কবিতার খাতা
- 22 mins
আমারে যদি জাগালে আজি নাথ – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
আমারে যদি জাগালে আজি নাথ,
ফিরো না তবে ফিরো না, করো
করুণ আঁখিপাত।
নিবিড় বন-শাখার ‘পরে
আষাঢ়-মেঘে বৃষ্টি ঝরে,
বাদলভরা আলসভরে
ঘুমায়ে আছে রাত।
ফিরো না তুমি ফিরো না, করো
করুণ আঁখিপাত।
বিরামহীন বিজুলিঘাতে
নিদ্রাহারা প্রাণ
বরষা-জলধারার সাথে
গাহিতে চাহে গান।
হৃদয় মোর চোখের জলে
বাহির হল তিমিরতলে,
আকাশ খোঁজে ব্যাকুল বলে
বাড়ায়ে দুই হাত।
ফিরো না তুমি ফিরো না, করো
করুণ আঁখিপাত।
আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা।
আমারে যদি জাগালে আজি নাথ – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভক্তিমূলক গান | আষাঢ়ের বাদল-রাতের প্রার্থনা | বাংলা আধ্যাত্মিক গান
আমারে যদি জাগালে আজি নাথ: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাদল-রাতে জাগরণের করুণ প্রার্থনা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “আমারে যদি জাগালে আজি নাথ” ভক্তিরসে সিক্ত এক অপূর্ব কাব্যগীতি। আষাঢ়ের বাদলরাতে, নিবিড় বনশাখায় বৃষ্টি ঝরছে, বিজুলির ঘাতে নিদ্রাহারা প্রাণ — এমন এক গভীর পরিবেশে রচিত এই প্রার্থনাগানটি ভক্ত ও প্রভুর মধ্যে এক অনন্য মিলনচেতনার প্রকাশ। “আমারে যদি জাগালে আজি নাথ, ফিরো না তবে ফিরো না, করো করুণ আঁখিপাত” — এই পঙ্ক্তি দিয়ে শুরু হওয়া গানটি ধীরে ধীরে উন্মোচিত করে জাগরণের আহ্বান, প্রভুর করুণা ভিক্ষা, এবং আষাঢ়ের বাদলরাতের রোমান্টিক আধ্যাত্মিকতার এক গভীর কাব্যচিত্র। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) বিশ্বকবি হিসেবে পরিচিত। তাঁর ভক্তিমূলক গানগুলি বাংলা সাহিত্য ও সঙ্গীতের অমূল্য সম্পদ। “আমারে যদি জাগালে আজি নাথ” তাঁর সেই স্বকীয় কাব্যভাষার এক অসাধারণ শিল্পরূপ — যেখানে তিনি প্রকৃতি, প্রেম ও ভক্তির এক অপূর্ব মিশ্রণ ঘটিয়েছেন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: বিশ্বকবি ও ভক্তিগীতির অমর স্রষ্টা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ সালের ৭ মে কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ কবি, সাহিত্যিক, সুরকার, চিত্রশিল্পী ও দার্শনিক। ১৯১৩ সালে ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘মানসী’ (১৮৯০), ‘সোনার তরী’ (১৮৯৪), ‘চিত্রা’ (১৮৯৬), ‘ক্ষণিকা’ (১৯০০), ‘নৈবেদ্য’ (১৯০১), ‘গীতাঞ্জলি’ (১৯১০), ‘বলাকা’ (১৯১৬), ‘পুনশ্চ’ (১৯৩২), ‘শেষ সপ্তক’ (১৯৩৫) ইত্যাদি।
