কবিতার খাতা
- 23 mins
পরিচয়-পত্র – তারাপদ রায়।
একবার খুব ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম,
বুদ্ধমন্দিরের ঘণ্টা বাজাতে দেরি হয়ে গিয়েছিলো
ভিনদেশি তীর্থযাত্রীদের সামনে—
বড় লামা আমাকে যাচ্ছেতাই গালমন্দ করেছিলেন,
তারপর ঘাড়ে ধরে মন্দির থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন।
দক্ষিণায়নের আগের সন্ধ্যায় ঝড় উঠেছিলো,
হলুদ হয়ে যাওয়া ঘন জলপাই পাতার
নোনা বাতাসে অবিকল উড়ে যাওয়ার মধ্যে
এক স্ফুরিতনাসা শিখরিণী আমাকে উপহাস করে বলেছিলো,
‘কয়েকদিন হলো একটা মানুষ-খেকো বাঘিনীর বড় উৎপাত
একটু সাবধানে থেকো।’
পরের বার, একটু সাবধানে বসতে গিয়ে
নড়বড়ে বেতের চেয়ার থেকে ভুবনবিখ্যাত সমুদ্রতটে
চায়ের টেবিল উলটিয়ে বালির উপরে কাছিমের মতো
চিৎ হয়ে পড়ে গিয়েছিলাম, শূন্যে উড়ে গিয়েছিলো পেয়ালা
এক ফার্লং নির্মল সূর্যকরোজ্জল পুরুষ-রমণী
হো হো করে হেসে উঠেছিলো।
লজ্জায় ও অপমানে এখনো আমার কাণ লাল হয়ে ওঠে
মাথা নিচু করে পরিচয়-পত্র দেখিয়ে,
আমি গুটি-গুটি ঢুকে পড়ি রাইটার্স বিল্ডিংয়ে।
আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। তারাপদ রায়।
পরিচয়-পত্র – তারাপদ রায় | পরিচয়-পত্র কবিতা | তারাপদ রায়ের কবিতা | বাংলা কবিতা
পরিচয়-পত্র: তারাপদ রায়ের ব্যক্তিত্ব, আত্মপরিচয় ও সামাজিক স্বীকৃতির অসাধারণ কাব্যভাষা
তারাপদ রায়ের “পরিচয়-পত্র” কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের একটি অনন্য সৃষ্টি, যা ব্যক্তিত্ব, আত্মপরিচয়, সামাজিক স্বীকৃতি ও অস্তিত্বের এক গভীর কাব্যিক অন্বেষণ। “একবার খুব ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম, / বুদ্ধমন্দিরের ঘণ্টা বাজাতে দেরি হয়ে গিয়েছিলো / ভিনদেশি তীর্থযাত্রীদের সামনে—” — এই পঙ্ক্তি দিয়ে শুরু হওয়া কবিতাটি ধীরে ধীরে উন্মোচিত করে এক ব্যক্তির জীবনের নানা বিব্রতকর মুহূর্তের কাহিনী, যেখানে তিনি বারবার অপমানিত, উপহাসিত ও লজ্জিত হয়েছেন। তারাপদ রায় (১৯৩৬-২০০৭) বাংলা কবিতার একজন শক্তিমান কবি। তাঁর কবিতায় সমাজের নানা অসঙ্গতি, মধ্যবিত্তের জীবনসংগ্রাম, ব্যক্তিত্বের সংকট ও মানবিক মূল্যবোধের গভীর প্রকাশ ঘটে। “পরিচয়-পত্র” তাঁর একটি বহুপঠিত কবিতা যা ব্যক্তির আত্মপরিচয়ের সংকট ও সামাজিক স্বীকৃতির প্রয়োজনীয়তাকে অসাধারণভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।
তারাপদ রায়: সমাজ সচেতন কবি
