কবিতার খাতা
- 23 mins
কহরদরিয়ার কবিতাবিরহ – মুহম্মদ নূরুল হুদা।
বলো, কোথায় সেই কহর,
কোথায় সেই চম্পকনহর?
কোথায় বালকবালিকার বিহঙ্গশিস্,
কোথায় সেই ঢকঢক আদিবিষ?
আমিও যে আমার নই
এ কথা আমার চেয়ে আর কে
বেশি জানে? তাহলে তুমি কি করে
আমার হবে, কিংবা আমি কি করে
তোমার? অঙ্গ দেখিয়ে তুৃমিও কত
বঙ্গ যে জয় করলে হে আদিনিসঙ্গ?
তারপর নিজে নিজেই বনে গেলে
মহামতি হিমালয়শৃঙ্গ!
তুমি কি চেঙ্গিস না হলেও অন্তত
শেষমোগল সম্রাট বাহাদুর শাহ?
কেবল প্রেমের শ্লোক উচ্চারণ
করেই কি বাজি ধরলে অমরত্বের?
বটে, তা তো ধরবেই। তোমার
হাজারকোটি বছরের ইতিহাসে
কে সেই নির্বিকল্প অমর-অজর?
কে সেই অদ্বিতীয় প্রমাণক?
না, নেই কোনো সদুত্তর,
নেই কোনো সমিল সবক।
তুমি না হয় ঘর করো, আমি যে
ততক্ষণে আমারই পর হয়ে গেলাম।
ত্বক কুকড়ে গেলেও আমি তোমার
ভিতর চিরসুন্দরের দেখা পেলাম।
যেহেতু সুন্দর শুধু ওড়ে আর ঘোরে,
কোথাও শিকড় মেলে না; আদি নগ্নতার
ওপর মগ্নতা চাপিয়ে সুন্দর শুধু পোশাক
বদল করে। আমি কার তুমি কার কে কার?
আমি কি চিরনগ্নপ্রাণ,
তুমি কি চিরমুহূর্তের ঘ্রাণ?
আমি না আমার ত্রাণ, না তোমার।
কে কবি, কে কবিদের কবি,
কে চিরকবিকুমার?
বাল্মিকী হোমার থেকে এই নিয়ে
চলছে তো চলছেই
কেবল কবি ও কবিতাশুমার।
যেহেতু তুমি নও আমার,
আমি নই তোমার,
অধিক আর কি কহ?
অহরহ শুধু অহরহ,
হে কবি ও কবিতা,
হে কহরদরিয়া
হে সমাপ্ত ও অসমাপ্ত
হে কবিতাবিরহ
হে কবিতাবিরহ
হে…
আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। মুহাম্মদ নুরুল হুদার কবিতা।
কহরদরিয়ার কবিতাবিরহ – মুহম্মদ নূরুল হুদা | মুহম্মদ নূরুল হুদার কবিতা | আধুনিক বাংলা কবিতা | কহরদরিয়া, চম্পকনহর, বালকবালিকা, বিহঙ্গশিস, আদিবিষ, অঙ্গ-বঙ্গ, হিমালয়শৃঙ্গ, চেঙ্গিস, বাহাদুর শাহ, অমরত্ব, নির্বিকল্প, অদ্বিতীয় প্রমাণক, চিরসুন্দর, আদি নগ্নতা, মগ্নতা, চিরনগ্নপ্রাণ, চিরমুহূর্তের ঘ্রাণ, বাল্মিকী-হোমার, কবিতাশুমার ও কবিতাবিরহের অসাধারণ কাব্যভাষা
কহরদরিয়ার কবিতাবিরহ: মুহম্মদ নূরুল হুদার কহর-চম্পকনহর, অঙ্গ-বঙ্গ, হিমালয়শৃঙ্গ, চেঙ্গিস-বাহাদুর শাহ, অমরত্ব, চিরসুন্দর, বাল্মিকী-হোমার, কবিতাশুমার ও কবিতাবিরহের অসাধারণ কাব্যভাষা