রবীন্দ্রনাথের ভক্তিমূলক গানের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো — ঈশ্বরকে প্রেমিক-প্রেমিকার সম্পর্কের ভাষায় বর্ণনা, প্রকৃতির সঙ্গে ভক্তির মিশ্রণ, এবং সরল কিন্তু গভীর আবেগপূর্ণ ভাষা। ‘আমারে যদি জাগালে আজি নাথ’ সেই ধারার একটি অসাধারণ উদাহরণ — যেখানে আষাঢ়ের বাদলরাতের পরিবেশে তিনি প্রভুর করুণা প্রার্থনা করেছেন।
আমারে যদি জাগালে আজি নাথ: শিরোনামের তাৎপর্য ও গানের পটভূমি
শিরোনাম ‘আমারে যদি জাগালে আজি নাথ’ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ‘জাগালে’ — অর্থাৎ তুমি যদি আমাকে জাগিয়ে থাকো, তাহলে আর ফিরো না। এটি একটি করুণ প্রার্থনা — হে নাথ (প্রভু), তুমি যদি আজ আমাকে জাগিয়ে থাকো, তবে ফিরে যেও না। দয়া করে করুণ দৃষ্টি দাও।
গানের শুরুতে কবি বলছেন — আমারে যদি জাগালে আজি নাথ, ফিরো না তবে ফিরো না, করো করুণ আঁখিপাত।
নিবিড় বন-শাখার ‘পরে আষাঢ়-মেঘে বৃষ্টি ঝরে, বাদলভরা আলসভরে ঘুমায়ে আছে রাত। সেই রাতে তিনি প্রভুকে অনুরোধ করছেন — ফিরো না, করো করুণ আঁখিপাত।
দ্বিতীয় স্তবকে তিনি বলছেন — বিরামহীন বিজুলিঘাতে নিদ্রাহারা প্রাণ। বরষা-জলধারার সাথে গাহিতে চাহে গান। হৃদয় মোর চোখের জলে বাহির হল তিমিরতলে, আকাশ খোঁজে ব্যাকুল বলে বাড়ায়ে দুই হাত।
বারবার তিনি বলছেন — ফিরো না তুমি ফিরো না, করো করুণ আঁখিপাত।
আমারে যদি জাগালে আজি নাথ: স্তবকভিত্তিক বিস্তারিত বিশ্লেষণ
প্রথম স্তবক: জাগরণের আহ্বান, ফিরে না যাওয়ার অনুরোধ, করুণ আঁখিপাতের প্রার্থনা
“আমারে যদি জাগালে আজি নাথ, / ফিরো না তবে ফিরো না, করো / করুণ আঁখিপাত।”
প্রথম পঙ্ক্তিতেই কবি প্রভুকে সম্বোধন করছেন। ‘নাথ’ — প্রভু, অধিনাথ, স্বামী। তিনি বলছেন — যদি আজ তুমি আমাকে জাগিয়ে থাকো, তবে ফিরে যেও না। করুণ দৃষ্টি দাও। এটি ভক্তের চরম ব্যাকুলতা।
প্রথম স্তবকের দ্বিতীয় ভাগ: আষাঢ়-মেঘে বৃষ্টি ঝরা, বাদলভরা আলসভরে ঘুমায়ে থাকা রাত
“নিবিড় বন-শাখার ‘পরে / আষাঢ়-মেঘে বৃষ্টি ঝরে, / বাদলভরা আলসভরে / ঘুমায়ে আছে রাত।”
প্রকৃতির বর্ণনা — আষাঢ় মাসের মেঘ থেকে বৃষ্টি ঝরছে। রাত বাদলে ভরা, আলসে ভরা, ঘুমিয়ে আছে। এই পরিবেশ ভক্তের অন্তরের অবস্থার প্রতীক — আপাতদৃষ্টিতে ঘুমন্ত, কিন্তু ভেতরে জাগরণের অপেক্ষায়।
প্রথম স্তবকের পুনরাবৃত্তি: ফিরো না তুমি ফিরো না, করো করুণ আঁখিপাত
“ফিরো না তুমি ফিরো না, করো / করুণ আঁখিপাত।”
পুনরাবৃত্তি ভক্তের ব্যাকুলতা ও দৃঢ়তা প্রকাশ করে। তিনি বারবার বলছেন — ফিরো না, করুণ দৃষ্টি দাও।
দ্বিতীয় স্তবক: বিরামহীন বিজুলিঘাতে নিদ্রাহারা প্রাণ, বরষা-জলধারার সাথে গাহিতে চাওয়া গান
“বিরামহীন বিজুলিঘাতে / নিদ্রাহারা প্রাণ / বরষা-জলধারার সাথে / গাহিতে চাহে গান।”
