admin

admin

বসন্ত-উৎসব – জয়দেব বসু।

বসন্ত-উৎসব - জয়দেব বসু।

(আয়ান ঘোষ শাক্ত ছিলেন জানা যায়। তাই যদি, অ-‘কারণ’ ছিলেন না আশা করি …) আমার চাকা চলছে চাঁদের দিকে সোজাআমার মাথা টলছে তমালতরুমূলে,কার বাজাবার কথা চন্দ্রাবলী,তাকে কোথাও দেখছি না এই কূলে? নানান-রঙা আবির দিয়ে গড়াএক পাশে ঐ গিরি-গোবর্ধন,ঝুলন আছে, পঞ্চপিদিম…

আমি কোনো আগন্তুক নই – আহসান হাবীব।

এখন - তারাপদ রায়

আসমানের তারা সাক্ষীসাক্ষী এই জমিনের ফুল,এই নিশিরাইত বাঁশবাগান বিস্তর জোনাকি সাক্ষীসাক্ষী এই জারুল জামরুল, সাক্ষী পুবের পুকুর,তার ঝাকড়া ডুমুরের ডালে স্থির দৃষ্টি মাছরাঙা আমাকে চেনেআমি কোনো অভ্যাগত নইখোদার কসম আমি ভিনদেশি পথিক নইআমি কোনো আগন্তুক নই।আমি কোনো আগন্তুক নই, আমিছিলাম…

কথা ছিলো সুবিনয় – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ।

প্রেমহীন মানুষের কাছে - আনিসুল হক

কথা ছিলো রক্ত-প্লাবনের পর মুক্ত হবে শস্যক্ষেত,রাখালেরা পুনর্বার বাঁশিতে আঙুল রেখেরাখালিয়া বাজাবে বিশদ।কথা ছিলো বৃক্ষের সমাজে কেউ কাঠের বিপনি খুলে বোসবে না,চিত্রর তরুন হরিনেরা সহসাই হয়ে উঠবে নারপ্তানিযোগ্য চামড়ার প্যাকেট। কথা ছিলো, শিশু হবে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম সম্পদের নাম।নদীর চুলের রেখা…

আর কখনো হয়নি দেখা,হবেও না – সাদাত হোসাইন।

কেউ থাকে কেউ থাকে না - সাদাত হোসাইন

সেই যে হঠাৎ নদীর ধারে নৌকো এলো,বাদামি রঙ পালের সাথে তুমুল হাওয়া,হাওয়ায় সওয়ার ঘোড়ার মতন ঝড়ও এলো।সেই ঝড়ে আর ঘর ভাঙেনি, কেবল বুকের পাড় ভেঙেছে।যার ভেঙেছে, জানলো কেবল একলা সে-ই, আর কেউ না।আকাশ ভেঙে বৃষ্টি এলো গভীর রাতে, দেখলো সবাই।কিন্তু…

দু-একটা সুবিধে – সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়।

ভালোবাসা বহুদিন আগে - সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়

শহরবাসের একটা সুবিধে এইযা যা সে কেড়ে নেয়তাদের অভাবে যে দুঃখ আসেতা সে ধুয়ে মুছে দিয়ে ভুলিয়ে দেয় এই এত গাছপালানয়ন ভোলানো কত রঙের সবুজএসব যে আমার কাছ থেকেকেড়ে নেওয়া হয়েছিলসে তো আমি কবেই না ভুলেছি এখন পার্বতী অরণ্যের মধ্যে…

জন্মান্তর – অবশেষ দাস।

সে - রাম বসু

তোমাকে ভালোবেসেছিলাম…একথা বলতে কী পারি ?তোমার দুহাত ধরে আজও পার হই – ঋতু,নদী,শোক আর গুচ্ছ ব্যর্থতাযেভাবে সাঁকোর ওপারে যায় অষ্টপ্রহরতোমাকে আগের মতো আজও ভালোবাসিবলবো না উচ্চস্বরে…সংসার জেনে যাবে, পাড়া-প্রতিবেশীতোমাকে ভালোবেসেছিলাম,বলবো না নিজেকেও আজবুকের দেওয়ালে থাকা ঘুমন্ত টিকটিকিবাতাসে চাউর করে দেবে!এ…

অনন্ত কুয়ার জলে চাঁদ পড়ে আছে – শক্তি চট্টোপাধ্যায়।

এই একটা রাত্তির- অরুণ মিত্র

দেয়ালির আলো মেখে নক্ষত্র গিয়েছে পুড়ে কাল সারারাতকাল সারারাত তার পাখা ঝ’রে পড়েছে বাতাসেচরের বালিতে তাকে চিকিচিকি মাছের মতন মনে হয়মনে হয় হৃদয়ের আলো পেলে সে উজ্জ্বল হ’তো।সারারাত ধ’রে তার পাখা-খসা শব্দ আসে কানেমনে হয় দূর হ’তে নক্ষত্রের তামাম উইলউলোট-পালোট…

পরমা – মল্লিকা সেনগুপ্ত।

মেয়েটা - নবনীতা দেবসেন।

সারাজীবন একটি কথা বলতে চেয়েছিলামবলা হয়নি, ভয় পেয়েছি, যদি বা বদনাম নিজেই বলব, সেটা কেমন খেলো লাগবে ভেবেঅপেক্ষায় ছিলাম কবে তুমিই ডেকে নেবে রতির ডাকে শীত বিছানা ঝড় তুলবে বলেরাতের পর রাত জেগেছি উষ্ণ কম্বলে তবু তোমার ঘুম ভাঙেনি ঘুমকাতুরে…

কষ্ট হয় – মহাদেব সাহা।

জীবন যখনই পা'টা নামিয়েছে - শ্রীজাত

তুমি বোঝো না, আমার কষ্ট হয়, আজ তোমার ক্লাসকাল পরীক্ষা, পরশু গানের স্কুলএই যে সারাদিন আজ বৃষ্টি, তোমাদের রেনিডে হয় না,তোমার গানের মাস্টারের সর্দিজ্বর হয় না কখনো,কী আশ্চর্য, একদিনও পরীক্ষা বাতিল হয় না তোমাদের?সবকিছুর জন্য সময় হয়, শুধু আমার জন্য…

সাড়া – মন্দাক্রান্তা সেন।

পুরুষ - মন্দাক্রান্তা সেন।

যে গান গাইছি খাতার পাতাতে পাতাতেতুমি কি শুনতে তুমি কি পড়তে পাচ্ছ?এসেছিলে তুমি তাই বন্ধুতা পাতাতেআমাকে উদাস দেখে ফিরে চলে যাচ্ছ? যেও না বন্ধু, আমি তো তেমন পটু নইব্যর্থ হয়েছি সুরে সুরে ডাক পাঠাতেস্বভাব-উদাস, অথচ আমি তো কটু নইপ্রেমের গানই…