তারাপদ রায় (১৯৩৬-২০০৭) বাংলা কবিতার একজন শক্তিমান কবি। তিনি ১৯৩৬ সালের ১৭ নভেম্বর বৃহত্তর রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার বালাপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন এবং দীর্ঘদিন শিক্ষকতা পেশায় নিযুক্ত ছিলেন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘যখন সময় তখন’ (১৯৬৮) তাঁকে খ্যাতি এনে দেয়। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘অবশেষে তুমি’, ‘পৃথিবীর দিকে’, ‘নির্বাচিত কবিতা’, ‘দুঃখীরা কথা বলে’, ‘একটি অরাজনৈতিক কবিতা’ প্রভৃতি। তাঁর কবিতায় সমাজের নানা অসঙ্গতি, মধ্যবিত্তের জীবনসংগ্রাম, গ্রামীণ জীবন ও মানবিক মূল্যবোধের গভীর প্রকাশ ঘটে। তিনি ২০০৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন। “পরিচয়-পত্র” তাঁর একটি বহুপঠিত কবিতা যা ব্যক্তির আত্মপরিচয়ের সংকট ও সামাজিক স্বীকৃতির প্রয়োজনীয়তাকে অসাধারণভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।
পরিচয়-পত্র কবিতার বিস্তারিত বিশ্লেষণ
কবিতার শিরোনামের তাৎপর্য
“পরিচয়-পত্র” শিরোনামটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পরিচয়-পত্র — আইডি কার্ড, পরিচয় প্রমাণের নথি। এটি সমাজে আমাদের অবস্থান, আমাদের পরিচয়, আমাদের বৈধতা প্রমাণ করে। শিরোনামেই কবি ইঙ্গিত দিয়েছেন — এই কবিতা পরিচয়ের সংকট, পরিচয়ের প্রয়োজনীয়তা ও পরিচয়ের মাধ্যমে সামাজিক স্বীকৃতি লাভের গল্প।
প্রথম স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“একবার খুব ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম, / বুদ্ধমন্দিরের ঘণ্টা বাজাতে দেরি হয়ে গিয়েছিলো / ভিনদেশি তীর্থযাত্রীদের সামনে— / বড় লামা আমাকে যাচ্ছেতাই গালমন্দ করেছিলেন, / তারপর ঘাড়ে ধরে মন্দির থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন।” প্রথম স্তবকে কবি তাঁর জীবনের প্রথম বিব্রতকর ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন — একবার খুব ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। বুদ্ধমন্দিরের ঘণ্টা বাজাতে দেরি হয়ে গিয়েছিল ভিনদেশি তীর্থযাত্রীদের সামনে। বড় লামা তাঁকে যাচ্ছেতাই গালমন্দ করেছিলেন, তারপর ঘাড়ে ধরে মন্দির থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন।
বুদ্ধমন্দির ও বড় লামার তাৎপর্য
বুদ্ধমন্দির — বৌদ্ধ ধর্মালয়। বড় লামা — তিব্বতি বৌদ্ধ ধর্মের প্রধান পুরোহিত। কবি সম্ভবত কোনো বৌদ্ধ দেশে বা অঞ্চলে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি মন্দিরে কাজ করতেন? ঘণ্টা বাজানোর দায়িত্ব ছিল তাঁর? কিন্তু ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ায় দেরি হয়ে যায়।
গালমন্দ ও তাড়িয়ে দেওয়ার তাৎপর্য
বড় লামা তাঁকে গালমন্দ করেছিলেন, ঘাড়ে ধরে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন। এটি একটি চরম অপমান। কবি তাঁর কাজে ব্যর্থ হয়েছেন, তাই অপমানিত হয়েছেন। এই ঘটনা তাঁর মনে গভীর দাগ কেটেছে।
