কবিতার খাতা
- 27 mins
শেষ চিঠি – রুদ্র গোস্বামী।
শেষ চিঠি – রুদ্র গোস্বামী | শেষ চিঠি কবিতা | রুদ্র গোস্বামীর কবিতা | বাংলা প্রেমের কবিতা
শেষ চিঠি: রুদ্র গোস্বামীর প্রেম, বিচ্ছেদ ও মৃত্যুর অসাধারণ কাব্যভাষা
রুদ্র গোস্বামীর “শেষ চিঠি” কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের একটি অনন্য সৃষ্টি, যা প্রেম, বিচ্ছেদ, মৃত্যু ও স্মৃতির এক গভীর কাব্যিক অন্বেষণ। “কী করছ অনির্বাণ? আজও নিশ্চই অফিসের কাজ ফেলে / তোমার সুন্দরী পিএকে ডেকে আমার অসুখের গল্প শোনাচ্ছ? / কী ভাবছ, আমি চলে যাব? / সবটুকু আমাকে নিয়ে কী করে যাব! / এটা ভেবেই আমার খুব কষ্ট হচ্ছে অনির্বাণ।” — এই পঙ্ক্তি দিয়ে শুরু হওয়া কবিতাটি ধীরে ধীরে উন্মোচিত করে এক প্রেমিকার শেষ চিঠি, যে মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে তাঁর প্রিয়তমকে উদ্দেশ্য করে লিখছে। রুদ্র গোস্বামী (১৯৫৬-১৯৯১) বাংলা কবিতার এক কিংবদন্তি কবি, যিনি মাত্র ৩৫ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করলেও বাংলা কবিতায় এক অনন্য স্থান দখল করে আছেন। তাঁর কবিতায় প্রেম, মানবতা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও অস্তিত্বের গভীর প্রকাশ ঘটে। “শেষ চিঠি” তাঁর একটি বহুপঠিত কবিতা যা প্রেম ও মৃত্যুর এক অসাধারণ চিত্র।
রুদ্র গোস্বামী: প্রেম ও সাম্যের কবি
রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ (১৯৫৬-১৯৯১) বাংলা কবিতার এক কিংবদন্তি কবি। তিনি ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। মাত্র ৩৫ বছর বয়সে ১৯৯১ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘উপদ্রুত উপকূল’ (১৯৭৮) তাঁকে খ্যাতি এনে দেয়। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা’, ‘ছবির দেশে কবিতার দেশে’, ‘মৌলিক মুখোশ’, ‘বন্দী শিবির থেকে’, ‘নির্বাচিত কবিতা’, ‘শেষ চিঠি’ প্রভৃতি। তাঁর কবিতায় প্রেম, মানবতা, প্রকৃতি, সামাজিক ন্যায়বিচার ও শোষিতের মুক্তির গভীর প্রকাশ ঘটে। তিনি স্বল্প জীবনে বাংলা কবিতায় এক অনন্য স্থান তৈরি করে গেছেন। “শেষ চিঠি” তাঁর একটি বহুপঠিত কবিতা যা প্রেম ও মৃত্যুর এক অসাধারণ চিত্র।
শেষ চিঠি কবিতার বিস্তারিত বিশ্লেষণ
কবিতার শিরোনামের তাৎপর্য
“শেষ চিঠি” শিরোনামটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি একটি চিঠি — শেষ চিঠি। মৃত্যুর আগে লেখা শেষ চিঠি। এই চিঠিতে প্রেমিকা তাঁর প্রিয়তম অনির্বাণকে তাঁর শেষ কথা জানাচ্ছেন। শিরোনামেই কবি ইঙ্গিত দিয়েছেন — এই কবিতা বিদায়ের, শেষবারের মতো বলা কথার কবিতা।
প্রথম স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“কী করছ অনির্বাণ? আজও নিশ্চই অফিসের কাজ ফেলে / তোমার সুন্দরী পিএকে ডেকে আমার অসুখের গল্প শোনাচ্ছ? / কী ভাবছ, আমি চলে যাব? / সবটুকু আমাকে নিয়ে কী করে যাব! / এটা ভেবেই আমার খুব কষ্ট হচ্ছে অনির্বাণ।” প্রথম স্তবকে কবি প্রিয়তমকে সম্বোধন করছেন। তিনি বলেছেন — কী করছ অনির্বাণ? আজও নিশ্চই অফিসের কাজ ফেলে তোমার সুন্দরী পিএকে ডেকে আমার অসুখের গল্প শোনাচ্ছ? কী ভাবছ, আমি চলে যাব? সবটুকু আমাকে নিয়ে কী করে যাব! এটা ভেবেই আমার খুব কষ্ট হচ্ছে অনির্বাণ।
