মুখ বুজে অত্যাচার সহ্য করলেই ‘ভালো মেয়ে’? আর সহ্য না করলেই ‘খারাপ মেয়ে’?
সুবোধ সরকারের কবিতায় নারীবাদী চেতনা ও সামাজিক ব্যঙ্গ
সুবোধ সরকারের কবিতায় নারীবাদী চেতনা ও সামাজিক ব্যঙ্গ একটি পুনরাবৃত্ত বিষয়। তিনি ‘ভালো মেয়ে খারাপ মেয়ে’ কবিতায় সমাজের ‘ভালো মেয়ে’র সংজ্ঞার অসাধারণ ব্যঙ্গ করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন — কীভাবে দাদার চরিত্রের দাগ মেয়ের গায়ে লাগে; কীভাবে সারাদিন ঘরের কাজ করলেই ‘ভালো মেয়ে’ হওয়া যায়; কীভাবে ভাই, বাবা, মা, মামারা অত্যাচার করলেও মেয়ে মুখ না খুললেই ‘ভালো’ থাকে; কীভাবে মাতাল স্বামী ছেড়ে একা থাকতে চাওয়া মেয়েকে বাড়িওয়ালা ঘর দিতে চায় না; কীভাবে বাসে থাপ্পড় দেওয়া মেয়ে ‘খারাপ’ নয়, বরং সাহসী; কীভাবে চাঁদপাল ঘাটে একা সূর্যাস্ত দেখা মেয়ের দিকে আমরা সন্দেহের চোখে তাকাই; আর শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন — অত্যাচার সহ্য করাই কি ‘ভালো’ হওয়ার মানদণ্ড?
শিক্ষামূলক গুরুত্ব ও পাঠ্যক্রমিক স্থান
বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাংলা সাহিত্যের উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক পাঠ্যক্রমে সুবোধ সরকারের ‘ভালো মেয়ে খারাপ মেয়ে’ কবিতাটি অন্তর্ভুক্ত থাকার যোগ্য। এই কবিতাটি শিক্ষার্থীদের নারীবাদী চেতনা, সামাজিক বৈষম্য, ‘ভালো মেয়ে’র সংজ্ঞার ভণ্ডামি, নারীর প্রতি পারিবারিক ও সামাজিক অত্যাচার, এবং সুবোধ সরকারের ব্যঙ্গাত্মক কাব্যভাষা সম্পর্কে বুঝতে সাহায্য করে। বিশেষ করে ‘ঠিক কাদেরকে ভালো মেয়ে বলে আমি এখনও বুঝতে পারি না’ লাইনটি, ‘দাদা লম্পট হলে বিয়ে না হওয়া’, ‘ভাই-বাবার থাপ্পর ও মামাদের স্নেহের হাত’, ‘মুখ খোলে না কখনও — সে মেয়েকেই আমরা ভালো বলি’, ‘মাতাল স্বামী পরিত্যাগ করে একা থাকতে চাওয়া’, ‘বাসে থাপ্পড় দেওয়া মেয়ে’, ‘চাঁদপাল ঘাটে একা সূর্যাস্ত দেখা’, এবং শেষের প্রশ্ন ‘মুখ বুজে অত্যাচার সহ্য করলেই ভালো মেয়ে?’ — এসব বিষয় শিক্ষার্থীদের কাব্যবোধ, নারীবাদী দৃষ্টিভঙ্গি ও সামাজিক সচেতনতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ভালো মেয়ে খারাপ মেয়ে সম্পর্কে বিস্তারিত প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন ১: ভালো মেয়ে খারাপ মেয়ে কবিতাটির রচয়িতা কে?
এই কবিতাটির রচয়িতা সুবোধ সরকার (জন্ম ১৯৪৯)। তিনি একজন বিশিষ্ট আধুনিক বাঙালি কবি। তিনি নারীবাদী চেতনা, সামাজিক বাস্তবতা, নাগরিক জীবনের জটিলতা ও নারীর প্রতি সামাজিক বৈষম্য নিয়ে লিখেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘উদ্বৃত্ত’, ‘অন্যজন’, ‘নির্বাচিত কবিতা’, ‘অয়ন’, ‘ভালো মেয়ে খারাপ মেয়ে’ ইত্যাদি।
প্রশ্ন ২: ‘ঠিক কাদেরকে ভালো মেয়ে বলে আমি এখনও বুঝতে পারি না’ — কেন কবি ভালো মেয়ের সংজ্ঞা বুঝতে পারেন না?
