কবিতার খাতা
- 26 mins
কবিতায় থাকা – আর্যতীর্থ।
কবিতায় থাকো যদি ,
তবে শব্দের বাড়ি গিয়ে
বেল বাজালেই কপাট খুলে যাবে,
ভেতরে কোথাও সুদৃশ্য সিংহাসন
কোথাও বা হাতল ভাঙা চেয়ার
কোথাও ম্যাজিক কার্পেট
কোথাও বা সাদামাটা ফরাস ,
তবে যাই থাক, সে কেবল তোমার জন্য পাতা,
স্রেফ তোমাকে বরণ করবে বলে সাজানো সে ঘর।
কবিতায় থাকো যদি,
তবে প্রতিদিন ভাষা এসে কপালে ছোঁয়াবেন হাত,
খুশিতে থুতনি নেড়ে আশিস জানাবেন,
দুঃখে আঁচল দিয়ে মোছাবেন চোখ,
রাগে মাথায় হাত বোলাবেন ,
প্রেমে হেসে বলবেন, ভারী মানাবে দুজনকে,
বিরহে বলবেন এই তো ক’টা দিন মোটে,
বিচ্ছেদে থমকে বলবেন,
বুকে জমিয়ে না রেখে বরং কেঁদে ভাসা বাছা,
কবিতায় থাকো যদি,
মা’কে ছেড়ে থাকার কষ্ট তুমি কখনো জানবে না।
কবিতায় থাকো যদি ,
নির্জনতায় মন হারালে
শব্দরা তোমার হাত ধরে বলবে এই তো আছি,
ভিড়-জনতায় কোলাহলে একলা হতে চাইলে
শব্দরা তোমায় নিঃস্তব্ধতা উপহার দেবে।
আর যদি কবিতার থাকো?
যেমন ভক্ত সঁপে দেহ-মন-হৃদি তার ইষ্ট-সমীপে,
প্রবীণ প্রেমিক জানে
এই গোটা পৃথিবীতে একটাই নারী,
যেমন শ্রীরাধিকা জেনেছেন একাকী দ্বৈত হওয়া যায় ,
কানাই নাই বা এলো,
প্রেম তাঁর দয়িতকে গড়ে নিতে জানে,
যেমন বড়ে গুলাম আ-সুরজীবন সরগমে ঘুরেছেন
সা থেকে সা সন্ধানে,
তেমনই সম্পৃক্ত হয়ে কবিতার হয়ে থাকো যদি আজীবন?
আশেপাশে যারা হবে ভীষণ বিরক্ত হয়ে এড়াবে তখন,
বন্ধু-সমাজ মুখে অ-সুখ মেখে
ভাববেই তুমি এলে কী যে জ্বালাতন…
শুধু প্রেমাতুর তুমি আশির-নখর সঁপে কবিতার কোলে,
শ্যামের সমান ভেবে যাবে সে মরণ..
আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। আর্যতীর্থ।
কবিতায় থাকা – আর্যতীর্থ | কবিতায় থাকা কবিতা | আর্যতীর্থের কবিতা | বাংলা কবিতা
কবিতায় থাকা: আর্যতীর্থের ভাষা, প্রেম ও কবিতার অসাধারণ কাব্যভাষা
আর্যতীর্থের “কবিতায় থাকা” কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের একটি অনন্য সৃষ্টি, যা কবিতা, ভাষা, প্রেম ও আত্মার এক গভীর কাব্যিক অন্বেষণ। “কবিতায় থাকো যদি , / তবে শব্দের বাড়ি গিয়ে / বেল বাজালেই কপাট খুলে যাবে” — এই পঙ্ক্তি দিয়ে শুরু হওয়া কবিতাটি ধীরে ধীরে উন্মোচিত করে এক অপূর্ব জগৎ, যেখানে কবিতা একটি আশ্রয়, একটি ঘর, একটি মা, একটি প্রেমিকা। আর্যতীর্থ বাংলা কবিতার নতুন প্রজন্মের একজন সম্ভাবনাময় কবি। তাঁর কবিতায় ভাষা, প্রেম, অস্তিত্ব ও আত্মান্বেষণের গভীর প্রকাশ ঘটে। “কবিতায় থাকা” তাঁর একটি বহুপঠিত কবিতা যা কবিতার প্রতি অপরিসীম ভালোবাসা ও কবিতার আশ্রয়দানকারী শক্তিকে অসাধারণভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।
