পুরুষ তুমি ভালোবাসতে শিখে নাও – রবিশঙ্কর মৈত্রী।

হে পুরুষ, তুমি অপেক্ষা করো
সময় গুনতে থাকো
কখন আমি বিষন্ন হব
কখন আমি বৃষ্টি হব
কখন আমি শয্যা হব।

আমিও ঝড়, আমিও জলস্রোত
আমিও আগুন, আমিও ভূমিকম্প
আমিও তোমাকে আহ্বান করি
যুদ্ধে পরাজিত হয়ে
তুমিও ফিরে যেতে পারো ভাবতে পারিনি।

পুরুষ, তুমি যন্ত্রণাবিদ্ধ করো নারীকে
প্রবিষ্ট হবার শিক্ষা তুমি পাওনি
দস্যু হবার আগে
পোষ্যভৃত্য হবার আগে
বাতাস ও ঝড়ের তারতম্য বুঝে নাও
কাম বাসনার বাল্যক্রীড়ার আগে
ভালোবাসার পাঠ গ্রহণ করো।

পুরুষ তুমি শুনিয়েছিলে
‘আজি ঝড়ের রাতে তোমার অভিসার’
পরানসখার জন্যে আমিও প্রস্তুত হয়েছিলাম।
তুমি ভূমধ্যসাগর থেকে সগর্জনে ধেয়ে এসে
আছড়ে পড়েই ক্লান্ত বিপন্ন বিগলিত হয়ে গেলে।
পুরুষ, আমি রতিভাবে রত ছিলাম
তুমি এসে বাজিয়ে দিলে ধ্যানের সংগীত।

আমি তো উদাস আকাশ বিষাদ বাতাস নই
আমি তো দরজা বন্ধ জানলা বন্ধ
বিষন্ন ঘর নই
আমি দুঃখপ্রিয় প্রেমবিলাসী নই।
আমি চঞ্চল জলে উষ্ণ ঢেউ
আমি ছলছল-জল নীরব অশ্রু নই।
আমি আকাঙক্ষাগোপন লজ্জাপ্রিয়া নই
আমি স্পর্শে জেগে উঠি
আমি তুমুল চুম্বনে নতুন প্রাণে নেচে উঠি।
আমি নারী, প্রেমের হৃদয় প্রতিষ্ঠা করি
আমার প্রতিটি রোমকূপে স্পন্দন খুঁজে ফিরি
আমি নারী, নিরাকারে আমার বিচার নেই
জড় ও জড়ত্বে আমার ভালোবাসা নেই।

হে পুরুষ, হে ক্লান্ত নাবিক
জাগো পুনর্বার
জাগাও তোমার প্রেমের আত্মা
আকারে প্রাণ আনো
আমি ঝড়কে জাগিয়ে শোনাব গান
আমার অভিসার।

পুরুষ, তোমার শরীরে
বহু বন্ধুর পথ, গন্ধঘাম;
আমারও অঙ্গে অঙ্গে জড়িয়ে আছে
কত প্রতীক্ষার বিরহ বিষণ্ণ রাত।

আমি অপেক্ষার গল্প শোনাতে চাইনি
তুমিও বোলো না তোমার দীর্ঘ পথের গল্প।
নদীর উপরে মেঘ দাঁড়ালে বৃষ্টি নামবেই
ভালোবাসা মিলিত হলে ঝড় উঠবেই।

বাক্য রচনার সময় এখন নয়;
এসো আমরা ভালোবাসি
তুমুল চুম্বনে অপেক্ষার যন্ত্রণা
অতিক্রান্ত পথের শ্রান্তি ভুলে যাই।

স্পর্শ করলেই যে কথা বলা হয়ে যায়
সে কথায় বর্ণ বসানো মানেই ভাষার অপচয়।
এসো আমরা অপচয়হীন
ভালোবাসা রচনা করি।

আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। রবিশঙ্কর মৈত্রী।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest

0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x