কবিতার খাতা
- 22 mins
নিজের আয়না – শঙ্খ ঘোষ।
আমি দশদিকে চাই, আমার অসুখ ছিল সারাদিন
এখন বাহিরবেলা, স্তব্ধ হাতে দাঁড়িয়েছ তুমি।
আমার কি দেনা ছিল? আমি তো অনেকদিন দায়হীন—
শরীরে অঘ্রান আর সারাবেলা ঝরে বনভূমি।
গোধুলিশহর তুমি খুলে নাও জরিসুতো, ছাড়ো টান
আমার দু-চোখে নীল ধরেছি ভিক্ষার বাটি, জল
দ্রুতমুকুরের ছায়া কিছু-কিছু দিঘিভরা অবসান
এখন আমার পথে পথিকজটিল পদতল।
আমি দশদিকে যাই, আমার অসুখ পায়ে বাসা বাঁধে
এতদূর দীর্ঘ স্নেহ, আমারই কি তবে কোনো দায়?
কিছুই জানি না ঠিক কতদূর যাওয়া যাবে অবসাদে
কত প্রতিহত পথ আমার নিজের আয়নায়।
আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। শঙ্খ ঘোষ।
নিজের আয়না – শঙ্খ ঘোষ | নিজের আয়না কবিতা | শঙ্খ ঘোষের কবিতা | বাংলা কবিতা
নিজের আয়না: শঙ্খ ঘোষের আত্মান্বেষণ, অসুখ ও অস্তিত্বের অসাধারণ কাব্যভাষা
শঙ্খ ঘোষের “নিজের আয়না” কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের একটি অনন্য সৃষ্টি, যা আত্মান্বেষণ, অসুখ, অস্তিত্ব ও আত্মপরিচয়ের এক গভীর কাব্যিক অন্বেষণ। “আমি দশদিকে চাই, আমার অসুখ ছিল সারাদিন / এখন বাহিরবেলা, স্তব্ধ হাতে দাঁড়িয়েছ তুমি।” — এই পঙ্ক্তি দিয়ে শুরু হওয়া কবিতাটি ধীরে ধীরে উন্মোচিত করে এক জটিল মানসিক অবস্থার কথা, যেখানে কবি নিজের আয়নায় নিজেকে দেখছেন, নিজের অসুখ, নিজের দায়, নিজের পথ অন্বেষণ করছেন। শঙ্খ ঘোষ (১৯৩২-২০২১) বাংলা কবিতার এক কিংবদন্তি কবি, প্রাবন্ধিক ও শিক্ষাবিদ। তাঁর কবিতায় দর্শন, অস্তিত্ব, সময় ও মানবিক সম্পর্কের গভীর প্রকাশ ঘটে। “নিজের আয়না” তাঁর একটি বহুপঠিত কবিতা যা আত্মান্বেষণ ও অস্তিত্বের সংকটকে অসাধারণভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।
শঙ্খ ঘোষ: দার্শনিক চিন্তার কবি
শঙ্খ ঘোষ (১৯৩২-২০২১) বাংলা কবিতার এক কিংবদন্তি কবি, প্রাবন্ধিক ও শিক্ষাবিদ। তিনি ১৯৩২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি চাঁদপুরে (বর্তমান বাংলাদেশ) জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মণীন্দ্রচন্দ্র ঘোষ এবং মাতা রেণুকা দেবী। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন এবং দীর্ঘদিন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘দিনগুলি রাতগুলি’ (১৯৫৬) তাঁকে খ্যাতি এনে দেয়। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘মুখ ঢাকে সেই মুখ’, ‘বাবরের প্রার্থনা’, ‘পাণ্ডুলিপি’, ‘নিহিত পাতার কোলাহল’, ‘শঙ্খ ঘোষের শ্রেষ্ঠ কবিতা’ প্রভৃতি। তাঁর কবিতায় দর্শন, অস্তিত্ব, সময় ও মানবিক সম্পর্কের গভীর প্রকাশ ঘটে। তিনি সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার, জ্ঞানপীঠ পুরস্কার ও পদ্মভূষণে ভূষিত হয়েছেন। তিনি ২০২১ সালে মৃত্যুবরণ করেন। “নিজের আয়না” তাঁর একটি বহুপঠিত কবিতা যা আত্মান্বেষণ ও অস্তিত্বের সংকটকে অসাধারণভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।
