বেহুলা – মোহাম্মদ রফিক।

আমি তবে লখিন্দর
তোমারে অমর করে যাব,

ভাসতে দাও ঢেউয়ে-ঢেউয়ে নিম্নগামী স্রোতে
গলিত মাংসের পিন্ড ঝরে পড়বে জলে,

আনন্দে মাতাল হবে মৎস্য-পরিবার,
কামনা দংশিছে যারে কাকে বা সে দোষারোপ করে,

বজ্রবিদ্যুতের শিখা বিদ্ধ করে শস্যের ভান্ডার
নয় সর্প দুর্ভাগ্যের কালচক্র নয়,

ফিরে চলো, কাজ নেই দেবতাকে তুষ্ট করে,
স্বর্গ বড়ো পরিহাসপরায়ন,

তোমার নৃত্যের মুদ্রা আলোকিত করুক ব্রহ্মাণ্ড
বেদানার্ত পিচ্ছিল দেহের ভাজে-ভাজে

কলকণ্ঠ প্রকৃতির পাখ-পাখালির কলতান
দু’ঠোটের ফাঁকে বসে থাক নক্ষত্রের মেলা

মুক্তি পাক মানুষের দমিত বাসনা
ঘাটে মাঠে উচ্চারিত আকাক্সক্ষার নাদ

জীয়নের মন্ত্রধ্বনি কবিতায় পংক্তি বিন্যাসে
সব সাধনায় জন্মসাক্ষী সঙ্গীতের তান লয়

লোহার গরাদ খুলে যায় স্বর্গে মর্ত্যে
বন্ধিশালা থেকে অবশেষে মুক্ত সব অবরুদ্ধ চেতনা-চৈতন্য

কিংবদন্তি যুগ-যুগান্তরে
প্রাণ পাবে মাটিতে ও জলে,

এক একটি মৃত্যুমুখী
শতাব্দীর কালঘুম টুটে গেল!

আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। মোহাম্মদ রফিকের কবিতা।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest

0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x