বীরাঙ্গনা – হাসান হাফিজুর রহমান।

তোমাদের ঠোঁটে দানবের থুথু,
স্তনে নখরের দাগ, সর্বাঙ্গে দাঁতালের ক্ষতচিহ্ন প্রাণান্ত গ্লানিকর।
লুট হয়ে গেছে তোমাদের নারীত্বের মহার্ঘ মসজিদ। উচ্ছিষ্টের দগদগে লাঞ্ছনা তোমরা
পরিত্যক্ত পড়ে আছ জীবনের ধিকৃত অলিন্দে নাকচ তাড়িত।

এখন চাও কি তোমরা?
বুক চিরে হৃদপিণ্ড টেনে ছুঁড়ে ফেলে দিতে দূরে?
শাড়ীর আঁচলে কণ্ঠরুদ্ধ করে
পৃথিবীর হাওয়া থেকে চিরতরে হতে কি উধাও?
আত্মধিক্কারে হতমান ফিরবে না ঘরে আর কোনো মতে?

তোমাদের ঘৃণার আগুন লেলিহান স্পর্শ করে
আপন আকাশ সীমা সব পাপ পোড়াবার
অপার পাবক হয়ে উঠো রাতারাতি।
সম্ভ্রমে নুইয়ে মাথা স্তব্ধ চোখে দেখি হতবাক,
এমনতো দেখি নি কখনো আগে!
জীবনের পবিত্রতা তুচ্ছ হয়ে গেছে তোমাদের কাছে।
লাঞ্ছনার বেদীমূলে তোমরা সবাই
একেকটি জীবন্ত স্মৃতিচিহ্ন হয়ে গেছো আজ,
সংগ্রামের খর প্রাণকণা অনশ্বর বীরাঙ্গনা।

ভিটেমাটি ধন্য হবে, সেখানেই হেঁটে যাবে
পদপাতে আল্পনা এঁকে এঁকে মুহূর্তে সজীব হবে দূষিত বাতাস।
শত্রু হননের আগুন বইছে দু’হাত বাড়িয়ে ডাকি,
“ফিরে এসো ফিরে এসো, তোমারই নতুন যৌবন,
আসন্ন বিজয়ের আগম উৎসব।”

আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। হাসান হাফিজুর রহমান।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest

0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x