নিজের আয়না কবিতার বিস্তারিত বিশ্লেষণ
কবিতার শিরোনামের তাৎপর্য
“নিজের আয়না” শিরোনামটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আয়না — নিজেকে দেখার মাধ্যম। নিজের আয়না — নিজেকে নিজে দেখা, নিজের প্রতিবিম্ব পর্যবেক্ষণ করা। শিরোনামেই কবি ইঙ্গিত দিয়েছেন — এই কবিতা আত্মদর্শনের, আত্মপর্যবেক্ষণের কবিতা। কবি নিজের আয়নায় নিজেকে দেখছেন, নিজের অসুখ, নিজের দায়, নিজের পথ খুঁজছেন।
প্রথম স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“আমি দশদিকে চাই, আমার অসুখ ছিল সারাদিন / এখন বাহিরবেলা, স্তব্ধ হাতে দাঁড়িয়েছ তুমি।” প্রথম স্তবকে কবি তাঁর অবস্থা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন — আমি দশদিকে চাই। আমার অসুখ ছিল সারাদিন। এখন বাহিরবেলা (বিকেল), স্তব্ধ হাতে দাঁড়িয়েছ তুমি।
‘আমি দশদিকে চাই’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘আমি দশদিকে চাই’ — কবি চারিদিকে তাকান, সব দিকে তাকান। তিনি কিছু খুঁজছেন, কিছু দেখতে চান। হয়তো তাঁর পথ, তাঁর লক্ষ্য, তাঁর পরিচয় খুঁজছেন।
‘আমার অসুখ ছিল সারাদিন’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘আমার অসুখ ছিল সারাদিন’ — কবির অসুখ, যা সারা দিন ধরে ছিল। এই অসুখ শারীরিক নাকি মানসিক? সম্ভবত মানসিক অসুখ, অস্তিত্বের অসুখ, আত্মার অসুখ।
‘এখন বাহিরবেলা, স্তব্ধ হাতে দাঁড়িয়েছ তুমি’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘এখন বাহিরবেলা’ — এখন বিকেল। সময়ের এই বিন্দুতে, স্তব্ধ হাতে দাঁড়িয়েছ তুমি। এই ‘তুমি’ কে? প্রেমিকা? নাকি কবির অন্য সত্তা? নাকি পাঠক? দ্বিতীয় ব্যক্তির এই সম্বোধন রহস্যময়।
দ্বিতীয় স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“আমার কি দেনা ছিল? আমি তো অনেকদিন দায়হীন— / শরীরে অঘ্রান আর সারাবেলা ঝরে বনভূমি।” দ্বিতীয় স্তবকে কবি প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেছেন — আমার কি দেনা ছিল? আমি তো অনেকদিন দায়হীন। শরীরে অঘ্রান (হেমন্তের সূর্য) আর সারাবেলা ঝরে বনভূমি।
‘আমার কি দেনা ছিল?’ — প্রশ্নের তাৎপর্য
কবি প্রশ্ন করছেন — আমার কি কোনো দেনা ছিল? অর্থাৎ আমি কি কারও কাছে ঋণী ছিলাম? আমি কি কিছু পাইনি, যা পাওয়ার ছিল? এই প্রশ্ন অস্তিত্বের গভীর থেকে উঠেছে।
‘আমি তো অনেকদিন দায়হীন’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘আমি তো অনেকদিন দায়হীন’ — কবি বলছেন, তিনি অনেকদিন দায়মুক্ত, কোনো দায়িত্ব নেই তাঁর। কিন্তু এই দায়হীনতা কি স্বস্তির? নাকি শূন্যতার?
