কবিতার খাতা
- 22 mins
যে টেলিফোন আসার কথা – পূর্ণেন্দু পত্রী।
(তুমি এলে সূর্যোদয় হয়)
যে টেলিফোন আসার কথা সে টেলিফোন আসেনি।
প্রতীক্ষাতে প্রতীক্ষাতে
সূর্য ডোবে রক্তপাতে
সব নিভিয়ে একলা আকাশ নিজের শূন্য বিছানাতে।
একান্তে যার হাসির কথা হাসেনি।
যে টেলিফোন আসার কথা আসেনি।
অপেক্ষমান বুকের ভিতর কাঁসরঘন্টা শাঁখের উলু
একশ বনের বাতাস এসে একটা গাছে হুলুস্থুলু
আজ বুঝি তার ইচ্ছে আছে
ডাকবে আলিঙ্গনের কাছে
দীঘির পাড়ে হারিয়ে যেতে সাঁতার জলের মত্ত নাচে।
এখনো কি ডাকার সাজে সাজেনি?
যে টেলিফোন বাজার কথা বাজেনি।
তৃষ্ণা যেন জলের ফোঁটা বাড়তে বাড়তে বৃষ্টি বাদল
তৃষ্ণা যেন ধূপের কাঠি গন্ধে আঁকে সুখের আদল
খাঁ খাঁ মনের সবটা খালি
মরা নদীর চড়ার বালি
অথচ ঘর দুয়ার জুড়ে তৃষ্ণা বাজায় করতালি
প্রতীক্ষা তাই প্রহরবিহীন
আজীবন ও সর্বজনীন
সরোবর তো সবার বুকেই, পদ্ম কেবল পর্দানশীন
স্বপ্নকে দেয় সর্বশরীর, সমক্ষে সে ভাসে না।
যে টেলিফোন আসার কথা সচরাচর আসে না।
আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। পূর্ণেন্দু পত্রী।
যে টেলিফোন আসার কথা – পূর্ণেন্দু পত্রী | যে টেলিফোন আসার কথা কবিতা | পূর্ণেন্দু পত্রীর কবিতা | বাংলা প্রেমের কবিতা
যে টেলিফোন আসার কথা: পূর্ণেন্দু পত্রীর অপেক্ষা, তৃষ্ণা ও প্রেমের অসাধারণ কাব্যভাষা
পূর্ণেন্দু পত্রীর “যে টেলিফোন আসার কথা” কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের একটি অনন্য সৃষ্টি, যা অপেক্ষা, তৃষ্ণা, প্রেম ও না-পাওয়ার এক গভীর কাব্যিক অন্বেষণ। “যে টেলিফোন আসার কথা সে টেলিফোন আসেনি। / প্রতীক্ষাতে প্রতীক্ষাতে / সূর্য ডোবে রক্তপাতে / সব নিভিয়ে একলা আকাশ নিজের শূন্য বিছানাতে।” — এই পঙ্ক্তি দিয়ে শুরু হওয়া কবিতাটি ধীরে ধীরে উন্মোচিত করে এক অপেক্ষার জগৎ, যেখানে একটি ফোন কলের অপেক্ষায় সব কিছু স্তব্ধ হয়ে আছে। পূর্ণেন্দু পত্রী (১৯৩০-১৯৯৭) বাংলা সাহিত্যের একজন শক্তিমান কবি, গীতিকার ও নাট্যকার। তিনি ‘কথোপকথন’ সহ অসংখ্য কালজয়ী গানের রচয়িতা। তাঁর কবিতায় প্রেম, প্রকৃতি, জীবনদর্শন ও মানবিক অনুভূতির গভীর প্রকাশ ঘটে। “যে টেলিফোন আসার কথা” তাঁর একটি বহুপঠিত কবিতা যা অপেক্ষার এক অসাধারণ চিত্র।
পূর্ণেন্দু পত্রী: গানের কবি
পূর্ণেন্দু পত্রী (১৯৩০-১৯৯৭) বাংলা সাহিত্যের একজন শক্তিমান কবি, গীতিকার ও নাট্যকার। তিনি ১৯৩০ সালের ২ জানুয়ারি কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা ও শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘একক সন্ধ্যায়’ (১৯৫৮) তাঁকে খ্যাতি এনে দেয়। কিন্তু তিনি মূলত গীতিকার হিসেবে বিখ্যাত। তাঁর লেখা ‘কথোপকথন’, ‘তুমি এলে সূর্যোদয় হয়’, ‘এই পথে দেখি যে যাই’, ‘আমি বাংলার গান গাই’ প্রভৃতি গান আজও অমর হয়ে আছে। