নচিকেতা – বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

কেন ফিরে আস বারবার?
স্মৃতির তুষার থেকে কেঁদে এসে শীতের তুষার
কেন হেঁটে পার হতে চাও?
এমন নির্জন রাতে যেই ভয়ে নক্ষত্র উধাও
অনন্ত আকাশ থেকে, সে নির্মম মেঘের কুয়াশা
কোন সুখে বুকে টান? এ নরকে কিসের প্রত্যাশা?

তুমি কি জান না; যারা আসে
আকণ্ঠ পিপাসা নিয়ে সূর্যহীন এ সৌর আকাশে
চারদিকের মৃত গ্রহদের
কবর, প্রস্তর ভেঙে আসে; তারা নিজেরই রক্তের
পিপাসায় জ্বলে ! কোনোখানে নেই এক ফোঁটা জল;
দীর্ঘশ্বাসে দ্বিখণ্ডিত এ মাটির অশ্রুই সম্বল।

কেন তবে সব ভুলে যাও?
এ প্রেতপুরীর বুকে মুখ রেখে কোন্ সুখ পাও?
আসমুদ্রহিমাচল এই মহাশূন্যের কান্নায়
কেবল পশুর নখ দাগ কাটে; বিষাক্ত হাওয়ায়
সাপের খোলসগুলি ভাসে শুধু; আর
দিন-রাত্রির বুকফাটা ‘নেই নেই নেই’-এর চিৎকার।

সে চিৎকারে স্বর্গ-মর্ত্য টলে
পাথরও চৌচির হতো ভারতবর্ষের বন্ধ্যা পাথর না হ’লে।
জঠরের অসহ্য ক্ষুধায়
ধূমাবতী জন্মভূমি সন্তানের দুর্ভিক্ষের ভাত কেড়ে খায়;
এ কি চিত্র ! নরকের সীমা
চোখ অন্ধ করে দেয়, মুছে দেয় চেতনার সমস্ত নীলিমা।

তাই নিয়ে নচিকেতা,তবু তুমি গড়বে প্রতিমা?
অন্ধ হবে ,বোবা ও বধির
তবু ক্লান্তিহীন,মৃত্তিকায় পুনর্জন্মের অস্থির
জিজ্ঞাসায় মৃত্যুর তুষার
বারবার হেঁটে হবে পার?
অগ্নিদগ্ধ দুই হাতে কতবার খুলবে তুমি যমের দুয়ার?

আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest

0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x