রবীন্দ্রনাথ – শহীদ কাদরী।

আমাদের চৈতন্যপ্রবাহে তুমি ট্রাফিক আইল্যাণ্ড
হে রবীন্দ্রনাথ!
দাঁড়িয়ে আছো যেন
সোনালি, অক্ষম পুলিশ এক,
সর্বদা জ্বলছে তোমার লাল, নীল, সবুজ
সিগন্যাল,
বাংলাদেশ নামে একফোঁটা অচেনা স্টেশনে
পৌঁছুতে হ’লে
নিজের সমস্ত বিষয়-আশয় বেচে দিয়ে
তোমার কাছ থেকে কিনে নিতে হবে নাকি
আমার টিকিট?

তোমার স্বদেশে, কবি, আমরা কয়েকজন
ট্যুরিস্টের মতো আজো
ঘুরছি ফিরছি
ড্রাগস্টোরের আশপাশে,
ঝুলিয়ে স্টেথিসকোপ নিঃশব্দে তুমি হেঁটে গেছো
কিছুক্ষণ আগে;
অথচ করিডোরের সারি সারি টুল-বেঞ্চির ওপর
আমিও ছিলাম ব’সে
অচিকিৎস্য রোগীদের মলিন কাতারে।

হে অলীক ডাক্তার, তুমি আমাদের
ডাক-বিভাগ থেকে
পাও নি আমার পোস্টকার্ড কোনো?
আমি তো এক তোড়া চিঠি লিখে
প্রাঞ্জল ভাষায়
ব্যামোর বর্ণনাগুলো সযত্নে দিয়েছি।

ভ্রূক্ষেপ করো নি তুমি, তবু জনশ্রুতি
যেহেতু সহায়
আমি তাই তোমাকে এক আলমিরা
নিদ্রার বর্ণালি বড়ি ভেবে শঙ্কিত, সন্ত্রস্ত রাতে
নির্ভয়ে বাড়িতে ফিরে
জামা-না-খুলেই
নিঃশব্দে চিৎপাত হয়ে
রাতভর দেখেছি কেবল ওষুধের শিশির মতন
নক্ষত্রের উজ্জ্বল তরল
ফোঁটায়-ফোঁটায়
ঝ’রে পড়ছে ঠোঁট-তালু-জিহ্বাহীন বধির ফুটপাতে।

জানি, চিকিৎসক নও তুমি
কিম্বা ড্রাগস্টোরের কোনো ওষুধ বিক্রেতা;
দিনের শুরুতে তুমি,
মিশে আছো অন্ত্রের অম্লরসে,
অনিদ্র রাতের ভোরে যেন টেবিলে সাজানো প্রাতঃরাশ
লমেধার ভেতরে তুমি, মজ্জায়, শিরায়, মর্মে
ওঁৎ পেতে
শিকারী বেড়ালের মতো
নিয়ে গেছো আমাদের সবগুলো সোনালি-রূপালি মাছ;
রবিনহুডের মতো লুট ক’রে
আমাদের বিব্রত বাণিজ্যালয়, বিস্ফারিত ব্যাঙ্ক
সব টাকা-পয়সা ফের বিতরণ ক’রে দিলে
যে ফকির মিসকিনের ভীড়ে,
আমি সেই মিছিল থেকে খ’সে প’ড়ে
একটি চকচকে টাকা
আঙুলের নিপুণ তুড়িতে গীটারের মতো
বাজিয়ে চলেছি
যেখানে—
তুমি সে রাতের পার্কে আমার আলো-জ্বলা
অন্তিম রেস্তোরাঁ।

আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। শহীদ কাদরীর কবিতা।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest

0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x