দ্বিতীয় স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“দক্ষিণায়নের আগের সন্ধ্যায় ঝড় উঠেছিলো, / হলুদ হয়ে যাওয়া ঘন জলপাই পাতার / নোনা বাতাসে অবিকল উড়ে যাওয়ার মধ্যে / এক স্ফুরিতনাসা শিখরিণী আমাকে উপহাস করে বলেছিলো, / ‘কয়েকদিন হলো একটা মানুষ-খেকো বাঘিনীর বড় উৎপাত / একটু সাবধানে থেকো।'” দ্বিতীয় স্তবকে কবি আরেকটি বিব্রতকর ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন — দক্ষিণায়নের আগের সন্ধ্যায় ঝড় উঠেছিল। হলুদ হয়ে যাওয়া জলপাই পাতার নোনা বাতাসে উড়ে যাওয়ার মধ্যে এক স্ফুরিতনাসা শিখরিণী (উঁচু নাকের অধিকারী নারী) তাঁকে উপহাস করে বলেছিল — কয়েকদিন হলো একটা মানুষ-খেকো বাঘিনীর বড় উৎপাত, একটু সাবধানে থেকো।
দক্ষিণায়ন ও ঝড়ের তাৎপর্য
দক্ষিণায়ন — সূর্যের দক্ষিণ গমন, যা শীতের আগমন নির্দেশ করে। সেই সময় ঝড় উঠেছিল। প্রকৃতির এই রূপ সম্ভবত কবির মনের অবস্থার প্রতিফলন।
স্ফুরিতনাসা শিখরিণীর উপহাসের তাৎপর্য
স্ফুরিতনাসা শিখরিণী — উঁচু নাকের অধিকারী নারী, সম্ভবত উচ্চবিত্ত বা অভিজাত কেউ। তিনি কবিকে উপহাস করে বলেছেন — মানুষ-খেকো বাঘিনীর উৎপাত আছে, সাবধানে থেকো। এটি একটি হুমকি? নাকি ঠাট্টা? কবি সম্ভবত কোনো বিপদের সম্মুখীন হয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তা এড়াতে পারেননি।
তৃতীয় স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“পরের বার, একটু সাবধানে বসতে গিয়ে / নড়বড়ে বেতের চেয়ার থেকে ভুবনবিখ্যাত সমুদ্রতটে / চায়ের টেবিল উলটিয়ে বালির উপরে কাছিমের মতো / চিৎ হয়ে পড়ে গিয়েছিলাম, শূন্যে উড়ে গিয়েছিলো পেয়ালা / এক ফার্লং নির্মল সূর্যকরোজ্জল পুরুষ-রমণী / হো হো করে হেসে উঠেছিলো।” তৃতীয় স্তবকে কবি তৃতীয় বিব্রতকর ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন — পরের বার, একটু সাবধানে বসতে গিয়ে নড়বড়ে বেতের চেয়ার থেকে ভুবনবিখ্যাত সমুদ্রতটে চায়ের টেবিল উল্টে বালির উপরে কাছিমের মতো চিৎ হয়ে পড়ে গিয়েছিলেন। শূন্যে উড়ে গিয়েছিল পেয়ালা। এক ফার্লং দূরে নির্মল সূর্যকরোজ্জল পুরুষ-রমণী হো হো করে হেসে উঠেছিল।
নড়বড়ে বেতের চেয়ার ও পড়ে যাওয়ার তাৎপর্য
কবি সাবধানে বসতে গিয়েও নড়বড়ে চেয়ার থেকে পড়ে গেছেন। এটি এক ধরনের দুর্ভাগ্য, এক ধরনের ব্যর্থতা। তিনি যতই সাবধান হন, ততই বিপদ ঘটে।
ভুবনবিখ্যাত সমুদ্রতটের তাৎপর্য
ভুবনবিখ্যাত সমুদ্রতট — সম্ভবত কোনো জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। সেখানে তিনি পড়ে গিয়ে সবাইকে হাস্যকর দৃশ্যের অবতারণা করেছেন।
কাছিমের মতো পড়ে যাওয়ার তাৎপর্য
কাছিমের মতো চিৎ হয়ে পড়া — এটি একটি হাস্যকর, অসহায় অবস্থা। তিনি নিজেকে আরও বেশি লজ্জার মধ্যে ফেলেছেন।