আর্যতীর্থ: নতুন প্রজন্মের সম্ভাবনাময় কবি
আর্যতীর্থ বাংলা কবিতার নতুন প্রজন্মের একজন সম্ভাবনাময় কবি। তাঁর কবিতায় ভাষা, প্রেম, অস্তিত্ব ও আত্মান্বেষণের গভীর প্রকাশ ঘটে। তিনি সহজ-সরল ভাষায় জটিল মানসিক অবস্থা ও সম্পর্কের টানাপোড়েন ফুটিয়ে তোলেন। “কবিতায় থাকা” তাঁর একটি বহুপঠিত কবিতা যা কবিতার প্রতি অপরিসীম ভালোবাসা ও কবিতার আশ্রয়দানকারী শক্তিকে অসাধারণভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। আর্যতীর্থের কবিতা পাঠককে ভাবায়, আন্দোলিত করে এবং নিজের ভেতরে তাকাতে বাধ্য করে। তিনি বাংলা কবিতায় এক স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর হিসেবে ধীরে ধীরে পরিচিত হয়ে উঠছেন।
কবিতায় থাকা কবিতার বিস্তারিত বিশ্লেষণ
কবিতার শিরোনামের তাৎপর্য
“কবিতায় থাকা” শিরোনামটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ‘কবিতায় থাকা’ — কবিতার ভেতরে বাস করা, কবিতার আশ্রয়ে থাকা। এটি একটি আধ্যাত্মিক অবস্থান, যেখানে কবিতা শুধু লেখার বিষয় নয়, বরং জীবনের অংশ। শিরোনামেই কবি ইঙ্গিত দিয়েছেন — এই কবিতা কবিতার প্রতি ভালোবাসা, কবিতার সাথে সম্পর্ক ও কবিতায় আত্মসমর্পণের কথা বলে।
প্রথম স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“কবিতায় থাকো যদি , / তবে শব্দের বাড়ি গিয়ে / বেল বাজালেই কপাট খুলে যাবে, / ভেতরে কোথাও সুদৃশ্য সিংহাসন / কোথাও বা হাতল ভাঙা চেয়ার / কোথাও ম্যাজিক কার্পেট / কোথাও বা সাদামাটা ফরাস , / তবে যাই থাক, সে কেবল তোমার জন্য পাতা, / স্রেফ তোমাকে বরণ করবে বলে সাজানো সে ঘর।” প্রথম স্তবকে কবি কবিতার জগতের বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন — কবিতায় থাকো যদি, তবে শব্দের বাড়ি গিয়ে বেল বাজালেই কপাট খুলে যাবে। ভেতরে কোথাও সুদৃশ্য সিংহাসন, কোথাও হাতল ভাঙা চেয়ার, কোথাও ম্যাজিক কার্পেট, কোথাও সাদামাটা ফরাস। তবে যা-ই থাক, তা কেবল তোমার জন্য পাতা। স্রেফ তোমাকে বরণ করবে বলে সাজানো সে ঘর।
শব্দের বাড়ি ও কপাট খোলার তাৎপর্য
‘শব্দের বাড়ি’ — কবিতার জগৎ, ভাষার রাজ্য। সেখানে প্রবেশ করতে চাইলে বেল বাজালেই কপাট খুলে যায় — অর্থাৎ কবিতা সহজেই তার দরজা খুলে দেয়, যে কেউ প্রবেশ করতে পারে।
সিংহাসন, হাতল ভাঙা চেয়ার, ম্যাজিক কার্পেট, ফরাসের তাৎপর্য
এই বস্তুগুলো কবিতার জগতের বৈচিত্র্য নির্দেশ করে। কোথাও রাজকীয়তা (সিংহাসন), কোথাও জীর্ণতা (হাতল ভাঙা চেয়ার), কোথাও কল্পনা (ম্যাজিক কার্পেট), কোথাও সরলতা (সাদামাটা ফরাস)। কবিতার জগতে সব কিছুই আছে, সব রকমের অভিজ্ঞতা।
