আপনি এসেছিলেন রবীন্দ্রনাথ – আরণ্যক বসু।

আপনার না থাকার যে অনিবার্য বিপন্নতা,
সে তো আমাদের সামাজিক আকাশ ছেয়ে থাকে।
পঁচিশের জুই ও রজনীগন্ধা প্রতিদিনের থেকে অন্য কোনো
পাগল করা সুবাতাস বয়ে আনে ভোর থেকে সকালে।

তীব্র গ্রীষ্ম দুপুরটুকু কোনমতে পার হয়ে,
যে মুহূর্তে শান্ত সূর্যাস্তের অন্তিম সিঁদুরে আভা-
সেই ক্ষণকালের আভাস থেকে চিরকালের
সান্ধ্য হাওয়ায় হাওয়ায়, নারী-পুরুষের পোশাকে,
খাঁপার ফুলে, নগ্ন পদক্ষেপে, স্বর্ণচাঁপার আমন্ত্রণে
আপনার অনন্য ও অপ্রাতিষ্ঠানিক উপস্থিতি।
গ্রামীণ আলোর মঞ্চে যখন চিত্রাঙ্গদা,
মঞ্চের বাইরে কোন গৃহস্থ-দাওয়ায়,
তখন অনন্ত পথযাত্রী অমলকে জাগাতে এসেছে সুধা।
ডাকঘরের সুধা।
কবিগুরু, নদী কোপাইয়ের অন্তরঙ্গে যে শেষ চায়ের দোকান,
সেখানেই বাউলের মনপবনের নাওয়ের অন্ধকারে বসে,
চার অধ্যায়ের এলা ও অন্তুকে আপনি কী শোনাচ্ছিলেন?
প্রহর শেষের আলোয় রাঙা সেদিন চৈত্র মাস…

খেউড়ের ভাষা থেকে বহুদূরে, একভাঁড় চায়ের মৌনতায়,
মাইকেল ও জীবনানন্দের কাছে অমিত্রাক্ষর ছন্দ
আর অতি দীর্ঘ পয়ায়ের মাধুর্যে এক আমোদিত বৈভবে,
অনেক রাত থেকে গভীরতম রাতের বৃন্ত পর্যন্ত চুপ করে বসেছিলেন।
বাতাসে গন্ধরাজের এক মুঠো উচ্ছ্বাস বলে গেল-বৃষ্টি আসছে।
গ্রামের শেষ বাউল রাত-আশ্রয়ে ফিরেছে।
দূর দূরান্তের গাঁয়ে পঁচিশে বৈশাখের মঞ্চ ফাঁকা।
পৃথিবী ঘুমিয়ে পড়েছে।
ঘুমহীন আপনি চেয়ে আছেন আসন্ন বৃষ্টি ও
বাইশে শ্রাবণের দিকে।

আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। আরণ্যক বসুর কবিতা।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest

0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x