মুহম্মদ নূরুল হুদার “কহরদরিয়ার কবিতাবিরহ” আধুনিক বাংলা কবিতার এক অনন্য, রহস্যময় ও দার্শনিক সৃষ্টি। “বলো, কোথায় সেই কহর, / কোথায় সেই চম্পকনহর? / কোথায় বালকবালিকার বিহঙ্গশিস্, / কোথায় সেই ঢকঢক আদিবিষ?” — এই পঙ্ক্তি দিয়ে শুরু হওয়া কবিতাটি ধীরে ধীরে উন্মোচিত করে কহর-চম্পকনহর, বালকবালিকার বিহঙ্গশিস্, ঢকঢক আদিবিষ, আমি যে আমার নই, অঙ্গ দেখিয়ে বঙ্গ জয় ও নিজে বনে যাওয়া, মহামতি হিমালয়শৃঙ্গ, চেঙ্গিস না হলেও শেষমোগল সম্রাট বাহাদুর শাহ, প্রেমের শ্লোক উচ্চারণে অমরত্বের বাজি, হাজারকোটি বছরের ইতিহাসে নির্বিকল্প অমর-অজর, অদ্বিতীয় প্রমাণক, কোনো সদুত্তর না থাকা, ত্বক কুঁকড়ে গেলেও চিরসুন্দরের দেখা পাওয়া, সুন্দরের ওড়া-ঘোরা ও শিকড় না মেলা, আদি নগ্নতার ওপর মগ্নতা চাপিয়ে পোশাক বদল, চিরনগ্নপ্রাণ ও চিরমুহূর্তের ঘ্রাণ, বাল্মিকী-হোমার থেকে কবি ও কবিতাশুমার, এবং শেষ পর্যন্ত কহরদরিয়া ও কবিতাবিরহের পুনরাবৃত্তি — এই সব মিলিয়ে এক কবিতা, ইতিহাস, প্রেম, অমরত্ব, সুন্দর ও বিরহের গভীর ও বহুমাত্রিক কাব্যচিত্র। মুহম্মদ নূরুল হুদা একজন বিশিষ্ট বাঙালি কবি। তিনি আধুনিক বাংলা কবিতায় দার্শনিকতা, ইতিহাস, প্রেম ও অস্তিত্বের প্রশ্নের জন্য পরিচিত। “কহরদরিয়ার কবিতাবিরহ” তাঁর সেই স্বকীয় কাব্যভাষার এক অসাধারণ শিল্পরূপ — যেখানে তিনি কহরদরিয়া ও কবিতাবিরহের রূপক দিয়ে ইতিহাস, প্রেম ও কবিতার সম্পর্ক লিখেছেন.
মুহম্মদ নূরুল হুদা: কবিতা, ইতিহাস ও বিরহের কবি
মুহম্মদ নূরুল হুদা একজন বিশিষ্ট বাঙালি কবি। তিনি আধুনিক বাংলা কবিতায় দার্শনিকতা, ইতিহাস, প্রেম, অস্তিত্ব ও বিরহের প্রশ্নের জন্য পরিচিত। তাঁর কবিতায় সহজ-সরল ভাষায় গভীর চিন্তা ও চিত্রকল্প ফুটে ওঠে।
তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘মানুষের ঘ্রাণ’, ‘নির্বাচিত কবিতা’ প্রভৃতি।
মুহম্মদ নূরুল হুদার কবিতার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো — কহর-চম্পকনহরের রূপক, অঙ্গ-বঙ্গ ও হিমালয়শৃঙ্গের প্রতীক, চেঙ্গিস-বাহাদুর শাহের ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ, অমরত্ব ও নির্বিকল্পের প্রশ্ন, চিরসুন্দর ও আদি নগ্নতার দর্শন, বাল্মিকী-হোমারের ঐতিহ্য, এবং সহজ-সরল কিন্তু গভীর ভাষায় দার্শনিকতা ও ইতিহাসচেতনা প্রকাশের দক্ষতা। ‘কহরদরিয়ার কবিতাবিরহ’ সেই ধারার একটি অসাধারণ উদাহরণ — যেখানে তিনি কবিতা ও বিরহের সম্পর্ক লিখেছেন.