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘একক সন্ধ্যায়’, ‘নক্ষত্রের আলোয়’, ‘পূর্ণেন্দু পত্রীর শ্রেষ্ঠ কবিতা’, ‘যে টেলিফোন আসার কথা’ প্রভৃতি। তাঁর কবিতায় প্রেম, প্রকৃতি, জীবনদর্শন ও মানবিক অনুভূতির গভীর প্রকাশ ঘটে। তিনি ১৯৯৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন। “যে টেলিফোন আসার কথা” তাঁর একটি বহুপঠিত কবিতা যা অপেক্ষার এক অসাধারণ চিত্র।
যে টেলিফোন আসার কথা কবিতার বিস্তারিত বিশ্লেষণ
কবিতার শিরোনামের তাৎপর্য
“যে টেলিফোন আসার কথা” শিরোনামটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। টেলিফোন — যোগাযোগের মাধ্যম, প্রিয়জনের বার্তা। ‘আসার কথা’ — যে ফোন আসার কথা ছিল, কিন্তু আসেনি। শিরোনামেই কবি ইঙ্গিত দিয়েছেন — এই কবিতা অপেক্ষার, না-পাওয়ার, ফোন না-আসার বেদনার কবিতা।
প্রথম স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“যে টেলিফোন আসার কথা সে টেলিফোন আসেনি। / প্রতীক্ষাতে প্রতীক্ষাতে / সূর্য ডোবে রক্তপাতে / সব নিভিয়ে একলা আকাশ নিজের শূন্য বিছানাতে। / একান্তে যার হাসির কথা হাসেনি। / যে টেলিফোন আসার কথা আসেনি।” প্রথম স্তবকে কবি অপেক্ষার কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন — যে টেলিফোন আসার কথা সে টেলিফোন আসেনি। প্রতীক্ষাতে প্রতীক্ষাতে সূর্য ডোবে রক্তপাতে। সব নিভিয়ে একলা আকাশ নিজের শূন্য বিছানাতে। একান্তে যার হাসির কথা হাসেনি। যে টেলিফোন আসার কথা আসেনি।
‘প্রতীক্ষাতে প্রতীক্ষাতে / সূর্য ডোবে রক্তপাতে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
প্রতীক্ষা করতে করতে সূর্য অস্ত যায়। ‘রক্তপাতে’ — রক্তিম সূর্যাস্ত। অপেক্ষার দীর্ঘতা ও বেদনা এখানে প্রকাশ পেয়েছে।
‘সব নিভিয়ে একলা আকাশ নিজের শূন্য বিছানাতে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
আকাশও সব নিভিয়ে নিজের শূন্য বিছানায় শুয়েছে। আকাশের শূন্যতা আর কবির শূন্যতা একাকার।
‘একান্তে যার হাসির কথা হাসেনি’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
যার কথা ভেবে তিনি ফোনের অপেক্ষা করছেন, সেই প্রিয়জনের হাসির কথা তিনি ভেবেছেন, কিন্তু সেই হাসি আসেনি, ফোন আসেনি।
দ্বিতীয় স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“অপেক্ষমান বুকের ভিতর কাঁসরঘন্টা শাঁখের উলু / একশ বনের বাতাস এসে একটা গাছে হুলুস্থুলু / আজ বুঝি তার ইচ্ছে আছে / ডাকবে আলিঙ্গনের কাছে / দীঘির পাড়ে হারিয়ে যেতে সাঁতার জলের মত্ত নাচে। / এখনো কি ডাকার সাজে সাজেনি? / যে টেলিফোন বাজার কথা বাজেনি।” দ্বিতীয় স্তবকে কবি অপেক্ষার তীব্রতা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন — অপেক্ষমান বুকের ভিতর কাঁসরঘন্টা, শাঁখের উলু। একশ বনের বাতাস এসে একটা গাছে হুলুস্থুলু। আজ বুঝি তার ইচ্ছে আছে — ডাকবে আলিঙ্গনের কাছে, দীঘির পাড়ে হারিয়ে যেতে সাঁতার জলের মত্ত নাচে। এখনো কি ডাকার সাজে সাজেনি? যে টেলিফোন বাজার কথা বাজেনি।