‘অনির্বাণ’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
অনির্বাণ — একটি নাম। কবিতার নায়কের নাম। এই নামের অর্থ — যার নির্বাণ নেই, যার শেষ নেই। হয়তো তাঁর ভালোবাসারও শেষ নেই।
‘তোমার সুন্দরী পিএকে ডেকে আমার অসুখের গল্প শোনাচ্ছ?’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
প্রিয়তম হয়তো তাঁর পিএ (পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট)-কে ডেকে কবির অসুখের গল্প শোনাচ্ছেন। কিন্তু কবি জানেন, তিনি চলে যাবেন।
‘সবটুকু আমাকে নিয়ে কী করে যাব!’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
তিনি চলে গেলে প্রিয়তম তাঁর সবটুকু নিয়ে কীভাবে যাবেন? তাঁকে ছাড়া বাঁচবেন কীভাবে?
দ্বিতীয় স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“আমি জানি, ঘুরেফিরে আমাকে নিয়েই ভাবতে বসবে তুমি। / তোমার সঙ্গে দেখা হয়ে যাবে, আমাদের প্রথম আলাপের। / তুমি ভাববে না অনির্বাণ? খুব লাজুক একটা মেয়ে / চুলে জুঁই মালা গুজে তোমার কাছে এসে দাঁড়িয়েছে প্রথম। / আমি জানি তুমি ভাববে। এটাই তো কষ্ট অনির্বাণ।” দ্বিতীয় স্তবকে কবি প্রথম আলাপের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছেন। তিনি বলেছেন — আমি জানি, ঘুরেফিরে আমাকে নিয়েই ভাবতে বসবে তুমি। তোমার সঙ্গে দেখা হয়ে যাবে, আমাদের প্রথম আলাপের। তুমি ভাববে না অনির্বাণ? খুব লাজুক একটা মেয়ে চুলে জুঁই মালা গুজে তোমার কাছে এসে দাঁড়িয়েছে প্রথম। আমি জানি তুমি ভাববে। এটাই তো কষ্ট অনির্বাণ।
‘প্রথম আলাপের’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
তাঁদের প্রথম দেখা, প্রথম আলাপ। সেই স্মৃতি বারবার ফিরে আসবে প্রিয়তমের মনে।
‘খুব লাজুক একটা মেয়ে চুলে জুঁই মালা গুজে তোমার কাছে এসে দাঁড়িয়েছে প্রথম’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
প্রথম আলাপের দিন কবির রূপ — লাজুক, সরল, সুন্দর। সেই ছবি প্রিয়তমের মনে থাকবে।
‘এটাই তো কষ্ট অনির্বাণ’ — পুনরাবৃত্তির তাৎপর্য
প্রতিটি স্তবকের শেষে ‘এটাই তো কষ্ট অনির্বাণ’ বা ‘এটাই তো কষ্ট আমার’ পুনরাবৃত্তি হয়েছে। এই পুনরাবৃত্তি কবির কষ্টের গভীরতা নির্দেশ করে।
তৃতীয় স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“তোমার মনে পড়বে না? বিকেলের জাফরিকাটা রোদ / তোমার জানালা দিয়ে আলো ফেলতেই, / শাড়ি গায়ে স্কুল হেঁটে ফিরত কিশোরী মেয়েটা? / আমি জানি, খুব মনে পড়বে তোমার। তুমি মনে মনে পাবে / আমাকে, সামনে পাবে না। এটাই তো কষ্ট অনির্বাণ।” তৃতীয় স্তবকে কবি আরেকটি স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছেন। তিনি বলেছেন — তোমার মনে পড়বে না? বিকেলের জাফরিকাটা রোদ তোমার জানালা দিয়ে আলো ফেলতেই, শাড়ি গায়ে স্কুল হেঁটে ফিরত কিশোরী মেয়েটা? আমি জানি, খুব মনে পড়বে তোমার। তুমি মনে মনে পাবে আমাকে, সামনে পাবে না। এটাই তো কষ্ট অনির্বাণ।
‘বিকেলের জাফরিকাটা রোদ’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
জাফরিকাটা রোদ — হলুদ আভা দেওয়া বিকেলের রোদ। সেই সময় কিশোরী মেয়েটি স্কুল থেকে ফিরত।
‘তুমি মনে মনে পাবে আমাকে, সামনে পাবে না’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
