একগুচ্ছ কবিতা – সাঈদ বারী।

তুমি নেই-
তবু আয়নার ধারে দাঁড়ালে
একটা ছায়া পড়ে, যেন তুমি ঠিক এখনই
চুল বাঁধতে বাঁধতে তাকালে আমার দিকে।

ছায়ারা কি মিথ্যে হয়?
তুমি তো রোজই ফেরো আমার জানালার ধারে,
রাত হলে ঘুমিয়ে পড়ো বালিশের পাশে,
আমার স্বপ্নে এখনো হাঁটো
নরম শব্দে,
নিঃশব্দে-
একটা ছায়ার মতো।

এই শহরটা এখন আর শহর নয়- একটা
খালি রেলস্টেশন, যেখানে প্রতিদিন ট্রেন
আসে, কিন্তু কেউ নামে না।

দেয়ালে ক্যালেন্ডার ঝুলে আছে,
অপ্রয়োজনীয় তারিখের ভিড়ে তোমার
চলে যাওয়া দিনটা-
একটা স্থির আগুনের
মতো জ্বলছে।

রোদ যেন আজকাল আর উত্তাপ দেয় না,
শুধু স্মৃতির আগুনে পুড়িয়ে দেয় হৃদয়।
চৌরাস্তায় থেমে থাকা ট্রাফিক সিগন্যালে
আমি একা দাঁড়িয়ে থাকি
পেছনের ক্লান্ত শহরের মতো।

তুমি গেলে,
রোদ আর বৃষ্টি এক অর্থ হারাল।

সব ঋতু এক রকম লাগে এখন-
তোমার না-থাকার মতো।

মাঝের দুপুর,
রোদ ঝলসে শরীর,
শব্দ গুলো হু হু করে ভেসে যায় বাতাসে।
তোমার ছায়া খুঁজে বেড়াই,
তবু খুঁজে পাই না,
মাঝে মাঝে মনে হয়,
সব কিছুই স্তব্ধ হয়ে
গেছে-
মধ্যাহ্নের নীরবতার আড়ালে।

রাত্রি নামে আজ-
একাকী কারো অশ্রু হয়ে,
জোনাকির আলোয় ভেজা ঘাসে
নিমগ্ন হয় নিঃশব্দ সময়।

দূরের ট্রেনের বাঁশি
বাজে-
কে যেন ফিরে আসে না আর,
জানালার কাচে মুখ রেখে
আকাশের দিকে কারো অপেক্ষা।

রাত্রি মানে ভাঙা চিঠি,
রাত্রি মানে বুকের ভার-
যে শব্দ কেউ বোঝে না,
সে শব্দে গড়ে ওঠে এই নীরব কবিতা।

আকাশ আজ নিঃসঙ্গ-
বিকেলের আলো মরে গেছে কুয়াশার ফাঁকে।
আমি হাঁটি একা, কাঁধে সময়ের ক্লান্তি,
পায়ের ছায়ায় লেগে থাকে মৃত আত্মীয়দের মুখ।
এই শহর, এই জানালা, এই চুপ করে থাকা দেয়াল-
সব যেন আমার পুরনো চিঠির মতোই
অবহেলায় ধুলোমলিন।

আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। সাঈদ বারীর কবিতা।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest

0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x