চক্রবৃদ্ধি দূরত্ব – সালমান হাবীব।

খুব ছোটোবেলা থেকেই
আমার আকাশ দেখার শখ ছিলো।
আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতে ভালো লাগতো।
স্কুলে জানালা দিয়ে আকাশ দেখতাম।
বাড়ি ফিরে খোলা মাঠে দৌড়ে যেতাম।
সবসময়ই মনে হতো,
ঐ যে সামনে দু’গ্রাম পরেই
আকাশ বুঝি মিলে গেছে গ্রামের সাথে!

আমার বড্ড ইচ্ছে হতো,
কোনো একদিন দূরের ঐ গ্রামটিতে গিয়ে আকাশ ছুঁবো।
সিঁড়ি না পাই, মই লাগিয়ে হলেও আকাশে উঠবো।
কিন্তু স্কুল, পড়াশোনা আর আব্বা-আম্মার কড়া চোখের কারণে
সেই দিনটি কখনো আসেনি।

অতঃপর অনেকটা বড় হয়ে আমি ঐ গ্রামে গিয়েছি,
কিন্তু আকাশ ছুঁতে পারিনি।
গিয়ে দেখি, আকাশ চলে গেছে
আরো দু’গ্রাম পরে!

আরেকটু বড় হয়ে আমি যখন
চার গ্রাম পাড়ি দিয়ে আকাশ ছুঁতে গিয়েছি
তখন আকাশ চলে গেছে আরো দু’গ্রাম পরে!
এইভাবে দুই, চার, ছয়, আট আর দশের সংখ্যা পেরিয়েছে!
আমার আকাশ ছোঁয়া হয়নি।
প্রতিবারই আকাশ সরে গেছে দু’গ্রাম পরে!

জীবনে কিছু কিছু মানুষ আসে যাদের ব্যাপারগুলোও
ঠিক দিগন্তে আকাশের মিশে যাওয়ার মতো!
তারা অল্প সময়েই আকাশের মতো ভেতরে জায়গা করে নেয়,
আপনত্বের সবটুকু জুড়ে বসে।
অতঃপর কাছে আসতেই দেখা যায়
সেই আকাশের মতো; চলে গেছে দু’হৃদয় পর!

আসলে আকাশ এবং ঐ মানুষগুলো;
এরা কখনোই আমাদের কাছে আসেনি।
তাদের প্রতি আমাদের প্রচন্ড রকম
ভালোবাসার কারণেই কেবল এমনটি মনে হয়।

আমি তাই বলি;
আকাশকে দূর থেকেই ভালোবাসতে হয়।
অন্যথায়, কাছে যেতে চাইলে হতাশ হতে হয়।

আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। সালমান হাবীবের কবিতা।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest

0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x