প্রিয়তম তাঁকে স্মৃতিতে পাবেন, কিন্তু বাস্তবে পাবেন না। এই বেদনাই কবির কষ্ট।
চতুর্থ স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“আমি জানি, অফিস ফেরত দরজায় দাঁড়িয়ে / অভ্যাসমতো আমাকে তুমি ডাকবে। / স্নানের পরে আয়নায় লাগানো টিপ দেখে, বেডরুমে, কিচেনে, / ছাদে আমাকেই খুঁজবে। তুমি খুঁজবে না অনির্বাণ? / আমি জানি খুব খুঁজবে। এটাই তো কষ্ট আমার।” চতুর্থ স্তবকে কবি প্রিয়তমের অভ্যাসের কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন — আমি জানি, অফিস ফেরত দরজায় দাঁড়িয়ে অভ্যাসমতো আমাকে তুমি ডাকবে। স্নানের পরে আয়নায় লাগানো টিপ দেখে, বেডরুমে, কিচেনে, ছাদে আমাকেই খুঁজবে। তুমি খুঁজবে না অনির্বাণ? আমি জানি খুব খুঁজবে। এটাই তো কষ্ট আমার।
‘অভ্যাসমতো আমাকে তুমি ডাকবে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
অভ্যাস হয়ে গেছে — বাড়ি ফিরে প্রিয়তমাকে ডাকা। সেই অভ্যাস থেকে যাবে, কিন্তু প্রিয়তমা থাকবে না।
‘স্নানের পরে আয়নায় লাগানো টিপ দেখে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
আয়নায় টিপ লাগানো থাকবে, কিন্তু যে টিপ দিয়েছিল সে নেই।
পঞ্চম স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“বড়ো অল্প বয়েসের প্রেম আমাদের বড়ো অল্প বয়েসে ভেসে যাচ্ছে, / অনির্বাণ আমি ঘুমের ওষুধে কী করে ভালো থাকি?” পঞ্চম স্তবকে কবি বয়সের কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন — বড়ো অল্প বয়েসের প্রেম আমাদের বড়ো অল্প বয়েসে ভেসে যাচ্ছে। অনির্বাণ আমি ঘুমের ওষুধে কী করে ভালো থাকি?
‘বড়ো অল্প বয়েসের প্রেম’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
তাঁদের প্রেম খুব কম বয়সে শুরু হয়েছিল। সেই অল্প বয়সেই তা শেষ হয়ে যাচ্ছে।
‘ঘুমের ওষুধে কী করে ভালো থাকি?’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
কবি হয়তো অসুস্থ, ঘুমের ওষুধ খান। কিন্তু তিনি প্রশ্ন করছেন — ওষুধে তিনি কী করে ভালো থাকবেন? মনের কষ্ট ওষুধে যায় না।
ষষ্ঠ স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“যারা ভালোবাসে তাদের কেন অসুখ করবে অনির্বাণ? / বুকে ভালোবাসা দেবে, অথচ এ পৃথিবী ভালোবাসতে সময় দেবে না / এ কেমন নিয়ম? এত চুরমার স্মৃতি নিয়ে তুমি কী করে বাঁচবে? / অসুখের থেকে বেশি এটাই আমার কষ্ট অনির্বাণ।” ষষ্ঠ স্তবকে কবি নিয়মের প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেছেন — যারা ভালোবাসে তাদের কেন অসুখ করবে অনির্বাণ? বুকে ভালোবাসা দেবে, অথচ এ পৃথিবী ভালোবাসতে সময় দেবে না — এ কেমন নিয়ম? এত চুরমার স্মৃতি নিয়ে তুমি কী করে বাঁচবে? অসুখের থেকে বেশি এটাই আমার কষ্ট অনির্বাণ।
‘এ পৃথিবী ভালোবাসতে সময় দেবে না’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
পৃথিবী এত ব্যস্ত, এত কঠিন যে ভালোবাসার জন্য সময় দেয় না। প্রেমিক-প্রেমিকারা সময় পায় না।
‘এত চুরমার স্মৃতি নিয়ে তুমি কী করে বাঁচবে?’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
চুরমার স্মৃতি — ভাঙা-গড়া স্মৃতি। এত স্মৃতি নিয়ে প্রিয়তম কীভাবে বাঁচবেন?
