admin

admin

বোধ – জীবনানন্দ দাশ।

সন্ধ্যা হয়ে আসে- জীবনানন্দ দাশ।

আলো –অন্ধকারে যাই— মাথার ভিতরেস্বপ্ন নয়, কোন এক বোধ কাজ করে!স্বপ্ন নয়— শান্তি নয়—ভালোবাসা নয়,হৃদয়ের মাঝে এক বোধ জন্ম লয়!আমি তারে পারি না এড়াতে,সে আমার হাত রাখে হাতে;সব কাজ তুচ্ছ হয়, পণ্ড মনে হয়,সব চিন্তা— প্রার্থনার সকল সময়শূন্য মনে হয়,শূন্য…

আয়না – শ্রীজাত।

নিজের আয়না- শঙ্খ ঘোষ।

এ কেমন ঘুম, তুমিও যেখানে নেই?স্বপ্নের চেয়ে নির্জন হল পাড়া…কেউ না থাকলে স্বকীয়তা ভাঙবেই।আয়নার কোনও দাম নেই, মুখ ছাড়া। মানুষ চলেছে হাজার বছর পার-তারা কেউ তবু জীবনানন্দ নয়সিংহল নেই, নাটোরও অন্ধকার…পথে নামে যারা, ঘর কি তাদের হয়? এ কেমন পথ,…

খেয়েছো? – সুবোধ সরকার।

উনুন - সুবোধ সরকার।

খেয়েছ?কী মধুর ছোট একটা শব্দকিন্তু জ্যোৎস্নার মতো গাঢ়জ্ঞানচর্চার মতো প্রাণ। খেয়েছো?আমাকে জিজ্ঞেস করত আমার বুড়ো মাভাত বেড়ে দিতে দিতে নিজেই ভাতের হাঁড়ি হয়েদরজায় বসে থাকত মা। খেয়েছ?জিজ্ঞেস করত একটা পরের বাড়ির কালো মেয়েপরের বাড়ির মেয়ে নিজের বাড়ির হয়ে উঠলেআসল জ্যোৎস্না…

চিঠিপত্র – তারাপদ রায়।

চিঠি: হাল ছেড়ো না বন্ধু - রুমানা শাওন।

সুখ নেই, দুঃখও করি না।মধ্যে মধ্যে চিঠি দিওযে কোন পরগণায় থাকো, যাকে ইচ্ছে খাজনা টাজনা দাওশুধু মনে করে প্রীতি, কুশল জানিয়ো। পারো যদি আমের মুকুল কি রকম এ বছর,কাঁঠালের মুচি এলো কিনা, আর শ্বেতকরবীরবাচ্চা তিনটে কি রকম চঞ্চল হয়েছেঅনুগ্রহ করে…

পিঠে’লজি – ভবানীপ্রসাদ মজুমদার।

মহান নেতৃবৃন্দ - বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

পিঠে নিয়ে রিসার্চ করেপতিতপাবন শেঠ,এ বছরে’ই পাটনা থেকেপেলেন ‘ডক্টরেট’! আস্কে পিঠেয় ফোস্কা কেন,দেহে ক’শো গর্ত,কোথায় পিঠের জন্মভুমি…স্বর্গ নাকি মর্ত্য? পাটিসাপটা নাম’টাকে কেকরলো আবিষ্কার,ক’ভাঁজ দিলে ডাইনে বাঁয়েউঠবে পরিষ্কার? পুলিপিঠে’র দুই ধারেতেদু’টোই কেন লেজ?কোন সে পিঠে দারুণ মিঠে,খেলেই বাড়ে তেজ? কোন পিঠেটা…

বন্ধুর জন্য বিজ্ঞাপন – মহাদেব সাহা।

প্রতিদান - পল্লীকবি জসীমউদ্দীন

আমি একটি বন্ধু খুঁজছিলাম যে আমারপিতৃশোক ভাগ করে নেবে, নেবেআমার ফুসফুস থেকে দূষিত বাতাস; বেড়ে গেলে শহরময় শীতের প্রকোপতার মুখ মনে হবে সবুজ চায়ের প্যাকেট, এখানেওখানে দেখা দিলে সংক্রামক রোগ,ক্ষয়কাশ উইয়ে-খাওয়া কারেন্সি নোটের মতো আমার ফুসফুসটিকেতীক্ষ্ণ দাঁতে ছিদ্র করে দিলে,…

ঐতিহাসিক – বীথি চট্টোপাধ্যায়।

অভিশাপ - বীথি চট্টোপাধ্যায়

জীবনভর কিছু উস্কানিতাতেই জ্বলে ওঠে তোমার দেশযেখানে বাস করো তারা তোমায়দেখিয়ে দিতে পারে শেষের শেষ। শেষের শেষ থেকে আরম্ভনিজের হাতে নেই নিজের প্রাণ…একটা কড়া গলা বলে দেবেএইটা ভারত; ওটা পাকিস্তান। এইটা আমাদের ওটা তোদেরতোদের-আমাদের কত ফারাকনদীর জল থেকে রুখা জমিগাছের…

ওরাই তাহলে পৃথিবী শাসন করুক – তসলিমা নাসরিন।

ওরাই তাহলে পৃথিবী শাসন করুক

ওদেরই তাহলে স্বাধীনতা দেওয়া হোক,ওদের জন্যই খুলে দেওয়া হোক অতপর অস্ত্রাগার।তলোয়ারগুলো তুলে নিক, কোমরে গুঁজে নিক পিস্তল,হাতে হাত-বোমা, দারুল ইসলামএর মন্ত্র মাথায় নিয়ে ওরানা হয় বেরিয়ে পড়ুক, যেদিকে যত মুরতাদ পাক মুণ্ডু কেটে নিক।মেয়েদের মারুক,মেরে ফেলুক।নতমস্তক নারীদের গায়ে বোরখা চাপিয়ে…

অন্তর্গত শ্রদ্ধাঞ্জলি – রুমানা শাওন।

একুশ আগুন রঙের পাখি- রুদ্র গোস্বামী

আর মঞ্চে চড়াবো না মালাতোমাদের নামে জমাবো না কৃত্রিম লাল ফুলের স্তূপ—তোমাদের ঠিকানা এখন এই হৃদয়ের সেই গুহামুখযেখানে নীরব ধ্বনি কাঁপে রাতের শিরায়-উপশিরায়,যেখানে প্রতিটি দেশপ্রেমিকের স্পন্দনেতোমাদের রক্ত জমাট বেঁধে আছে অদৃশ্য ভালোবাসায়। ফাটল ধরা এই মাটির দেশেশোকও যেন আজ বাণিজ্যের…

একুশ ডাকছে মাকে – আরণ্যক বসু।

বাংলা ভাষা উচ্চারিত হ’লে - শামসুর রাহমান

একটা কুঁড়ি ফুটতে ফুটতে অবাক চোখে তাকিয়েসজনে ফুলের চাদর বিছিয়ে এক টুকরো ঘাসেএক দঙ্গল কচিকাঁচা চোখের জলে গাইছে-আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো-ভরা ফাল্গুন মাসে। সজনে ফুলের হালকা সুবাস বন-পলাশকে ডাকে কৃষ্ণচূড়া মিলেমিশে যায় প্রভাত ফেরীর দলেসেই কচিদের, সেই কাঁচাদের বাংলা ভাষার…