সূর্যকরোজ্জল পুরুষ-রমণীর হাসির তাৎপর্য
এক ফার্লং দূরে থাকা সুন্দর, সূর্যালোকিত পুরুষ ও নারী তাঁর এই হাস্যকর অবস্থা দেখে হো হো করে হেসে উঠেছে। এটি চরম অপমান ও লজ্জার মুহূর্ত।
চতুর্থ স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“লজ্জায় ও অপমানে এখনো আমার কাণ লাল হয়ে ওঠে / মাথা নিচু করে পরিচয়-পত্র দেখিয়ে, / আমি গুটি-গুটি ঢুকে পড়ি রাইটার্স বিল্ডিংয়ে।” চতুর্থ স্তবকে কবি বর্তমান অবস্থা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন — লজ্জায় ও অপমানে এখনও তাঁর কাণ লাল হয়ে ওঠে। মাথা নিচু করে পরিচয়-পত্র দেখিয়ে তিনি গুটি-গুটি ঢুকে পড়েন রাইটার্স বিল্ডিংয়ে।
কাণ লাল হয়ে ওঠার তাৎপর্য
কাণ লাল হয়ে ওঠা — লজ্জার শারীরিক প্রকাশ। অতীতের ঘটনাগুলো মনে পড়লেই তাঁর এখনও লজ্জায় কাণ লাল হয়ে ওঠে। ঘটনাগুলো তাঁর মনে গভীর দাগ কেটেছে।
পরিচয়-পত্র দেখিয়ে ঢোকার তাৎপর্য
পরিচয়-পত্র দেখিয়ে তিনি গুটি-গুটি ঢুকে পড়েন রাইটার্স বিল্ডিংয়ে। রাইটার্স বিল্ডিং — কলকাতার বিখ্যাত সরকারি ভবন, পশ্চিমবঙ্গের সচিবালয়। সেখানে ঢোকার জন্য পরিচয়-পত্র দেখাতে হয়। তিনি মাথা নিচু করে, লজ্জায়, গুটি-গুটি করে ঢুকছেন। এটি তাঁর আত্মপরিচয়ের সংকটকে নির্দেশ করে। তিনি হয়তো সরকারি চাকরিজীবী? লেখক? তাঁর পরিচয় প্রমাণ করতে হচ্ছে বারবার।
কবিতার সামগ্রিক তাৎপর্য
“পরিচয়-পত্র” কবিতাটি ব্যক্তির আত্মপরিচয়, সামাজিক স্বীকৃতি ও ব্যর্থতার এক অসাধারণ চিত্র। কবি তাঁর জীবনের তিনটি বিব্রতকর, অপমানজনক ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন — বুদ্ধমন্দিরে ঘুমিয়ে পড়ে তাড়িত হওয়া, শিখরিণীর উপহাস শোনা, সমুদ্রতটে পড়ে হাস্যস্পদ হওয়া। এই ঘটনাগুলো তাঁর মনে গভীর দাগ কেটেছে। এখনও লজ্জায় তাঁর কাণ লাল হয়ে ওঠে। তিনি পরিচয়-পত্র দেখিয়ে গুটি-গুটি করে রাইটার্স বিল্ডিংয়ে ঢোকেন — এটি তাঁর আত্মপরিচয়ের সংকট, তাঁর সমাজে নিজের অবস্থান প্রমাণের প্রয়োজনীয়তাকে নির্দেশ করে। কবিতাটি ব্যক্তির জীবনের ব্যর্থতা, লজ্জা ও অপমানের এক মর্মস্পর্শী চিত্র।
পরিচয়-পত্র কবিতা সম্পর্কে প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন ১: পরিচয়-পত্র কবিতার লেখক কে?
পরিচয়-পত্র কবিতার লেখক তারাপদ রায় (১৯৩৬-২০০৭)। তিনি বাংলা কবিতার একজন শক্তিমান কবি। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘যখন সময় তখন’ (১৯৬৮) তাঁকে খ্যাতি এনে দেয়। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘অবশেষে তুমি’, ‘পৃথিবীর দিকে’, ‘নির্বাচিত কবিতা’, ‘দুঃখীরা কথা বলে’, ‘একটি অরাজনৈতিক কবিতা’ প্রভৃতি।
প্রশ্ন ২: পরিচয়-পত্র কবিতার মূল বিষয়বস্তু কী?
