বাতাসী – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী।

‘বাতাসী! বাতাসী! — লোকটা ভয়ঙ্কর চেঁচাতে চেঁচাতে
গুমটির পিছন দিকে ছুটে গেল।
ধাবিত ট্রেনের থেকে এই দৃশ্য চকিতে দেখলুম।
কে বাতাসী? জোয়ান লোকটা অত ভয়ঙ্করভাবে
তাকে ডাকে কেন? কেন
হাওয়ার ভিতরে বাবরি-চুল উড়িয়ে
পাগলের মত
‘বাতাসী! বাতাসী!’ বলে ছুটে যায়?

টুকরো-টুকরো কথাগুলি ইদানীং যেন বড় বেশী
গোঁয়ার মাছির মত
জ্বালাচ্ছে। কে যেন কাকে বাসের ভিতরে
বলেছিল, ‘ভাবতে হবে না,
এবারে দুদ্দাড় করে হেমাঙ্গ ভীষণভাবে উঠে যাবে, দেখে নিস।’
কে হেমাঙ্গ? কে জানে, এখন
সত্যিই দুদ্দাড় করে সে কোথাও উঠে যাচ্ছে কি না।
কিংবা সেই ছেলেটা, যে ট্রাম-স্টপে দাঁড়িয়ে পাশের
মেয়েটাকে অদ্ভূত কঠিন স্বরে বলেছিল
‘চুপ করো, নাহলে আমি
সেইরকম শাস্তি দেব আবার’ — কে জানে
‘সেইরকম’ মানে কী-রকম। আমি ভেবে যাচ্ছি,
ক্রমাগত ভেবে যাচ্ছি, তবু
গল্পের সবটা যেন নাগালে পাচ্ছি না।

গল্পের সবটা আমি নাগালে পাব না।
শুধু শুনে যাব। শুধু এখানে ওখানে,
অথবা ফুটপাথে, কিংবা ট্রেনের জানলায়
টুকরো-টুকরো কথা শুনব, শুধু শুনে যাব। আর
হঠাৎ কখনও কোনো ভুতুড়ে দুপুরে
কানে বাজবে : ‘বাতাসী! বাতাসী!’

আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর কবিতা।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest

0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x