শেষ চিঠি – রুদ্র গোস্বামী।

কী করছ অনির্বাণ? আজও নিশ্চই অফিসের কাজ ফেলে
তোমার সুন্দরী পিএকে ডেকে আমার অসুখের গল্প শোনাচ্ছ?
কী ভাবছ, আমি চলে যাব?
সবটুকু আমাকে নিয়ে কী করে যাব!
এটা ভেবেই আমার খুব কষ্ট হচ্ছে অনির্বাণ।

আমি জানি, ঘুরেফিরে আমাকে নিয়েই ভাবতে বসবে তুমি।
তোমার সঙ্গে দেখা হয়ে যাবে, আমাদের প্রথম আলাপের।
তুমি ভাববে না অনির্বাণ? খুব লাজুক একটা মেয়ে
চুলে জুঁই মালা গুজে তোমার কাছে এসে দাঁড়িয়েছে প্রথম।
আমি জানি তুমি ভাববে। এটাই তো কষ্ট অনির্বাণ।

তোমার মনে পড়বে না? বিকেলের জাফরিকাটা রোদ
তোমার জানালা দিয়ে আলো ফেলতেই,
শাড়ি গায়ে স্কুল হেঁটে ফিরত কিশোরী মেয়েটা?
আমি জানি, খুব মনে পড়বে তোমার। তুমি মনে মনে পাবে
আমাকে, সামনে পাবে না। এটাই তো কষ্ট অনির্বাণ।

আমি জানি, অফিস ফেরত দরজায় দাঁড়িয়ে
অভ্যাসমতো আমাকে তুমি ডাকবে।
স্নানের পরে আয়নায় লাগানো টিপ দেখে, বেডরুমে, কিচেনে,
ছাদে আমাকেই খুঁজবে। তুমি খুঁজবে না অনির্বাণ?
আমি জানি খুব খুঁজবে। এটাই তো কষ্ট আমার।

বড়ো অল্প বয়েসের প্রেম আমাদের বড়ো অল্প বয়েসে ভেসে যাচ্ছে,
অনির্বাণ আমি ঘুমের ওষুধে কী করে ভালো থাকি?

যারা ভালোবাসে তাদের কেন অসুখ করবে অনির্বাণ?
বুকে ভালোবাসা দেবে, অথচ এ পৃথিবী ভালোবাসতে সময় দেবে না
এ কেমন নিয়ম? এত চুরমার স্মৃতি নিয়ে তুমি কী করে বাঁচবে?
অসুখের থেকে বেশি এটাই আমার কষ্ট অনির্বাণ।

তোমাকে কষ্টে রেখে যাব জেনেও দুটো ঘুমের ওষুধে আমি
কী করে ভালো থাকি?

চাঁদের আলো ঠিকরে পড়বে, একটা মেয়ে চুলে ফুল গুঁজে
দাঁড়াবে না তোমার সামনে। বৃষ্টি পড়বে,
একটা মেয়ে তোমাকে ছাদে নিয়ে যাবে না ভিজতে।
অথচ এসব দৃশ্য তুমি মনে বয়ে নিয়ে বেড়াবে।
সময় বড্ড কম অনির্বাণ। শুকনো দুটো হাতে তোমার বুকের
এত তোলপাড় স্মৃতি, আমি কী করে কুড়িয়ে নিয়ে যাব?

আমার অভাব কুড়িয়ে নিতে পারব না, এটাই তো কষ্ট অনির্বাণ।
এত অভাব তোমার কাছে রেখে আমি কী করে ভালো থাকি?
বড়ো অল্প বয়েসের প্রেম আমাদের বড়ো অল্প বয়েসে ভেসে যাচ্ছে।
দুটো ঘুমের ওষুধে আমি কি করে ঘুমিয়ে থাকি?

আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। রুদ্র গোস্বামী।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest

0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x