দ্বিতীয় স্তবকে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে বিরামহীন। সেই বিজলির ঘাতে প্রাণ নিদ্রাহারা — অর্থাৎ প্রাণ জেগে উঠেছে, আর ঘুমাতে চায় না। সে বৃষ্টির ধারার সাথে গান গাইতে চায়। এটি আনন্দ ও জাগরণের প্রকাশ।
দ্বিতীয় স্তবকের দ্বিতীয় ভাগ: হৃদয় চোখের জলে তিমিরতলে বাহির হওয়া, আকাশের ব্যাকুল দুই হাত বাড়ানো
“হৃদয় মোর চোখের জলে / বাহির হল তিমিরতলে, / আকাশ খোঁজে ব্যাকুল বলে / বাড়ায়ে দুই হাত।”
হৃদয় অশ্রুর জলে ভেসে অন্ধকারের তলদেশ থেকে বেরিয়ে এসেছে। আকাশকে খুঁজছে ব্যাকুল হয়ে, দুই হাত বাড়িয়ে। এটি ভক্তের প্রভুকে পাওয়ার চরম ব্যাকুলতা ও আকুল আহ্বান।
দ্বিতীয় স্তবকের পুনরাবৃত্তি: ফিরো না তুমি ফিরো না, করো করুণ আঁখিপাত
“ফিরো না তুমি ফিরো না, করো / করুণ আঁখিপাত।”
বারবার পুনরাবৃত্তি গানটির মূল ভাবকে জোরালো করে। প্রভু যেন ফিরে না যান, করুণ দৃষ্টি যেন দিয়েই যান।
গানের গঠনশৈলী, ছন্দ ও শিল্পরূপ
গানটি দুটি স্তবকে বিভক্ত। প্রতিটি স্তবক আট লাইনের। ছন্দ ধারাবাহিক ও সঙ্গীতময়। ‘পয়ার’ ছন্দের অনুরূপ, কিন্তু রবীন্দ্রনাথের নিজস্ব কাব্যকৌশলে বিন্যস্ত। ভাষা সংস্কৃতানুগ, মধুর, প্রার্থনার উপযোগী।
প্রতীক ব্যবহার অত্যন্ত শক্তিশালী — ‘নাথ’ (প্রভু, স্বামী, অধিনাথ), ‘জাগালে’ (আধ্যাত্মিক জাগরণ, ভক্তের চৈতন্যোদয়), ‘ফিরো না’ (প্রভুর উপস্থিতি চিরস্থায়ী করার প্রার্থনা), ‘করুণ আঁখিপাত’ (প্রভুর করুণা দৃষ্টি, অনুগ্রহ), ‘নিবিড় বন-শাখা’ (প্রকৃতির গভীরতা, রহস্য), ‘আষাঢ়-মেঘে বৃষ্টি’ (আষাঢ়ের বাদল, প্রেম ও ভক্তির উপযুক্ত ঋতু), ‘বাদলভরা আলসভরে ঘুমায়ে থাকা রাত’ (আপাত অচেতন কিন্তু জাগরণের অপেক্ষায় থাকা ভক্তের মন), ‘বিরামহীন বিজুলিঘাত’ (প্রভুর বার্তা, জাগরণের তীব্র আহ্বান), ‘নিদ্রাহারা প্রাণ’ (জাগ্রত আত্মা), ‘বরষা-জলধারার সাথে গান গাওয়া’ (প্রকৃতির সঙ্গে মিলে ভক্তিগীতি গাওয়া), ‘চোখের জল’ (অশ্রু, ভক্তির আর্দ্রতা), ‘তিমিরতল’ (অজ্ঞানতা, অন্ধকার), ‘আকাশ খোঁজে ব্যাকুল বলে বাড়ায়ে দুই হাত’ (প্রভুকে পাওয়ার চরম ব্যাকুলতা, অনন্তের প্রতি আকুল আহ্বান)।
পুনরাবৃত্তি শৈলী — ‘ফিরো না তুমি ফিরো না, করো করুণ আঁখিপাত’ — এই চরণটির পুনরাবৃত্তি গানটিকে প্রার্থনার সুর দিয়েছে, ভক্তের ব্যাকুলতা ও দৃঢ়তা ফুটিয়ে তুলেছে।
গানের সামগ্রিক তাৎপর্য ও দার্শনিক মাত্রা
“আমারে যদি জাগালে আজি নাথ” রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এক অসাধারণ ভক্তিমূলক সৃষ্টি। তিনি এখানে আষাঢ়ের বাদলরাতের পরিবেশে প্রভুর করুণা প্রার্থনা করেছেন।