কহরদরিয়ার কবিতাবিরহ: শিরোনামের তাৎপর্য ও কবিতার পটভূমি
শিরোনাম ‘কহরদরিয়ার কবিতাবিরহ’ অত্যন্ত তাৎপর্পণপূর্ণ ও সুরেলা। ‘কহরদরিয়া’ — সম্ভবত একটি কল্পিত স্থান, নদী বা দেশ। ‘কবিতাবিরহ’ — কবিতার বিরহ, কবিতার সাথে বিচ্ছেদ, অথবা কবিতার মাধ্যমেই বিরহ। শিরোনামটি কবিতার কেন্দ্রীয় ভাবনা ধারণ করে।
কবি শুরুতে বলছেন — বলো, কোথায় সেই কহর, কোথায় সেই চম্পকনহর? কোথায় বালকবালিকার বিহঙ্গশিস্, কোথায় সেই ঢকঢক আদিবিষ?
আমিও যে আমার নই — এ কথা আমার চেয়ে আর কে বেশি জানে? তাহলে তুমি কি করে আমার হবে, কিংবা আমি কি করে তোমার? অঙ্গ দেখিয়ে তুমিও কত বঙ্গ যে জয় করলে হে আদিনিসঙ্গ? তারপর নিজে নিজেই বনে গেলে মহামতি হিমালয়শৃঙ্গ!
তুমি কি চেঙ্গিস না হলেও অন্তত শেষমোগল সম্রাট বাহাদুর শাহ? কেবল প্রেমের শ্লোক উচ্চারণ করেই কি বাজি ধরলে অমরত্বের?
বটে, তা তো ধরবেই। তোমার হাজারকোটি বছরের ইতিহাসে কে সেই নির্বিকল্প অমর-অজর? কে সেই অদ্বিতীয় প্রমাণক? না, নেই কোনো সদুত্তর, নেই কোনো সমিল সবক।
তুমি না হয় ঘর করো, আমি যে ততক্ষণে আমারই পর হয়ে গেলাম। ত্বক কুঁকড়ে গেলেও আমি তোমার ভিতর চিরসুন্দরের দেখা পেলাম।
যেহেতু সুন্দর শুধু ওড়ে আর ঘোরে, কোথাও শিকড় মেলে না; আদি নগ্নতার ওপর মগ্নতা চাপিয়ে সুন্দর শুধু পোশাক বদল করে। আমি কার তুমি কার কে কার? আমি কি চিরনগ্নপ্রাণ, তুমি কি চিরমুহূর্তের ঘ্রাণ?
আমি না আমার ত্রাণ, না তোমার। কে কবি, কে কবিদের কবি, কে চিরকবিকুমার? বাল্মিকী হোমার থেকে এই নিয়ে চলছে তো চলছেই — কেবল কবি ও কবিতাশুমার।
যেহেতু তুমি নও আমার, আমি নই তোমার, অধিক আর কি কহ? অহরহ শুধু অহরহ, হে কবি ও কবিতা, হে কহরদরিয়া, হে সমাপ্ত ও অসমাপ্ত, হে কবিতাবিরহ, হে কবিতাবিরহ, হে…
কহরদরিয়ার কবিতাবিরহ: স্তবকভিত্তিক বিস্তারিত বিশ্লেষণ
প্রথম স্তবক: কহর-চম্পকনহর, বালকবালিকার বিহঙ্গশিস্, ঢকঢক আদিবিষ
“বলো, কোথায় সেই কহর, / কোথায় সেই চম্পকনহর? / কোথায় বালকবালিকার বিহঙ্গশিস্, / কোথায় সেই ঢকঢক আদিবিষ?”
প্রথম স্তবকে হারিয়ে যাওয়া জিনিসের খোঁজ। ‘কহর, চম্পকনহর’ — কল্পিত স্থান, স্মৃতি। ‘বালকবালিকার বিহঙ্গশিস্’ — শৈশবের পাখির ডাক, নির্দোষতা। ‘ঢকঢক আদিবিষ’ — আদিম বিষ, পুরনো যন্ত্রণা।
দ্বিতীয় স্তবক: আমি আমার নই, অঙ্গ দেখিয়ে বঙ্গ জয়, হিমালয়শৃঙ্গ
“আমিও যে আমার نই / এ কথা আমার চেয়ে আর كে / বেশী জানে؟ তাহলে তুমি কি করে / আমার হবে، কিংবা আমি কি করে / তোমার؟ অঙ্গ দেখিয়ে তুৃমিও كت / বঙ্গ যে جয় করলে هে আদিনিসঙ্গ؟ / তারপর নিজে নিজেই বনে গেলে / মহামতি هيمালয়শৃঙ্গ!”