‘তবে যাই থাক, সে কেবল তোমার জন্য পাতা’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
কবিতার জগতে যা কিছু আছে, সবই পাঠকের জন্য অপেক্ষা করছে। কবিতা তার পাঠককে বরণ করার জন্য সাজানো হয়েছে। এটি কবিতা ও পাঠকের মধ্যে এক গভীর সম্পর্ক নির্দেশ করে।
দ্বিতীয় স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“কবিতায় থাকো যদি, / তবে প্রতিদিন ভাষা এসে কপালে ছোঁয়াবেন হাত, / খুশিতে থুতনি নেড়ে আশিস জানাবেন, / দুঃখে আঁচল দিয়ে মোছাবেন চোখ, / রাগে মাথায় হাত বোলাবেন , / প্রেমে হেসে বলবেন, ভারী মানাবে দুজনকে, / বিরহে বলবেন এই তো ক’টা দিন মোটে, / বিচ্ছেদে থমকে বলবেন, / বুকে জমিয়ে না রেখে বরং কেঁদে ভাসা বাছা, / কবিতায় থাকো যদি, / মা’কে ছেড়ে থাকার কষ্ট তুমি কখনো জানবে না।” দ্বিতীয় স্তবকে কবি ভাষার মাতৃরূপের কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন — কবিতায় থাকো যদি, তবে প্রতিদিন ভাষা এসে কপালে হাত ছোঁয়াবেন। খুশিতে থুতনি নেড়ে আশিস জানাবেন। দুঃখে আঁচল দিয়ে চোখ মোছাবেন। রাগে মাথায় হাত বোলাবেন। প্রেমে হেসে বলবেন, ভারী মানাবে দুজনকে। বিরহে বলবেন এই তো ক’টা দিন মোটে। বিচ্ছেদে থমকে বলবেন — বুকে জমিয়ে না রেখে বরং কেঁদে ভাসা বাছা। কবিতায় থাকো যদি, মাকে ছেড়ে থাকার কষ্ট তুমি কখনো জানবে না।
ভাষার মাতৃরূপের তাৎপর্য
এখানে ‘ভাষা’ একটি মাতৃমূর্তি — যিনি কপালে হাত ছোঁয়ান, আশিস জানান, চোখ মোছান, মাথায় হাত বোলান, প্রেম-বিরহ-বিচ্ছেদে সান্ত্বনা দেন। ভাষা এখানে একজন মায়ের মতো, যিনি সব সময় সন্তানের পাশে থাকেন।
বিভিন্ন অনুভূতিতে ভাষার প্রতিক্রিয়ার তাৎপর্য
খুশিতে আশিস, দুঃখে সান্ত্বনা, রাগে শান্ত করা, প্রেমে উৎসাহ, বিরহে ধৈর্য, বিচ্ছেদে কাঁদতে বলা — ভাষা আমাদের সকল অনুভূতির সঙ্গী। সে আমাদের সব অবস্থায় পাশে থাকে।
‘মা’কে ছেড়ে থাকার কষ্ট তুমি কখনো জানবে না’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
কবিতায় থাকলে মাকে ছেড়ে থাকার কষ্ট জানতে হবে না, কারণ কবিতাই মা। ভাষাই মা। কবিতার আশ্রয়ে থাকলে মাতৃহারা হওয়ার বেদনা থাকে না।
