বেহুলা – সুবোধ সরকার।

নামটা আমি রেখেছিলাম।
তিরিশ বছর আগে আমাকে সবাই বলেছিল
এ নাম রেখো না। মেয়ে কষ্ট পাবে।
আমি বলেছিলাম বেহুলার ঘুঙুর হল
নারীর ক্ষমতায়ন।

বেহুলা সতেরো বছর বয়েসে প্রেমে পড়ল
আমি সমর্থন করেছি।
বেহুলা সোনাগাছির গরিব
মেয়েদের নিয়ে মিছিল করল
আমি সমর্থন করেছি।
বেহুলা বাড়ির অমতে বিয়ে করল
আমি সমর্থন করেছি।
কোনও সাপ তাকে কামড়ায়নি।

কামড়ালো সেদিন যেদিন শাশুড়িকে টেনে চড় কষাল
আমি সমর্থন করেছি।
সোনাগাছির বাইরেও সোনাগাছি আছে কলকাতায়
সে রকম একটা ফাইভ স্টার থেকে
নিজের বরকে ধরে শাশুড়ির সামনে নিয়ে এল।
সিগারেট ধরিয়ে সারা ঘরে ধোঁয়া ছেড়ে
হাতে ডিভোর্স ফাইল নিয়ে বেরিয়ে এল যেদিন
আমি সমর্থন করেছি।

আমি সমর্থন করি বা না করি তাতে কিছু
যায় আসে না একটি মেয়ের।
সৎ এবং বেপরোয়া
একটি মেয়েকে দেখলেই মনে হয়
তার নাম বেহুলা।

এরপর বেহুলা পিএইচডি করে আমেরিকা ঘুরে এল।
না ,ভেলায় চড়ে সে আমেরিকা যায়নি।
রাষ্ট্রপুঞ্জে যেদিন বাঙালি মেয়ের বিশ্বায়ন নিয়ে
চোস্ত ইংরেজিতে পেপার পড়ছিল,
আনন্দে আমার চোখ ভরে গেল জ্যোৎস্নায়।

কিন্তু হলে হবে কী ,তার এক্স-শাশুড়ি-মা বললেন
সব জানি কার সঙ্গে শুয়ে আমেরিকা গেছে।
আমি সমস্ত শাশুড়িকে বললাম
যদি এভাবে যাওয়া যায়,তাহলে আপনার নিজের মেয়েকে কেন রাষ্ট্রপুঞ্জে পাঠাচ্ছেন না, মা ?

বেহুলা আমার বুকে মাথা রেখে কাঁদছিল।
আমি বললাম, ওঠ,আমার বুক চোখের জল নয়
সৎ এবং বেপরোয়া মেয়েদের জন্যই
আমরা মা-বাবারা
পৃথিবীতে রডোডেনড্রন হয়ে বেঁচে আছি।

আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। সুবোধ সরকার।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest

0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x