‘শরীরে অঘ্রান আর সারাবেলা ঝরে বনভূমি’ — প্রকৃতির চিত্রের তাৎপর্য
অঘ্রান — হেমন্তের সূর্য। শরীরে সেই সূর্য লাগছে, আর সারাদিন বনভূমি ঝরে পড়ছে। এটি একটি বিষণ্ণ, নস্টালজিক চিত্র।
তৃতীয় স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“গোধুলিশহর তুমি খুলে নাও জরিসুতো, ছাড়ো টান / আমার দু-চোখে নীল ধরেছি ভিক্ষার বাটি, জল” তৃতীয় স্তবকে কবি আবার সেই ‘তুমি’কে সম্বোধন করেছেন। তিনি বলেছেন — গোধুলিশহর তুমি, খুলে নাও জরিসুতো, ছাড়ো টান। আমার দু-চোখে নীল ধরেছি ভিক্ষার বাটি, জল।
‘গোধুলিশহর তুমি’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘গোধুলিশহর’ — গোধূলির শহর। গোধূলি সন্ধ্যা, দিনের শেষ। সেই গোধূলির শহরে বসবাসকারী তুমি। এটি একটি রূপক, সম্ভবত প্রেমিকা বা কল্পিত নারীকে বোঝানো হয়েছে।
‘খুলে নাও জরিসুতো, ছাড়ো টান’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
জরিসুতো — জরি দিয়ে তৈরি সুতো, যা সম্ভবত বন্ধনের প্রতীক। কবি বলছেন — সেই সুতো খুলে নাও, টান ছাড়ো। অর্থাৎ সম্পর্কের বন্ধন শিথিল করো।
‘আমার দু-চোখে নীল ধরেছি ভিক্ষার বাটি, জল’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
কবির দু-চোখে নীল ধরেছে — নীল রং, যা বিষাদ বা গভীরতার প্রতীক। তিনি ভিক্ষার বাটি ধরেছেন, জলের জন্য? এটি এক করুণ চিত্র — কবি ভিক্ষুকের মতো দাঁড়িয়ে, জলের জন্য হাত পেতে।
চতুর্থ স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“দ্রুতমুকুরের ছায়া কিছু-কিছু দিঘিভরা অবসান / এখন আমার পথে পথিকজটিল পদতল।” চতুর্থ স্তবকে কবি পথের কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন — দ্রুতমুকুরের ছায়া কিছু-কিছু, দিঘিভরা অবসান। এখন আমার পথে পথিকজটিল পদতল।
‘দ্রুতমুকুরের ছায়া’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
দ্রুতমুকুর — দ্রুত গতির আয়না? ছায়া — প্রতিবিম্ব। দ্রুতমুকুরের ছায়া অর্থাৎ ক্ষণস্থায়ী প্রতিবিম্ব। যা কিছু সময়ের জন্য দেখা যায়, তারপর মিলিয়ে যায়।
‘দিঘিভরা অবসান’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
দিঘিভরা অবসান — দিঘি ভর্তি হয়ে শেষ। দিঘি যেমন জলে ভর্তি, তেমনি অবসানও ভর্তি। এটি একটি অস্পষ্ট, রহস্যময় চিত্র।
‘এখন আমার পথে পথিকজটিল পদতল’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘পথিকজটিল পদতল’ — পথিকদের জটিল পদচিহ্ন। এখন তাঁর পথে অনেক পথিকের পদচিহ্ন, জটিল, বিশৃঙ্খল। তিনি একা নন, কিন্তু সেই ভিড়েও তিনি একা।
পঞ্চম স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“আমি দশদিকে যাই, আমার অসুখ পায়ে বাসা বাঁধে / এতদূর দীর্ঘ স্নেহ, আমারই কি তবে কোনো দায়?” পঞ্চম স্তবকে কবি আবার তাঁর অসুখের কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন — আমি দশদিকে যাই, আমার অসুখ পায়ে বাসা বাঁধে। এতদূর দীর্ঘ স্নেহ, আমারই কি তবে কোনো দায়?