তৃতীয় স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“কবিতায় থাকো যদি , / নির্জনতায় মন হারালে / শব্দরা তোমার হাত ধরে বলবে এই তো আছি, / ভিড়-জনতায় কোলাহলে একলা হতে চাইলে / শব্দরা তোমায় নিঃস্তব্ধতা উপহার দেবে।” তৃতীয় স্তবকে কবি শব্দের বন্ধুরূপের কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন — কবিতায় থাকো যদি, নির্জনতায় মন হারালে শব্দরা তোমার হাত ধরে বলবে — এই তো আছি। ভিড়-জনতায় কোলাহলে একলা হতে চাইলে শব্দরা তোমায় নিঃস্তব্ধতা উপহার দেবে।
নির্জনতায় শব্দদের সঙ্গ দেওয়ার তাৎপর্য
যখন আমরা নির্জনতায় মন হারাই, তখন শব্দরা আমাদের সঙ্গ দেয়। কবিতার শব্দগুলো আমাদের একাকীত্ব দূর করে, আমাদের বন্ধু হয়ে ওঠে।
কোলাহলে নিঃস্তব্ধতা উপহার দেওয়ার তাৎপর্য
যখন আমরা ভিড়-জনতার কোলাহলে একলা হতে চাই, তখন শব্দরা আমাদের নিঃস্তব্ধতা উপহার দেয়। কবিতা আমাদের ভেতরের শান্তি এনে দেয়, বাহ্যিক কোলাহল থেকে দূরে রাখে।
চতুর্থ স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“আর যদি কবিতার থাকো? / যেমন ভক্ত সঁপে দেহ-মন-হৃদি তার ইষ্ট-সমীপে, / প্রবীণ প্রেমিক জানে / এই গোটা পৃথিবীতে একটাই নারী, / যেমন শ্রীরাধিকা জেনেছেন একাকী দ্বৈত হওয়া যায় , / কানাই নাই বা এলো, / প্রেম তাঁর দয়িতকে গড়ে নিতে জানে, / যেমন বড়ে গুলাম আ-সুরজীবন সরগমে ঘুরেছেন / সা থেকে সা সন্ধানে, / তেমনই সম্পৃক্ত হয়ে কবিতার হয়ে থাকো যদি আজীবন?” চতুর্থ স্তবকে কবি কবিতার প্রতি সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণের কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন — আর যদি কবিতার থাকো? যেমন ভক্ত সঁপে দেয় দেহ-মন-হৃদি তার ইষ্টের কাছে। প্রবীণ প্রেমিক জানে এই গোটা পৃথিবীতে একটাই নারী। যেমন শ্রীরাধিকা জেনেছেন একাকী দ্বৈত হওয়া যায় — কানাই নাই বা এলো, প্রেম তাঁর দয়িতকে গড়ে নিতে জানে। যেমন বড়ে গুলাম আলি সুরজীবন সরগমে ঘুরেছেন সা থেকে সা সন্ধানে। তেমনই সম্পৃক্ত হয়ে কবিতার হয়ে থাকো যদি আজীবন?
ভক্ত ও ইষ্টের উপমার তাৎপর্য
ভক্ত যেমন দেহ-মন-হৃদি ইষ্টের কাছে সঁপে দেয়, তেমনি কবিতার প্রতি আত্মসমর্পণ করতে হয়। কবিতা হয়ে ওঠে আমাদের ইষ্ট, আমাদের আরাধ্য।
শ্রীরাধিকার উপমার তাৎপর্য
শ্রীরাধিকা জেনেছেন একাকী দ্বৈত হওয়া যায় — অর্থাৎ একা হয়েও দ্বৈত অনুভব করা যায়, প্রেমিক না থাকলেও প্রেম থাকে। কানাই না এলেও প্রেম তাঁকে দয়িতকে গড়ে নিতে জানে। তেমনি কবিতার প্রেমে আমরা একা হয়েও কবিতার সাথে দ্বৈত থাকি।
বড়ে গুলাম আলির উপমার তাৎপর্য
বড়ে গুলাম আলি (উস্তাদ) সুরজীবন সরগমে ঘুরেছেন সা থেকে সা সন্ধানে — অর্থাৎ সুরের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অন্বেষণ করেছেন। তেমনি কবিতার সন্ধানে আমাদের যাত্রা চিরন্তন।
