অপেক্ষাই সুন্দর – মাকিদ হায়দার।

সহঅবস্থানে মাঝে মধ্যে শত্রুকেও মিত্র করে দ্যায়, মিত্রকেও শত্রু।

দীর্ঘদিন কেউ কারো ছায়ার দিকে ফেরায়নি চোখ
অবলীলায় হেঁটে গেছি যে যার বিপরীতে,
তার সমস্ত সুন্দর অসহ্য বলেই অস্থিরতার ভেতর
হেঁটে গিয়ে পাথরে লিখিয়েছি নাম।

একদিন মুমু বলেছিলো ভাসতে ভাসতেই
অর্ধেক জীবন শেষ হয়ে যাবে, বাকিটুকু জাগরণে।

চেনা জানা লোক তাই বলিনি কিছুই,
শুধু মাঝরাতে পাথরে লিখিয়ে নাম
আলিঙ্গন করেছি নিজের ছায়াটুকু ঘরের স্যাতা পড়া আয়নায়।

শাদা জোসনায় ডেকেছে ঘর, ঘরের বশ্যতা স্বীকার করিনি।

আমার পূর্বপুরুষেরা আলো জ্বালাবার কারবারে
খুব নাম কিনেছিলো লাহিড়ীদের কাছ থেকে,
তাদের সব ঘরেই ঠিকঠাক আলো দিয়ে খুব খুশি ছিলো পূর্বপুরুষেরা।

রাধানগর মজুমদার বাড়িতে একটানা আটাশ বছর
জাদু দেখিয়েছিলো আমার মেজোকাকার ছেলে বিশুদা।
মজুমদার বাড়ি থেকে কেউ কোনোদিন একগ্লাস জল,
কিংবা একটু মিষ্টি কথা, সেসবের কিছুই দ্যায়নি। বরং বলেছিলো
এডওয়ার্ড কলেজের মাঠে নিয়মিত দেখিয়ে যাবি জাদুর লড়াই।
গোপাল লাহিড়ী সবকিছু শুনে প্রসন্ন মজুমদারকে ডেকে বলেছিলো,
বিশুর পূর্বপুরুষেরা আলো জ্বালবার কারবারে খুব নাম কিনেছিলো,
আজ সেই বংশের ছেলে আলো নিভিয়ে হয়েছে জাদুকর।
সবকিছু শুনেও মজুমদারদের ল্যাংড়া ছেলে
জাদু দেখতে দেখতে ঘুমের ভেতরেও নাকি
চিৎকার করে বলতো মিথ্যে, সব মিথ্যে,
বিশুদা তুমি চলে যাও চক্রবর্তীদের কাছে।

চারদিকে জলের প্রহার, মাঝখানে মজুমদার বাড়ি,
একটি ছেলে কিংবা পরীর মতো মেয়েরা এখন আর কেউ নেই।
গুচ্ছ গুচ্ছ রজনীগন্ধা, আটাশ বছরের সাক্ষী জুঁই মল্লিকা
সকলেই জীবিত আজ জলের গভীরে।

সহঅবস্থান মাঝে মধ্যে মিত্রকেও শত্রু করে দ্যায়, শত্রুকেও মিত্র।
সবকিছু জেনেও জলের গভীর থেকে
একটি জুঁই-এর গাছ এনে রেখেছি আমার ঘরহীন ঘরের সম্মুখে।

আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। মাকিদ হায়দারের কবিতা।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest

0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x