গর্জন সত্তর – কবিতা সিংহ।

পিস্তল ধ্বনিত করলো তাদের ছুট—
দূর থেকে শোনা যাচ্ছে সেই অশ্বক্ষুর ধ্বনি
থরথর কেঁপে উঠছে চারদিক
ছুটে আসছে অগুনতি বর্ণময় অশ্বারোহী
গর্জন সত্তর।ঘাড় বেঁকে আছে রোখা ঘোড়ার—
টবগব করছে রক্ত
কেশর কাঁপছে রাগে
অভিমানী নাসায় ফুঁসছে আগুন
থরথর কেঁপে উঠছে মাটি—
আমি, গর্জন সত্তরের অগুনতি অশ্বারোহীর উল্লাস শুনতে পাচ্ছি!
তাচ্ছিল্যের হার্ডল ভাঙছে ক্রমাগত—
উল্টে ফেলছে অবহেলার খুঁটি—
উপড়ে দিচ্ছে উইয়ে-ধরা স্বপ্রোথিত জয়স্তম্ভ গর্জন সত্তরের অশ্বারোহী!
তারা নকল ইতিহাসকে ভাঙতে আসছে
বাতাসে উড়ছে ফুলকি হাওয়ায় দহনের সোঁদা গন্ধ –
শুকনো পাতার ওপর দিয়ে তারা চালিয়ে দিচ্ছে লাল ঘোড়া
সরসর করে আগুন এগোচ্ছে,
গর্জন সত্তর আসছে অন্ধ পাহাড় গুঁড়িয়ে
বধির নদীর স্থগিত কূল ছাপিয়ে
হো হো করে হেসে উঠছে, সব মন্দিরের দরোজা হাট করে দিয়ে
ভিতর থেকে বেরিয়ে আসছে শুধু সাজানো মুখোশ
ছুটে আসছে
দুরন্ত অশ্বে আমার জ্বলন্ত অশ্বারোহীরা
ক্ষুরের আঘাতে ভাঙছে পদ্মভোজীর ডেরা
বাস্তু ঘুঘুর ঘুম
ফাল ফাল করে ছিঁড়ে দিচ্ছে মুখোশ
খুলে আনছে বিদেশী মার্ক
বালিশ ফাটিয়ে বের করছে স্মাগড্ ডলার
সাবাস। আমার স্বপ্নের অশ্বারোহীরা
খান খান ভেঙে দিচ্ছে সমস্ত যৌন টোটেম
কবিতায় রমণী ব্যবসা!
র‍্যাবো ভেরলেন শার্ল বোদলেয়ার কাঁচিকাটা করে
ফেলে দিয়ে বাতিল পুরোনো সব অনুবাদ গন্ধলাগা গলিত দর্শন
ছুটে আসছে গর্জন সত্তর
রমণীকে একভাবে কার্ডবোর্ড ছবির মতো
নীল-ছবি পোস্টকার্ডে
যারা দেখবে না
চতুর্মাত্রিক তাকে সম্পূর্ণ দেখাবে, তারা আসছে
অন্তরে বাহিরে এক, নতুন দর্শন নিয়ে
পথ কেটে চলে যাচ্ছে অদ্ভুত সত্তর
পিস্তল ধ্বনিত করলো সেই তীব্র ছুট—
পথের বাঁকের দিকে কীভাবে নিমেষহীন চেয়ে!
দ্যাখো থরথর কেঁপে উঠছে ভূধর
অশ্ব হ্রেষা, ল্যাজের চামর আপসানি
রেকাব উষ্ণীষ থেকে ঠিকরে পড়ছে জ্যোতি
যে কোনো মুহূর্তে আমি দেখতে পাবো সেই সব মুখ,
সরল কোমল রেখাহীন,— গর্জন সত্তর।

আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। কবিতা সিংহ।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest

0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x