প্রতিবেদন – জয়দেব বসু।

বিশেষ করে এখানেই লিখে রাখা ভাল,
ছেলেদের কাছে পরিকল্পনামাফিক বিক্রির জন্য
মেয়েদের এক পত্রিকায়—
যে, ছিঁচকে-মধ্যবিত্ত এই সমাজে প্রথম সুযোগেই আমি নারীবাদী হয়ে গেছিলাম।
কিন্তু, দুটি গুণ্ডাকে অন্তত কাছ থেকে পর্যবেক্ষণের ফলে
পুনর্বিবেচনার অবকাশ পাওয়া গেল।

একজন, যে বৃদ্ধ-অশক্ত ভিখিরির সানকি থেকেও
পয়সা ছিনিয়ে নিয়ে হ্যাঃ হ্যাঃ করে হাসে, এবং অপরজন
পাড়ার এক মহিলার সামনেই তাঁর দুবলা স্বামীকে পিটিয়ে লাশ বানাল।
স্থানীয় সুধীজনের সঙ্গে সে-দৃশ্য আমিও প্রত্যক্ষ করেছি।

পরবর্তী সময়ে, একান্ত এক সাক্ষাৎকারে, বধূটি আমায় জানিয়েছিলেন—
‘বিশ্বাস করুন, ওঁকে না-মেরে শয়তানটা যদি আমায় ধর্ষণও করত,
তাও যেন আমি বেঁচে যেতাম!’
কোনো যৌন-অবদমন কি এই অনুভব বহন করে আনে?
প্রশ্নটি করার পর সেই যে মহিলা ঝঠিতি উঠে গেলেন, আর
কখনো তিনি আমার মুখদর্শন করেননি।
কিন্তু, এ প্রশ্ন তো করতেই হত, কেননা তথ্য এই যে,
‘শয়তানটা’ তাঁকে ধর্ষণের এতটুকু আগহ দেখায়নি।

কারণ, এই দুই গুণ্ডা, এত কিছুর পরেও
তাদের উজ্জ্বল বায়োডাটা প্রমাণের জন্য এ-কথা জানাতে ভুলত না যে,
তারা নারীদের সম্মান করে; করে এসেছে।

অতঃপর নারীদের সম্মান করাকে আমি সন্দেহ করতে শিখলাম।

আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। জয়দেব বসু।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest

0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x