কারণ সমাজের ‘ভালো মেয়ে’র সংজ্ঞা ভণ্ড ও অস্পষ্ট। একদিকে সারাদিন ঘরের কাজ করলেই ‘ভালো মেয়ে’, অন্যদিকে ভাই, বাবা, মা, মামারা অত্যাচার করলেও মেয়ে মুখ না খুললেই ‘ভালো’। এই পরস্পরবিরোধী সংজ্ঞা বুঝতে কবি পারেন না।
প্রশ্ন ৩: ‘এই বাংলায় যেসব মেয়ের দাদা লম্পট, সেইসব মেয়ের সহজে বিয়ে হয় না’ — লাইনটির তাৎপর্য কী?
এটি সমাজের এক অন্যায় ও অযৌক্তিক মানদণ্ড। দাদার চরিত্রের দাগ মেয়ের গায়ে পড়ে। দাদা লম্পট বলে মেয়েকে বিয়ে দিতে চায় না কেউ। অর্থাৎ নারী তার পূর্বপুরুষের অপরাধের শাস্তি ভোগ করে। এটি নারীর প্রতি সমাজের চরম বৈষম্যের উদাহরণ।
প্রশ্ন ৪: ‘ভাই থাপ্পর মারে, বাবা থাপ্পর মারে, মা ঘরে আটকে রাখে, মামা বাড়ির লোকেরা স্নেহের নামে যেখানে সেখানে হাত দিয়ে যায় অথচ মুখ খোলে না কখনও — সে মেয়েকেই আমরা ভালো বলি’ — লাইনটির ব্যঙ্গাত্মকতা কোথায়?
এটি কবিতার সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যঙ্গাত্মক লাইন। ভাই, বাবা, মা, মামারা যখন অত্যাচার করছে — থাপ্পর মারছে, ঘরে আটকে রাখছে, স্নেহের নামে যেখানে সেখানে হাত দিয়ে যাচ্ছে — অথচ মেয়েটি মুখ খোলে না, প্রতিবাদ করে না — সেই মেয়েকেই সমাজ ‘ভালো’ বলে। অর্থাৎ অত্যাচার সহ্য করাই ‘ভালো’ হওয়ার শর্ত। এটি চরম ব্যঙ্গ।
প্রশ্ন ৫: ‘মাতাল স্বামী পরিত্যাগ করে যারা একা থাকতে চায়, তাদের বাড়ীওয়ালা ঘর দিতে চায় না’ — লাইনটির তাৎপর্য কী?
নারী যদি মাতাল স্বামী ছেড়ে একা থাকতে চায়, তাহলে সমাজ তাকে স্বাধীন হতে দেয় না। বাড়িওয়ালাও তাকে ঘর দিতে চায় না। কারণ একা থাকা নারীকে সমাজ ‘সন্দেহের’ চোখে দেখে। এটি নারীর স্বাধীনতার পথে সমাজের বাধার প্রতীক।
প্রশ্ন ৬: ‘যে মেয়েটি বাসের মধ্যে ভদ্রলোকের গালে থাপ্পড় বসিয়ে দিলো, অফিসযাত্রীরা বললেন দিদি, পরের স্টপেজে নেমে একটা ট্যাক্সি ধরে নিন’ — লাইনটির তাৎপর্য কী?
এটি একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। বাসে কোনো ‘ভদ্রলোক’ (ব্যঙ্গাত্মক) অশালীন আচরণ করলে মেয়েটি তার গালে থাপ্পড় বসিয়ে দিল। অফিসযাত্রীরা তার পক্ষে দাঁড়ালেন — তাকে ‘দিদি’ সম্বোধন করে পরামর্শ দিলেন ট্যাক্সি ধরতে। এখানে সমাজের একাংশ নারীর প্রতিবাদের পক্ষে রয়েছে।
প্রশ্ন ৭: ‘যে মেয়ে চাঁদপাল ঘাটে একা দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত দেখে, তার দিকে আমরা ভুরু কুঁচকে তাকাই’ — লাইনটির তাৎপর্য কী?