সপ্তম স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“তোমাকে কষ্টে রেখে যাব জেনেও দুটো ঘুমের ওষুধে আমি / কী করে ভালো থাকি?” সপ্তম স্তবকে কবি আবার ওষুধের কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন — তোমাকে কষ্টে রেখে যাব জেনেও দুটো ঘুমের ওষুধে আমি কী করে ভালো থাকি?
অষ্টম স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“চাঁদের আলো ঠিকরে পড়বে, একটা মেয়ে চুলে ফুল গুঁজে / দাঁড়াবে না তোমার সামনে। বৃষ্টি পড়বে, / একটা মেয়ে তোমাকে ছাদে নিয়ে যাবে না ভিজতে। / অথচ এসব দৃশ্য তুমি মনে বয়ে নিয়ে বেড়াবে। / সময় বড্ড কম অনির্বাণ। শুকনো দুটো হাতে তোমার বুকের / এত তোলপাড় স্মৃতি, আমি কী করে কুড়িয়ে নিয়ে যাব?” অষ্টম স্তবকে কবি ভবিষ্যতের কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন — চাঁদের আলো ঠিকরে পড়বে, একটা মেয়ে চুলে ফুল গুঁজে দাঁড়াবে না তোমার সামনে। বৃষ্টি পড়বে, একটা মেয়ে তোমাকে ছাদে নিয়ে যাবে না ভিজতে। অথচ এসব দৃশ্য তুমি মনে বয়ে নিয়ে বেড়াবে। সময় বড্ড কম অনির্বাণ। শুকনো দুটো হাতে তোমার বুকের এত তোলপাড় স্মৃতি, আমি কী করে কুড়িয়ে নিয়ে যাব?
‘চাঁদের আলো ঠিকরে পড়বে, একটা মেয়ে চুলে ফুল গুঁজে দাঁড়াবে না’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
চাঁদ উঠবে, কিন্তু যে মেয়ে চাঁদ দেখতে ভালোবাসত, সে আর নেই।
‘বৃষ্টি পড়বে, একটা মেয়ে তোমাকে ছাদে নিয়ে যাবে না ভিজতে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
বৃষ্টি হবে, কিন্তু যে মেয়ে বৃষ্টিতে ভিজতে নিয়ে যেত, সে আর নেই।
নবম স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“আমার অভাব কুড়িয়ে নিতে পারব না, এটাই তো কষ্ট অনির্বাণ। / এত অভাব তোমার কাছে রেখে আমি কী করে ভালো থাকি? / বড়ো অল্প বয়েসের প্রেম আমাদের বড়ো অল্প বয়েসে ভেসে যাচ্ছে। / দুটো ঘুমের ওষুধে আমি কি করে ঘুমিয়ে থাকি?” নবম স্তবকে কবি শেষ বক্তব্য পেশ করেছেন। তিনি বলেছেন — আমার অভাব কুড়িয়ে নিতে পারব না, এটাই তো কষ্ট অনির্বাণ। এত অভাব তোমার কাছে রেখে আমি কী করে ভালো থাকি? বড়ো অল্প বয়েসের প্রেম আমাদের বড়ো অল্প বয়েসে ভেসে যাচ্ছে। দুটো ঘুমের ওষুধে আমি কি করে ঘুমিয়ে থাকি?
