জন্মদিনের কবিতা – অবশেষ দাস।

তোমাকে ঘরবাড়ি দিতে পারিনি, স্বপ্নের মতো
সাধারণ সাধ-আহ্লাদশূন্য জীবনে
বছরে দুটো শাড়ি, দু-বেলা যেটুকু আমাদের জোটে
সেটুকু তোমাকে মানিয়ে নিতে হয়।
পুরানো বাড়িটা আমাদের আজও আশ্রয়।

তোমার অনেক দিনের ইচ্ছা একবার পুরী যাবে। পারিনি।
আমার সামর্থ্য তোমার সে সাধ পূরণ হতে দেয়নি।
আমার সব-না পারা তোমার গলার হার হয়ে গেছে।

বিবাহবার্ষিকীতে তুমি এক মলাটে আশাপূর্ণার দশটা উপন্যাস চেয়েছিলে।
হেমন্তের আকাশের মতো বিষন্ন এক কবিতা তোমায় দিয়েছি।
আজও বাড়িতে আশাপূর্ণা আসেনি।
ওই পাঁচশ টাকা তোমার সংসারে অনেক অক্সিজেন দেয়।
তুমি ভেবেছ বেমালুম ভুলে গেছি, তোমার জন্মদিন।

মাসের শেষে পকেটে দুশো টাকাও ছিল না
ভেবেছিলাম, ভুলে যাওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

তুমি হয়তো আহত হয়েছ, এই কেজো সংসারের নীরবতা দেখে।
বিষন্ন পদধ্বনি কখনও কখনও পথের বুকের ওপর লুকাতে তো চায়!
কিন্তু বিশ্বাস করো, ঘুমন্ত তোমার কপালে কত ভালবাসা এঁকে দিয়েছি!
একা একা মন্দিরে গিয়েছি

দু-টাকার ফুল কিনে রেখেছি মায়ের চরণে
ভাল রেখো, মা। আমার কুমকুম রঙের সংসার।
আমার ভালবাসা। আর আজকের এই জন্মদিন।
ও ভাল থাকলে ছেলেপুলেও ভাল থাকবে।
জ্যোৎস্নায় ভিজে-যাওয়া রাজকন্যা দার্জিলিঙের সন্ধ্যা
তোমাকে পদ্মের আঁচলে দেখাব বলেছিলাম। পারিনি।

ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে পড়েছে সে প্রতিশ্রুতি।
আজও তীরবিদ্ধ পাখির যন্ত্রণা হয়ে ঝরে পড়ে।

আমাদের আটপৌরে দাওয়ায় অভ্যস্থ জ্যোৎস্না, চরাচর
রাত কাটাতে এলে বেলাভূমি-চোখ নিয়ে চেয়ে চেয়ে দেখি।

পাহাড়ের গাছপালা,
লোকসংগীতের মত ভাটিয়ালি পথ আকাশ ও পৃথিবীর ভালবাসাবাসি
আকুল-করে-তোলা জ্যোৎস্নার ঝরনা
তোমাকেই দেখাতে তো চাই।
তিস্তার হাত ধরে আমরাও নদী হয়ে যাব।
রাতজাগা পাখির কাছে আমরাও পারিজাত নদী হয়ে যাব।

আজ তোমার শুভ জন্মদিন।
আমার কুমকুম রঙের সংসার তোমাকে কিছুই তো দেয়নি।
গভীর দ্যোতনায় ভরা চোখের জল নির্লিপ্ত মুছে নিয়ে
তুমি কীভাবে বলতে পার,
সুখে তো থাকতে নেই। জোনাকির আলোভেজা অরণ্য শান্তিতে আছি।

আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। অবশেষ দাস।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest

0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x