দ্বিতীয় স্তবকে আত্মপরিচয় ও ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ। ‘আমি আমার নই’ — নিজের ওপর অধিকার নেই। ‘অঙ্গ দেখিয়ে বঙ্গ জয়’ — অঙ্গ (দেহ) দিয়ে বঙ্গ (বাংলা) জয়? অথবা ঐতিহাসিক অঙ্গ রাজ্য? ‘আদিনিসঙ্গ’ — আদি নিঃসঙ্গ। ‘হিমালয়শৃঙ্গ’ — উচ্চতা, মহিমা।
তৃতীয় স্তবক: চেঙ্গিস, বাহাদুর শাহ, প্রেমের শ্লোকে অমরত্ব
“تুমি কি چেঙ্গিস না হলেও অন্তত / শেষমোগল সম্রাট বাহাদুর শাহ? / كেবল প্রেমের শ্লোক উচ্চারণ / করেই কি بাজি ধরলে অমরত্বের?”
তৃতীয় স্তবকে ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব ও অমরত্বের প্রশ্ন। ‘চেঙ্গিস’ — চেঙ্গিস খান, মোঙ্গল সম্রাট। ‘শেষমোগল সম্রাট বাহাদুর শাহ’ — শেষ মুঘল সম্রাট। ‘প্রেমের শ্লোকে অমরত্ব’ — ভালোবাসার কবিতা দিয়ে অমর হওয়া যায় কি?
চতুর্থ স্তবক: হাজারকোটি বছরের ইতিহাস, নির্বিকল্প অমর-অজর, অদ্বিতীয় প্রমাণক, কোনো সদুত্তর নেই
“بٹے, তা তো ধরবেই। তোমার / হাজারكোটি বছরের ইতিহাসে / كে সেই نिर্বিকلپ অমর-অজর? / كে সেই অদ্বিতীয় প্রমাণك? / না، নেই কোনো সদুত্তর، / নেই কোনো সমিল সবك।”
চতুর্থ স্তবকে ইতিহাস ও অমরত্বের অনুসন্ধান। ‘নির্বিকল্প অমর-অজর’ — যিনি অমর ও অজর। ‘অদ্বিতীয় প্রমাণক’ — একমাত্র সাক্ষী। ‘সদুত্তর নেই’ — কোনো সঠিক উত্তর নেই।
পঞ্চম স্তবক: ত্বক কুঁকড়ে গেলেও চিরসুন্দরের দেখা, সুন্দরের ওড়া-ঘোরা ও শিকড় না মেলা
“تুমি না হয় ঘر كورو، আমি যে / تতক্ষণে আমারই পর হয়ে گেলাম। / توك كুকড়ে গেলেও আমি তোমার / ভিতর چিরسুন্দরের دেকা پেলাম। / যেহেতু সুন্দর শুধু ওড়ে আর ঘোরে، / কোথাও শিকড় মেলে না؛ আদি نگ্নতার / ওপর مگ্নতা چাপিয়ে সুন্দর শুধু پوشاك / بदল করে। আমি কার تুমি কার كে কার؟ / আমি কি چیرنگ্নপ্রাণ، / تুমি কি چیرমুহূর্তের ঘ্রাণ?”