‘আমার অভাব কুড়িয়ে নিতে পারব না’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
প্রিয়তমার অভাব, তাঁর শূন্যতা — তা তিনি পূরণ করতে পারবেন না।
‘দুটো ঘুমের ওষুধে আমি কি করে ঘুমিয়ে থাকি?’ — শেষ প্রশ্নের তাৎপর্য
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই। তিনি জানেন, ঘুমের ওষুধে তিনি ঘুমাতে পারবেন না। কারণ মনের কষ্ট ওষুধে যায় না।
কবিতার সামগ্রিক তাৎপর্য
“শেষ চিঠি” কবিতাটি প্রেম, বিচ্ছেদ ও মৃত্যুর এক অসাধারণ চিত্র। কবি অনির্বাণকে শেষ চিঠি লিখছেন। তিনি জানেন, তিনি চলে যাবেন। তিনি জানেন, অনির্বাণ তাঁকে ভুলতে পারবেন না — প্রথম আলাপের দিন, বিকেলের রোদ, চাঁদের আলো, বৃষ্টি — সব মনে পড়বে। তিনি জানেন, অনির্বাণ অভ্যাসমতো তাঁকে ডাকবে, বাড়ির সব জায়গায় তাঁকে খুঁজবে। তিনি জানেন, অনির্বাণ স্মৃতি নিয়ে বাঁচবে। তিনি প্রশ্ন করেন — যারা ভালোবাসে তাদের কেন অসুখ করে? পৃথিবী কেন ভালোবাসার সময় দেয় না? তিনি জানেন, তাঁর অভাব থেকে যাবে, তিনি তা কুড়িয়ে নিতে পারবেন না। শেষে তিনি প্রশ্ন করেন — দুটো ঘুমের ওষুধে তিনি কী করে ভালো থাকবেন? কী করে ঘুমিয়ে থাকবেন?
শেষ চিঠি কবিতা সম্পর্কে প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন ১: শেষ চিঠি কবিতার লেখক কে?
শেষ চিঠি কবিতার লেখক রুদ্র গোস্বামী (১৯৫৬-১৯৯১)। তিনি বাংলা কবিতার এক কিংবদন্তি কবি। তাঁর কবিতায় প্রেম, মানবতা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও অস্তিত্বের গভীর প্রকাশ ঘটে।
প্রশ্ন ২: শেষ চিঠি কবিতার মূল বিষয়বস্তু কী?
শেষ চিঠি কবিতার মূল বিষয়বস্তু হলো প্রেম, বিচ্ছেদ ও মৃত্যুর বেদনা। কবি অনির্বাণকে শেষ চিঠি লিখছেন। তিনি জানেন তিনি চলে যাবেন। তিনি জানেন অনির্বাণ তাঁকে ভুলতে পারবেন না, স্মৃতি নিয়ে বাঁচবেন। তিনি প্রশ্ন করেন — দুটো ঘুমের ওষুধে তিনি কী করে ভালো থাকবেন?
প্রশ্ন ৩: ‘এটাই তো কষ্ট অনির্বাণ’ — বারবার আসার তাৎপর্য কী?
‘এটাই তো কষ্ট অনির্বাণ’ বারবার আসার মাধ্যমে কবি তাঁর কষ্টের গভীরতা ও তীব্রতা প্রকাশ করেছেন। প্রতিটি স্তবকের শেষে এই পঙ্ক্তি এসেছে, যা কবিতাকে একটি বিশেষ ছন্দ দিয়েছে।
প্রশ্ন ৪: ‘চাঁদের আলো ঠিকরে পড়বে, একটা মেয়ে চুলে ফুল গুঁজে / দাঁড়াবে না তোমার সামনে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘চাঁদের আলো ঠিকরে পড়বে, একটা মেয়ে চুলে ফুল গুঁজে / দাঁড়াবে না তোমার সামনে’ — চাঁদ উঠবে, কিন্তু যে মেয়ে চাঁদ দেখতে ভালোবাসত, সে আর নেই। এই দৃশ্য প্রিয়তমের মনে বেদনা জাগাবে।
প্রশ্ন ৫: ‘দুটো ঘুমের ওষুধে আমি কি করে ঘুমিয়ে থাকি?’ — শেষ প্রশ্নের তাৎপর্য কী?