প্রথম স্তবকে — জাগরণের আহ্বান ও ফিরে না যাওয়ার অনুরোধ, করুণ আঁখিপাতের প্রার্থনা। নিবিড় বনশাখায় আষাঢ়-মেঘে বৃষ্টি ঝরছে, বাদলভরা আলসভরে রাত ঘুমিয়ে আছে। দ্বিতীয় স্তবকে — বিরামহীন বিজুলিঘাতে নিদ্রাহারা প্রাণ বৃষ্টির ধারার সাথে গান গাইতে চায়। হৃদয় অশ্রুর জলে অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এসেছে, আকাশের দিকে দুই হাত বাড়িয়ে প্রভুকে খুঁজছে।
এই গান আমাদের শেখায় — আধ্যাত্মিক জাগরণ এক অপূর্ব অনুভূতি। প্রভু যখন ভক্তকে জাগান, তখন ভক্ত চান প্রভু আর ফিরে না যান, চিরকাল তাঁর করুণা দৃষ্টি যেন থাকে। প্রকৃতি ও ঋতু ভক্তির অনুভূতিকে গভীরতর করে তোলে। আষাঢ়ের বাদল, বিজুলি, বৃষ্টি — সবকিছু ভক্তের অন্তরের অবস্থার প্রতীক।
রবীন্দ্রনাথের ভক্তিগীতে প্রকৃতি ও প্রেমের মিশ্রণ
রবীন্দ্রনাথের ভক্তিমূলক গানের বিশেষত্ব হলো — তিনি ঈশ্বরকে প্রেমিক-প্রেমিকার ভাষায় বর্ণনা করেন। প্রকৃতির সঙ্গে ভক্তির এক অপূর্ব মিশ্রণ ঘটান। ‘আমারে যদি জাগালে আজি নাথ’ গানটিতে আষাঢ়ের বাদলরাতের পরিবেশ ভক্তির অনুভূতিকে আরও গভীর ও রোমান্টিক করে তুলেছে। বিজুলির ঘাতে জাগ্রত প্রাণ, বৃষ্টির ধারার সাথে গান গাওয়ার ইচ্ছা, অশ্রুতে ভেজা হৃদয় — সবকিছু ভক্তির এক অনন্য রূপ।
শিক্ষামূলক গুরুত্ব ও পাঠ্যক্রমিক স্থান
বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাংলা সাহিত্য ও সঙ্গীতের পাঠ্যক্রমে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আমারে যদি জাগালে আজি নাথ’ গানটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। এই গানটি শিক্ষার্থীদের ভক্তিরস, রবীন্দ্রনাথের প্রকৃতি প্রেম এবং আধ্যাত্মিক চেতনা সম্পর্কে ধারণা দেয়।
আমারে যদি জাগালে আজি নাথ সম্পর্কে বিস্তারিত প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন ১: ‘আমারে যদি জাগালে আজি নাথ’ গানটির রচয়িতা কে?
এই গানটির রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১)। তিনি বিশ্বকবি ও বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক। ১৯১৩ সালে ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
প্রশ্ন ২: ‘নাথ’ শব্দটির অর্থ কী? এখানে কাকে সম্বোধন করা হয়েছে?
‘নাথ’ শব্দের অর্থ — প্রভু, স্বামী, অধিনাথ। এখানে রবীন্দ্রনাথ ঈশ্বর বা পরমাত্মাকে সম্বোধন করেছেন। ভক্তিভাবেই তিনি প্রভুকে ‘নাথ’ বলে ডেকেছেন।
প্রশ্ন ৩: ‘আমারে যদি জাগালে আজি নাথ’ — এখানে ‘জাগালে’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘জাগালে’ অর্থাৎ তুমি যদি আমাকে জাগিয়ে থাকো। এটি আধ্যাত্মিক জাগরণের কথা। ভক্তের আত্মা যখন প্রভুর সান্নিধ্যে জেগে ওঠে, তখন তাকে ‘জাগরণ’ বলে।
প্রশ্ন ৪: ‘ফিরো না তবে ফিরো না, করো করুণ আঁখিপাত’ — কেন ভক্ত প্রভুকে ফিরে না যেতে বলছেন?