পঞ্চম স্তবকে সুন্দর ও অস্থিরতার দর্শন। ‘চিরসুন্দর’ — চিরন্তন সৌন্দর্য। ‘সুন্দর শুধু ওড়ে আর ঘোরে’ — অস্থির, অগত্য। ‘আদি নগ্নতার ওপর মগ্নতা চাপিয়ে পোশাক বদল’ — মৌলিক সত্যের ওপর আবরণ। ‘চিরনগ্নপ্রাণ’ — সর্বদা উন্মুক্ত প্রাণ। ‘চিরমুহূর্তের ঘ্রাণ’ — চিরন্তন মুহূর্তের গন্ধ।
ষষ্ঠ স্তবক: বাল্মিকী-হোমার, কবি ও কবিতাশুমার
“আমি না আমার ت্রাণ، না তোমার। / كে কবি، كে কবিদের কবি، / كে চিরকবিকুমার? / بাল্মিকী هومار থেকে এই নিয়ে / চলছে তো চলছেই / كেবল কবি ও কবিতাশুমার।”
ষষ্ঠ স্তবকে কবিতার ঐতিহ্য। ‘বাল্মিকী-হোমার’ — প্রাচ্যের ও পাশ্চাত্যের মহাকাব্যের আদি কবি। ‘কবি ও কবিতাশুমার’ — কবি ও কবিতার হিসাব। ‘চিরকবিকুমার’ — চিরন্তন কবি-যুবক।
সপ্তম স্তবক: তুমি নও আমার, আমি নই তোমার, কহরদরিয়া ও কবিতাবিরহ
“যেহেতু تুমি نও আমার، / আমি نই তোমار، / অধিক আর কি كহ? / অহরহ শুধু অহরহ، / هে কবি ও কবিতা، / هে কহরدریا / هে সমাপت ও অসমাপت / هে কবিতাবিরহ / هে কবিতাবিরহ / হে…”
সপ্তম স্তবকে চূড়ান্ত বিরহ ও নিবেদন। ‘তুমি নও আমার, আমি নই তোমার’ — সম্পর্কের অস্বীকার। ‘অহরহ শুধু অহরহ’ — প্রতিদিন, প্রতিক্ষণ। ‘কবি ও কবিতা, কহরদরিয়া, সমাপ্ত ও অসমাপ্ত’ — সবকিছুর সমাপন। ‘কবিতাবিরহ’ — পুনরাবৃত্তি, শেষে অসমাপ্ত ‘হে…’।
কবিতার গঠনশৈলী, ছন্দ ও শিল্পরূপ
কবিতাটি সপ্তম স্তবকে বিভক্ত। মুক্তছন্দ, গদ্যকাব্যের ধাঁচে লেখা। ভাষা সরল, প্রাঞ্জল, দার্শনিক ও আবেগঘন।
প্রতীক ব্যবহারে অসাধারণ। ‘কহরদরিয়া’ — কল্পিত স্থান, কবিতার জগৎ। ‘চম্পকনহর’ — স্বপ্নের শহর। ‘বিহঙ্গশিস্’ — পাখির ডাক, শৈশব। ‘আদিবিষ’ — পুরনো বিষ, যন্ত্রণা। ‘অঙ্গ-বঙ্গ’ — দেহ ও বাংলা, অথবা ঐতিহাসিক অঙ্গ রাজ্য। ‘হিমালয়শৃঙ্গ’ — উচ্চতা, মহিমা। ‘চেঙ্গিস, বাহাদুর শাহ’ — ইতিহাসের প্রতীক। ‘নির্বিকল্প অমর-অজর’ — অমরত্বের খোঁজ। ‘চিরসুন্দর’ — চিরন্তন সৌন্দর্য। ‘আদি নগ্নতা’ — মৌলিক সত্য। ‘চিরনগ্নপ্রাণ, চিরমুহূর্তের ঘ্রাণ’ — চিরন্তনতা। ‘বাল্মিকী-হোমার’ — মহাকাব্যের আদি কবি। ‘কবিতাশুমার’ — কবিতার হিসাব। ‘কবিতাবিরহ’ — কবিতার সাথে বিচ্ছেদ।
পুনরাবৃত্তি কৌশল — ‘কোথায়’ — প্রথম স্তবকে ৪ বার। ‘কে’ — চতুর্থ ও ষষ্ঠ স্তবকে ৫ বার। ‘হে’ — সপ্তম স্তবকে ৬ বার। ‘কবিতাবিরহ’ — সপ্তম স্তবকে ২ বার।
শেষের ‘হে…’ — একটি খোলা ও অনিশ্চিত সমাপ্তি।
শিক্ষামূলক গুরুত্ব ও পাঠ্যক্রমিক স্থান
বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাংলা সাহিত্যের উচ্চতর পাঠ্যক্রমে মুহম্মদ নূরুল হুদার ‘কহরদরিয়ার কবিতাবিরহ’ কবিতাটি অন্তর্ভুক্ত থাকার যোগ্য। এই কবিতাটি শিক্ষার্থীদের দার্শনিকতা, ইতিহাস, প্রেম, কবিতা ও অস্তিত্বের সম্পর্ক, প্রতীকায়ন, এবং সহজ-সরল ভাষায় গভীর চিন্তা প্রকাশের কৌশল সম্পর্কে বুঝতে সাহায্য করে।
কহরদরিয়ার কবিতাবিরহ সম্পর্কে বিস্তারিত প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন ১: ‘কহরদরিয়ার কবিতাবিরহ’ কবিতাটির লেখক কে?