‘অপেক্ষমান বুকের ভিতর কাঁসরঘন্টা শাঁখের উলু’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
অপেক্ষারত বুকের ভিতর কাঁসরঘন্টা ও শাঁখের উলু বাজছে — অর্থাৎ তাঁর হৃদয়ে উৎসবের শব্দ, কিন্তু সেই উৎসবের নায়ক নেই। এটি অপেক্ষার তীব্রতা ও হৃদয়ের অবস্থা বোঝায়।
‘একশ বনের বাতাস এসে একটা গাছে হুলুস্থুলু’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
একশ বনের বাতাস এসে একটা গাছকে অস্থির করে তুলছে। প্রকৃতিও তাঁর অপেক্ষার সঙ্গী।
‘ডাকবে আলিঙ্গনের কাছে / দীঘির পাড়ে হারিয়ে যেতে সাঁতার জলের মত্ত নাচে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
প্রিয়জন তাঁকে আলিঙ্গনের কাছে ডাকবে, দীঘির পাড়ে হারিয়ে যাবে, জলের মত্ত নাচে সাঁতার কাটবে — এই সব কল্পনা তিনি করছেন। কিন্তু সে তো ডাকেনি।
‘এখনো কি ডাকার সাজে সাজেনি?’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
প্রিয়জন কি এখনও ডাকার জন্য সাজেনি? অর্থাৎ তিনি কি আসবেন না? এই প্রশ্ন অপেক্ষার বেদনা বাড়ায়।
‘যে টেলিফোন বাজার কথা বাজেনি’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘বাজার কথা’ — শব্দ করার কথা, বেজে ওঠার কথা। যে টেলিফোন বেজে ওঠার কথা, তা বাজেনি।
তৃতীয় স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“তৃষ্ণা যেন জলের ফোঁটা বাড়তে বাড়তে বৃষ্টি বাদল / তৃষ্ণা যেন ধূপের কাঠি গন্ধে আঁকে সুখের আদল / খাঁ খাঁ মনের সবটা খালি / মরা নদীর চড়ার বালি / অথচ ঘর দুয়ার জুড়ে তৃষ্ণা বাজায় করতালি / প্রতীক্ষা তাই প্রহরবিহীন / আজীবন ও সর্বজনীন / সরোবর তো সবার বুকেই, পদ্ম কেবল পর্দানশীন / স্বপ্নকে দেয় সর্বশরীর, সমক্ষে সে ভাসে না। / যে টেলিফোন আসার কথা সচরাচর আসে না।” তৃতীয় স্তবকে কবি তৃষ্ণা ও অপেক্ষার চিরন্তনতা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন — তৃষ্ণা যেন জলের ফোঁটা বাড়তে বাড়তে বৃষ্টি বাদল। তৃষ্ণা যেন ধূপের কাঠি গন্ধে আঁকে সুখের আদল। খাঁ খাঁ মনের সবটা খালি, মরা নদীর চড়ার বালি। অথচ ঘর দুয়ার জুড়ে তৃষ্ণা বাজায় করতালি। প্রতীক্ষা তাই প্রহরবিহীন, আজীবন ও সর্বজনীন। সরোবর তো সবার বুকেই, পদ্ম কেবল পর্দানশীন। স্বপ্নকে দেয় সর্বশরীর, সমক্ষে সে ভাসে না। যে টেলিফোন আসার কথা সচরাচর আসে না۔
‘তৃষ্ণা যেন জলের ফোঁটা বাড়তে বাড়তে বৃষ্টি বাদল’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