যে মেয়ে স্বাধীনভাবে একা সূর্যাস্ত দেখতে যায়, তাকে সমাজ স্বাভাবিক চোখে দেখে না। ‘আমরা’ ভুরু কুঁচকে তাকাই — অর্থাৎ সন্দেহ, অস্বীকৃতি ও অস্বস্তি প্রকাশ করি। এটি নারীর স্বাধীন উপভোগের ওপর সমাজের নিষেধাজ্ঞার প্রতীক।
প্রশ্ন ৮: ‘মুখ বুজে যারা সব অত্যাচার সহ্য করে তাদেরকে ভালো মেয়ে বলে? মুখ বুজে যারা সব অত্যাচার সহ্য করে না, তাদেরকে খারাপ মেয়ে বলে?’ — শেষ প্রশ্নের তাৎপর্য কী?
এটি কবিতার চূড়ান্ত প্রশ্ন। কবি সরাসরি জিজ্ঞাসা করছেন — অত্যাচার সহ্য করলেই ‘ভালো মেয়ে’? আর সহ্য না করলেই ‘খারাপ মেয়ে’? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পাঠক বাধ্য হন। এই প্রশ্ন সমাজের গোটা ‘ভালো-খারাপ’ বিচার ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করে।
প্রশ্ন ৯: কবিতায় ‘ভালো মেয়ে’ বলতে আসলে কাদের বোঝানো হয়েছে?
কবিতায় ‘ভালো মেয়ে’ বলতে বোঝানো হয়েছে — যারা সারাদিন ঘরের কাজ করে, রাস্তায় ছেলেদের সঙ্গে ঘুরে বেড়ায় না, ভাই-বাবা-মা-মামাদের সব অত্যাচার মুখ বুজে সহ্য করে, প্রতিবাদ করে না, নিজের ইচ্ছেমতো জীবনযাপন করে না, স্বামী পরিত্যাগ করে একা থাকতে চায় না, বাসে অশালীন আচরণের প্রতিবাদ করে না, একা সূর্যাস্ত দেখতে যায় না। অর্থাৎ যারা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত ও পরাধীন।
প্রশ্ন ১০: কবিতার মূল শিক্ষা ও সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা কী?
কবিতাটি আমাদের শেখায় — সমাজের ‘ভালো মেয়ে’র সংজ্ঞা ভণ্ড ও অন্যায়; দাদার চরিত্রের দাগ মেয়ের গায়ে পড়ে না; সারাদিন ঘরের কাজ করলেই ‘ভালো’ হওয়া ভ্রান্ত ধারণা; ভাই, বাবা, মা, মামাদের অত্যাচার সহ্য করাই ‘ভালো’ নয়; অত্যাচার সহ্য না করা ‘খারাপ’ নয়; বাসে থাপ্পড় দেওয়া মেয়ে ‘খারাপ’ নয়, বরং সাহসী; চাঁদপাল ঘাটে একা সূর্যাস্ত দেখা মেয়ের দিকে ভুরু কুঁচকে তাকানো অন্যায়; আর সবচেয়ে বড় কথা — ‘মুখ বুজে অত্যাচার সহ্য করলেই ভালো মেয়ে, না করলেই খারাপ মেয়ে’ — এই মানদণ্ডের কঠোর প্রতিবাদ করা উচিত। এই কবিতাটি আজকের দিনে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক — নারীর স্বাধীনতা, নারীর প্রতি পারিবারিক ও সামাজিক অত্যাচার, ‘ভালো মেয়ে’র সামাজিক চাপ, মেটু আচরণের প্রত্যাশা, এবং নারীর প্রতিবাদের অধিকার — সবকিছুই চিরন্তন ও সময়োপযোগী বিষয়।
ট্যাগস: ভালো মেয়ে খারাপ মেয়ে, সুবোধ সরকার, সুবোধ সরকারের নারীবাদী কবিতা, ভালো মেয়ের সংজ্ঞার ব্যঙ্গ, নারীর প্রতি সামাজিক অত্যাচার, মুখ বুজে সহ্য করাই ভালো মেয়ে, আধুনিক বাংলা কবিতা
© Kobitarkhata.com – কবি: সুবোধ সরকার | কবিতার প্রথম লাইন: “ঠিক কাদেরকে ভালো মেয়ে বলে আমি এখনও বুঝতে পারি না” | সমাজের ‘ভালো মেয়ে’র সংজ্ঞার ব্যঙ্গ ও নারীর স্বাধীনতার অমর কবিতা বিশ্লেষণ | সুবোধ সরকারের নারীবাদী কাব্যধারার অসাধারণ নিদর্শন