এই কবিতাটির লেখক মুহম্মদ নূরুল হুদা। তিনি একজন বিশিষ্ট বাঙালি কবি। দার্শনিকতা ও ইতিহাসের কবিতা লেখেন।
প্রশ্ন ২: ‘কহরদরিয়া’ কী?
একটি কল্পিত স্থান, নদী বা দেশ — যা কবিতার জগৎ ও স্মৃতির প্রতীক।
প্রশ্ন ৩: ‘চম্পকনহর’ কী?
স্বপ্নের শহর, হারিয়ে যাওয়া জায়গা — হয়ত পুরনো প্রেম বা স্মৃতি।
প্রশ্ন ৪: ‘অঙ্গ দেখিয়ে বঙ্গ জয়’ — কী বোঝায়?
দেহের মাধ্যমে বাংলা জয়? অথবা ঐতিহাসিক অঙ্গ রাজ্যের প্রসঙ্গ? অস্পষ্ট ও রহস্যময়।
প্রশ্ন ৫: ‘চেঙ্গিস না হলেও বাহাদুর শাহ’ — কেন?
ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব — চেঙ্গিস খান ও শেষ মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহ — ক্ষমতা ও পতনের প্রতীক।
প্রশ্ন ৬: ‘প্রেমের শ্লোকে অমরত্ব’ — কী বোঝায়?
ভালোবাসার কবিতা দিয়ে অমর হওয়া যায় কি? প্রশ্ন থেকে যায়।
প্রশ্ন ৭: ‘নির্বিকল্প অমর-অজর’ — কে?
যিনি অমর ও অজর — এমন কেউ আছে কি? ইতিহাসে খোঁজা।
প্রশ্ন ৮: ‘চিরসুন্দর’ — কী বোঝায়?
চিরন্তন সৌন্দর্য — যা সবসময় ওড়ে ও ঘোরে, শিকড় মেলে না।
প্রশ্ন ৯: ‘বাল্মিকী-হোমার’ — কেন?
প্রাচ্যের ও পাশ্চাত্যের মহাকাব্যের আদি কবি — কবিতার ঐতিহ্য।
প্রশ্ন ১০: ‘হে কবিতাবিরহ’ — পুনরাবৃত্তির তাৎপর্য কী?
কবিতার সাথে বিরহ, বিচ্ছেদ — অথবা কবিতার মাধ্যমেই বিরহ। শেষে অসমাপ্ত ‘হে…’।
ট্যাগস: কহরদরিয়ার কবিতাবিরহ, মুহম্মদ নূরুল হুদা, মুহম্মদ নূরুল হুদার কবিতা, আধুনিক বাংলা কবিতা, কহরদরিয়া, চম্পকনহর, অঙ্গ-বঙ্গ, হিমালয়শৃঙ্গ, চেঙ্গিস, বাহাদুর শাহ, অমরত্ব, চিরসুন্দর, বাল্মিকী-হোমার, কবিতাশুমার, কবিতাবিরহ, বাংলা কবিতা বিশ্লেষণ
© Kobitarkhata.com – কবি: মুহম্মদ নূরুল হুদা | কবিতার প্রথম লাইন: “বলো, কোথায় সেই কহর, / কোথায় সেই চম্পকনহর? / কোথায় বালকবালিকার বিহঙ্গশিস্, / কোথায় সেই ঢকঢক আদিবিষ?” | কবিতা, ইতিহাস ও বিরহের অসাধারণ কাব্যভাষা | আধুনিক বাংলা কবিতার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন






