admin

admin

হাত দেখার কবিতা – নবারুণ ভট্টাচার্য।

ইতরের দেশে - নবারুণ ভট্টাচার্য

আমি শুধুই কবিতা লিখিএটা মোটেই কাজের কথা নয়কথাটা শুনলে অনেকেরই হাসি পাবেআমি কিন্তু হাত দেখতেও জানিআমি বাতাসের হাত দেখেছিবাতাস একদিন ঝড় হয়ে সবচেয়ে উঁচু বাড়িগুলোকে ফেলে দেবেআমি বাচ্চা ভিখিরিদের হাত দেখেছিওদের আগামী দিনে কষ্ট যদিও বা কমে ঠিক করে কিছুই…

এমন একটা দিন – জয়দেব বসু।

উদয়ের পথে - জয়দেব বসু

এমন একটা দিন এলনা,একা কাটাতে পারো!সবাই ভাবে একাই কাটাও,ভাবেনা একবারওএকা বলতে কেমন বোঝায়, কাকে যে বলে একা,একটা ফোন….একটা চিঠি.. একটা ছবি দেখাভাঙ্গতে পারে একটি পলে একা থাকার দিনতখন থেকে আর তুমি নও একাকী,স্বাধীন! এবার মাথায় আসবে খবর,আসবে তথ্য আরএবার মাথায়…

পান্থশালা – অবশেষ দাস।

কাঁটা -সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

যে তোমার নয়, সে তো যাবেই চলেযে কদিন ছিলআসলে সে ছিল না কখনওতার যাওয়ার পথে তুমি পান্থশালা… তোমারই যাওয়ার পথেগানের ওপার হয়ে হাঁটু মুড়ে থাকেসুনিবিড় ছায়া হয়ে ছড়িয়ে সে থাকেচোখের জলের মতো অসহায় তোমাকেই ঘিরে ঘিরে থাকেযে তোমার কোনোদিন সত্যিই…

শেষ ইচ্ছে – নবারুণ ভট্টাচার্য।

ইতরের দেশে - নবারুণ ভট্টাচার্য

আমি মরে গেলেআমি শব্দ দিয়ে যে বাড়িটি তৈরি করেছিসেটা কান্নায় ভেঙে পড়বেতাতে অবাক হবার কিছু নেইবাড়ির আয়না আমাকে মুছে ফেলবেদেওয়ালে আমার ছবি রাখবে নাদেওয়াল আমার ভালো লাগত নাতখন আকাশ আমার দেওয়ালতাতে চিমনির ধোঁয়া দিয়ে পাখিরাআমার নাম লিখবেঅথবা আকাশ তখন আমার…

প্রেমিকের গান ২ – বুদ্ধদেব বসু।

এবার শ্রাবণে – শ্রীজাত

কাছে যাওয়া বড্ড বেশি হবে,এই এখানেই দাঁড়িয়ে থাকা ভালো ;তোমার ঘরে থমকে আছে দুপুর,বারান্দাতে বিকেল প’ড়ে এলো।মধ্যিখানে পরদা নাড়ে হাওয়াঅলির মতো ফুলের অবসরে,গন্ধভরা তনুর মাদকতাসম্ভাবনার প্রান্তে খেলা করে ।কিন্তু আমি চোখ ফিরিয়ে দেখি,ক্যালেন্ডারে বছর উড়ু-উড়ু,তুচ্ছ দুটো শালিখ নেচে বেড়ায় —এবং…

অনেক বছর পরে – পূর্ণেন্দু পত্রী।

প্রেমহীন মানুষের কাছে - আনিসুল হক

অনেক বছর পরে তোর কাছে এসেছি, মল্লিকা!বহুদিন আপিসের কাজে-কন্মে ডুবুরির মতোবহুদিন মেশিনের যন্ত্রপাতি হয়েবহুদিন বাবুদের গাড়ির টায়ার হয়ে সুদুরে ছিলাম। তোর পাশে চাঁপা ছিল, টগর, ঝুমকো-জবা ছিল।তারা কই ? মারা গেছে ? সে কি ? কবে ? সাতাত্তর সালে ?এত…

আকাশলীনা – জীবনানন্দ দাশ।

চন্দ্রাভিলাষী নারী - মাকিদ হায়দার

সুরঞ্জনা, ওইখানে যেও নাকো তুমি,বোলো নাকো কথা ওই যুবকের সাথে;ফিরে এসো সুরঞ্জনা :নক্ষত্রের রুপালি আগুন ভরা রাতে; ফিরে এসো এই মাঠে, ঢেউয়ে;ফিরে এসো হৃদয়ে আমার;দূর থেকে দূরে– আরো দূরেযুবকের সাথে তুমি যেও নাকো আর। কী কথা তাহার সাথে? তার সাথে!আকাশের…

সন্তান – বিভাস রায়চৌধুরী।

চার মাত্রার একটি শব্দ — মহাদেব সাহা

ভয় আর দীর্ঘশ্বাস থাকে…তবু কোনো ভয় নেই,এই যে পথ দেখতে পাচ্ছ, একটু বেঁকে চলে যাবে দূরে…যত কাছে যাই, তত সরে-যাওয়া পথের নিয়ম,সরে গিয়ে মৃত্যু পাওয়া একদম নিজের মতো করে! তবু কোনো ভয় নেই, আমাদের মুগ্ধ চোখে-চোখেসে যে দিয়ে গেছে ধুলো…তার…

বেদনা বোনের মত – হেলাল হাফিজ।

আত্মজর ছেঁড়াপাতা - আরণ্যক বসু

একদিন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দেখলামশুধু আমাকেই দেখা যায়,আলোর প্রতিফলন প্রতিসরণের নিয়মনা জানা আমিসেই থেকে আর কোনদিন আয়না দেখি না।জননীর জৈবসারে বর্ধিত বৃক্ষের নিচেকাঁদতাম যখন দাঁড়িয়েসজল শৈশবে, বড়ো সাধ হতোআমিও কবর হয়ে যাই,বহুদিন হলো আমি সেরকম কবর দেখি নাকবরে স্পর্ধিত সেই…

পৃথিবীর মা – মল্লিকা সেনগুপ্ত।

যখন তোমার সন্তানের মা আমি - দিলারা হাফিজ

আলুলায়িত আমার চুলেসারা আকাশ মেঘলা হয়ে উঠলআমার গায়ের সবুজ ডুরে ধনেখালির শাড়িহয়ে উঠল অরণ্যের লতাগুল্মআমার কণ্ঠ থেকে সুর চুরি করেসপ্তম সুরে গেয়ে উঠল কোকিলআমার মুখের হিজিবিজি বুলিহয়ে উঠল জনগোষ্ঠীর মাতৃভাষাআমার গায়ের ক্লান্তি ঘাম যৌনতার ঘ্রাণেতৈরি হল মাটি পৃথিবীর সোঁদা গন্ধআমার…