পরিচয়-পত্র কবিতার মূল বিষয়বস্তু হলো ব্যক্তির আত্মপরিচয়, সামাজিক স্বীকৃতি ও ব্যর্থতার বেদনা। কবি তাঁর জীবনের তিনটি বিব্রতকর, অপমানজনক ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন — বুদ্ধমন্দিরে ঘুমিয়ে পড়ে তাড়িত হওয়া, শিখরিণীর উপহাস শোনা, সমুদ্রতটে পড়ে হাস্যস্পদ হওয়া। এই ঘটনাগুলো তাঁর মনে গভীর দাগ কেটেছে। শেষে তিনি পরিচয়-পত্র দেখিয়ে রাইটার্স বিল্ডিংয়ে ঢোকেন — যা তাঁর আত্মপরিচয়ের সংকেত।
প্রশ্ন ৩: ‘বড় লামা আমাকে যাচ্ছেতাই গালমন্দ করেছিলেন’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘বড় লামা আমাকে যাচ্ছেতাই গালমন্দ করেছিলেন’ — এই পঙ্ক্তিতে কবি তাঁর জীবনের প্রথম বিব্রতকর ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি বুদ্ধমন্দিরে ঘণ্টা বাজানোর দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ায় দেরি হয়ে যায়। বড় লামা তাঁকে গালমন্দ করে তাড়িয়ে দেন। এটি তাঁর প্রথম অপমানের ঘটনা।
প্রশ্ন ৪: ‘এক স্ফুরিতনাসা শিখরিণী আমাকে উপহাস করে বলেছিলো’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘এক স্ফুরিতনাসা শিখরিণী আমাকে উপহাস করে বলেছিলো’ — স্ফুরিতনাসা শিখরিণী অর্থ উঁচু নাকের অধিকারী নারী, সম্ভবত উচ্চবিত্ত বা অভিজাত কেউ। তিনি কবিকে উপহাস করে মানুষ-খেকো বাঘিনীর কথা বলে সাবধান করে দিয়েছিলেন। এটি দ্বিতীয় অপমানের ঘটনা।
প্রশ্ন ৫: ‘এক ফার্লং নির্মল সূর্যকরোজ্জল পুরুষ-রমণী / হো হো করে হেসে উঠেছিলো’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘এক ফার্লং নির্মল সূর্যকরোজ্জল পুরুষ-রমণী / হো হো করে হেসে উঠেছিলো’ — কবি সমুদ্রতটে নড়বড়ে চেয়ার থেকে পড়ে গিয়ে হাস্যস্পদ হয়েছিলেন। এক ফার্লং দূরে থাকা সুন্দর, সূর্যালোকিত পুরুষ ও নারী তাঁর এই হাস্যকর অবস্থা দেখে হো হো করে হেসে উঠেছিল। এটি তৃতীয় অপমানের ঘটনা।
প্রশ্ন ৬: ‘মাথা নিচু করে পরিচয়-পত্র দেখিয়ে, / আমি গুটি-গুটি ঢুকে পড়ি রাইটার্স বিল্ডিংয়ে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘মাথা নিচু করে পরিচয়-পত্র দেখিয়ে, / আমি গুটি-গুটি ঢুকে পড়ি রাইটার্স বিল্ডিংয়ে’ — এই পঙ্ক্তিটি কবিতার শেষ ও সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশ। অতীতের অপমানের স্মৃতি এখনও তাঁকে লজ্জা দেয়, তাঁর কাণ লাল হয়ে ওঠে। তিনি পরিচয়-পত্র দেখিয়ে গুটি-গুটি করে রাইটার্স বিল্ডিংয়ে ঢোকেন — এটি তাঁর আত্মপরিচয়ের সংকেত, তাঁর সামাজিক অবস্থান প্রমাণের প্রয়োজনীয়তা।
প্রশ্ন ৭: তারাপদ রায় সম্পর্কে সংক্ষেপে বলুন।
তারাপদ রায় (১৯৩৬-২০০৭) বাংলা কবিতার একজন শক্তিমান কবি। তিনি ১৯৩৬ সালের ১৭ নভেম্বর রংপুরের মিঠাপুকুরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘যখন সময় তখন’ (১৯৬৮) তাঁকে খ্যাতি এনে দেয়। তাঁর কবিতায় সমাজের নানা অসঙ্গতি, মধ্যবিত্তের জীবনসংগ্রাম ও মানবিক মূল্যবোধের গভীর প্রকাশ ঘটে।
ট্যাগস: পরিচয়-পত্র, তারাপদ রায়, তারাপদ রায়ের কবিতা, পরিচয়-পত্র কবিতা, বাংলা কবিতা, আধুনিক বাংলা কবিতা, আত্মপরিচয়ের কবিতা, ব্যক্তিত্বের কবিতা






