পথ কুকুর – বীথি চট্টোপাধ্যায়।

সে অনেক বছর আগেকার কথা,
শিয়ালদা স্টেশনে এক বুড়ো কুলি ছিলো তখন
মাথায় তিরিশ চল্লিশ কেজি মোট,
শিরা উপশিরা ওঠা তার শীর্ণ হাত,
অত ভারি মোট নিয়ে সে দাঁড়িয়েছিল স্টেশনে
আমি সেখানে একটা রোগা ক্ষুধার্ত কুকুরকে
বিস্কুট দিয়েছিলাম; অতবড় স্টেশনের একটা কোণে,
কুকুটার তীব্র খিদে, সে একের পর এক বিস্কুট
যেন চোখের পলকে উধাও করে ফেললো,
তার ফুলের মতো বাচ্চাগুলো জড়ো হয়েছিল
মায়ের পাশে এসে…
ওরাও খাবে, ওদেরও দিতে হবে

সেইখানে দাঁড়িয়েছিল বুড়ো কুলি
মাথায় অত ভার তার
সে তার শিরা ওঠা, কাঁপা হাতে, কায়দা করে
কুকুরের বাচ্চাগুলোকে ঠেলে দিয়েছিল বিস্কুটের দিকে
যাতে মায়ের সঙ্গে বাচ্চারাও একটু খেতে পায়,
নিজের পেট চালাতে ওই বয়েসে
মাথায় মোট বইতে হোতো তাকে,
অথচ কুকুরের বাচ্চাগুলো যাতে খেতে পায়
সেদিকে কেমন তীক্ষ্ণ নজর তার,
বাচ্চারা নাচের ভঙ্গিতে লেজ নাড়ছিলো যখন
তখন সেই বুড়ো কী খুশি,
নরম রৌদ্রের মায়া তখন ছড়িয়ে পড়লো তার হাসিতে।

আমার আজকাল খুব মনেপড়ে তারকথা
চোখ বুজলে এখন সমুদ্রের ঢেউ দেখি,
সেই ঢেউয়ের ওপর ভাসে ওই শিরা উপশিরা ওঠা হাতটি,
এখন আমি নিশ্চিত যে তার শীর্ণ হাতের
শিরা উপশিরাগুলি নিশ্চয় ভারতবর্ষের সুপ্ত মানচিত্র।
নাহলে ওই দুটি হাত এত বছর ধরে
সমুদ্রপ্রমাণ অবিচারের ভার বয়ে তারপর
এতখানি ভালবাসা ছড়িয়ে দিলো কী করে?

আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। বীথি চট্টোপাধ্যায়ের কবিতা।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest

0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x