প্রভু যখন ভক্তকে জাগান, তখন ভক্ত সেই অনুভূতি চিরস্থায়ী করতে চান। তিনি চান প্রভু আর ফিরে না যান, চিরকাল তাঁর করুণা দৃষ্টি যেন থাকে। এটি ভক্তের চরম ব্যাকুলতা ও প্রার্থনা।
প্রশ্ন ৫: গানটির পটভূমি কোন ঋতু ও পরিবেশ?
গানটির পটভূমি আষাঢ় মাসের বাদলরাত। নিবিড় বনশাখায় আষাঢ়-মেঘে বৃষ্টি ঝরছে। বাতাসে বাদলের আলস্য, রাত ঘুমিয়ে আছে। এই পরিবেশ ভক্তির অনুভূতিকে গভীর করে তুলেছে।
প্রশ্ন ৬: ‘বিরামহীন বিজুলিঘাতে নিদ্রাহারা প্রাণ’ — লাইনটির তাৎপর্য কী?
বিজলি (বিদ্যুৎ) চমকাচ্ছে বিরামহীন। সেই বিদ্যুতের আলোয় প্রাণের ঘুম ভেঙে গেছে। ‘নিদ্রাহারা প্রাণ’ অর্থ — প্রাণ আর ঘুমাতে চায় না, জেগে থাকতে চায়। এটি আধ্যাত্মিক জাগরণের তীব্র প্রকাশ।
প্রশ্ন ৭: ‘বরষা-জলধারার সাথে গাহিতে চাহে গান’ — কেন ভক্ত বৃষ্টির ধারার সাথে গান গাইতে চান?
বৃষ্টির ধারা প্রাকৃতিক এক সুর। ভক্ত জাগ্রত প্রাণে প্রকৃতির সেই সুরের সঙ্গে মিলে ভক্তিগীতি গাইতে চান। এটি প্রকৃতি ও ভক্তির অপূর্ব মিলন।
প্রশ্ন ৮: ‘হৃদয় মোর চোখের জলে বাহির হল তিমিরতলে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
হৃদয় অশ্রুর জলে ভেসে অন্ধকারের তলদেশ থেকে বেরিয়ে এসেছে। অশ্রু ভক্তির আর্দ্রতা, আর ‘তিমিরতল’ হলো অজ্ঞানতা, অন্ধকার। ভক্তির অশ্রুতে হৃদয় অন্ধকার থেকে আলোতে বেরিয়ে আসে।
প্রশ্ন ৯: ‘আকাশ খোঁজে ব্যাকুল বলে বাড়ায়ে দুই হাত’ — লাইনটির ভাব কী?
ভক্ত ব্যাকুল হয়ে দুই হাত আকাশের দিকে বাড়িয়ে প্রভুকে খুঁজছেন। এটি প্রভুকে পাওয়ার চরম আকুলতা ও প্রার্থনা। আকাশ অনন্তের প্রতীক, প্রভুকে পাওয়ার জন্য ভক্ত অনন্তের দিকে হাত বাড়ান।
প্রশ্ন ১০: গানটির মূল শিক্ষা ও সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা কী?
গানটি আমাদের শেখায় — আধ্যাত্মিক জাগরণ এক অপূর্ব অনুভূতি। প্রভুর করুণা লাভ করাই জীবনের চরম লক্ষ্য। প্রকৃতির সঙ্গে মিলে ভক্তি প্রকাশ করলে অনুভূতি আরও গভীর হয়। আজকের ব্যস্ত, যান্ত্রিক জীবনে এই গানটি আত্মার জাগরণ ও প্রভুর করুণা প্রার্থনার কথা মনে করিয়ে দেয়।
ট্যাগস: আমারে যদি জাগালে আজি নাথ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, রবীন্দ্রনাথের ভক্তিমূলক গান, আষাঢ়ের বাদলরাত, বাংলা আধ্যাত্মিক গান, রবীন্দ্র সংগীত, ভক্তিগীতি, করুণ আঁখিপাত, জাগরণের প্রার্থনা
© Kobitarkhata.com – কবি: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | গানের প্রথম লাইন: “আমারে যদি জাগালে আজি নাথ, ফিরো না তবে ফিরো না, করো করুণ আঁখিপাত” | আষাঢ়ের বাদলরাতে জাগরণের করুণ প্রার্থনা | রবীন্দ্রনাথের ভক্তিগীতির অমূল্য রত্ন






