admin

admin

বর্ণমালা আমার দুঃখিনী বর্ণমালা – শামসুর রাহমান।

উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ – শামসুর রাহমান

নক্ষত্রপুজ্ঞের মতো জ্বলজ্বলে পতাকা উড়িয়ে আছো আমার সত্তায়।মমতা নামের প্লুত প্রদেশের শ্যামলিমা তোমাকে নিবিড়ঘিরে রয় সর্বদাই। কালো রাত পোহানোর পরের প্রহরেশিউলি শৈশবে ‘পাখি সব করে রব’ ব’লে মদনমোহনতর্কালঙ্কার কী ধীরোদাত্ত স্বরে প্রত্যহ দিতেন ডাক। তুমি আর আমি,অবিচ্ছিন্ন, পরস্পর মমতায় লীনঘুরেছি…

আমার নাম মাতৃভাষা – সুবোধ সরকার।

উনুন - সুবোধ সরকার।

আমি ঝড় থেকে ঝড় হয়ে বেরিয়ে এসেছিআমি বৃষ্টিকে ভয় পাই না। আমি কী খাব?সেটা আপনি ঠিক করে দিতে পারেন না। আমি কী পড়ব?সেটা আপনি ঠিক করে দিতে পারেন না। আমি কোন ভাষা বলব?সেটা সুপ্রিম কোর্টও ঠিক করে দিতে পারে না।…

দক্ষিণা – জয় গোস্বামী।

তুমির মধ‍্যে তুই - আরণ‍্যক বসু।

তাঁর জন্য তোলা আছে একশত একখানি কবিতা।এ তাঁর দক্ষিণা। কিন্তু আমি এ-মুহূর্তে দিতে পারছি না।দেব একদিন।জানি তিনি নেবেন না কখনও।আমি তাঁকে গিয়ে বলব: শোনো,আমার ভিতর থেকে ভয় ক্রোধ ঘৃণাতোমার ক্ষমার হাতে তুলে নিয়ে এক ভোরে ছড়িয়ে দিতেইদেখলাম শিউলি ফুলে ভরেছে…

বাসনা – জয়দেব বসু।

ক্রোধ যা অগ্নির মতো - বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

খাওয়া হয়নি শালিধানের চিঁড়েখাওয়া হয়নি সোনামুগের ডাল,দেখা হয়নি পুণ্যিপুকুর ব্রতস্বপ্নে আমার বউ আসেনি কাল ও জ্বর, তুমি এসোনা এক্ষুণি- ছোঁয়া হয়নি বাদার মুথা ঘাসভ্রমরকালো সোনাই দীঘির জল,ঘোরা হয়নি বনবিবির থানমাজার জুড়ে চেরাগ ঝলোমলও জ্বর, তুমি এসোনা এক্ষুণি- আজো তোমায় দেখা…

তোমার সন্তান আমি দিয়ে যাবো – শক্তি চট্টোপাধ্যায়।

তোমার সন্তান আমি দিয়ে যাবো - শক্তি চট্টোপাধ্যায়।

তোমার বুকের পাশে শুয়ে থাকবে বিপুল আক্রোশেস্তনদুটি শঙ্খনাদ করে উঠবে ঘুমন্ত কামড়ালে,নাভীগর্ভে আঙুলের রক্ত ও প্রপাত পড়বে ঝরে —এ-বয়েসে সব কাজ করতে পারি প্রেমে ও সম্মোহে। বিদায় নেয়ার আগে বলে যেও অধরে চুম্বনবারবার ভিক্ষা করি, আমাকে জাগাও নিরুপমা—আমাকে জাগাও আর…

এখন আমার ভীষণ খরা – শিমুল মুস্তাফা।

আমি আর আসবো না বলে —আল মাহমুদ।

এখন আমার ভীষণ খরাহাতের মুঠোয় লক্ষ তারাএকটি তারাও যায়না ধরাকেউ বলে না, কেউ টলে নাকেমন আছ? কোথায় আছ?কোন পাতাতে ফুল গুঁজেছকেউ বলে না, কেউ বলে না। কোন বারুদে অগ্নি বেশি,কোন ফাগুনে ফুলকোন কথাটা শুদ্ধ বেশি,কোন কথাটা ভুলকেউ বলে না, কেউ…

একটি অরাজনৈতিক কবিতা – তারাপদ রায়।

একটি অরাজনৈতিক কবিতা - তারাপদ রায়।

দেখুন, একটা কথা বলি,আমাকে আর অনুরোধ করবেন না।আপনারা যে যাই বলুন, যে যতই বলুন,বনমালীবাবুর কাছে আমি যেতে পারবো না, বনমালীবাবু ভদ্রলোকটি বড় বুদ্ধিমানআমি আবার আমার চেয়ে বেশি বুদ্ধিমানদেরযথাসাধ্য এড়িয়ে চলি।বনমালীবাবুর শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বসার ঘরেনরম সোফায় গা এলিয়েসুদৃশ্য পেয়ালায় দার্জিলিং চা—সেই…

ভুল বসন্তের কবিতা – শ্রীজাত।

ভালোবাসার সংজ্ঞা – রফিক আজাদ।

তিনটে চারটে ভুল বসন্তহাওয়ার ঝাপটা… পুরুষ মন তো,আঁচল থেকে জমির দিকে উড়ান দিচ্ছে মন জানানোর ব্যর্থ ছন্দ,মাথার মধ্যে ঠোঁটের গন্ধ।চুমুর চেয়েও রোমাঞ্চকর চুমুর ইচ্ছে। শান্তশিষ্ট কলেজকন্যা,দেখতে শুনতে শ্যারন স্টোন না।কিন্তু সে রোজ রোদের কাছে তালিম নিচ্ছে। রং ছড়াচ্ছে কমনরুমটিবুকের ভেতর…

যুগলসন্ধি – আবুল হাসান।

দুর্গা টুনটুনির সংসার - আরণ্যক বসু।

দেখা হলো যদি আমাদের দুর্দিনেআমি চুম্বনে চাইব না অমরতা!আমাদের প্রেম হোক বিষে জর্জরসর্পচূড়ায় আমরা তো বাঁধি বাসা। থাকুক দু’চোখে দুর্ভিক্ষের দাহ,ঝরুক আবার আন্ধার আধিব্যাধিআমাদের প্রেম না পেল কবির ভাষাকাব্যচূড়ায় আমরা তো বাঁধি বাসা। আমি খুঁড়ব না দু’চোখে দীর্ঘ জল,ভাঙা যৌবন…

নদীটি ভালো নেই – রুমানা শাওন।

নদীটি ভালো নেই

আজকাল কেউ আর জিজ্ঞেস করে নাআমি কেমন আছি?চোখের দিকে তাকিয়ে কেউ বলে নাএতো মেঘ কেন তোমার চোখে? ঘাড়ের পাশে পড়ন্ত নিশ্বাসওনিজেকে নিয়ে ব্যস্তআমার সময়টা শুধু প্রয়েজনের। চার পাশের মানুষ ভিষণ ভিষণ ভাবেআগ্রহ দেখায় নিরাগ্রহ নিয়েবুঝেও চুপ করে থাকি কারণ আমি…