‘আমার অসুখ পায়ে বাসা বাঁধে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
অসুখ পায়ে বাসা বাঁধে — অর্থাৎ অসুখ তাঁর সাথে সাথে চলে, তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপে সঙ্গ দেয়। তিনি যান দশদিকে, কিন্তু অসুখ পিছু ছাড়ে না।
‘এতদূর দীর্ঘ স্নেহ, আমারই কি তবে কোনো দায়?’ — প্রশ্নের তাৎপর্য
‘দীর্ঘ স্নেহ’ — দীর্ঘদিনের স্নেহ, ভালোবাসা। এই স্নেহ এত দূর পর্যন্ত এসেছে। কিন্তু তাঁর কি কোনো দায় আছে? তিনি কি কাউকে কিছু দেন? নাকি শুধু গ্রহণ করছেন?
ষষ্ঠ স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“কিছুই জানি না ঠিক কতদূর যাওয়া যাবে অবসাদে / কত প্রতিহত পথ আমার নিজের আয়নায়।” ষষ্ঠ স্তবকে কবি চূড়ান্ত সত্য বলেছেন। তিনি বলেছেন — কিছুই জানি না ঠিক, কতদূর যাওয়া যাবে অবসাদে। কত প্রতিহত পথ আমার নিজের আয়নায়।
‘কিছুই জানি না ঠিক’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
কবি স্বীকার করছেন — তিনি কিছুই জানেন না ঠিক। তাঁর কোনও নিশ্চয়তা নেই, কোনও জ্ঞান নেই। এটি অস্তিত্বের অনিশ্চয়তার স্বীকারোক্তি।
‘কতদূর যাওয়া যাবে অবসাদে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
অবসাদ — ক্লান্তি, বিষণ্ণতা। কবি প্রশ্ন করছেন — এই অবসাদ নিয়ে কতদূর যাওয়া যাবে? অবসাদের শেষ কোথায়?
‘কত প্রতিহত পথ আমার নিজের আয়নায়’ — শেষ পঙ্ক্তির তাৎপর্য
এই পঙ্ক্তিটি কবিতার শিরোনাম ও কেন্দ্রীয় বার্তা। নিজের আয়নায় তিনি দেখতে পান কত প্রতিহত পথ। অর্থাৎ তিনি তাঁর জীবনে কত পথে হেঁটেছেন, কত পথ প্রতিহত হয়েছে, বাধা পেয়েছে — তা তিনি নিজের আয়নায় দেখতে পান। আয়না তাঁর জীবনের প্রতিফলন দেখায়, সেই প্রতিফলনে তিনি দেখেন তাঁর ব্যর্থতা, তাঁর বাধা, তাঁর পথের জটিলতা।
কবিতার সামগ্রিক তাৎপর্য
“নিজের আয়না” কবিতাটি আত্মান্বেষণ, অসুখ ও অস্তিত্বের এক গভীর অন্বেষণ। কবি শুরুতে বলেছেন — তিনি দশদিকে চান, তাঁর অসুখ ছিল সারাদিন। এখন বাহিরবেলা, স্তব্ধ হাতে দাঁড়িয়েছেন ‘তুমি’। তিনি প্রশ্ন করেন — তাঁর কি দেনা ছিল? তিনি তো অনেকদিন দায়হীন। তিনি ‘গোধুলিশহর’কে বলেন — জরিসুতো খুলে নাও, টান ছাড়ো। তাঁর চোখে নীল ধরেছে, তিনি ভিক্ষার বাটি নিয়ে দাঁড়িয়ে। দ্রুতমুকুরের ছায়া, দিঘিভরা অবসান। তাঁর পথে পথিকজটিল পদতল। তিনি দশদিকে যান, অসুখ পায়ে বাসা বাঁধে। এতদূর দীর্ঘ স্নেহ, তাঁর কি কোনো দায়? তিনি কিছুই জানেন না — কতদূর যাওয়া যাবে অবসাদে, কত প্রতিহত পথ তাঁর নিজের আয়নায়। কবিতাটি অস্তিত্বের অনিশ্চয়তা, আত্মপরিচয়ের সংকট, জীবনের জটিলতা ও অসুখের এক গভীর চিত্র তুলে ধরেছে।
নিজের আয়না কবিতা সম্পর্কে প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন ১: নিজের আয়না কবিতার লেখক কে?
