পরিচয়-পত্র – তারাপদ রায়।

একবার খুব ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম,
বুদ্ধমন্দিরের ঘণ্টা বাজাতে দেরি হয়ে গিয়েছিলো
ভিনদেশি তীর্থযাত্রীদের সামনে—
বড় লামা আমাকে যাচ্ছেতাই গালমন্দ করেছিলেন,
তারপর ঘাড়ে ধরে মন্দির থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন।

দক্ষিণায়নের আগের সন্ধ্যায় ঝড় উঠেছিলো,
হলুদ হয়ে যাওয়া ঘন জলপাই পাতার
নোনা বাতাসে অবিকল উড়ে যাওয়ার মধ্যে
এক স্ফুরিতনাসা শিখরিণী আমাকে উপহাস করে বলেছিলো,
‘কয়েকদিন হলো একটা মানুষ-খেকো বাঘিনীর বড় উৎপাত
একটু সাবধানে থেকো।’

পরের বার, একটু সাবধানে বসতে গিয়ে
নড়বড়ে বেতের চেয়ার থেকে ভুবনবিখ্যাত সমুদ্রতটে
চায়ের টেবিল উলটিয়ে বালির উপরে কাছিমের মতো
চিৎ হয়ে পড়ে গিয়েছিলাম, শূন্যে উড়ে গিয়েছিলো পেয়ালা
এক ফার্লং নির্মল সূর্যকরোজ্জল পুরুষ-রমণী
হো হো করে হেসে উঠেছিলো।

লজ্জায় ও অপমানে এখনো আমার কাণ লাল হয়ে ওঠে
মাথা নিচু করে পরিচয়-পত্র দেখিয়ে,
আমি গুটি-গুটি ঢুকে পড়ি রাইটার্স বিল্ডিংয়ে।

আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। তারাপদ রায়।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest

0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x