‘দুটো ঘুমের ওষুধে আমি কি করে ঘুমিয়ে থাকি?’ — এই প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই। তিনি জানেন, ঘুমের ওষুধে তিনি ঘুমাতে পারবেন না। কারণ মনের কষ্ট ওষুধে যায় না।
প্রশ্ন ৬: রুদ্র গোস্বামী সম্পর্কে সংক্ষেপে বলুন।
রুদ্র গোস্বামী (১৯৫৬-১৯৯১) বাংলা কবিতার এক কিংবদন্তি কবি। তিনি ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘উপদ্রুত উপকূল’ (১৯৭৮) তাঁকে খ্যাতি এনে দেয়। তাঁর কবিতায় প্রেম, মানবতা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের গভীর প্রকাশ ঘটে।
ট্যাগস: শেষ চিঠি, রুদ্র গোস্বামী, রুদ্র গোস্বামীর কবিতা, শেষ চিঠি কবিতা, বাংলা প্রেমের কবিতা, বিচ্ছেদের কবিতা, মৃত্যুর কবিতা
কী করছ অনির্বাণ? আজও নিশ্চই অফিসের কাজ ফেলে
তোমার সুন্দরী পিএকে ডেকে আমার অসুখের গল্প শোনাচ্ছ?
কী ভাবছ, আমি চলে যাব?
সবটুকু আমাকে নিয়ে কী করে যাব!
এটা ভেবেই আমার খুব কষ্ট হচ্ছে অনির্বাণ।
আমি জানি, ঘুরেফিরে আমাকে নিয়েই ভাবতে বসবে তুমি।
তোমার সঙ্গে দেখা হয়ে যাবে, আমাদের প্রথম আলাপের।
তুমি ভাববে না অনির্বাণ? খুব লাজুক একটা মেয়ে
চুলে জুঁই মালা গুজে তোমার কাছে এসে দাঁড়িয়েছে প্রথম।
আমি জানি তুমি ভাববে। এটাই তো কষ্ট অনির্বাণ।
তোমার মনে পড়বে না? বিকেলের জাফরিকাটা রোদ
তোমার জানালা দিয়ে আলো ফেলতেই,
শাড়ি গায়ে স্কুল হেঁটে ফিরত কিশোরী মেয়েটা?
আমি জানি, খুব মনে পড়বে তোমার। তুমি মনে মনে পাবে
আমাকে, সামনে পাবে না। এটাই তো কষ্ট অনির্বাণ।
আমি জানি, অফিস ফেরত দরজায় দাঁড়িয়ে
অভ্যাসমতো আমাকে তুমি ডাকবে।
স্নানের পরে আয়নায় লাগানো টিপ দেখে, বেডরুমে, কিচেনে,
ছাদে আমাকেই খুঁজবে। তুমি খুঁজবে না অনির্বাণ?
আমি জানি খুব খুঁজবে। এটাই তো কষ্ট আমার।
বড়ো অল্প বয়েসের প্রেম আমাদের বড়ো অল্প বয়েসে ভেসে যাচ্ছে,
অনির্বাণ আমি ঘুমের ওষুধে কী করে ভালো থাকি?
যারা ভালোবাসে তাদের কেন অসুখ করবে অনির্বাণ?
বুকে ভালোবাসা দেবে, অথচ এ পৃথিবী ভালোবাসতে সময় দেবে না
এ কেমন নিয়ম? এত চুরমার স্মৃতি নিয়ে তুমি কী করে বাঁচবে?
অসুখের থেকে বেশি এটাই আমার কষ্ট অনির্বাণ।
তোমাকে কষ্টে রেখে যাব জেনেও দুটো ঘুমের ওষুধে আমি
কী করে ভালো থাকি?
চাঁদের আলো ঠিকরে পড়বে, একটা মেয়ে চুলে ফুল গুঁজে
দাঁড়াবে না তোমার সামনে। বৃষ্টি পড়বে,
একটা মেয়ে তোমাকে ছাদে নিয়ে যাবে না ভিজতে।
অথচ এসব দৃশ্য তুমি মনে বয়ে নিয়ে বেড়াবে।
সময় বড্ড কম অনির্বাণ। শুকনো দুটো হাতে তোমার বুকের
এত তোলপাড় স্মৃতি, আমি কী করে কুড়িয়ে নিয়ে যাব?
আমার অভাব কুড়িয়ে নিতে পারব না, এটাই তো কষ্ট অনির্বাণ।
এত অভাব তোমার কাছে রেখে আমি কী করে ভালো থাকি?
বড়ো অল্প বয়েসের প্রেম আমাদের বড়ো অল্প বয়েসে ভেসে যাচ্ছে।
দুটো ঘুমের ওষুধে আমি কি করে ঘুমিয়ে থাকি?
আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। রুদ্র গোস্বামী।