তৃষ্ণা বাড়তে বাড়তে বৃষ্টি হয়ে গেছে। তাঁর প্রেমের তৃষ্ণা এত বেশি যে তা বৃষ্টিতে পরিণত হয়েছে।
‘খাঁ খাঁ মনের সবটা খালি / মরা নদীর চড়ার বালি’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
মনের ভিতর খাঁ খাঁ করছে, সব কিছু শূন্য। মরা নদীর চড়ার বালির মতোই অনুর্বর, প্রাণহীন।
‘অথচ ঘর দুয়ার জুড়ে তৃষ্ণা বাজায় করতালি’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
মনের ভিতর শূন্যতা, অথচ চারিদিকে তৃষ্ণা করতালি বাজাচ্ছে — অর্থাৎ তৃষ্ণা এত প্রবল যে তা চারিদিকে ধ্বনিত হচ্ছে।
‘প্রতীক্ষা তাই প্রহরবিহীন / আজীবন ও সর্বজনীন’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
অপেক্ষার কোনো সময় নেই। এটি আজীবন স্থায়ী এবং সবার জন্য প্রযোজ্য।
‘সরোবর তো সবার বুকেই, পদ্ম কেবল পর্দানশীন / স্বপ্নকে দেয় সর্বশরীর, সমক্ষে সে ভাসে না’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
সবার বুকেই সরোবর আছে (অর্থাৎ সবাই প্রেম করতে পারে), কিন্তু পদ্ম (প্রেমের পবিত্র ফুল) পর্দানশীন — তা সবার কাছে ধরা দেয় না। স্বপ্নকে সে সর্বশরীর দেয়, কিন্তু সমক্ষে ভাসে না — অর্থাৎ প্রেমের স্বপ্ন সবাই দেখে, কিন্তু তা বাস্তবের আলোতে ভেসে ওঠে না।
‘যে টেলিফোন আসার কথা সচরাচর আসে না’ — শেষ পঙ্ক্তির তাৎপর্য
এই পঙ্ক্তিটি কবিতার শিরোনাম ও কেন্দ্রীয় বার্তার পুনরাবৃত্তি। যে টেলিফোন আসার কথা, তা সচরাচর আসে না। অপেক্ষা করলেও তা আসে না। এটি না-পাওয়ার চিরন্তন সত্য।
কবিতার সামগ্রিক তাৎপর্য
“যে টেলিফোন আসার কথা” কবিতাটি অপেক্ষা, তৃষ্ণা ও না-পাওয়ার এক অসাধারণ চিত্র। কবি একটি ফোন কলের অপেক্ষায় আছেন। কিন্তু সেই ফোন আসেনি। প্রতীক্ষা করতে করতে সূর্য ডোবে রক্তপাতে। সব নিভিয়ে একলা আকাশ নিজের শূন্য বিছানায়। একান্তে যার হাসির কথা তিনি ভেবেছেন, সেই হাসি আসেনি। অপেক্ষমান বুকের ভিতর কাঁসরঘন্টা শাঁখের উলু বাজছে। একশ বনের বাতাস এসে একটা গাছে হুলুস্থুলু করছে। তাঁর মনে হচ্ছে আজ বুঝি প্রিয়জন ডাকবে আলিঙ্গনের কাছে, দীঘির পাড়ে হারিয়ে যেতে সাঁতার জলের মত্ত নাচে। কিন্তু এখনও কি ডাকার সাজে সাজেনি? যে টেলিফোন বাজার কথা, তা বাজেনি। তৃষ্ণা বাড়তে বাড়তে বৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু মনের ভিতর খাঁ খাঁ করছে, মরা নদীর চড়ার বালির মতো। অথচ ঘর দুয়ার জুড়ে তৃষ্ণা করতালি বাজাচ্ছে। অপেক্ষার কোনো প্রহর নেই, তা আজীবন ও সর্বজনীন। সবার বুকেই সরোবর আছে, কিন্তু পদ্ম পর্দানশীন। স্বপ্নকে সে সর্বশরীর দেয়, কিন্তু সমক্ষে ভাসে না। যে টেলিফোন আসার কথা, তা সচরাচর আসে না।
যে টেলিফোন আসার কথা কবিতা সম্পর্কে প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন ১: যে টেলিফোন আসার কথা কবিতার লেখক কে?