নিজের আয়না কবিতার লেখক শঙ্খ ঘোষ (১৯৩২-২০২১)। তিনি বাংলা কবিতার এক কিংবদন্তি কবি, প্রাবন্ধিক ও শিক্ষাবিদ। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘দিনগুলি রাতগুলি’ (১৯৫৬) তাঁকে খ্যাতি এনে দেয়। তিনি জ্ঞানপীঠ পুরস্কার ও পদ্মভূষণে ভূষিত হয়েছেন।
প্রশ্ন ২: নিজের আয়না কবিতার মূল বিষয়বস্তু কী?
নিজের আয়না কবিতার মূল বিষয়বস্তু হলো আত্মান্বেষণ, অসুখ ও অস্তিত্বের অন্বেষণ। কবি নিজের আয়নায় নিজেকে দেখছেন, নিজের অসুখ, নিজের পথ, নিজের প্রতিহত হওয়া পথগুলো দেখছেন। তিনি প্রশ্ন করছেন — তাঁর কি দেনা ছিল? তাঁর কি কোনো দায় আছে? তিনি জানেন না কতদূর যাওয়া যাবে অবসাদে।
প্রশ্ন ৩: ‘আমি দশদিকে চাই’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘আমি দশদিকে চাই’ — কবি চারিদিকে তাকান, সব দিকে তাকান। তিনি কিছু খুঁজছেন, কিছু দেখতে চান। হয়তো তাঁর পথ, তাঁর লক্ষ্য, তাঁর পরিচয় খুঁজছেন। এটি আত্মান্বেষণের প্রথম ধাপ।
প্রশ্ন ৪: ‘গোধুলিশহর তুমি’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘গোধুলিশহর তুমি’ — গোধুলিশহর অর্থ গোধূলির শহর। গোধূলি সন্ধ্যা, দিনের শেষ। সেই গোধূলির শহরে বসবাসকারী তুমি। এটি একটি রূপক, সম্ভবত প্রেমিকা বা কল্পিত নারীকে বোঝানো হয়েছে, যিনি সন্ধ্যার শহরে বাস করেন — একটি রহস্যময়, কল্পিত সত্তা।
প্রশ্ন ৫: ‘কত প্রতিহত পথ আমার নিজের আয়নায়’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘কত প্রতিহত পথ আমার নিজের আয়নায়’ — এই পঙ্ক্তিটি কবিতার শিরোনাম ও কেন্দ্রীয় বার্তা। নিজের আয়নায় তিনি দেখতে পান কত প্রতিহত পথ। অর্থাৎ তিনি তাঁর জীবনে কত পথে হেঁটেছেন, কত পথ প্রতিহত হয়েছে, বাধা পেয়েছে — তা তিনি নিজের আয়নায় দেখতে পান। আয়না তাঁর জীবনের প্রতিফলন দেখায়, সেই প্রতিফলনে তিনি দেখেন তাঁর ব্যর্থতা, তাঁর বাধা, তাঁর পথের জটিলতা।
প্রশ্ন ৬: শঙ্খ ঘোষ সম্পর্কে সংক্ষেপে বলুন।
শঙ্খ ঘোষ (১৯৩২-২০২১) বাংলা কবিতার এক কিংবদন্তি কবি, প্রাবন্ধিক ও শিক্ষাবিদ। তিনি ১৯৩২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি চাঁদপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘দিনগুলি রাতগুলি’ (১৯৫৬) তাঁকে খ্যাতি এনে দেয়। তাঁর কবিতায় দর্শন, অস্তিত্ব, সময় ও মানবিক সম্পর্কের গভীর প্রকাশ ঘটে। তিনি জ্ঞানপীঠ পুরস্কার ও পদ্মভূষণে ভূষিত হয়েছেন।
ট্যাগস: নিজের আয়না, শঙ্খ ঘোষ, শঙ্খ ঘোষের কবিতা, নিজের আয়না কবিতা, বাংলা কবিতা, আধুনিক বাংলা কবিতা, আত্মান্বেষণের কবিতা, অস্তিত্বের কবিতা





