পবিত্র হত্যা – রুদ্র গোস্বামী।

মহামান্য আদালত আমি কাগজের পাথরলিপি ছুঁয়ে বলছি
আমার কোনও অপরাধ ছিল না আমার কোনও অপরাধ নেই।
আমার ছোট্ট মেয়েটাকে যেদিন ওরা টেনে হিঁচড়ে নিয়ে গেলো
অন্ধকার নরকের দিকে
সেদিন কোথায় ছিল আপনাদের কাগজের ঈশ্বর?

কোনদিকে ছিল আপনাদের পবিত্র ঈশ্বরীর সর্বদর্শী চোখ?
আমি কোনও অপরাধ করিনি আমার কোনও অপরাধ নেই।
চার রাত তিন দিন একটাই প্রার্থনা করেছে মেয়েটা আমার।
“যন্ত্রণা অসহ্য যন্ত্রণা, মুক্তি দাও আমাকে মুক্তি দাও বাবা।”

হ্যাঁ মহামান্য আদালত, আমি নিজের দু’হাতে ওর মুখে
স্নেহের থেকেও নরম বালিশ চেপে রেখেছি, ওর মুক্তি অবধি।
আমার স্নায়ুতন্ত্র তখন যুদ্ধরত সৈনিকের থেকেও, নবজাতককে
হাতে নেওয়া পিতার থেকেও অনেক বেশী সচেতন ছিল।

আমার মেয়েটার দেহে ছাব্বিশটা দগদগে ক্ষত ছিল
বুকের ভিতরে অগণন। পিতৃধর্ম জানে মেয়েটাকে আমি অজস্র মৃত্যুর
মুখ থেকে কেড়ে এনেছি। কে ডাকতো ওর ব্যাক্তিগত নাম! কে ওর
দিকে হাত বাড়িয়ে বলতো ? “কী ভীষণ নিষ্পাপ তোর মুখ!”

মহামান্য আদালত, আপনার মূর্খ ঈশ্বরের প্রতি আমার কোনও শ্রদ্ধা
নেই। আপনার অন্ধ ঈশ্বরীর প্রতি আমার কোনও আস্থা নেই।
এইবার আপনার নির্বোধ কলমে আর একটা মৃত মানুষের ফাঁসি লিখুন
বোকা ইতিহাসের সাক্ষি হিসেবে।

আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। রুদ্র গোস্বামী।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest

0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x