যে টেলিফোন আসার কথা কবিতার লেখক পূর্ণেন্দু পত্রী (১৯৩০-১৯৯৭)। তিনি বাংলা সাহিত্যের একজন শক্তিমান কবি, গীতিকার ও নাট্যকার। তিনি ‘কথোপকথন’ সহ অসংখ্য কালজয়ী গানের রচয়িতা।
প্রশ্ন ২: যে টেলিফোন আসার কথা কবিতার মূল বিষয়বস্তু কী?
যে টেলিফোন আসার কথা কবিতার মূল বিষয়বস্তু হলো অপেক্ষা, তৃষ্ণা ও না-পাওয়ার বেদনা। কবি একটি ফোন কলের অপেক্ষায় আছেন যা আসেনি। প্রতীক্ষা করতে করতে সূর্য ডোবে, সব কিছু নিভে যায়। তাঁর মনের ভিতর শূন্যতা, অথচ চারিদিকে তৃষ্ণা করতালি বাজায়। যে টেলিফোন আসার কথা, তা সচরাচর আসে না।
প্রশ্ন ৩: ‘প্রতীক্ষাতে প্রতীক্ষাতে / সূর্য ডোবে রক্তপাতে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘প্রতীক্ষাতে প্রতীক্ষাতে / সূর্য ডোবে রক্তপাতে’ — এই পঙ্ক্তিতে কবি অপেক্ষার দীর্ঘতার কথা বলেছেন। প্রতীক্ষা করতে করতে সূর্য অস্ত যায়। ‘রক্তপাতে’ — রক্তিম সূর্যাস্ত। অপেক্ষার দীর্ঘতা ও বেদনা এখানে প্রকাশ পেয়েছে۔
প্রশ্ন ৪: ‘অপেক্ষমান বুকের ভিতর কাঁসরঘন্টা শাঁখের উলু’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘অপেক্ষমান বুকের ভিতর কাঁসরঘন্টা শাঁখের উলু’ — এই পঙ্ক্তিতে কবি অপেক্ষার তীব্রতা বর্ণনা করেছেন। অপেক্ষারত বুকের ভিতর কাঁসরঘন্টা ও শাঁখের উলু বাজছে — অর্থাৎ তাঁর হৃদয়ে উৎসবের শব্দ, কিন্তু সেই উৎসবের নায়ক নেই। এটি অপেক্ষার তীব্রতা ও হৃদয়ের অবস্থা বোঝায়۔
প্রশ্ন ৫: ‘যে টেলিফোন আসার কথা সচরাচর আসে না’ — শেষ পঙ্ক্তির তাৎপর্য কী?
‘যে টেলিফোন আসার কথা সচরাচর আসে না’ — এই পঙ্ক্তিটি কবিতার শিরোনাম ও কেন্দ্রীয় বার্তার পুনরাবৃত্তি। যে টেলিফোন আসার কথা, তা সচরাচর আসে না। অপেক্ষা করলেও তা আসে না। এটি না-পাওয়ার চিরন্তন সত্য।
প্রশ্ন ৬: পূর্ণেন্দু পত্রী সম্পর্কে সংক্ষেপে বলুন۔
পূর্ণেন্দু পত্রী (১৯৩০-১৯৯৭) বাংলা সাহিত্যের একজন শক্তিমান কবি, গীতিকার ও নাট্যকার। তিনি ‘কথোপকথন’, ‘তুমি এলে সূর্যোদয় হয়’, ‘এই পথে দেখি যে যাই’ প্রভৃতি কালজয়ী গানের রচয়িতা। তাঁর কবিতায় প্রেম, প্রকৃতি ও জীবনদর্শনের গভীর প্রকাশ ঘটে۔
ট্যাগস: যে টেলিফোন আসার কথা, পূর্ণেন্দু পত্রী, পূর্ণেন্দু পত্রীর কবিতা, যে টেলিফোন আসার কথা কবিতা, বাংলা প্রেমের কবিতা, অপেক্ষার কবিতা, না-পাওয়ার কবিতা