পঞ্চম স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“আশেপাশে যারা হবে ভীষণ বিরক্ত হয়ে এড়াবে তখন, / বন্ধু-সমাজ মুখে অ-সুখ মেখে / ভাববেই তুমি এলে কী যে জ্বালাতন… / শুধু প্রেমাতুর তুমি আশির-নখর সঁপে কবিতার কোলে, / শ্যামের সমান ভেবে যাবে সে মরণ..” পঞ্চম স্তবকে কবি কবিতার প্রেমের পরিণতি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন — আশেপাশে যারা থাকবে, তারা ভীষণ বিরক্ত হয়ে এড়াবে তখন। বন্ধু-সমাজ মুখে অসুখ মেখে ভাববে — তুমি এলে কী যে জ্বালাতন। শুধু প্রেমাতুর তুমি আশির-নখর (আশীর্বাদ) সঁপে কবিতার কোলে, শ্যামের সমান ভেবে যাবে সে মরণ।
বন্ধু-সমাজের বিরক্ত হওয়ার তাৎপর্য
যারা কবিতার প্রেমে পড়েনি, তারা কবিতার প্রেমিককে বুঝতে পারে না। তারা বিরক্ত হয়, তারা অসুখী মুখে ভাবে — তুমি এলে জ্বালাতন। এটি কবির একাকীত্বের চিত্র।
‘শ্যামের সমান ভেবে যাবে সে মরণ’ — শেষ পঙ্ক্তির তাৎপর্য
শ্যাম — কৃষ্ণ, প্রেমের দেবতা। কবি বলেছেন — তুমি আশীর্বাদ সঁপে কবিতার কোলে, সেই মরণকে শ্যামের সমান ভেবে যাবে। অর্থাৎ কবিতার জন্য মৃত্যুকেও প্রেমের মতো গ্রহণ করবে।
কবিতার সামগ্রিক তাৎপর্য
“কবিতায় থাকা” কবিতাটি কবিতার প্রতি এক গভীর ভালোবাসা ও আত্মসমর্পণের অসাধারণ চিত্র। কবি প্রথমে কবিতার জগতের বর্ণনা দিয়েছেন — সিংহাসন, হাতল ভাঙা চেয়ার, ম্যাজিক কার্পেট, ফরাস — সবই পাঠকের জন্য সাজানো। তারপর তিনি ভাষার মাতৃরূপ দেখিয়েছেন — ভাষা মায়ের মতো আমাদের সকল অনুভূতিতে সঙ্গ দেয়, সান্ত্বনা দেয়, আশিস দেয়। তারপর তিনি শব্দের বন্ধুরূপ দেখিয়েছেন — শব্দরা নির্জনতায় সঙ্গ দেয়, কোলাহলে নিঃস্তব্ধতা দেয়। তারপর তিনি কবিতার প্রতি সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণের কথা বলেছেন — ভক্তের মতো, প্রেমিকের মতো, রাধিকার মতো, বড়ে গুলাম আলির মতো। শেষে তিনি দেখিয়েছেন — এই প্রেমে বন্ধু-সমাজ বিরক্ত হবে, কিন্তু তবুও প্রেমাতুর কবি আশীর্বাদ সঁপে কবিতার কোলে, মরণকেও শ্যামের সমান ভেবে যাবে। এটি কবিতার প্রতি এক চিরন্তন, অপরিসীম ভালোবাসার প্রকাশ।
কবিতায় থাকা কবিতা সম্পর্কে প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন ১: কবিতায় থাকা কবিতার লেখক কে?
কবিতায় থাকা কবিতার লেখক আর্যতীর্থ। তিনি বাংলা কবিতার নতুন প্রজন্মের একজন সম্ভাবনাময় কবি। তাঁর কবিতায় ভাষা, প্রেম, অস্তিত্ব ও আত্মান্বেষণের গভীর প্রকাশ ঘটে। “কবিতায় থাকা” তাঁর একটি বহুপঠিত কবিতা।
প্রশ্ন ২: কবিতায় থাকা কবিতার মূল বিষয়বস্তু কী?
