admin

admin

অমর একুশে – হাসান হাফিজুর রহমান।

বাংলা ভাষা উচ্চারিত হ’লে - শামসুর রাহমান

আম্মা তাঁর নামটি ধরে একবারও ডাকবে না তবে আর?র্ঘূূণি ঝড়ের মতো সেই নাম উম্মথিত মনের প্রান্তরেঘুরে ঘুরে জাগবে, ডাকবে,দুটি ঠোঁটের ভেতর থেকে মুক্তোর মতো গড়িয়ে এসেএকবারও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে না, সারাটি জীবনেও না? তবে হার? কি করে এই গুরুভার সইবে…

তার চেয়ে – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী।

যখন তোমার সন্তানের মা আমি - দিলারা হাফিজ

সকলকে জ্বালিয়ে কোনো লাভ নেই।তার চেয়ে বরংআজন্ম যেমন জ্বলছ ধিকিধিকি, একা,দিনরাত্রি,তেমনি করে জ্বলতে থাকো,জ্বলতে-জ্বলতে ক্ষয়ে যেতে থাকো,দিনরাত্রি,অর্থাৎ মুখেরকশ বেয়ে যতদিন রক্ত না গড়ায়। একদিন মুখের কশ বেয়েরক্ত ঠিক গড়িয়ে পড়বে।ততদিন তুমি কী করবে?পালিয়ে-পালিয়ে ফিরবে নাকি? পালিয়ে-পালিয়ে কোনো লাভ নেই।তার চেয়ে…

বসন্তের একটি বাংলা উদ্ধৃতি – মহাদেব সাহা।

সেসব কিছুই আর মনে নেই - মহাদেব সাহা

চুনা-ওঠা দেয়ালের মতো প্রকৃতির এই খসখসে গালেআর কী রং মাখাবে চৈত্র,তোমার পকেটে ভাঁজ-করা শতবর্ষের শীতকাল,মাতাল হাওয়ায় যতই এই বার্ধক্য ঢেকে দিতে চাওতার মুখমণ্ডলে জমে আছেউত্তর গোলার্ধের অনন্ত বরফতার শরীর ২৫ ডিগ্রি মাইনাস শীত রাত্রে; কেনা জ্যেত্স্না, গোলাপ আর সৌরভের জন্যহাহাকার…

যখন নেই তখন থাকো – তসলিমা নাসরিন।

মেয়েটা - নবনীতা দেবসেন।

যখন আমার সঙ্গে নেই তুমি,আমার সঙ্গে তুমি তখন সবচেয়ে বেশি থাকো।আমি হাঁটি, পাশাপাশি মনে হয় তুমিও হাঁটছো,তোমাকে সঙ্গে নিয়ে বাজারে যাই,যা যা খেতে পছন্দ করো, কিনি, তুমি নেই জেনেও কিনি। রাঁধি যখন, দরজায় যেন হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছো,মনে মনে কথা…

বর্ণমালা আমার দুঃখিনী বর্ণমালা – শামসুর রাহমান।

স্বাধীনতা একটি বিদ্রোহী কবিতার মতো - শামসুর রাহমান

নক্ষত্রপুজ্ঞের মতো জ্বলজ্বলে পতাকা উড়িয়ে আছো আমার সত্তায়।মমতা নামের প্লুত প্রদেশের শ্যামলিমা তোমাকে নিবিড়ঘিরে রয় সর্বদাই। কালো রাত পোহানোর পরের প্রহরেশিউলি শৈশবে ‘পাখি সব করে রব’ ব’লে মদনমোহনতর্কালঙ্কার কী ধীরোদাত্ত স্বরে প্রত্যহ দিতেন ডাক। তুমি আর আমি,অবিচ্ছিন্ন, পরস্পর মমতায় লীনঘুরেছি…

আমার নাম মাতৃভাষা – সুবোধ সরকার।

উনুন - সুবোধ সরকার।

আমি ঝড় থেকে ঝড় হয়ে বেরিয়ে এসেছিআমি বৃষ্টিকে ভয় পাই না। আমি কী খাব?সেটা আপনি ঠিক করে দিতে পারেন না। আমি কী পড়ব?সেটা আপনি ঠিক করে দিতে পারেন না। আমি কোন ভাষা বলব?সেটা সুপ্রিম কোর্টও ঠিক করে দিতে পারে না।…

দক্ষিণা – জয় গোস্বামী।

কবিতা সংবাদ - রুদ্র গোস্বামী

তাঁর জন্য তোলা আছে একশত একখানি কবিতা।এ তাঁর দক্ষিণা। কিন্তু আমি এ-মুহূর্তে দিতে পারছি না।দেব একদিন।জানি তিনি নেবেন না কখনও।আমি তাঁকে গিয়ে বলব: শোনো,আমার ভিতর থেকে ভয় ক্রোধ ঘৃণাতোমার ক্ষমার হাতে তুলে নিয়ে এক ভোরে ছড়িয়ে দিতেইদেখলাম শিউলি ফুলে ভরেছে…

বাসনা – জয়দেব বসু।

যদি ফেরাও - দাউদ হায়দার

খাওয়া হয়নি শালিধানের চিঁড়েখাওয়া হয়নি সোনামুগের ডাল,দেখা হয়নি পুণ্যিপুকুর ব্রতস্বপ্নে আমার বউ আসেনি কাল ও জ্বর, তুমি এসোনা এক্ষুণি- ছোঁয়া হয়নি বাদার মুথা ঘাসভ্রমরকালো সোনাই দীঘির জল,ঘোরা হয়নি বনবিবির থানমাজার জুড়ে চেরাগ ঝলোমলও জ্বর, তুমি এসোনা এক্ষুণি- আজো তোমায় দেখা…

তোমার সন্তান আমি দিয়ে যাবো – শক্তি চট্টোপাধ্যায়।

যেতে পারি কিন্তু কেন যাবো? - শক্তি চট্টোপাধ্যায়

তোমার বুকের পাশে শুয়ে থাকবে বিপুল আক্রোশেস্তনদুটি শঙ্খনাদ করে উঠবে ঘুমন্ত কামড়ালে,নাভীগর্ভে আঙুলের রক্ত ও প্রপাত পড়বে ঝরে —এ-বয়েসে সব কাজ করতে পারি প্রেমে ও সম্মোহে। বিদায় নেয়ার আগে বলে যেও অধরে চুম্বনবারবার ভিক্ষা করি, আমাকে জাগাও নিরুপমা—আমাকে জাগাও আর…

এখন আমার ভীষণ খরা – শিমুল মুস্তাফা।

এখন - তারাপদ রায়

এখন আমার ভীষণ খরাহাতের মুঠোয় লক্ষ তারাএকটি তারাও যায়না ধরাকেউ বলে না, কেউ টলে নাকেমন আছ? কোথায় আছ?কোন পাতাতে ফুল গুঁজেছকেউ বলে না, কেউ বলে না। কোন বারুদে অগ্নি বেশি,কোন ফাগুনে ফুলকোন কথাটা শুদ্ধ বেশি,কোন কথাটা ভুলকেউ বলে না, কেউ…