admin

admin

বাংলাদেশ – দাউদ হায়দার।

দুর্মর - সুকান্ত ভট্টাচার্য।

লক্ষ মানুষ বিলিয়ে দিয়েতোমায় পেলুম একটি নামে-স্বাধীনতাতোমার শরীর রক্তে মাখা চোখের জলে সিনান করে উঠে এলে রণপায়ে;দীপ্ত চোখে ইস্টেনগান ফেলে দিয়ে বুকের ভেতরে জড়িয়ে নিয়েচুমু দিলাম আদর করেপাড়ার লোকে দেখতে এলো মালা হাতেভুলে গেলো দুঃখাবলী, কঠিন শোক, অত্যাচারী রাজার কথা-এখন…

একজন মুক্তিযোদ্ধার আত্মসমর্পণ – রফিক আজাদ।

দুর্মর - সুকান্ত ভট্টাচার্য।

বলেছিলামস্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করবো তোমার কাছে একদিন।কেবল কিছুটা সময় চেয়ে নিয়েছিলামতোমার কাছে নতজানু হয়ে, ভিক্ষুকের দীনতায়।সময় দিয়েছিলে:তোমারও স্বার্থ ছিলো,আমার স্বার্থ তোমাকে উদ্ধার করা;তোমার দারুণ বন্দীদশা আমার সহ্য হয়নি আমার লোভ ছিলো:মুক্ত বাংলায় আবার তোমার নুপুর নিক্কন শুনবো,তোমার সঙ্গে জড়াবো নিজের ভাগ্যকে;আমার…

শহীদ স্মরণে – মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান।

দুর্মর - সুকান্ত ভট্টাচার্য।

কবিতায় আর কি লিখব?যখন বুকের রক্তে লিখেছিএকটি নাম বাংলাদেশ। গানে আর ভিন্ন কি সুখের ব্যঞ্জনা?যখন হানাদার বধ সংগীতেঘৃণার প্রবল মন্ত্রে জাগ্রতস্বদেশের তরুণ হাতেনিত্য বেজেছে অবিরামমেশিনগান, মর্টার, গ্রেনেড। কবিতায় কি বলব?যখন আসাদমনিরামপুরের প্রবল শ্যামলহৃদয়ের তপ্ত রুধিরে করেছে রঞ্জিতসারা বাংলায় আজ উড্ডীনসেই…

বীরাঙ্গনা – হাসান হাফিজুর রহমান।

দুর্মর - সুকান্ত ভট্টাচার্য।

তোমাদের ঠোঁটে দানবের থুথু,স্তনে নখরের দাগ, সর্বাঙ্গে দাঁতালের ক্ষতচিহ্ন প্রাণান্ত গ্লানিকর।লুট হয়ে গেছে তোমাদের নারীত্বের মহার্ঘ মসজিদ। উচ্ছিষ্টের দগদগে লাঞ্ছনা তোমরাপরিত্যক্ত পড়ে আছ জীবনের ধিকৃত অলিন্দে নাকচ তাড়িত। এখন চাও কি তোমরা?বুক চিরে হৃদপিণ্ড টেনে ছুঁড়ে ফেলে দিতে দূরে?শাড়ীর আঁচলে…

বাঙলা ছাড়ো – সিকান্দার আবু জাফর।

দুর্মর - সুকান্ত ভট্টাচার্য।

রক্ত চোখের আগুন মেখে ঝলসে যাওয়াআমার বছরগুলোআজকে যখন হাতের মুঠোয়কণ্ঠনালীর খুনপিয়াসী ছুরি,কাজ কি তবে আগলে রেখে বুকের কাছেকেউটে সাপের ঝাঁপি।আমার হাতেই নিলাম আমারনির্ভরতার চাবি:তুমি আমার আকাশ থেকেসরাও তোমার ছায়াতুমি বাঙলা ছাড়ো। অনেক মাপের অনেক জুতোর দামেতোমার হাতে দিয়েছি ফুলহৃদয়-সুরভিতসে-ফুল খুঁজে…

সার্চ – আহসান হাবীব।

দুর্মর - সুকান্ত ভট্টাচার্য।

‘হল্ট’ বলে হুঙ্কার ছেড়েই যম সামনে খাড়ালোমশ কর্কশ হাত ঢুকে গেলো প্যান্টের পকেটেকিছু পয়সা, দুটি ফুল সুতোর বান্ডিলঅতঃপরভারী হাতে কোমার জরীপ। কিছু নেই।কুছ নেহি। বোমাওমা? সাচ্ সাচ্ বাতাও, নেহি…দেখুন দেখুন নিজেই নিজের হাতে শার্টের প্যান্টের সব পকেট ওল্টায়বলে দেখুন দেখুনছেলেটির…

ঘুরে দাঁড়াবার আগে – আরণ্যক বসু।

ঘুরে দাঁড়াবার আগে - আরণ্যক বসু।

উল্লাসের সেই কালবেলায়, মনে আছে,কারা ছিল বাঁ আর ডান পাশে?আম-আদমির কথা বলার আগে দেখে নিয়েছিলেন কি,কতটা আত্মগত বিশ্বাস আর বুক ওথলানো ভালোবাসা ছিল?নাকি, এক স্তব্ধ সন্ধ্যায় হঠাৎ ঘুরে প্রথম দেখলামস্টেশান রোডে আপনি ছাড়া কেউ নেই! সুমো থেকে সাইকেলে ফিরে যাবার…

বাঁশিওআলা – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

বাঁশিওআলা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

“ওগো বাঁশিওআলা,বাজাও তোমার বাঁশি,শুনি আমার নূতন নাম”— এই বলে তোমাকে প্রথম চিঠি লিখেছি,মনে আছে তো?আমি তোমার বাংলাদেশের মেয়ে।সৃষ্টিকর্তা পুরো সময় দেন নিআমাকে মানুষ করে গড়তে–রেখেছেন আধাআধি করে।অন্তরে বাহিরে মিল হয় নিসেকালে আর আজকের কালে,মিল হয় নি ব্যথায় আর বুদ্ধিতে,মিল হয়…

বর্ষণমালা – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়।

বর্ষণমালা – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

১.এক পশলা বৃষ্টি খেয়ে বেড়াতে বেরুলো ছটফটেকিশোরী নদীটিসরল কদমগাছের দিকে চোখ টিপে বললো, যাবি?আকাশ একটু একটু করে নেমে আসছে, আবার উঠছে।আবার নামছেকলাগাছের ছেড়া পাতায় কে যেন বাজাচ্ছে বাঁশিও বাঁশিওয়ালা, তুমি একবার ফুরুস ফুলগুলোকে কাঁদাবে না?পেঁপেগাছের পিঁপড়ে ঝাঁপ দিল মহাশূন্যেমাটি থেকে…

কিছু মনে নেই – আল মাহমুদ।

গোলামের গর্ভধারিণী - হুমায়ুন আজাদ

কাল আমি আমার মা’র সাথে অনেকক্ষণ কথা বলেছি।অদ্ভুত বৃদ্ধা। একদা আমাকে জন্ম দিয়েছিলেন। সম্ভবতএখন বিশ্বাস হতে চায় না। যখন মিটমিট করেআমাকে দেখলেন। আমার গরম লাগছিল।আমি বললাম, চলো মা আমরা একটু চা খাই,বুড়ি হেসে তসবীহ টিপতে লাগলেন,তোর যেখানে জন্ম হয়েছিলো, মনে…