কবিতায় থাকা কবিতার মূল বিষয়বস্তু হলো কবিতার প্রতি অপরিসীম ভালোবাসা ও কবিতায় আত্মসমর্পণ। কবি কবিতার জগতের বর্ণনা দিয়েছেন, ভাষার মাতৃরূপ দেখিয়েছেন, শব্দের বন্ধুরূপ দেখিয়েছেন। তিনি কবিতার প্রতি সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছেন — ভক্তের মতো, প্রেমিকের মতো, রাধিকার মতো।
প্রশ্ন ৩: ‘শব্দের বাড়ি গিয়ে বেল বাজালেই কপাট খুলে যাবে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘শব্দের বাড়ি গিয়ে বেল বাজালেই কপাট খুলে যাবে’ — এই পঙ্ক্তিতে কবি কবিতার সহজলভ্যতার কথা বলেছেন। ‘শব্দের বাড়ি’ অর্থ কবিতার জগৎ। সেখানে প্রবেশ করতে চাইলে বেল বাজালেই দরজা খুলে যায় — অর্থাৎ কবিতা সহজেই তার পাঠককে গ্রহণ করে।
প্রশ্ন ৪: ‘মা’কে ছেড়ে থাকার কষ্ট তুমি কখনো জানবে না’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘মা’কে ছেড়ে থাকার কষ্ট তুমি কখনো জানবে না’ — এই পঙ্ক্তিতে কবি ভাষাকে মায়ের সাথে তুলনা করেছেন। কবিতায় থাকলে মাকে ছেড়ে থাকার কষ্ট জানতে হবে না, কারণ কবিতাই মা। ভাষাই মা। কবিতার আশ্রয়ে থাকলে মাতৃহারা হওয়ার বেদনা থাকে না।
প্রশ্ন ৫: ‘নির্জনতায় মন হারালে শব্দরা তোমার হাত ধরে বলবে এই তো আছি’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘নির্জনতায় মন হারালে শব্দরা তোমার হাত ধরে বলবে এই তো আছি’ — এই পঙ্ক্তিতে কবি শব্দের বন্ধুরূপ দেখিয়েছেন। যখন আমরা নির্জনতায় মন হারাই, তখন কবিতার শব্দগুলো আমাদের সঙ্গ দেয়। তারা আমাদের একাকীত্ব দূর করে, আমাদের বন্ধু হয়ে ওঠে।
প্রশ্ন ৬: ‘শ্রীরাধিকা জেনেছেন একাকী দ্বৈত হওয়া যায় , / কানাই নাই বা এলো, / প্রেম তাঁর দয়িতকে গড়ে নিতে জানে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘শ্রীরাধিকা জেনেছেন একাকী দ্বৈত হওয়া যায় , / কানাই নাই বা এলো, / প্রেম তাঁর দয়িতকে গড়ে নিতে জানে’ — এই পঙ্ক্তিতে কবি শ্রীরাধিকার উপমা দিয়ে কবিতার প্রতি প্রেমের কথা বলেছেন। রাধিকা একা হয়েও দ্বৈত অনুভব করতে জানেন — কানাই না এলেও তাঁর প্রেম আছে। তেমনি কবিতার প্রেমে আমরা একা হয়েও কবিতার সাথে দ্বৈত থাকি।
প্রশ্ন ৭: ‘শ্যামের সমান ভেবে যাবে সে মরণ’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘শ্যামের সমান ভেবে যাবে সে মরণ’ — এই পঙ্ক্তিটি কবিতার শেষ ও সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশ। শ্যাম — কৃষ্ণ, প্রেমের দেবতা। কবি বলেছেন — তুমি আশীর্বাদ সঁপে কবিতার কোলে, সেই মরণকে শ্যামের সমান ভেবে যাবে। অর্থাৎ কবিতার জন্য মৃত্যুকেও প্রেমের মতো গ্রহণ করবে।
প্রশ্ন ৮: আর্যতীর্থ সম্পর্কে সংক্ষেপে বলুন।
আর্যতীর্থ বাংলা কবিতার নতুন প্রজন্মের একজন সম্ভাবনাময় কবি। তাঁর কবিতায় ভাষা, প্রেম, অস্তিত্ব ও আত্মান্বেষণের গভীর প্রকাশ ঘটে। তিনি সহজ-সরল ভাষায় জটিল মানসিক অবস্থা ও সম্পর্কের টানাপোড়েন ফুটিয়ে তোলেন। “কবিতায় থাকা” ও “ছেলের বাবা’র চিঠি” তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতা।
ট্যাগস: কবিতায় থাকা, আর্যতীর্থ, আর্যতীর্থের কবিতা, কবিতায় থাকা কবিতা, বাংলা কবিতা, আধুনিক বাংলা কবিতা, কবিতার কবিতা, ভাষার কবিতা






