কবিতার খাতা

প্রেম ভালোবাসার দু-এক টুকরো – ভাস্কর চক্রবর্তী।
১টিপটিপ বৃষ্টি পড়ছে রাত্তিরেআমি এখন বৃষ্টির কথা লিখে রাখছি। তুমি যে আমার সঙ্গে থাকলে না…
ভাস্কর চক্রবর্তী স্বাধীনতা-পূর্ব উত্তর কলকাতার প্রাচীন জনপদ দর্জি পাড়ায় ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দের ১৬ ফেব্রুয়ারি জন্ম গ্রহণ করেন। বরানগরের বেনিয়াপাড়া লেনের পৈতৃক বাড়িতেই তার সমস্ত জীবন কেটেছে। পিতা ব্রহ্মময় চক্রবর্তী স্থানীয় গোপেশ্বর দত্ত ফ্রি স্কুলের সংস্কৃত ভাষার শিক্ষক ছিলেন। মাতা সর্বমঙ্গলা দেবী। ভাস্করের পিতৃদত্ত নাম ছিল বিষ্ণুময়। তিনি ব্রহ্মানন্দ কেশবচন্দ্র কলেজে পড়াশোনা করেন এবং স্নাতক হন। সেই সময় বাংলা থিয়েটারের একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত ছিলেন তাঁর শিক্ষক। স্নাতক হওয়ার পর তিনি পিতার স্কুলের প্রাথমিক বিভাগে শিক্ষকতায় যুক্ত হন। ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি বি.এড পাশ করেন এবং আজীবনই স্বল্প বেতনের ওই স্কুলে শিক্ষকতা করেন। ১৯৬০-এর দশকে কবিতা রচনা করে সাহিত্য জীবন শুরু করেন। গদ্যের শৈলীতে তার কবিতা নিজস্ব কাব্যভাষায় এমন সুরে রণিত হয় যে সরল ও সঙ্গীতময়তায় পাঠক অভিভূত হয়। ভাস্কর চক্রবর্তীর ঊনিশ বছর থেকে পঁচিশ বছর বয়সে লেখা কবিতার সংকলন নিয়ে ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয় প্রথম কাব্যগ্রন্থ- শীতকাল কবে আসবে সুপর্ণা।

১টিপটিপ বৃষ্টি পড়ছে রাত্তিরেআমি এখন বৃষ্টির কথা লিখে রাখছি। তুমি যে আমার সঙ্গে থাকলে না…

ঘোলাটে মাথার ভেতর দিয়ে দিনরাতগুলো যায় আর ফিরে আসেআমি গন্ধ পাই না, ছুরির ওপর এসে…

শেষ রাত্তিরের ঝড়ে আমার হলদে চাদর উড়ে গিয়েছিলো,তোমাদের বাগানবাড়ির দিকে–সারাদিনফুঁ দিয়ে বালি উড়িয়েছি–পাঁচ আঙুলেকরুণ আগুন…

খুব বেশি ঝকঝকে হতে হবে নাতোমাকে খুব বেশি কথা বলতে হবে না।থাকো একটা বিনুনির মতো…

আবার অনেকদিন পরে দেখা হলো― শীতের সন্ধ্যায়।চলো যাবে? যাবে নাকি?বিবাহ কি আজো আর তেমন ঘটনা?এখনো…

মৃত্যু যখন দোরগোড়ায় এসে দাঁড়ায়কী করোকী করো তোমরা? কাঁপতে থাকো নাকি?ব্যাঙ্কের চোতা তুলে দাও বৌয়ের…

আমি যে কী করবো নিজেকে নিয়ে আমি ঠিক বুঝতে পারছি না।সুদুর কোনো গ্রামে গিয়ে লুকিয়ে…

মাথার পোকাগুলো, মুখ বাড়িয়ে,আজ দেখতে চাইছে আমাকেপাশের বাড়ির বুড়োটাআজ ভোরবেলা থেকেই কাঁদতে শুরু করেছে ঘুমের…

যদি যেতে বলো তবেচলে যাবো আজ। চলে যাবো।ঘুমোবার মতো ঘুমনেই আর—লেখালেখি নেই।নেই আর আনন্দ, অজস্র…

ঠিক একটা নরকের মধ্যে আমি বেঁচে আছি।সেদিন একটা ছেলেকেদেখলাম, তার বাবার গায়ে গরম জল ঢেলে…